ফুলতলায় রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভষ্মিভূত

ফুলতলা অফিসঃ সোমবার সকাল ৮টায় ফুলতলার গাড়াখোলা গ্রামের ফেরদৌস মোল্যার বাড়িতে রহস্য জনক অগ্নিকান্ড ঘটে। এতে ঐ বাড়ির আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরজ্ঞামসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভষ্মিভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে ফেরদৌস মোল্যার তালাবদ্ধ ঘরে হঠাৎ করে আগুনের লেলিহান শিখা দেয়া যায়। এ সময় এলাকাবাসি ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত জানা যায়নি। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য গাজী আলমগীর, আওয়ামীলীগ নেতা হুমায়ুন মোল্যা, মুজিবার মোল্যা, গাউস মোল্যা, কামরুল মোল্যা, মাসুদ শেখ প্রমুখ।

প্রি পেইড মিটারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণা

বিজ্ঞপ্তি : ওজোপাডিকোর প্রি পেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি-অনিয়মের প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ওজোপাডিকোর প্রি পেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটি, খুলনা। সোমবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
১২ দফা দাবিতে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মঙ্গলবার(১৬জুলাই) জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং বুধবার(১৭জুলাই) বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১৮ জুলাই দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিভাগীয় পরিচালকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ, ১৯ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটির থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন, আগষ্ট মাসজুড়ে ২১ জেলায় মতবিনিময় এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কনভেনশন।
সোমবার খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ডা: শেখ বাহারুল আলম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের বিদ্যুৎ খাতের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান নিয়ে দেশ ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই খুলনাসহ পদ্মার এপারের একুশ জেলা নিয়ে গঠিত ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২/১ জন কর্মকর্তা এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নিষ্পেষনের জালে নিমজ্জিত করে নিজেদের আখের ঘোচাতে ব্যস্ত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রি পেইড মিটার নামক যন্ত্রদানব খুলনার গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে ওজোপাডিকো নিজেদের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি জনগনের স্বার্থে আন্দোলন শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রি পেইড মিটারে বিদ্যমান দুর্নীতি প্রতিরোধে সংগ্রাম কমিটি গঠনের মধ্যদিয়ে সংবাদ সম্মেলন, মানব বন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এক পর্যায়ে বিষয়টি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেকের দৃষ্টিতে আসলে তিনি উভয় পক্ষকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। গত ২৬ জুন কেসিসির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে সিটি মেয়র ওজোপাডিকোর এমডিকে সংগ্রাম কমিটির সাথে বৈঠক করে পরবর্তী সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। কিন্তু এ পর্যন্ত ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে কোন বৈঠকের উদ্যোগ নেয়াতো হয়ইনি বরং সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি ওজোপাডিকোর এমডি বরাবর লিখিতভাবে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়ে পত্র দেয়া হয়। যার কপি ডাকযোগে পাঠানো ছাড়াও ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক(অর্থ), নির্বাহী পরিচালক(প্রকৌশল) এবং কোম্পানি সচিবের নিজস্ব ই-মেইলেও পাঠানো হয়। অথচ এখন পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটির সাথে বৈঠক করে প্রি পেইড মিটারের সমস্যা সমাধান ও কোম্পানীর কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
পক্ষান্তরে টুটপাড়ার একজন গ্রাহককে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলা সম্পর্কে রোববার ওজোপাডিকো সদর দপ্তরে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত হয়ে কোম্পানীর নির্বাহী পরিচালক অর্থ রতন কুমার দেবনাথ ও নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশল(অ:দা:) মো: আবু হাসানের সাথে কথা বলে গ্রাহক হয়রানির এমন অপকৌশল থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ১২দফা দাবি উপস্থাপন করে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জনগনকে প্রি পেইড মিটার প্রত্যাখ্যান করার আহবান জানানো হয়।
১২ দফা দাবি হচ্ছে, বিইআরসির সাথে চুক্তি অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রতিস্থাপন করা প্রি পেইড মিটারের জামানতের টাকা ফেরত দেয়া, ২শ’ কোটি টাকার রিবেট ২ কোটি তিন বছর আটকে রাখার লভ্যাংশ গ্রাহকদের ফেরত দেয়া, পূর্বের আত্মসাতকৃত রিবেটের টাকা পৃথক লাইনে নয় বরং সহজে ফেরত দেয়া, ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরকে জনগনের জন্য উম্মুক্ত করা, অকেজো ডিজিটাল মিটারের মূল্য পরিশোধ করা, মিটার স্থানান্তরের সময় টাকা বা ফি না নেয়া, ওজোপাডিকোর সকল দুর্নীতি বন্ধ করা, ফ্রি মিটার দেয়ার নাম করে ভাড়া নেয়া বন্ধ করা, অবৈধ পন্থায় মিটার আমদানী বন্ধ করা, লক ছাড়াতে ফি নেয়া বন্ধ কর করা, পূর্বের জামানতের টাকা ফেরত দেয়া এবং বাড়তি সংযোগ ফি না নেয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন ও মোড়ল নূর মোহাম্মদ শেখ, সদস্য সচিব মহেন্দ্রনাথ সেন, যুগ্ম সদস্য সচিব শাহ মামুনুর রহমান তুহিন, ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মন্ডলী সদস্য মফিদুল ইসলাম, ন্যাপ নেতা তপন রায়, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, সিপিবি নেতা এস এম চন্দন, বাসদ নেতা কোহিনুর আক্তার কণা, নাগরিক নেতা সেলিম বুলবুল, ছায়াবৃক্ষের মাহাবুবুর রহমান বাদশা, কবি রুহুল আমিন সিদ্দিকি, এ্যাডঃ মেহেদী ইনসান, শেখ মোঃ হালিম, সাংবাদিক রাশিদুল ইসলাম বাবলু, অসীম কুমার পাল, জি এম রাসেল, মোঃ শহীদুল হাসান , স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাসেল প্রমূখ।

তালায় বিদ্যুৎস্পর্শে এক ব্যক্তির মৃত্যু

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় বিদ্যুতের তারে শটখেয়ে গাছ থেকে পড়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার সকালে উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামে ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি হলেন, প্রসাদপুর গ্রামের মৃত মোজার ফকিরের ছেলে সাজ্জাত ফকির (৫৮)।
নিহতের পারিবার জানায়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে সাজ্জাত ফকির গাছে নারিকেল পাড়তে উঠে গাছের পাতা কেটে দিলে পাশে বিদ্যুতের মেইন লাইনের তারের উপর পড়লে হাত দিয়ে ধরে টান দিলে শক খেয়ে নিচে পড়ে গেলে ঘটনা স্থলে তার মৃত্যু হয়।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.রাসেল মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছে

সরকারী জিনিসকে নিজের মনে করে যত্ন নিন

ঢাকা অফিস : সরকারী জিনিসকে নিজের মনে করে সেগুলির যত্ন নিন; বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাজধানীর ইস্কাটনে সাতটি প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজধানী কেন্দ্রীক নয় উপজেলা, জেলা, শহর, গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন করতে হবে। আর এ জন্য মাষ্টার প্লান করে উন্নয়নের কাজ করতে হবে। মনে চাইলেই যা কিছু নির্মান করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হবে সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিতে মন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, সচিব ও প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য রাজধানীর বেইলি রোড়ে নির্মাণ হয় ২০ তলার তিনটি ভবন, যেখানে ১১৪ টি ফ্ল্যাট আছে। নব নির্মিত এই তিনটি ভবনসহ মিরপুর, লালমাটিয়া ও হাতিরঝিল এলাকায় মোট সাতটি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বস্তিতে মানবেতর জীবন যাপন করেন। তবে তাদের ভাড়া অনেক বেশি দিতে হয়। তাদের কাছ থেকে কিন্তু ভাড়া কোন অংশে কম নেয়া হয় না। তাদের জন্য ফ্লাট নির্মান করা হবে। সে প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। তাদের বসবাসের ব্যবস্থা যেন উন্নতমানের হয় সেটা আমরা দেখবো।’

জলাধার সংরক্ষনের গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ‘জলাধার সংরক্ষন করা একান্ত দরকার। আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যেখানেই জলাশয় দেখি সেটা ভরাট করে আমরা বিল্ডিং নির্মান করি, এটা বন্ধ হওয়া দরকার। মতিঝিলে সুন্দর ঝিল ছিল। এখন নাম আছে ঝিল নাই। আমাদের দেশের আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে জলাশয় ভরাট করা চলবে না।’

মহানগরীগুলোতে প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষা করতে প্রকৌশলী, স্থপতিসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে নকশা তৈরি করতে স্থপতিদের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শহর থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে আবাসন গড়ে তুলতে হবে।

গরীব দেশের ধনী প্রেসিডেন্ট

ঢাকা অফিস : গরীব দেশের ধনী প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর এরশাদকে নিয়ে এরকম কথাই প্রচলিত ছিল। কিন্তু প্রয়াত এরশাদের আসলে কত সম্পদ আছে- মৃত্যুর আগে কোনটা কার নামে দান বা উইল করেছেন এসবের কিছু পরিষ্কার করা হয়নি দল বা তার পরিবার থেকে। তবে মৃত্যুর আগে সন্তান এরিখ, স্ত্রী রওশন ও নিজ হাতে গড়া দল জাতীয় পার্টির জন্য সম্পত্তির বড় অংশ ভাগ ভাটোয়ারা করে দিয়ে গেছেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৯০। সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপতি। গণআন্দোলনে মুখে পদত্যাগ এরপর গ্রেপ্তার ও কারাবাস। আলোচনায় আসে এরশাদের শাসনামলের দুর্নীতি, দেশে বিদেশে তার সম্পদের পরিমাণ। মামলা ও কারাবাসের পর আবার রাজনীতিতে ফিরে আসা। দীর্ঘ দুই যুগের বেশী সময়ে জানা যায়নি তার সম্পদের পরিমাণ আসলে কত।

সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে হলফনামায় বাড়ি-গাড়ি ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করেন এরশাদ। জানানো হয় বার্ষিক আয় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। যার বেশীর ভাগ সরকারি বেতন ভাতা থেকে আসা। বারিধারায় প্রেসিডেন্ট পার্ক ছাড়াও গুলশান, বারিধারায় তিনটি ফ্ল্যাট, ঢাকার পুর্বাচলে দুটি জমি। তবে হাতে নগদ অর্থের পরিমান  ২৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

এছাড়া, ব্যবসা থেকে তার আয় দেখান দুই লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। গুলশান ও বারিধারার দুটি ফ্ল্যাটের দাম দেখান এক কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি, ৭৭ লাখ টাকার একটি দোকান, গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের দাম ছয় কোটি ৮০ লাখ, বসুন্ধরায় একটি ফ্ল্যাট এবং ঢাকার পূর্বাচল ও রংপুরে ৫০ লাখ টাকার বেশি দামের দুটি জমি।

হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এরশাদের হাতে নগদ অর্থ ছিল ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা। এছড়া, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এরশাদের জমা ছিল ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টাকা। এর বাইরে শেয়ারে অর্থের পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ও এফডিআর ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা; ডিপিএস ৯ লাখ টাকা।

এরশাদের ৫৫ লাখ টাকা দামের ল্যান্ড ক্রুজার জিপ, ১৮ লাখ টাকা দামের নিশান কার এবং ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের আরেকটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ রয়েছে। হলফনামায় এরশাদ ঋণ দেখিয়েছেন ইউনিয়ন ব্যাংকে ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৬৮৯ টাকা এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৬ টাকা।

অসুস্থ্য হয়ে সিংগাপুরে যাওয়ার আগে দল ও পরিবার সদস্যদের মধ্যে সম্পত্তি  ভাগাভাগি করে দিয়ে যান এরশাদ। কাকে  কতটুকু দান করেছেন তা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা। স্ত্রী রওশন, ছেলে এরিখ  ভাই জিএম কাদের, ভাতিজা, পালিত ছেলেদের ছাড়াও দল জাতীয় পার্টির নামে নানান সম্পত্তি ভাগাভাগি করে যান তিনি।

রংপুর সদরে কোল্ড স্টোরেজ ছাড়াও রংপুরের সব সম্পত্তি তার ভাই জি এম কাদের ও এক ভাতিজাকে, গুলশান-২ এর একটি বাড়ি স্ত্রী রওশন এরশাদকে, বারিধারার ‘প্রেসিডেন্ট পার্ক’ সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের একমাত্র ছেলে এরিক এরশাদের নামে, পালিত ছেলে আরমানকে গুলশানের অন্য একটি ফ্ল্যাট দিয়েছেন।

কাকরাইলে জাতীয় পার্টির প্রধান কার্যালয় এবং রংপুরের জাতীয় পার্টি অফিস দলকে দান করেন তিনি। গুলশান বনানী এলাকায় কয়েকটি মার্কেটে এরশাদের বেশ কিছু দোকান থাকলেও সেগুলো কাকে দিয়ে গেছেন সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য জানা যায়নি।

সম্পত্তি ভাগ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে হয়েছে নানান নাটকীয়তা। গত ২৪ এপ্রিল নিজের স্বাক্ষর জাল ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কার কথা জানিয়ে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টি একক নাকি যৌথ নেতৃত্বে চলবে?

ঢাকা অফিস : এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। সবার প্রশ্ন কে ধরবেন দলের হাল? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টি একক নেতৃত্বে চলবে নাকি নেতৃত্বের দ্বন্দে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে?

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের কাছে এরশাদ ছিলেন একমাত্র নায়ক। দলের চেয়ারম্যানকে তারা ডাকতেন ‘পল্লীবন্ধু’ নামে। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত এরশাদের কথাই ছিল চূড়ান্ত। বারবার সিদ্ধান্ত বদলের জন্য সমালোচিত হলেও এরশাদের কথার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা ছিলোনা নেতাকর্মীদের। তাই এরশাদ যেভাবে চেয়েছেন সবসময় সেভাবেই চলেছে জাতীয় পার্টি।

রবিবার সকালে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন এরশাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার অবর্তমানে জাতীয় পার্টির কি হবে এখন এ প্রশ্ন সবার। এরশাদের রাজনীতির এখন দুই উত্তরাধিকার-একদিকে স্ত্রী রওশন এরশাদ, আরেকদিকে ছোট ভাই জিএম কাদের। এরশাদ কখনও ভাইকে সাইড লাইনে রেখে পত্নীকে নেতৃত্বে বসিয়েছেন আবার কখনও পত্নীকে সাইড লাইনে রেখে ভাইকে নেতৃত্বে বসিয়েছেন। নেতৃত্ব নিয়ে দেবর ভাবীর অনুসারীদের দ্বন্দ একাধিকবার প্রকাশ্যে আসে।  ফলে বারবার সিদ্ধান্ত বদল করতে হয়েছিল এরশাদকে।

এরমধ্যে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশাও গণমাধ্যমে হাজির হয়েছেন। বলছেন, জাতীয় পার্টির জন্য তারও শ্রম রয়েছে। তিনিও জাতীয় পার্টির সংকটময় সময়ে ভূমিকা রাখতে চান।

জাপা সূত্র বলছে, এরশাদের ইচ্ছা তার অবর্তমানে সংসদে দলকে নেতৃত্ব দেবেন রওশন এরশাদ। আর দলের চেয়ারম্যান হবেন জি এম কাদের। দেবর-ভাবির যৌথ নেতৃত্বে চলবে জাতীয় পার্টি। কিন্তু রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের অনুসারীরা একক নেতৃত্ব চান। এখন সময়ই বলে দেবে এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টির কী হবে।

ব্যান্ডউইথ কমায় বেড়েছে গ্রাহক ভোগান্তি

ঢাকা অফিস : বাজেটে মোবাইল ফোনে কথা বলার খরচ ও সিম কেনার সম্পূরক শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় টেলিকম সেবা হয়ে পড়ছে ব্যয়বহুল। নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ফোনে রিচার্জের হার ও সিম বিক্রি কমেছে- বলছে টেলিকম অপারেটরগুলো। অন্যদিকে বিটিআরসির সঙ্গে পাওনা নিয়ে দ্বন্দ্বে গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথ কমানোতে এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা নিয়েও পর্যাপ্ত সেবা বঞ্চিত হচ্ছে শেষপর্যন্ত গ্রাহকরাই।

মহাখালীতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন ফ্যান্সি। চার সন্তানসহ পরিবারের বাকি সবাই থাকেন গ্রামের বাড়ি। তাই তাদের নিয়মিত খোঁজখবর চলে মোবাইল ফোনেই। নিম্ন আয়ের এই নারীর বেতন না বাড়লেও বাজেটের কারণে বছরের মাঝামাঝিতে বেড়েছে মোবাইল ফোনের খরচ।

দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিম এখন ১৬ কোটি ৮২ হাজার। এসব সিমে ১০০ টাকার কথা বললেই এখন মূসক, শুল্ক ও সারচার্জ মিলিয়ে প্রায় ২৭ টাকা পাবে সরকার। যা আগে ছিলো প্রায় ২২ টাকা। সেই সঙ্গে মোবাইল সিমের ওপরেও দ্বিগুণ হয়েছে কর। একশো’র জায়গায় কর বসেছে দুইশো টাকা।

এতে আগের তুলনায় মোবাইলে অর্থ ব্যয় ও সিম বিক্রির হার কমছে- বলছে টেলিকম অপারেটররা।

অন্যদিকে পাওনা ইস্যু দ্বন্দ্বে গ্রামীণফোনের ৩০ শতাংশ ও রবির ১৫ শতাংশ ব্যান্ডউইথ কমিয়েছে বিটিআরসি। এতে ইন্টারনেটের ধীরগতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তরাই।

গ্রাহককে ভোগান্তিতে ফেলায় একে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বলছে টেলিকম অপারেটররা।

বিকল্প উপায় না পেয়ে পাওনা আদায়েই নিতে হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত-  বলছে বিটিআরসির চেয়ারমম্যান জহুরুল হক।

দেশে এখন মোট মোবাইল ফোন গ্রাহকের ৪৭ শতাংশ গ্রামীণফোন এবং রবি ব্যবহার করেন ৩০ শতাংশ গ্রাহক। অন্যদিকে মোট গ্রাহকের ২০ শতাংশ ব্যবহার করছেন বাংলালিংক আর বাকি ৩ শতাংশ ব্যবহার করেন টেলিটক।