ফুলতলায় গাঁজা ও মটরসাইকেলসহ দু’মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফুলতলা অফিসঃ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ফুলতলার পায়গ্রাম কবসায় কাজী আবু মোকারম ফজলুল বারী মাদ্রাসা এলাকা থেকে ৫’শ গ্রাম গাঁজা ও ১২৫ সিসি ডিসকভার মটরসাইকেলসহ দু’ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এরা হলো অভয়নগরের শুভরাড়া গ্রামের মৃতঃ আকবর হোসেন সরদারের পুত্র শাহাবুদ্দিন সরদার (৫৭) ও ফুলতলার রাড়ীপাড়া গ্রামের শেখ খসরুজ্জামানের পুত্র শেখ বুলবুল হোসেন (৪৫)। এ ব্যাপারে এসআই মুক্তরায় চৌধুরী পিপিএম বাদি হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা করেন। আটককৃতদের রোববার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের সাথে মিন্নি জড়িত

ঢাকা অফিস : শনিবার রাত ৮টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাবে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন রিফাত হত্যাকাণ্ডের সাথে তাঁর পূত্রবধূ মিন্নি জড়িত।

সিসিটিভি ফুটেজে পুত্রবধু মিন্নির গতিবিধি সন্দেহজনক বলে দাবি করে তিনি বলেন, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা আক্রমনের প্রথম দিকে মিন্নির তৎপরতা ছিল স্বাভাবিক।

পরবর্তিতে, সে নিবৃত্ত করতে চাইলেও বিষয়টি ছিল পরিকল্পিত। তিনি মিন্নিকে এ ঘটনার পরিকল্পনায় যুক্ত দাবি করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেণ।

উল্লেখ্য মিন্নি রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী। রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ হচ্ছেন এ মামলার বাদি।

বটিয়াঘাটা উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড সৃষ্টি

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটাঃ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবে রূপদান দিতে এবং বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিস ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে প্রায় ৪৬,৬৯,১৯,৯৮৩.৬৩ (ছেচল্লিশ কোটি ঊনসত্তর লক্ষ ঊনিশ হাজার আট শত তিরাশি টাকা তেষট্টি পয়সা) টাকা রাজস্ব আদায় করে বাংলাদেশের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে রেকর্ড গড়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উক্ত রাজস্ব আদায় করতে দলিল রেজিষ্ট্রি হয়েয়ে প্রায় ১০,৫৫৪টি ( দশ হাজার পাঁচ শত চুয়ান্নটি)। যা গত ১৭-১৮ অর্থ বছরের থেকে প্রায় দ্বিগুন। উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ গত ১৯/০৭/২০১৭ তারিখে যোগদান করার পর থেকে তিনি সরকার ও সাধারন মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে এ রাজস্ব আদায় করতে স্বক্ষম হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকার কোটি কোটি রাজস্ব পেয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও উপকৃত হয়েছে। সুব্রত কুমার সিংহ ক্রেতা বিক্রেতা ও সরকারের স্বার্থ রক্ষা করে সহজ শর্তে দলিল রেজিষ্ট্রি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ ও সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। তিনি যোগদান করার পর থেকে সহজ শর্তে দলিল রেজিষ্ট্রি করায় সাধারণ মানুষ জমি ক্রয়-বিক্রয় করে পরিবারে চিকিৎসা, বিবাহ, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া সহ যাবতীয় কাজ করতে পারছেন। দু-একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়া তিনি সর্বক্ষন ভূমির মালিক ও সরকারের স্বার্থ রক্ষা করে দলিল রেজিষ্ট্রি করে। যার কারনে সরকারের এ রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ব্যাপারে সুব্রত কুমার সিংহ বলেন সরকারের খাস ও ভিপি জমি সহ সরকারের সংশিষ্ট সকল স্বার্থ রক্ষা করে দলিল করা হয় তিনি জানান। কিন্তু অনেক সময় ভিড় ও তথ্য গোপনের কারনে অথবা অজানা অবস্থায় দু-একটি ভুল ত্রুটি হতে পারে। কারন মানুষ মাত্রই ভুল হয়। যদিও কোন অজানা কারনে ভুল হয়ে যায় তাহলে পরবর্তীতে দাতা ও গ্রহীতাদের ডেকে এনে সংশোধন করে দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার একজন সৎ, দক্ষ এবং পরিশ্রমি কর্মকর্তা হিসাবে সংশিষ্ট দপ্তর সহ সকলের কাছে পরিচিত। এ উপজেলায় সপ্তাহে ৩ দিন অথাৎ সোম মঙ্গল ও বুধবার দলিল রেজিষ্ট্রি হয়। তিনি সকাল থেকে অধিক রাত্র পর্যন্ত দলিল রেজিষ্ট্রি করে অধিক পরিশ্রমের কারনে এ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। এ ব্যাপারে সাব-রেজিষ্ট্রিার সুব্রত কুমার সিংহ এ প্রতিবেদক কে বলেন আমি জেলা রেজিষ্ট্রার বীর জ্যোতি চাকমা সহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে সরকারের একজন কর্মচারী হিসাবে রাজস্ব আদায় অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে সেবার মান উন্নয়ন করেছি এবং আমার দপ্তরে অফিস সহকারী শ্যামল কুমার বিশ্বাস, মোহরার এস,এস মোক্তার হোসেন, এস,এম ফরিদুজ্জামান সহ দলিল লেখক বৃন্দ ও নলক নবীশ সকল সদস্য বৃন্দের সর্বিক সহযোগতিায় এ রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব মিডিয়ায় এরশাদের মৃত্যুর খবর

ঢাকা অফিস : বিশ্ব মিডিয়ায় বেশ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট, আল জাজিরা, এপি, ইউরোপা প্রেস, এনডিটিভি-সহ বিশ্বের প্রধান প্রধান ও নামকরা সংবাদমাধ্যমগুলো এরশাদের মৃত্যুর সংবাদ গুরুত্ব দিয়েই প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরার শিরোনামে এসেছে, ‘Former Bangladesh army ruler Ershad dies aged 89’। এশিয়ান এইজ শিরোনাম করেছে, ‘Muhammad Ershad, former Bangladesh military dictator dies at 89’। ওয়াশিংটন পোস্টের শিরোনাম, ‘Bangladesh ex-dictator H.M. Ershad dies at 89’।

নেতারা চাইলে দাফনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

ঢাকা অফিস : এরশাদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা চাইলে দাফনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে বলে, আশ্বস্ত করেছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। বিকেলে দলের বনানী কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

মশিউর রহমান রাঙ্গা আরও বলেন, ‘তার ইচ্ছানুযায়ী দাফন হবে। তিনি চেয়েছিলেন সেনাবাহিনীর কবরস্থানে তার দাফস হবে। যদি কোন করাণে সেটা না হয়, আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। তবে তাকে যেখনেই সমাহিত করা হোক উন্মুক্ত স্থানে করা হবে।’

শাস্তির মুখে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অন্তত দুইশো নেতা

ঢাকা অফিস : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরোধিতা করায়, শাস্তির মুখে ৬০ মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের অন্তত দুইশো নেতা। এরইমধ্যে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের শাস্তি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত ৪৭৩ টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯ টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের ১৪০ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী।

অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের অনেক বড় নেতা, এমনকি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা। এমনকি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে গিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দলের শৃংঙ্খলা ভঙ্গের সাথে জড়িত এমন নেতাদের তালিকা দলীয় সভাপতির কাছে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘এখন অনেকেই আমাদের কাছে এসে বলছে যে তারা নির্বাচনে দাঁড়াতে চায়নি। তাদেরকে এমপি সাহেব দাঁড়াতে বলছে। সংসদ সদস্যের পছন্দ হবে না বলে সে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করবে, এটি দল কখনোই মেনে নিবে না। এর নেপথ্যে ৭০জন এমপি আছে বলে আমরা জেনেছি।’

এসব বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ওই বৈঠকে  দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করার পাশাপাশি কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করা দলের মন্ত্রী,সংসদ সদস্যদের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়ার।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা নির্বাচন করেছেন, তাদেরকে স্বপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হবে। যেসব মন্ত্রী দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সেই মর্মেও আমরা শোকজ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা দলীয় শৃংঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে সদুত্তর দিতে না পারলে, দলের পদ হারানোসহ ভবিষ্যতে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নই পাবেননা বলে জানান দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এখন তাদের এমপি থেকে বাদ দেয়া সম্ভব না, যতক্ষণ না তারা স্ব ইচ্ছায় পদত্যাগ করে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে একটি লাল সতর্ক বার্তা দেয়া হবে, যে তারা ভবিষ্যতে আর নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে পারবে না।

ভবিষ্যতে নেতাকর্মীরা যাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভাংগার সাহস না করেন, সেজন্যই আওয়ামী লীগ এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এরশাদ মারা যাওয়ায় এই সন্তানরাই এখন তার উত্তরাধিকার

ঢাকা অফিস : সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের দুই স্ত্রীর দুই ছেলের পাশাপাশি অন্তত দুটি দত্তক সন্তানও রয়েছে  তিনি মারা যাওয়ায় এই সন্তানরাই এখন তার উত্তরাধিকার। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আট বছর বাংলাদেশ শাসনকারী এরশাদের প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ। তবে তার আগেও তার একটি বিয়ের খবর পাওয়া যায়।

এরশাদ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকার সময় ১৯৮৩ সালে তার স্ত্রী রওশন এরশাদের পুত্র জন্ম দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে তা নিয়েই ছিল বিতর্ক। রওশনের সেই ছেলে রাহগির আল মাহি এরশাদ (শাদ এরশাদ) তরুণ বয়সে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এজন্য তাকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল।

তারপর মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন শেষে শাদ এখন ঢাকাতেই থাকেন। পেশায় ব্যবসায়ী বলা হলেও তার কী ব্যবসা তা জানা যায়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ ( ফুলবাড়ি-সদর-রাজারহাট) এলাকা থেকে তাকে প্রার্থী করার গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল।

এরশাদের আরেক ছেলে এরিক এরশাদ। তার বয়স এখন ১৮ বছর। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এরিক বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে বাবা এরশাদের সঙ্গে থাকেন। গান-বাজনায় বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে তার।

এরিকের মা বিদিশার সঙ্গে এরশাদের বিয়ে করেক বছর টিকেছিল। ২০০৫ সালে বিচ্ছেদের পর এরিককে নিয়ে এরশাদ ও বিদিশার যুদ্ধ আদালতে গড়িয়েছিল। পরে আদালতের আদেশে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ।

এরশাদের ঘনিষ্ঠরা জানান, তার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন সন্তান এরিক, তাকে নিয়েই তার যত ভাবনা ছিল।

এক অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেছিলেন, “রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে এরিককে আমি সময় দিতে পারিনি। এরিক যখন আমার জীবনে আসে, তখন সে মাত্র দুই বছরের শিশু। সে স্নেহবঞ্চিত সন্তান। ছেলেবেলা থেকে মাতৃস্নেহ পায়নি। আমিও আমার অপর সন্তান জাতীয় পার্টি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি সব সময়। ওকে স্নেহ-ভালবাসা দিতে পারিনি, বঞ্চনা করেছি।”

এরশাদের পালিত পুত্র ২৫ বছর বয়সী আরমান এরশাদ রওফে এরশাদ থাকেন এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে। তার একমাত্র পালিত কন্যা জেবিনের বিয়ে হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী জেবিন এখন লন্ডনে থাকেন।

এরশাদের মৃত্যুতে সাবেক স্ত্রী বিদিশার স্ট্যাটাস

ঢাকা অফিস : এরশাদের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন এরশাদের সাবেক স্ত্রী ‘বিদিশা এরশাদ’।  ইউনিক নিউজের পাঠকের জন্য পুরো স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেয়া হলো-

এ জন্মে আর দেখা হলো না। আমিও আজমীর শরীফ আসলাম আর তুমি ও চলে গেলে। এতো কষ্ট পাওয়ার থেকে মনে হয় এই ভালো ছিল। আবার দেখা হবে হয়তো অন্য এক দুনিয়াতে যেখানে থাকবেনা কোনো রাজনীতি।’

উল্লেখ্য, এরশাদ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করতে আজমির শরীফ যান বিদিশা।

খুলনায় আটক দুই মাদক ব্যবসায়ীকে জেল

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেলের একটি টিম অভিযান চালিয়ে গাজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে হাছান (৩১) ও মোসাঃ সাপিয়া বেগম (৩৪)। তাদের কাছ থেকে ৪শ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ইয়াবা সেবনের অপরাধে বাবু লস্কর (৩৯) নামে এক মাদক সেবাীকে আটক করেন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে যথাক্রমে ৬ মাস ও ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেন। এছাড়া আটক মহিলাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- ও ১শ’ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইমরান খান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। গতকাল শনিবার খুলনা তেরখাদা উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ সাইফুর রহমান রানা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইমরান খানে নেতৃত্বে তেরখাদাথানাধীন বিভিন্ন মাদক স্পটের মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িতে মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান চালান। এ সময় ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে মোঃ হাছানকে ৩শ গ্রাম গাজাসহ আটক করেন। একই উপজেলায় মোঃ জাকির হোসেনের স্ত্রী সাপিয়া বেগমকে ১শ’ গ্রাম গাজাসহ আটক করেন। এছাড়া ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আ: মান্নানের পুত্র বাবু লস্করকে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করায় তাকে আটক করেন। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইমরান খান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আটক মাদক ব্যবসায়ী হাছানকে ৬ মাস, বাবু লস্কর কে ৩ মাস এবং সাপিয়া বেগমকে ৭ দিন এবং ১শ’ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।

নাটকীয়তায় ভরা এরশাদের রাজনৈতিক জীবন

ঢাকা অফিস : রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল। গণআন্দোলনের মুখে টানা নয় বছরের শাসনের অবসান। নব্বই পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাজনীতিতেও প্রতিষ্ঠিত।  উত্থান, পতন ও পুনরুত্থানের এই অবিশ্বাস্য হিসাব মিলিয়ে ইতিহাসে বিরল স্থান করে নিয়েছেন সাবেক সেনাশাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

বিশ্বের ইতিহাসে পতিত স্বৈরাচারী হিসেবে রাজনীতিতে একমাত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে আছেন সাবেক এই সেনাশাসক।

ঊনিশশো ত্রিশে পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে জন্ম এরশাদের। দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে রংপুরে এসে স্থায়ী হন।

উনিশশো পঞ্চাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন। এর দু’বছরের মাথায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ। একাত্তরের পঁচিশে মার্চ ছুটিতে পূর্ব পাকিস্তানে থাকলেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। ছুটি শেষে ফিরে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। তিহাত্তরে স্বাধীন বাংলাদেশে ফেরার পর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। আটাত্তরে সেনাপ্রধান হন এরশাদ।

ঊনিশশো একাশিতে রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়া নিহত হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির প্রতি প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন এরশাদ। ঊনিশশো বিরাশি সালের চব্বিশে মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামরিক আইন জারি করেন। পরের বছরের শেষ দিকে আহসান উদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ।

তিরাশিতে মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলে দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের ওপর দমন-পীড়ন চালায় পুলিশ। সারাদেশে ছাত্রদের মধ্যে তীব্র হতে থাকে এরশাদবিরোধী মনোভাব।

ছিয়াশির পহেলা জানুয়ারি জাতীয় পার্টি গঠন করে মে মাসে সাধারণ নির্বাচন দেন এরশাদ। এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মধ্যদিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে তার দল। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে সংসদ ডেকে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী এনে সামরিক শাসনের বৈধতা নিশ্চিত করেন এরশাদ, যা দুহাজার দশে অবৈধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত।

নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে সাতাশি সাল হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ। ওই বছরের দশই নভেম্বর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বামজোট এক হয়ে ঢাকা অবরোধ করে। এই কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত নূর হোসেন  স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলেনর প্রেরণা হয়ে উঠেন।  অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলন।

তৃতীয় জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন জেনারেল এরশাদ। আটাশি সালের তেসরা মার্চ নতুন নির্বাচন দিলেও তা বজর্ন করে প্রধান বিরোধীদলগুলো।  বিতর্কিত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এরশাদ আবার মসনদে বসলেও স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন চলতে থাকে।

সারাদেশে গণআন্দোলনের চুড়ান্ত পর্যায়ে নব্বইয়ের সাতাশে নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডাক্তার শামসুল আলম মিলনকে হত্যা করা হয় সরকারি বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায়। এরপর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার হয়। সেরাতেই জরুরী অবস্থা জারি করেন এরশাদ। পরদিন সকালেই তা অমান্য করে রাজপথে নামে ছাত্র-জনতা।  আন্দোলনরে তীব্রতার মধ্যে এরশাদের ওপর থেকে সমর্থন গুটিয়ে নিতে থাকে সেনাবাহিনী। ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ছয়ই ডিসেম্বর কার্যকর করেন এরশাদ।

একানব্বইয়ে গ্রেপ্তার হন জেনারেল এরশাদ। কারাগারে থেকে পঞ্চম ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাঁচটি আসন থেকে জয়ী হন সাবেক এই স্বৈরাচার। ছয় বছর জেলে থাকার পর সাতানব্বইয়ের নয়ই জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন তিনি। তবে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় সপ্তম সংসদে তার আসন বাতিল হয়ে যায়। অস্টম সংসদে নির্বাচনের যোগ্যতা হারান। এর আগে তিনি বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হন।

নবম সংসদ নির্বাচনের আগে এরশাদ আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটে যুক্ত হন। দশম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত নিযুক্ত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হন পতিত এই স্বৈরাচার।