পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে গুজব সৃষ্টি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে – মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি

ফুলতলা অফিসঃ সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন, গুজবে কান দিবেন না। এক শ্রেণির স্বার্থানেষী মহল পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে গুজব সৃষ্টি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ছেলে ধরা সন্দেহ হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশকে খবর দিন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং দায়বদ্ধতা পুলিশেরই।
সোমবার বিকালে খুলনার ফুলতলার জামিরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সচেতনতামুলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা শাহাদাৎ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার শাহাবুদ্দিন জিপ্পী, যুগ্ন সম্পাদক মৃনাল হাজরা, আবু তাহের রিপন, কামরুজ্জামান নান্নু, এ্যাড. জালাল উদ্দিন রুমি, সরদার আলাউদ্দিন, ভাইস চেয়ারম্যান কে এম জিয়া হাসান তুহিন, ফারজানা ফেরদৌস নিশা, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, সরদার মনিরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন বাবলু, শাহাবাজ মোল্যা, মোল্যা হেদায়েদ হোসেন লিটু, রবিউল ইসলাম, সাহিদা ইসলাম নয়ন, মঈনুল ইসলাম নয়ন, এস কে সাদ্দাম হোসেন, নুর ইসলাম প্রমুখ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিকভাবে এডিস মশার বংশ নির্মূল করতে হবে -ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুজ্জামান

তাপস কুমার বিশ্বাস, ফুলতলা অফিসঃ মিলিটারী কলেজিয়েট স্কুল (এমসিএসকে) এর অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজ্জামান বিপি, এসডিসি, পিএসসি বলেছেন, ডেঙ্গ জ্বরের বাহক এডিস মশা এদেশে আগেও ছিল। যদিও বর্তমানে এটির প্রকোপ অনেক বেড়ে গেছে। আতঙ্কিত নয়, বরং সামাজিকভাবে সচেতনার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননের ও বংশ বৃদ্ধির পরিবেশ নির্মূল করতে পারলেই ডেঙ্গু জ্বর রোধ সম্ভব।

সোমবার দুপুরে খুলনার ফুলতলাস্থ মিলিটারী কলেজিয়েট স্কুল বঙ্গবন্ধু কমপেক্সে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু সচেতনতা ও প্রতিরোধ বিষয়ক নাটিকা ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যেদৈনিক যুগান্তরের খুলনা ব্যুরো চীপ মোঃ কামাল হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাক খুলনা ব্যুরো চীপ মোঃ এনামুল হক, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, মোঃ নেছার উদ্দিন, মোঃ কামরুজ্জামানসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বয়েজ ক্যাডেট এবং গালর্স ক্যাডেটবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সচেতনামুলক এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী কলেজ ক্যাম্পাসসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করে।

সভাপতির বক্তৃতায় অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আনিসুজ্জামান সচেতনামুলক এ সভায় আরও বলেন, এডিস মশার বংশ নির্মূল করতে বাড়ির আশ পাশের ঝোপ ঝাড় জঙ্গল জলাশয় পরিস্কার ফুলদানি, পরিত্যাক্ত কৌটা, ডাবের খোলা ও টায়ার সরিয়ে ফেলতে হবে। ফ্রিজ ও ইয়ারকন্ডিশনের নিচেয় পানি জমতে দেয়া যাবে না। এডিস মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়, তাই শরীর প্রটেকশনে রাখতে হবে। মশারী বা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে। বাচ্চাদের ফুল প্যান্ট ও সু পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মশারীর ভিতরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে শুধু নিজে ভালো থাকলে চলবে না, সমাজের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকতে হবে।

দাকোপে গাঁজাসহ আটক ৭

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পৃথক ভাবে গাঁজাসহ ৭ জন আটক। এ ঘটনায় মাদক আইনে থানায় পৃথক ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানাযায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে, এর ধারা বাহিকতায় দাকোপে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা চালনা পৌরসভার আানন্দ নগর ও ছোট চালনা গ্রাম থেকে থানা পুলিশের এসআই মমিন সহ সঙ্গীয় ফোর্স এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আনন্দনগর গ্রামের আঃ খালেকের পুত্র নজরুল শেখ(৪০) এবং ছোট চালনা গ্রামের নুর আলী সরদারের পুত্র অছিকুল সরদার(৪০)কে আটক করে। এ সময় আটক ২ জনের কাছ থেকে ৬ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মাদক আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার নং-২১, তারিখ-২৮/০৭/১৯।
অপর এক অভিযানে রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা বাজুয়া গ্রামে থানা পুলিশের এসআই পলাশ কুমার দাশসহ সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় তপন দাসের পুত্র বিনয় দাস(২৯) এবং একই ্এলাকার বিনোদ দাসের পুত্র সরোজিত(৩৫)কে ৬ গ্রাম গাঁজাসহ পুলিশ আটক করে। যার মামলা নং-২২, তারিখ ২৮/০৭/১৯।
অন্য এক অভিযানে রবিবার রাত ১০ টায় দাকোপ থানা পুলিশের এসআই ফারুক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা পানখালী এলাকা থেকে বটিয়াঘাটা হাটবাটি এলাকার সোহরাব শিকদারের পুত্র নজরুল শিকদার(৩২)কে ৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে। এ ঘটনায় থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে যার নং-২৪, তারিখ ২৮/০৭/১৯।
এ দিকে রবিবার গভীর রাতে উপজেলা খোটাখালী এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এসআই শহীদ’র নেতৃত্বে জয়ন্ত্র রায়ের পুত্র দীপ্ত রায়(২২)কে ৫ গ্রাম গাঁজা সহ পুলিশ আটক করে। যার মামলা নং-২৫,তারিখ ২৮/০৭/১৯

দাকোপে ২টি পাইপগান ও গুলিসহ আটক ১

দাকোপ প্রতিনিধি : খুলনা ডিবি পুলিশের অভিযানে দাকোপের পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকা থেকে ২টি পাইপগান ও ১৪ রাউন্ড সর্টগানের গুলি সহ এক জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করছে।
থানার এজাহার সুত্রে জানা যায়,গত রবিবার সন্ধ্যায় অনুঃ ৭ টায় উপজেলা পানখালী ইউনিয়নের খোনাস্থ বুলবুল ব্রিস্কস্রে পরিত্যক্ত পাহারা ঘরের সামনে থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই লুৎফার’র নেতৃত্বে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার ৯নং সোরা গ্রামের মোঃ আব্দুল গফুর খাঁ অরফে গহর খাঁর পুত্র মোঃ ফারুক খাঁ (৩২)কে অত্যাধনিক ২টি পাইপ গান ও ১৪ রাউন্ড সর্টগানের গুলি সহ আটক করে। পরে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসা বাদে আটক ফারুক খাঁ জানায় সে সুন্দরবনের বনদস্যু জোনাব বাহিনী প্রধান জোনাব অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছ থেকে উক্ত অস্ত্র ক্রয় করে তার (আসামী ফারুকের) মাধ্যমে সুন্দরবনের উদেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলো বলে এজাহার সুত্রে জানা যায়। এ ব্যাপারে দাকোপ থানায় খুলনা ডিবি পুলিশের এসআই লুৎফার বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৩, তারিখ ২৮/০৭/১৯।

সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে ফাঁসির আদেশ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী বিজন মন্ডলকে (৪৭) দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এক জনাকীর্ণ আদালতে এ আদেশ দেন। এ সময় আসামী বিজন মন্ডল কাঠগোড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী বিজন মন্ডল আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙা গ্রামের মনোহর মন্ডলের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আশাশুনি উপজেলার ফকরাবাদ গ্রামের অনিল কৃষ্ণ মন্ডলের মেয়ে কঙ্কাবতী মন্ডলের(৪০) সঙ্গে একই উপজেলার গোয়ালডাঙা গ্রামের মনোহর মন্ডলের ছেলে বিজন মন্ডলের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক বছর পর প্রতিবেশী দীপক মন্ডলের স্ত্রী সন্ধ্যা রানী মন্ডলের সাথে বিজন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদ করায় স্ত্রী কঙ্কাবতীর সঙ্গে স্বামী বিজনের প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকতো। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ১০জুন রাত ১১টার দিকে বিজন তার স্ত্রী কঙ্কাবতীর মুখমন্ডল ও নাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে জ্ঞান হারিয়ে যায় কঙ্কাবতীর। এরপর বিজন তার স্ত্রীকে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসসরোধ করে হত্যা করে। এরপর কঙ্কাবতীর লাশ বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে বাথরুমের সামনে আম গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার প্রচার দেয় স্বামী বিজন ও তার পরিবারের সদস্যরা। লোকমুখে খবর পেয়ে পরদিন ১১ জুন সকালে বিজনের বাড়িতে যেয়ে কঙ্কাবতীর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায় তার বাবা অনিল কৃষ্ণ মন্ডল ও তার স্বজনরা। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রামবাসীর সামনে বিজন তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অনিল কৃষ্ণ মন্ডল বাদি হয়ে ১১ জুন রাতে জামাতা বিজন কুমার মন্ডলসহ অজ্ঞাতনামা তিন জনের বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন ১২ জুন বিজন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ জাহিদ হোসেনের কাছে পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ার কারণে স্ত্রীকে নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এজাহারভুক্ত বিজন মন্ডলের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথি পর্যালোচনা শেষে আসামী বিজন মন্ডলের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক শেখ মফিজুর রহমান তার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দ্বন্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।
আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. মিজানুর রহমান পিণ্টু ও অ্যাড. আসাদুজ্জামান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জজ কোর্টের পিপি অ্যাড. তপন কুমার দাস।

তৃণমূল পর্যায়ে চলবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ঢাকা অফিস : ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আগামী ৩১শে জুলাই, ২ ও ৩রা আগস্ট সকাল এগারোটা থেকে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলীর সভাশেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

আলোচনায়সভায় প্রধান্য পেয়েছে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার মোকাবেলা করা, বর্ন্যাতদের পাশে দাঁড়ানো এবং উপজেলা নির্বাচনে যারা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করেছে তাদের বিষয়ে যাচাই বাছাইকরণ।

ঈদের আগে বেড়ে গেছে গো-খাদ্যের দাম

ঢাকা অফিস : গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের আশা করছেন কুষ্টিয়ার খামার মালিকরা। যদিও ঈদের আগে গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু লালন-পালনের খরচ বেড়ে গেছে। এদিকে প্রাকৃতিকভাবে গরু পরিচর্যায় খামার মালিকদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

কোরবানির ঈদে কুষ্টিয়ার গরুর আলাদা কদর রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে। আর এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে গরু পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার হাজারো খামার মালিক। প্রতিটি খামারেই এখন চোখে পড়বে নানা রং ও আকৃতির গরু। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এসব গরু ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে বিক্রির জন্য উঠবে।

এদিকে হঠাৎ করেই ছোলা, ভূষিসহ সব গোখাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। তারপরও গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন বেশির ভাগ প্রান্তিক খামার মালিকরা।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দীকুর রহমান জানান, গরু মোটাতাজাকরণে যাতে কেউ ক্ষতিকর কোন কিছু ব্যবহার না করে সে ব্যাপারে নজরদারি বাড়িয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস।

গত বছর লোকসান গোণায় এবার গরুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার গরু ও ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছে কুষ্টিয়ার  খামারিরা।

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের বেড়েই চলেছে : ২৫ দিনে আক্রান্ত ১৩৯ জন, মৃত ১

খুলনায় ৫০ জনকে ডেঙ্গু চিকিৎসা প্রদান :  খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু ভর্তি রোগীদের ফ্রি টেস্ট

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ গত ২৫ দিনে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩৯ জন। যার মধ্যে যশোরে রয়েছে ৪৪ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছে। এছাড়া খুলনায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মিলে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গা।
এদিকে খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক সভা করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, জুলাই থেকে অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকে। সেই অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বৃদ্ধি পাবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশা হওয়ায় বিষয়টি মশক নিধনকারী কর্তৃপক্ষসহ বিশেষজ্ঞদের বেশি মাত্রায় ভাবিয়ে তুলেছে। তবে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিন্তামুক্ত থাকতে পারছে না নগরবাসী।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের সর্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ডেঙ্গু বিভাগ চালু করা হয়েছে। ভর্তিকৃত রোগীদেরকে এনএসওয়ান-এজি টেস্টটি ফ্রি করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ২৯ জন আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার রোববার এ প্রতিবেদককে বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আক্রান্ত অধিকাংশই ঢাকায় থাকাকালীন এই রোগে আক্রান্ত হন। সময়মতো চিকিৎসা সেবা প্রদান করলে এই রোগ থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, খুলনায় ৫০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। উপজেলায় কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যায়নি। ফুলতলায় একজন ভর্তি ছিলো সে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য জেলায় ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ৫টি টিম ও প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে মেডিকেল টিম রয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা, লিফলেট বিতরণ ও র‌্যালি করা হয়েছে।
জাসদ খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা যে হারে বেড়ে চলেছে তা প্রতিরোধে নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মশক নিধন বা মশা মারার ওষুধ দিতে দেখা যায় না। এখনও পর্যন্ত কেসিসির কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। এর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মান ভালো না। বর্ষা মৌসুমে খাল নিষ্কাশন না করে ড্রেনের কাজে হাত দেওয়ায় জলাবদ্ধতা বেড়ে গেছে। ফলে কেসিসিকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাতে হবে। মশক নিধনের ওষুধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আজ থেকেই মাসব্যাপী সমস্ত ওয়ার্ডে একযোগে করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার আনিসুর রহমান রোববার এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বেশি করে পর্যায়ক্রমে ফগার মেশিন, লার্ভি ও কালোতেল স্প্রে করা হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রম বিষয় নিয়ে জরুরি মিটিং করা হচ্ছে। মশক নিধন কার্যক্রমে ৩৯ জন কর্মী মাঠে রয়েছে। এছাড়া মাইকিং করা হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, ৩ জুলাই থেকে খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু আক্রান্তদের মনিটরিংয়ের কাজ শুরু হয়। ২৮ জুলাই পর্যন্ত ২৫ দিনে খুলনা বিভাগের ১৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক ব্যক্তি মারা গেছে। গত ২৪ ঘন্টায় যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ জন। এ পর্যন্ত যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জন। বর্তমানে ৩৪ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, বাগেরহাটে ৪ জন, সাতক্ষীরায় ৮ জন, ঝিনাইদহ ১৪ জন, কুষ্টিয়ায় ১৭ জন, নড়াইলে ১ জন ও চুয়াডাঙ্গায় গত ২৪ ঘন্টায় ৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ৩ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। খুমেক হাসপাতালের রেজিস্ট্রার (ই.এন.টি) ডাঃ সোহানা সেলিমকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অন্যান্যরা হচ্ছেন মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ মোঃ জাকারিয়া ও সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন-২) ডাঃ পার্থ প্রতীম দেবনাথ।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার বলেন, খুলনায় যারা ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসা নিয়েছেন তারা সবাই অন্য জায়গা থেকে এই জীবাণু শরীরের মধ্যে নিয়ে এসেছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে। এ ছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থান খারাপ হলে দ্রুতভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সময়মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করলে অল্প দিনেই ডেঙ্গু রোগী ভালো হয়ে যায়।

কেশবপুরে পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা : ভোগান্তি চরমে

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুরে পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনার কারণে গ্রাহক ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
জানাগেছে, আকাশে মেঘ হলে, বাতাস হলে, বিদ্যুৎ চামকাইলে বৃষ্টি হলে, কেশবপুরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখা হয়। গত ২৫ জুলাই সাহিত্যিক মনোজ বসুর ১১৮ তম জন্মবার্ষিকী ছিল। ঐ দিন বিকালে গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সাহিত্যিক মনোজ বসুর জন্মবার্ষিকী পালনকালে পাঁজিয়া ফিডারে বিদ্যুৎ বন্ধ করে রাখা হল। অথচ ঐ সময়ে কেশবপুর পৌরসভা, ত্রিমোহিনী ফিডারে বিদ্যুৎ ছিল। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমকে সাহিত্যিক মনোজ বসুর জন্মবার্ষিকী পালনস্থল গড়ভাঙ্গায় বিদ্যুৎ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি বিদ্যুৎ দেয়নি। যে কারণে মনোজ বনু প্রেমিদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে।
এদিকে কেশবপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে গত ২৬ জুলাই বিকালে মাকিং করা হয় যে ২৭ জুলাই সকাল ৬ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলা বিদ্যুৎ থাকবেনা। যার ফলে ২৭ জুলাই লন্ডি, ওয়েলডিং কারখানা, বিভিন্ন স্টিডিও, কুঠির শিল্পের শ্রমিকরা-সহ বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কজে জড়িত ব্যক্তিরা তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে আসেননি। অথচ ঐ দিন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়নি। এভাবেই চলছে কেশবপুরে পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট কেশবপুর পল্লী বিদ্যুত অফিসে চলমান ম্যানেজমেন্ট সরিয়ে দক্ষ ম্যানেজমেন্ট দেওয়া-সহ উপজেলা ব্যাপী নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুতের দাবী জানিয়েছেন উপজেলাবাসি।

জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির আর নেই

ঢাকা অফিস : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

শামীম কবির নামে পরিচিতি পেলেও তার আসল নাম আনোয়ারুল কবির। নরসিংদীর বনেদি জমিদার পরিবারে ১৯৪৫ সালে তার জন্ম। পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক ১৯৬১ সালে।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ নামের কোনো ক্রিকেট দলের মাঠে নামতে ছ’বছর সময় লেগেছিলো। বাংলাদেশ প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ খেলে ১৯৭৭ সালের ৭ জানুয়ারি। তিনদিনের একটি ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডের একটি ক্লাবের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটি মূলত আয়োজিত হয় বাংলাদেশের সামর্থ্য যাচাইয়ের জন্য। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের যোগ্য কি না সেটা পরীক্ষা করে দেখতেই এই খেলা। ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিলো লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাব মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব বা এমসিসি। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন শামীম কবির।