বটিয়াঘাটায় দখলবাজদের বিরুদ্ধে হরিনটানা থানায় মামলা না নেওয়ার অবিযোগ

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটাঃ বটিয়াঘাটা উপজেলার ২নং রাজবাঁধ মৌজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জমি দখলবাজদের বিরুদ্ধে হরিনটানা থানা অফিসার ইনচার্জকে খুলনা পওর শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মামলা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করলে ও আজ পর্যন্ত মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। সূত্রে প্রকাশ উপজেলা রাজবাঁধ মৌজায় পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত এস, এ ১৮৮ নং দাগের জমি আঃ আহাদ বক্সের পুত্র মোঃ ইউসুফ,মোঃ হারুন সিকদারের পুত্র মোঃ রেজাউল সিকদার ও মোঃ ইয়াদ আলীরপুত্র মোঃ কাশেম মিলে জোরপূর্বক দখল করে পাকা ইমারত নির্মাণ করে চলেছে। খুলনা পাওর শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম গত ১ জুলাই ২৬০ নং স্বারকে (কৈয়াবাজার জেলের মোড় নামক স্থানে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জমি দখল করে অবৈধভাবে স্থায়ী পাকা দোকান-ঘর নির্মাণ করছে। উক্ত স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করে। পরবর্তীতে ২৬০ নং স্বারকে থানায় এফ,আই,আর দাখিল করার নিদের্শ দিলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখেছেন। যা সাধারণ মানুষের বোধগম্য নহে। উল্লেখ্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১১৬/৬২-৬৩ নং এল এ কেসের মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত কৈয়া বাজার সংলগ্ন মোড়ে ৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা পওর শাখা-১ এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী/শাখা কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে হরিণটানা থানাকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার নিদের্শ প্রদান করলেও কেন যেন অদৃশ্য কারনে নিরব। এছাড়া উক্ত জমি ডিসিআর প্রাপ্ত মোঃ আঃ আজিজ শেখ বাদি হয়ে আদালতের ১৮২/১৯ নং মামলা এবং হরিনটানা থানা ৯১/১৯ নং মামলায় মোঃ ইউসুফ হোসেন ও রেজাউল সিকদারকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেছে। অন্যদিকে উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের গাওঘরা বাজার সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর অধিগ্রহণ কৃত জমি অবৈধ দখলদার শহিদুল ইসলাম, জোর পূর্বক দখল করে পাকা ইমারত নির্মাণ করছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ মুন্নাফ বিশ্বাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার (কানুনগো) মাহমুদুল্লাহকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করে এবং পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তদের ইমারত ভেঙ্গে ফেলার জন্য অনুরোধ করেন। অন্যদিকে সরকারী জায়গা দখলবাজ শহিদুল গাজী ও তালিকাভুক্ত যুদ্ধপরাধী তার বড় ভাই মিলে সরকারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃ জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করিয়ে নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন দপ্তরকে ম্যানেজ করে পাকা ইমারত নির্মাণ করছে। এলাকাবাসী দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

প্রিয়া সাহাকে নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস

ঢাকা অফিস : বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র প্রস্তত করতেই প্রিয়া সাহাকে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ভয়ংকর অভিযোগ করানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন কংগ্রেসম্যানের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের উদাহরণ দেন তিনি। ওই মার্কিন কংগ্রেসম্যান বলেছিলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য বাংলাদেশের দখল করা উচিত। রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি লেখেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে ভয়ংকর মিথ্যা অভিযোগ করেছেন প্রিয়া সাহা। মার্কিন দূতাবাস জেনেশুনেই এ কাজের জন্য প্রিয়া সাহাকে বাছাই করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। মার্কিন দূতাবাসের প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যের  তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

প্রিয়া সাহার বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

ঢাকা অফিস : প্রিয়া সাহার বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদকদের এ কথা জানান তিনি। প্রিয়া সাহার মন্তব্যে বিভ্রান্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি বিনষ্ট না করতে দেশ বাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি।

শ ম রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘আমার এলাকায় কোন ভাবেই প্রিয় বালা সাহা অথবা প্রিয় বালা বিশ্বাস তার কোন বাড়ি ঘর কেউ পুড়িয়ে দেয়নি। তার কোন জমিজমা কেউই জোরপূর্বক নিয়ে নেয়নি। তিনি বা তার পরিবারের কোন সদস্য থানায় মামলাও করেন নি। তিনি যে অভিযোগটি করেছেন তাদের ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, তার জমি নিয়ে নেয়া হয়েছে, এটা সম্পূর্নরুপে অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোন অসৎ পরিকল্পনা থেকেও তিনি এ জাতীয় অভিযোগ করতে পারেন।’

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার সুমনের মামলার আবেদন খারিজ

ঢাকা অফিস : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে করা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলর আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন।
এদিকে, ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে আরেকটি আবেদন করেন ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল। একই অভিযোগে সিলেট, খুলনা, ঝালকাঠি, নাটোর, কুষ্টিয়া ও যশোরের আদালতে আরও ৬টি মামলার আবেদন করা হয়। এর মধ্যে যশোরে করা মামলার আবেদনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার পাশাপাশি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে। আর নাটোরে করা মামলার আবেদনটি সদর থানার ওসিকে তদন্ত করে আগামী ৬ই আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির তিন কোটি ৭০ লাখ সদস্য গুম হওয়ার অভিযোগ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন প্রিয়া সাহা।

সম্প্রতি চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসে। গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন তারা। ট্রাম্প যখন একে একে সবার বক্তব্য শুনছিলেন তখন বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে প্রিয়া সাহা জানান, বাংলাদেশে হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রীস্টানরা নিখোঁজ  হয়ে যাচ্ছে। তাদের রক্ষা করতে এবং বাংলাদেশে তারা থাকতে চায় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা চান তিনি।

প্রিয়া সাহার সাথে ট্রাম্পের কথোপকথনের ভিডিওটি অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এক দিনের মধ্যেই। ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় বিতর্ক। সরকারের মন্ত্রীরাও কথা বলতে শুরু করেন এ বিষয়টি নিয়ে। ঠিক ওই সময়ই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা দেন।

আবাসিক হোটেলগুলোতে কৌশল পাল্টে চলছে দেহ ব্যবসা

৭টি আবাসিক হোটেলে অভিযানে আটক ৩৩ : দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা

কেএমপি গোয়েন্দা ডিসি’র

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পর নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি অভিযানে নগরীর ৭টি আবাসিক হোটেল থেকে খদ্দের ও যৌনকর্মীসহ ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এমন অভিযান থাকায় আবাসিক হোটেলগুলো কৌশল পরিবর্তন করে অসামাজিক কার্যাকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৬ জুন ‘অভিনব পন্থায় আবাসিক হোটেলগুলোতে চলছে দেহ ব্যবসা’ শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগ নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেন।
কেএমপি গোয়েন্দার সূত্র মতে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি এম নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। গত কয়েকদিনে অভিযানে হোটেল টাইটান থেকে খদ্দের ও যৌনকর্মীসহ ১৪ জন আটক হয়। এছাড়া হোটেল জেএইচ ইন্টারন্যাশনালে ৩ জন, হোটেল মৌসুমীতে ৩ জন, হোটেল খুলনা গার্ডেন ইন ৩, হোটেল নুরাইয়ান ৩, হোটেল স্বপ্নপুরি ৩ ও হোটেল সঙ্গীতায় ৪ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে পুরুষ ও যৌনকর্মীরা রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ম্যানেজারও রয়েছে।
গোয়েন্দার বিভাগের তালিকা অনুযায়ী নগরীতে ৫০-৬০টি আবাসিক হোটেল দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি এম নুরুজ্জামান আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। অভিযানের পরেও আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ না হলে হোটেলের মালিকদেরকে আইনের আওতায় আনারও ঘোষণা দেন। দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলসহ খুলনায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
জানা গেছে, কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগ দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করায় হোটেল মালিকরা কৌশল পরিবর্তন করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ভুয়া কাবিননামা ও বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে এই দেহ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। খদ্দের আর যৌনকর্মীকে স্বামী-স্ত্রী বানিয়ে রাতে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এছাড়া যৌনকর্মীকে আয়া ও বাবুর্চি সাজিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গেলে পুলিশকে হোটেল মালিকরা ভুয়া বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে দেহ ব্যবসা পরিচালনার জন্য হোটেল ব্যবসায়ীদের এমন কৌশল বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। এ সব হোটেলে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রীদেরকে নিয়ে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক নারীকে ফাঁদে ফেলে এই পেশায় আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনিরাপদ এ সব যৌনচার সামাজিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইট হাউজ এর হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৪ জুন পর্যন্ত নগরীর তিন থানাধীন এলাকায় যৌনকর্মীর সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ১শ ২২ জন। যার মধ্যে হোটেলে যৌনকর্মীর সংখ্যা রয়েছে ৭৫ জন, আবাসিকে রয়েছে ৪৮৬ জন ও ভাসমান যৌনকর্মী রয়েছে ৫৬১ জন। এসব যৌনকর্মীকে লাইট হাউজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালে যৌনকর্মী ছিল ১ হাজার ৪২ জন এবং ২০১৭ সালে ছিল ৮৫০ জন যৌনকর্মী। এর আগে ২০১৬ সালে ছিল ৭১৯ জন।
সূত্র মতে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইট হাউজ খুলনা সদর থানা, সোনাডাঙ্গা থানা, খালিশপুর আংশিক এলাকায় ও পূর্ব রূপসার আংশিক এলাকায় তাদের এই সংগঠন যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের সেবা প্রদান করে থাকেন। সূত্র মতে, বাইরে খুলনায় যৌনকর্মীর সংখ্যা রয়েছে ১২ হাজারের বেশি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দূর্জয় নারী সংঘের সর্বশেষ ২০০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী নগরীতে পেশাদার যৌনকর্মী ছিলো ৩ হাজার ৫০০ জন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়ার্ল্ড ভিশনের সর্বশেষ ২০০৫ সালের তথ্য অনুযায়ী নগরীতে অপেশাদার যৌনকর্মী রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া রয়েছে ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করে তারা চলে যায়। শহর সংলগ্ন বিভিন্ন উপজেলা এবং বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের অভাবী মেয়েরা যৌনকাজে লিপ্ত হচ্ছে। তারা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শহরে আসছে এবং কাজ শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে মহানগরীতে দুইটি হোটেল থেকে অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকায় ৪ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলাকে আটক করে পুলিশ। কেএমপি গোয়েন্দা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা টিম এ অভিযানে ফেরিঘাটের মৌসুমী আবাসিক হোটেল এবং লোয়ার যশোর রোডের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেল থেকে তাদেরকে আটক করে। এছাড়া ২৭ ফেব্রুয়ারিতে সদর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন পুরুষ ও পাঁচজন মহিলাকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে সদর থানাধীন ফেরিঘাটের মৌসুমী আবাসিক হোটেল এবং লোয়ার যশোর রোডের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেল থেকে আটক করে। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন আবাসিক হোটেল থেকে ৪ নারী পুরুষকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে এখনি আইনি পদক্ষেপ নয়: প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস : প্রিয়া সাহাকে আত্মপক্ষ সমথর্নের সুযোগ দেয়া হবে; এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় না যাবার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানান।

সরকারের অনুমতি ছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা যায়না উল্লেখ করে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এমন মামলার আবেদনগুলো গৃহিত হবে না। এছাড়া, প্রিয়া সাহাকে দেশে ফিরতেও কোনো বাধা দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে যেসব অভিযোগ করেছেন সবই মনগড়া, ব্যাক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই তিনি এমন কাজ করেছেন।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সাথে দেশের বাস্তবতার মিল নেই। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নেবে তা পরে বিবেচনা করা হবে।’

অভিনব পন্থায় আবাসিক হোটেলগুলোতে চলছে দেহ ব্যবসা 

দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা কেএমপি কমিশনারের

বিউটি পার্লার ও ভাড়া বাড়িতে গড়ে উঠেছে মিনি পতিতালয়

 খুলনার তিন থানা এলাকায় যৌনকর্মীর সংখ্যা ১১শ

নিউমার্কেটে অর্ধশতাধিক কলগার্লের বিচরণ

কামরুল হোসেন মনি : অভিনব পন্থায় খুলনার ১শটির বেশি আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। কৌশলে যৌনকর্মীদেরকে হোটেলের আয়া ও বাবুর্চি সাজিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে এ ব্যবসা। খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানা, সদর থানা ও খালিশপুর থানাধীন (আংশিক) এলাকাজুড়ে ১১২২ জন যৌনকর্মী রয়েছে। এর বাইরে নিরালা, সোনাডাঙ্গা, ময়লাপোতা, ডালমিল মোড়, রূপসা মোড়, খালিশপুর এলাকায় বিউটি পার্লার ও একাধিক আবাসিক ভাড়া বাড়িতে গড়ে উঠেছে মিনি পতিতালয়। সেক্ষেত্রে পেশাদার ও অপেশাদার মিলিয়ে যৌনকর্মীর সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশি। প্রতি বছর হাজারের ওপরে যৌনকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দারিদ্রতা ও কর্মসংস্থানের অভাবে সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে নারীরা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন।
সম্প্রতি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কয়েকটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে পুরুষ ও মহিলাসহ ৯ জনকে আটক করেন। অভিযানটি ঝিমিয়ে পড়ায় কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় পুনরায় এই ব্যবসাগুলো অভিনব পন্থায় পরিচালনা করা হচ্ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির এ প্রতিবেদককে বলেন, আবাসিক হোটেল আর ভাড়া বাড়িতে যারাই এই অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকবে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের কোনো তথ্য থাকলে আমাকে জানিয়ে সহযোগিতা করেন। সমাজ সুরক্ষায় হোটেলগুলোতে প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে আমার জিহাদ ঘোষণা রইলো।
জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে শতাধিক আবাসিক হোটেলে যৌনচার চলছে। এ সব হোটেলগুলোতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রীদেরকে নিয়ে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক নারীকে ফাঁদে ফেলে এই পেশায় আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনিরাপদ এসব যৌনাচার সামাজিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গোয়েন্দার সূত্র মতে, নগরীর নিরালা, সোনাডাঙ্গা, বয়রা, খালিশপুর, নিউমার্কেট এলাকায় একাধিক ভাড়া বাড়িতে গড়ে উঠেছে মিনি পতিতলায়। অবৈধ কর্মকা- সম্পর্কে বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে থাকে। এক শ্রেণির অসাধু পুলিশের সহযোগিতার কারণে অভিযোগের বাস্তবতায় কোনো ফল হয় না। নগরীর বেশ কিছু বাসাবাড়িতে বিভিন্ন স্থান থেকে যৌনকর্মীদের সংগ্রহ করে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে কয়েকজন সচুতুর মহিলা দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে নগরীর ডালমিল মোড় এলাকায়, নিরালায় দুটি বাড়ি, খালিশপুর হাউজিং এ একটি বাড়িতে, রূপসা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি বাড়িতে এক মহিলার নেতৃত্বে দেহ ব্যবসা চলছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বিউটি পার্লারের আড়ালে দেহ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইট হাউজ এর হিসাব অনুযায়ী ২০১৯ সালে ২৪ জুন পর্যন্ত নগরীর তিন থানাধীন এলাকায় যৌনকর্মীর সংখ্যা রয়েছে ১১শ ২২ জন। যার মধ্যে হোটেলে যৌনকর্মীর সংখ্যা রয়েছে ৭৫ জন, আবাসিকে রয়েছে ৪৮৬ জন ও ভাসমান যৌনকর্মী রয়েছে ৫৬১ জন। এসব যৌনকর্মীকে লাইট হাউজের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের যৌন কর্মী ছিল ১ হাজার ৪২ জন এবং ২০১৭ সালে ছিল ৮৫০ জন যৌনকর্মী। এর আগে ২০১৬ সালে ছিল ৭১৯ জন।
সূত্র মতে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইট হাউজ খুলনা সদর থানা, সোনাডাঙ্গা থানা, খালিশপুর আংশিক এলাকায় ও পূর্ব রূপসার আংশিক এলাকায় তাদের এই সংগঠন যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের সেবা প্রদান করে থাকেন। সূত্র মতে, বাইরে খুলনায় যৌনকর্মীর সংখ্যা রয়েছে ১২ হাজারের বেশি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দূর্জয় নারী সংঘের সর্বশেষ ২০০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী নগরীতে পেশাদার যৌনকর্মী ছিলো ৩ হাজার ৫০০ জন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়ার্ল্ড ভিশনের সর্বশেষ ২০০৫ সালের তথ্য অনুযায়ী নগরীতে অপেশাদার যৌনকর্মী রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া রয়েছে ভ্রাম্যমাণ যৌনকর্মী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজ করে তারা চলে যায়। শহর সংলগ্ন বিভিন্ন উপজেলা এবং বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের অভাবী মেয়েরা যৌনকাজে লিপ্ত হচ্ছে। তারা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় শহরে আসছে এবং কাজ শেষে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের গোপন প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, নগরীর বড়বাজার হেলাতলা এলাকায় হোটেল সোসাইটি। এ হোটেলের মালিক এস এম আলম। হোটেলের ম্যানেজার সিদ্দিকুর রহমান দেহ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এছাড়া নগরীর পিকচ্যার প্যালেস মোড়ে হোটেল আর্কেডিয়া, হোটেল আজম হোসেন ইন্টারন্যাশনাল, থানার সামনে হোটেল স্টার, ফেরিঘাট মৌসুমী আবাসিক হোটেল, লোয়ার যশোর রোডের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেল, হোটেল বসুন্ধরা, হোটেল আমিনা, হোটেল সোহাগ মিলন, হোটেল শাহীন, হোটেল কদর, হোটেল সুফি, খুলনা হোটেল, হোটেল আরাম, বৈশাখী হোটেল, সুন্দরবন হোটেল, হোটেল পার্ক, হোটেল আরাফাত, বরিশাল হোটেল, হোটেল মুন, হোটেল প্যারাডাইস, সাতক্ষীরা হোটেল, হোটেল সানলাইট, হোটেল সানডে, হোটেল গোল্ডেন কিং, হোটেল মালেক গার্ডেন, হোটেল জেলিকো, হোটেল এনিটাসহ নগরীর শতাধিক হোটেলেই দেহ ব্যবসা হচ্ছে। এ সব আবাসিক হোটেলগুলোতে রাতের চেয়ে দিনের বেলায় দেহ ব্যবসা হয় বেশি বলে সূত্রটি জানায়। পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তারা ভিন্ন কৌশলে অবলম্বন করছেন। যৌনকর্মীদের হোটেলের আয়া বা বাবুর্চির কার্ড ঝুলিয়ে রাখলেও মূলত তাদেরকে দিয়ে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। নিউমার্কেটে প্রায় অর্ধশতাধিক কলগার্ল বিচরণ করে। এক শ্রেণির দালাল তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়। নগরীর বয়রা এলাকায় দুইজন মেয়ে নিউমার্কেট থেকে ক্রেতাদের সাথে কলগার্লদের কন্ট্রাক্ট করে দেয়। নিউমার্কেটের মধ্যে অনেক সময় তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসে আড্ডায় মেতে থাকেন। নগরীর বৈকালি ঝুড়ির ভিটা, মুজগুন্নী স্টেডিয়ামের পাশে, ফুলবাড়ীগেট ও বয়রা এলাকায় কয়েকটি হোস্টেলের নিবাসীদের বিরুদ্ধে যৌন কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
চলতি বছরে গত মার্চ মাসে খুলনা মহানগরীতে দুইটি হোটেল থেকে অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকায় ৪ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলাকে আটক করে পুলিশ। কেএমপি গোয়েন্দা পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করেন। তৎকালীন কেএমপি ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলামের নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ তদারকিতে গোয়েন্দা টিম এ অভিযান পরিচালনা করে ফেরিঘাটের মৌসুমী আবাসিক হোটেল এবং লোয়ার যশোর রোডের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেল থেকে উল্লিখিতদের আটক করা হয়। এছাড়া ২৭ ফেব্রুয়ারি সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন পুরুষ ও পাঁচজন মহিলাকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে সদর থানাধীন ফেরিঘাটের মৌসুমী আবাসিক হোটেল এবং লোয়ার যশোর রোডের সোনার বাংলা আবাসিক হোটেল থেকে আটক করে। এর আগের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন আবাসিক হোটেল থেকে ৪ নারী পুরুষকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত ৬

নওগাঁর মান্দায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার ছয় জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে, উপজেলার বুড়িদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে বুড়িদহ গ্রামের রঞ্জিতের পুকুরে কয়েকজন জেলে মাছ শিকার করেন। সকালে তারা মাছ বস্তায় ভরে বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রামবাসী ছেলেধরা সন্দেহে তাদের ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গ্রামবাসীর হাত থেকে জেলেদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পরে, তাদের মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায়  এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

রিফাত হত্যা মামলা: মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর

ঢাকা অফিস : বরগুনার রিফাত হত্যা মামলায় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। সকালে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম জামিন আবেদন করলে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজী আবেদন নামঞ্জুর করেন।

রবিবার সকালে মিন্নির জামিন আবেদন করে আদালতের কার্যতালিকায় তোলা হয় মামলাটি। পরে বেলা ১১টার দিকে মিন্নির জামিনের জন্য শুনানি শুরু হয়।

এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে মিন্নি। তার পক্ষে আইনি লড়াই করবেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম। মিন্নিকে আইনি সহায়তা দিতে বরগুনায় গেছেন ঢাকার কয়েক আইনজীবীও। আইনি সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠনও।

এখন পর্যন্ত এই হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘটনায় জড়িত স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে ১৪ জন। তবে এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার সুমনের রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

ঢাকা অফিস : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করেছেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী আজ রবিবার এ মামলাটি দায়ের করেন তিনি। ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের দুটি মামলা দায়ের করেছেন ব্যারিস্টার সুমন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির তিন কোটি ৭০ লাখ সদস্য গুম হওয়ার অভিযোগ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন প্রিয়া সাহা।

সম্প্রতি চীন, তুরস্ক, উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারসহ ১৬টি দেশে সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের শিকার হওয়া মানুষদের কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসে। গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন তারা। ট্রাম্প যখন একে একে সবার বক্তব্য শুনছিলেন তখন বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে প্রিয়া সাহা জানান, বাংলাদেশে হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রীস্টানরা নিখোঁজ  হয়ে যাচ্ছে। তাদের রক্ষা করতে এবং বাংলাদেশে তারা থাকতে চায় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা চান তিনি।

প্রিয়া সাহার সাথে ট্রাম্পের কথোপকথনের ভিডিওটি অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এক দিনের মধ্যেই। ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় বিতর্ক। সরকারের মন্ত্রীরাও কথা বলতে শুরু করেন এ বিষয়টি নিয়ে। ঠিক ওই সময়ই ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা দেন।

তবে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নয় বলে জানানঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।’