বাগেরহাটে বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে লক্ষিকান্ত সাহা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ ব্যবসায়ী বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার রাতের কোন একসময় শহরের মুনিগঞ্জস্থ খাদ্য গুদামের দুই ভবনের মাঝের ফাকা গলিতে বিষপানে আত্মহত্যা করেন এই বৃদ্ধ। লক্ষিকান্ত সাহা বাগেরহাট বাজারের কচুয়া পট্টী এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ লক্ষিকান্ত সাহার মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, লক্ষিকান্তের দুই স্ত্রী থাকায় পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় ক্ষোভে বিষপান করে সে আত্মহত্যা করতে পারে।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহতাব উদ্দিন বলেন, লক্ষিকান্ত সাহার মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যার আসল রহস্য পাওয়া যাবে।

বাগেরহাটে ভুয়া চিকিৎসকের কারাদন্ড

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটে মিজানুর রহমান (৩৯) নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকায় বাজার এলাকার “মা মেডিসিন কর্নার” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক পরিচয় দেয়া মিজানুর রহমানকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলে, কিন্তু চিকিৎসা সেবা দেয়ার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। ভুয়া চিকিৎসা পরিচয়ে সেবার দেবার অভিযোগে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমান আদালত। এসময় মেডিকেল অফিসার ডা: মোঃ অরিজুল ইসলাম, ফকিরহাট থানার এএসআই ইমদাদ হোসেন সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রহিমা সুলতানা বুশরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিজানুর রহমান নামের এক ভুয়া চিকিৎসক প্রতারনা করে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০, ২২ এর (১) ধারায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম করাদন্ড প্রদান করেন।

তালায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ ৫ শ’ পরিবারে জিআর প্রকল্পের চাউল বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : আকষ্মিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ সাতক্ষীরা তালার ৫ শ’পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ২০ কেজি করে মোট ১০ মে:টন চাউল বরাদ্দ দিয়েছেন সরকার। বুধবার সকালে তালা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ঐ চাউল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার সকালে সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিন প্রধান অতিথি হিসেবে,খলিলনগর ইউনিয়নে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ঐ চাউল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এ সময় অতিথি হিসেবে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমান,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুর্শিাদা পাভীন পাঁপড়ি,উপসহকারী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আরিফ। উপস্থিত ছিলেন,ইউপি সদস্য আ: রাজ্জাক,আবু বক্কর সিদ্দিকী,মেহেদী হাসান,প্রকাশ দালাল,মোজাম আলী শেখ,ইউপি সচিব জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।
প্রসঙ্গত,গত ১৫ জুলাই বিকেলে আকষ্মিক ঝড়ে তালা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এতে অন্তত ১০ টি শিক্ষা,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,২ শতাধিক গাছ ও অর্ধশতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ধর্ষণ মামলা ৬ মাসে শেষ করার নির্দেশ

ঢাকা অফিস : নারী-শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ধর্ষণ মামলা পরিচালনায় ৭টি নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। দুপুরে, বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এই নির্দেশনা দেয়। এদিকে, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ধর্ষণ বন্ধে আইনের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন দরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। রাজধানীর ওয়ারিতে সাত বছরের শিশু সামিয়াকে ধর্ষণের পর, হত্যার ঘটনাটি বেশ আলোচিত হয়।

বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, ধর্ষণ মামলার বিচার হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। আবার আসামিরাও সহজেই জামিন পেয়ে যায়। বুধবার, শিশু ধর্ষণের এমন তিনটি মামলার শুনানি হয় হাইকোর্টে। পরে এ বিষয়ে ৭ দফা নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত। ছয় মাসে মামলা শেষ করার পাশাপাশি, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে মনিটরিং কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

নির্দেশনাগুলো হলোঃ

১. দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনের নির্ধারিত সময়সীমার (বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৮০ দিন) মধ্যে যাতে বিচারকাজ সম্পন্ন করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

২. ট্রাইব্যুনালগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ধারা ২০ এর বিধান অনুসারে মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা মামলা পরিচালনা করতে হবে।

৩. ধার্য তারিখে সাক্ষী উপস্থিতি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতি জেলায় অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন এবং কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতি মাসে সুপ্রিম কোর্ট, স্বরাষ্ট্র এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবেন। যে সব জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে সে সব জেলায় সব ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মনিটরিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

৪. ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ সঙ্গত কারণ ছাড়া সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে।

৫. মনিটরিং কমিটি সাক্ষীদের উপর দ্রুততম সময়ে যাতে সমন জারি করা যায় সে বিষয়েও মনিটরিং করবেন।

৬. ধার্য তারিখে সমন পাওয়ার পরও অফিসিয়াল সাক্ষী যেমন- ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তার বা অন্য বিশেষজ্ঞরা সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত না হলে, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ ও প্রয়োজনে বেতন বন্ধের আদেশ বিবেচনা করবেন।

৭. আদালতের সুচিন্তিত অভিমত এই যে, অবিলম্বে সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং আদালত এটাও প্রত্যাশা করছে যে, সরকার অতি স্বল্প সময়ে উক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবেন।

এ বিষয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আসাদ জানান, ‘১৮০ দিনের মধ্যে মামলাগুলো নিস্পত্তি করতে হবে। একটা মনিটরিং সেল থাকবে। মনিটরিং সেল নির্দিষ্ট সময়ে মামলা শেষ করার বিষয়টি মনিটর করবে। সাক্ষী যেই হোক না কেন পুলিশ, ডাক্তার যেই হোক না কেন; তাদের প্রতি নির্দষ্ট সময়ে মধ্যে সমন জারী করতে হবে।’

হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শুধু আইন করে ধর্ষণ বন্ধ সম্ভব নয়। এজন্য কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম বলেন, ‘একটানা যাতে মামলাগুলো হয় সে নির্দেশনা আছে। মামলাগুলো ঠিক মতো যাতে পরিচালিত হয় সে জন্য একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। যদি কোন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত করা না হয়, সে ক্ষেত্রে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে।’

বটিয়াঘাটায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে এক বন্যাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো দেলোয়ার হোসেন এর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় স্থানীয় পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন এর স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় নিতাই গাইন ও চঞ্চলা মন্ডল, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বঙ্কিম চন্দ্র হালদার, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আমির আলী, ক্ষেত্র সহকারী মৎস্য শহীদুল ইসলাম, সাংবাদিক যথাক্রমে মোঃ মনিরুজ্জামান মহিদুল ইসলাম শাহীন, শাহিন বিশ্বাস, পরিতোষ রায়, দেবাশীষ মন্ডল, ফরিদ শেখ, মোঃ আসলাম,মিজানুর রহমান, প্রমূখ।

তালায় সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি : দূর্নীতি দমন কমিশনের অর্থায়নে সততা সংঘ আয়োজিত এক মনোজ্ঞ সাংষ্কৃতিক প্রতিযোগিতা বৃহস্পিতবার সকালে তালা মহিলা কলেজের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এমএ কাশেম। উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম,সহকারী অধ্যাপক আবু হাসান,হরেন্দ্র নাথ মন্ডল,প্রভাষক কণা বিশ্বাস,মাসুদুজ্জামান,ভবতোষ মন্ডল,নাজিম উদ্দীন,সুতপা রাহা টুম্পা প্রমূখ। শেষে অংশগ্রহনকারী ছাত্রীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু হাসান।

ফুলতলার গাড়াখোলা স্কুল ছাত্রীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ফুলতলা অফিসঃ ফুলতলার গাড়খোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল ছাত্রীদের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ২-০ গোলের ব্যবধানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে পরাজিত করে। খেলাটি পরিচালনা করেন অনুপ বিশ্বাস। খেলা শেষে প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন, পরিচানা কমিটির সদস্য হুমায়ুন মোল্যা, মুজিবার মোল্যা, শিক্ষক নুরুল ইসলাম, মাসুমা সুলতানা, হিমাংশু বসু, কায়েদে আজম বিশ্বাস, আজাদ গাজী, নীলরতন মন্ডল, সানোয়ার হোসেন মোড়ল, সেলিনা খাতুন, শামছুন্নাহার লিজা, কেয়া বিশ্বাস, গোবিন্দ্র গুহ, নাসরিন সুলতানা প্রমুখ।

বটিয়াঘাটায় সুরখালী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ইন্দ্রজিত টিকাদার, বটিয়াঘাটাঃ বটিয়াঘাটা উপজেলায় সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ হাদী সরদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে ইউপি সদস্যরা লিখিত ভাবে দাখিল করেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলা সুরখালী ইউপি চেয়ারম্যান আঃ হাদী সরদার বিভিন্ন সময় পরিষদের সভায় সদস্য/সদস্যাগনের হাজিরা খাতায় সভা চলাকালীন স্বাক্ষর নিয়ে ইচ্ছা মত রেজুলেশন লিখে সকল সিদ্ধান্ত একাই গ্রহন করে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি মাধ্যমে সরকারী টাকা অত্মসাৎ করে চলেছেন। যার দায় ভোগ করছে সকল ইউপি সদস্যগন । উক্ত ইউনিয়নের ইউপি সদস্য যথাক্রমে বি,এম,মাসুদ রানা, মোঃ জাহিদুর রহমান শেখ ও স্বপ্না রানী রায় লিখিত অভিযোগে আরো বলেন, ইউনিয়নের ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের সুন্দর মহল খেয়াঘাট পাকা করেন ২ লক্ষ, ইউনিয়ন পরিষদে একটি প্রিন্টার মেশিন ক্রয়ের ২০ হাজার, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সুখদাড়ায় ইটের সোলিং নির্মানের ১ লক্ষ, গাওঘরা শুকুর শেখের বাড়ি হতে ফারুক সাহেবের বাড়ির ইটের সোলিং ৩ লক্ষ টাকা, সুখদাড়া পূর্বপাড়ায় ইটের সোলিং ১ লক্ষ, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের এল,জি এসপি প্রকল্প ভগবতীপুর শ্রী শ্রী হরিচাঁদ মন্দিরের সামনে পুট ব্রিজ নির্মান ৭ লক্ষ, সুন্দর মহল খেয়াঘাট পাকা করন ও পিচের রাস্তা পর্যন্ত ইটের সোলিং সংস্কার ৬ লক্ষ, গাওঘরা গ্রামের চাঁন্দারডাঙ্গা হাবিবুর শেখের বাড়ি হতে রকিবের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং ৩ লক্ষ ৯০ হাজার, ইউপি অফিস ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন ক্ষমতা বৃদ্ধি, জন সুরক্ষা ও পারস্পারিক শিক্ষক কার্যক্রম ২৫ হাজার, সুরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি ভরাট ২ লক্ষ সহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কাবিখা প্রকল্পের চাউল/গম ১০ টন যাহা ইউনিয়ন পরিষদের ১% হারে নেওয়া সম্পন্ন করা কাজে কাবিখা প্রকল্পের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে। অপর দিকে উপরোক্ত অর্থবছরের এল জি এস পির সমুদয় বরাদ্দকৃত টাকা তাহার বেশী ভাগ টাকা মহিলা মেম্বর সাহারা রফিক ও চেয়ারম্যান যোগসাজসে ফুলটুসি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধ ভাবে এ অর্থ উত্তোলন করে। এছাড়া বাইচের নৌকা ক্রয়ের নাম করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপর দিকে ট্রেড লাইসেন্স,ওয়ারেশ কাম, জন্ম নিবন্ধন, বিভিন্ন ভাতার কার্ড সহ বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা । অভিযোগের কিছু প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ গুলি চলমান রহিয়াছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালার মহিলা কলেজের ধারাবাহিক সাফল্যে : সংকট কাটেনি একাডেমিক ভবন-ছাত্রী নিবাসের

তালা প্রতিনিধি : নারী শিক্ষার উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে এবারো তালার মহিলা কলেজ তাদের ধারাবাহিক সাফল্য অব্যাহত রেখেছে। উপজেলায় এইচ.এস.সিতে এবার প্রায় ৮৩ শতকরা পাশের হার ও সর্বোচ্চ ১৯ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়ে মোট ২৬৮ পরীক্ষার্থীর পাশ করেছে ২২২ জন।
এদিকে বরাবরের মত তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও প্রায় সারা বছর নানা সংকট ও প্রতিকূলতা জেঁকে বসেছে তাদের। শ্রেণী কক্ষ সংকট ও হোস্টেলের অভাব সারা বছর দূর্ভোগ সৃষ্টি করে তাদের। বুধবার এইএসসি’র সাফল্য গাঁথা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রহমানের প্রতিক্রিয়ায় উঠে আসে নানা সমস্যা,সংকট আর দূর্ভোগের চিত্র।
তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে নারী শিক্ষার উন্নয়নে তৃণমূলের পিছিয়ে পড়া নারী গোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে তালা উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত হয় তালা মহিলা কলেজ। শুরু থেকে মূল লক্ষ অর্জনে এগিয়ে চলা বিদ্যাপীঠটি আজ নানা সংকটে ধুকছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের সোনালী সময়েও দৃশ্যত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। প্রথম থেকেই শ্রেণিকক্ষ সংকট বাঁধা হয়ে ছিল যা, আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্বে পথচলা শুরুর আজ ২০১৯ এ এখানকার মোট ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৮ শ’ তবে চাহিদার তুলনায় শ্রেণিকক্ষ সংকট বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের। বিভিন্ন সময় পাঠদান করতে শিফটিং সিস্টেম চালু করতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক সাফল্যে তালার গন্ডি পেরিয়ে এখন জেলার বাইরের মেয়েরাও ভর্তি হয় এখানে। তবে আবাসিক হোস্টেল,বিশেষ করে কলেজের নিজস্ব হোস্টেল সংকট বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসন সংখ্যার ভিত্তিতে এবারো কলেজটিতে একাদশ শ্রেণিতে চার’টি বিভাগে ভর্তি হয়েছে সর্বমোট ৪৩০ জন ছাত্রী। যাদের একটা বড় অংশই ক্যাচমেন্ট এরিয়ার বাইরের। তবে উপযুক্ত আবাসিক হোস্টেল কিংবা কলেজের নিজস্ব ছাত্রী নিবাস নাথাকায় অনেক কষ্ঠে বাইরে ভাড়া বাসা-বাড়িতে থেকে চরম প্রতিকূলতায়ও নিয়মিত ক্লাস করে তারা।
ছাত্রীদের উপযুক্ত পরিবেশে স্বাভাবিক পড়ালেখা চালিয়ে নিতে এখনি তাদের ছাত্রী নিবাসে সরকারি বরাদ্দের করুণ আকূতি জানিয়েছেন তিনি। এজন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যর পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মতবিনিময়কালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,কলেজের উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম,সহকারী অধ্যাপক আবু হাসান,হরেন্দ্র নাথ মন্ডল,প্রভাষক কণা বিশ্বাস,মাসুদুজ্জামান,ভবতোষ মন্ডল,নাজিম উদ্দীন। স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,সাংবাদিক নজরুল ইসলাম,সেলিম হায়দার,জুলফিক্কার রায়হান প্রমূখ।

ফুলতলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন

ফুলতলা অফিসঃ মৎস্য সেক্টরের সমৃদ্ধি, সুনীল অর্থনীতির অগ্রগতি,-এ শ্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯ পালন উপলক্ষে ৭দিন ব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে খুলনার ফুলতলা উপজেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিঃ দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোছাঃ শাহানাজ বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিমেষ বিশ্বাস, ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান কে এম জিয়া হাসান তুহিন, ফারজানা ফেরদৌস নিশা, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার। স্বাগত বক্তৃতা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার। বিআরডিবি কর্মকর্তা আফরুজ্জামানের পরিচালনরায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহীন আলম, নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসমা হক আইরিন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ আকরাম হোসেন, প্রসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুজ্জামান, সফল মৎস্য চাষি হুমায়ুন কবির, প্রভাষক রেজাউল ইসলাম, মোঃ ওহিদুজ্জামান, শেখ সালেহীন, এস এম ফয়সাল নেওয়াজ, দেবপ্রসাদ মন্ডল প্রমুখ। এর পূর্বে উপজেলা পরিষদ পুকুরে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়।