সারাদেশের ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি

ঢাকা অফিস :  রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভাঙছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭১২ জন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গত বছর রেকর্ডসংখ্যক ১০ হাজার ১৪৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। চলতি বছর সে রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রেকর্ডসংখ্যক ১৯ হাজার ৫১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শুধু চলতি জুলাই মাসে  প্রায় ১৫ হাজার ডেঙ্গু রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্র গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশ ও বিভাগওয়ারি ডেঙ্গু জ্বরের সামগ্রিক চিত্র:

    গত ২৪ ঘন্টায় মোট রোগী       ২৪ ঘন্টায় মৃতের সংখ্যা         বর্তমানে ভর্তি রোগী
              ১৭১২ জন                     ০                   ৫৮৩৮জন

 বিভাগ     আক্রান্ত রোগী     বর্তমানে হাসপাতালে
ভর্তি
 ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু  ০১-০১ ২০১৯ হতে

অদ্যাবধি মৃত্যু

 ঢাকা     ১১৫০ জন          ৪৩৩২ জন        ০         ১৪ জন
 চট্টগ্রাম     ৯৪ জন          ১৫৩ জন        ০            ০
খুলনা     ৭৬ জন          ২৮৩ জন        ০            ০
 রংপুর     ৩৩ জন          ১৪৬ জন        ০            ০
 রাজশাহী     ৫৮ জন          ২১৪ জন        ০            ০
বরিশাল     ৬৩ জন          ১৫১ জন        ০            ০
সিলেট     ৩১ জন          ৮৯ জন        ০            ০
ময়মনসিংহ     ৬২ জন          ১৯৪ জন        ০            ০

ডেঙ্গু সংক্রান্ত মনিটরিং সেল গঠন

ঢাকা অফিস :  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রান্ত মনিটরিং সেল গঠন

চলমান ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত জনভোগান্তি নিরসনে ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান কর্যক্রম তদারকি করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক তাঁর নিজ দপ্তরে ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’ নামে একটি আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করেছেন।

মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনা অনুযায়ী ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’ ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার কোনো প্রকার লঙ্ঘন হলে তার অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জন-ভোগান্তি লাঘবে ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’-এ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম ও অভিযোগ জানাতে হটলাইন : ০১৩১৪-৭৬৬০৬৯, ০১৩১৪-৭৬৬০৭০, ০২-৪৭১২০৫৫৬, ০২-৪৭১২০৫৫৭-এবং ministermonitoringcell@gmail.com ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ‘মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ’ পালন উপলক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রান্ত মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও অভিযোগ জানাতে হটলাইন : ০১৭১১-১৫২৩২৮, ০১৮৭৯-১৩২১৭৩, ০২-৯৫৭৩৬২৫, ০২-৯৫১১৬০৩, এবং lgccl@lgd.gov.bd ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডেঙ্গু ও বন্যাজনিত কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলায় এ পর্যন্ত ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা জেলায় আজ পর্যন্ত ২৮ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারী একটি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। এসব রোগীর অধিকাংশই ঢাকায় ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে এসেছেন। এদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালনসহ নানা জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে খোলা হয়েছে ডেঙ্গু কর্ণার নামে একটি মেডিকেল ক্যাম্প। অপরদিকে, সাতক্ষীরা জেলায় এ পর্যন্ত ২৮ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কিত সাধারন মানুষ। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন জানান, সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। আরও ১৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, সেখানে ৪ জন রোগী ভর্তি আছেন। আক্রান্তরা হলেন, মাধবকাটির মো. হাবিবুল ইসলাম দীপু, দেবহাটার কলেজ ছাত্র মেহেদি হাসান ও থানাঘাটার শামীম নাহিদ, মাধবকাটির আবদুর রাকিব, পারুলিয়ার মো. রোকনুজ্জামান, সখিপুরের মো. শরিফুল ইসলাম, দরগাহপুরের হামিদুল ইসলাম, কলারোয়ার হঠাৎগঞ্জ গ্রামের শাকিলা পারভিন ও তালার আটারই গ্রামের সাবরিনা দীবাসহ ১৪ জন। সিভিল সার্জন আরও জানান, আক্রান্তরা এখন আশংকামুক্ত।

২ আগস্ট পাইকগাছায় বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী পি সি রায়ের ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী

স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা : ২ আগস্ট খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র (পিসি) রায় এঁর ১৫৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে খুলনা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিজ্ঞানীর বসতভিটা উপজেলার রাড়–লীতে বিজ্ঞানীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, তথ্য চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা ও ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণের বিজ্ঞান মনস্ক কুইজ বিতর্ক সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রতিযোগিতা সহ দিন ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, খুলনা-৬ পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু। বিশেষ অতিথি থাকবেন, জেলা পুলিশ সুপার এস,এম শফিউল্লাহ সহ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৮৬১ সালের ২ আগষ্ট পাইকগাছার কপোতাক্ষ নদের তীরে রাড়–লীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হরিশ্চন্দ্র রায় ও মাতার নাম ভুবন মোহিনী রায়। তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, রসায়নবিদ, সমাজ সেবক, রাজনীতিবিদ, সমবায় আন্দোলনের পুরোধা। পিসি রায় ১৮৯২ সালে কলকাতার মানিক তলায় মাত্র ৮’শ টাকা পুঁজি নিয়ে বেঙ্গল কেমিক্যাল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ঔষধ শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের মিল ও জন্মভূমি রাড়ুলীতে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম সমবায় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি একাধারে ২০ বছর কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ব্রিটিশ সরকার ১৯৩০ সালে তাকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এছাড়া একই বছর লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৩৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভারত বর্ষের মহীশুর ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান সূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। চিরকুমার এই বিজ্ঞানী তার জীবনের অর্জিত সমস্ত সম্পদ মানব কল্যানে দান করে গেছেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮৩ বছর বয়সে বিজ্ঞানীর জীবনাবসান ঘটে।

বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ হবে দেশের ভাগ্যোন্নয়নে

ঢাকা অফিস : দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে কৃষকলীগের রক্তদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকলেও টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাস আমাদের জন্য শোকের মাস।  আজকের এই দিনে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একই সঙ্গে সেদিন ঘাতকের হাতে নিহত সবাইকে। ১৫ আগস্ট আমি আমার বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সব সদস্যকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি।  ‘জাতির পিতা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য, সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু ১৫ আগস্ট স্বাধীনতার আদর্শ নস্যাৎ করার জন্য তাকে সপরিবারে হত্যা করে ঘাতকচক্র।’ শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কতটুকু সফল হতে  পেরেছি তার বিচার জনগণ করবে। শোকের এই মাসে রক্তদান কর্মসূচির পাশাপাশি এবার আমরা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। কারণ জাতির পিতা বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো একজন অন্তত তিনটি করে গাছ লাগাবেন। একটি কাঠের গাছ একটি ফলজ ও একটি ভেষজ গাছ।  বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও বলেন, দেশে এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। তাই আপনারা সবাই সাবধানে থাকবেন। নিজের পরিবার-পরিজনের দিকে লক্ষ্য রাখবেন। নিজেদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবেন।  কৃষকলীগের আজকের রক্তদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ।  সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষকলীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা। টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আর কারও বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর কৃষকলীগের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি অনুযায়ী রক্তদানে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে রক্তদানের আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। যারা রক্তদান করেন তাদের কৃষকলীগের পক্ষ থেকে শোকের মাসের প্রতীক হিসেবে একটি করে কালো পাঞ্জাবি দেওয়া হয়।  এরপর বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। 

ডুমুরিয়ায় সন্দেহ জনক দুই মহিলা আটক

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ফেরার সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সরকারি কর্মকর্তার ১১ হাজার ৫’শ টাকা খোয়া গেছে। থানা পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই মহিলাকে আটক করেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ক্যাশিয়ার খাদিজা খাতুন সোনালী ব্যাংক ডুমুরিয়া শাখা থেকে এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার নয়’শ আঠাশ টাকা উত্তোলন করে অফিসে ফিরছিলেন। তিনি ব্যাংকের দোতলার সিঁড়ি ধরে নামতে নামতে দেখেন দু’জন মহিলা তার পেছনে পেছনে রয়েছে। এক পর্যায়ে তারা ওই কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেয়। তখন তার সন্দেহ হয় এবং সাইড ব্যাগ উল্টিয়ে দেখেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ব্যাগের কিছুটা অংশ কাটা আর টাকা বের হচ্ছে। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের ব্যবসায়ীরা এসে ওই দুই মহিলাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ক্যাশিয়ার খাদিজা খাতুন জানান, আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সিঁড়ি ধরে নামার সময় ওই দু’জন আমার পিছু নেয়। হঠাৎ ওরা আমাকে ধাক্কা দেয়। তখন আমার সন্দেহ হলে সাইড ব্যাগটি চেক করে দেখি ব্যাগের পাশে কাটা আর কেমন যেন টাকা বেরিয়ে আসছে। এ সময় আমি চিৎকার দিলে পাশের দোকানদাররা ছুটে এসে ওদের আটক করে। পরে আমি টাকা গনণা করে দেখি মোট টাকা হতে ১১ হাজার ৫’শ টাকা কম পড়ছে। আমরা ধারণা ওই দু’জন ব্যাগ কেটে টাকা বের করে নিয়েছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা ডিউটিরত অফিসার এ এস আই আলমগীর হোসেন জানান, ব্যাগ কেটে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুই মহিলাকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এরা হল রুপসার কর্ণপুর এলাকার আবুল কালামের স্ত্রী আমিরুন বেগম (৫০) ও ছাচিবুনিয়া এলাকার সিদ্দিক আলীর স্ত্রী রবেজান বেগম (৪০)। আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দিক নির্দেশনা মতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

খুলনায় ছেলের ইটের আঘাতে বাবার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনায় ছেলের ইটের আঘাতে বাবা ওবায়দুর রহমান (৬৫) নিহত হয়েছেন। বাবার ধারালো দায়ের কোপে মারাত্মক জখম হয়েছে ছেলে নাহিদ (১৪)। বুধবার (৩১ জুলাই) রাতে মহানগরের খালিশপুর থানার রমজানের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ওবায়দুর রহমান বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ভোরে বাড়িতে মারা যান। খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) সোনালী সেন বলেন, বুধবার রাতে ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে তার ছেলে নাহিদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুর রহমান দা দিয়ে নাহিদকে কোপায়। এসময় নাহিদও ইট দিয়ে তার বাবার মাথায় আঘাত করে। নাহিদের মাথায় সাতটি সেলাই লেগেছে। চিকিৎসা নিয়ে দুজনই বুধবার রাতে বাড়ি ফিরে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে ওবায়দুর রহমান মারা যান।

সারাদেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু

ঢাকা অফিস : রাজধানীসহ সারাদেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই রেকর্ড হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৮শ’ ৩৮ জন।  বৃহস্পতিবার ঢাকা ও সলিমুল্লাহ মেডিকেল এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত তিনজন মারা গেছেন।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মনে ভীতি। সামাণ্য জ্বরেই সবাই ছুটছেন হাসপাতালে।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেলো, ডেঙ্গু সনাক্তের পরীক্ষা ও রিপোর্ট তুলতে গিয়ে তীব্র ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ। অনেক বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে রিএজেন্ট সংকটের অজুহাতে পরীক্ষা বন্ধ রাখার অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু সনাক্তের পরীক্ষায় সরকারি হাসপাতালে যে হারে রোগী আসছে, এমন চলতে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তাদেরও রিএজেন্ট সংকট দেখা দেবে।

সলিমুল্লাহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩২৮ ডেঙ্গু রোগী। রোগীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে একশ’ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু রয়েছে ১৫০ বেডের ডেঙ্গু ওয়ার্ড।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার সাতশো বারো জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৫শ’ ১৩ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫ হাজার ৮শ’ ৩৮ জন।

এদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী বিভাগের ৮জেলায় এ পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩৪৭ জন। এর মধ্যে ৯৪ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন। হাসপাতালে এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৫৩ জন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দনাথ আচার্য জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের কেউই মারা যাননি। তবে আব্দুল ওয়াহেদ (৭৫) নামের  আত্রাইয়ের এক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার স্ত্রী আকিকুন নাহার (৬৫) আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।

তিনি আরো জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯২জন, চাঁপােইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে ২০জন, নওগাঁ হাসপাতালে ১৫ জন, নাটোর হাসপাতালে ৭জন, জয়পুরহাট হাসপাতালে ৪জন, বগুড়া হাসপাতালে ১৫২জন এবং সিরাজগঞ্জ হাসপাতালে ৫৭ ভর্তি হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৯৪ জন সুস্থ্য হয়েছে। তবে কেউই মারা যাননি।

পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে সব সরকারি জেলা হাসপাতালেই ডেঙ্গু সনাক্তের ব্যবস্থা রয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ডেঙ্গু মশা নিধনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৪ জন, খুলনায় ৭৬ জন, রংপুরে ৩৩ জন, বরিশালে ৬৩ জন, সিলেটে ৩১ জন, ময়মনসিংহে ৬২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

বাগদা চিংড়িতে পুশ করায় ৬ মাসের কারাদন্ড

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ কয়রায় বাগদা চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মাসুম বিল্লাল নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। জানা গেছে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় দেউলিয়া বাজার মৎস্য আড়তে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে অপদ্রব্য পুশ করা ৬০ কেজি বাগদা চিংড়ি সহ মৎস্য ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাকে আটক করে। ভ্রাম্যমান আদালতের বিজ্ঞ বিচারক উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুর-ই আলম ছিদ্দিকী পুশ করার অপরাধে মাসুম বিল্লাকে ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বটিয়াঘাটায় ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখলের পায়তারা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিরাট গ্রামের আরজ মোল্লার পুত্র মোঃ বেল্লাল মোল্লা। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলা ভাদালবুনিয়া মৌজার বিগত ২০০৯ সালে ৪৬৬১ নং কবলা দলিলে ০.৬৮ একর, ৪২৫ নং কবলা দলিল মূলে ০.৩৬৫০ একর ও ২০১৩ সালে ৮৫৪০ নং কবলা দলিল মূলে ০.৩২ একর মোট ১.৩৬৫০ একর সম্পত্তি আমি ও আমার ভাইপো এড, শরিফুজ্জামান খরিদ করিয়া ভোগ দখলে থাকিয়া ফসল ও মৎস্য চাষ পূর্বক জীবন জীবিকা নির্বাহ করিয়া আসিতেছি। উল্লেখ্য উক্ত ১.৩৬৫০ একর সম্পত্তি মধ্যে আমার মাত্র ০.৯০ একর সম্পত্তি ভোগ দখলে আছি। বাকী সম্পত্তি দখল চাইতে গেলে বিবাদী ভাদাল বুনিয়া গ্রামের ইলিয়াস শেখের পুত্র মোঃ বজলুর রহমান এবং বিরাট গ্রামের হাবিবুর রহমান গোলদারের পুত্র লাভলু গোলদার ও ফজর শেখের পুত্র জুলফিকার আলী শেখ সহ আরো কিছু সহযোগী মিলে আমাকে ও আমার ভাইপোকে জীবন নাশের হুমকি দিতেছে। পাশাপাশি আমাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখল করার পায়তারা করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাসান এক শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আপোষ মিমাংশা করে দিলেও বিবাদীদের কার্যক্রম বন্ধ না থাকায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪/১৪৫ ধারায় এম,পি ৪৭৪/২০১৯ নং মামলা দায়ের করেছি। যা বর্তমান চলমান ও বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে বিবাদীরা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে চলাফেরা করায় আমার ও আমাদের পরিবারে জান মালের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মোঃ বেল্লাল ও ভাইপো শরিফুজ্জামান প্রশাসনের উচ্ছ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।