১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা

ঢাকা অফিস : দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে গেছে। আগামী ১২ই আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।  শুক্রবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ কথা জানানো হয়।

১১ই আগস্ট সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা পালন করা হবে। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বিচারিক আদালত চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে।  সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একইদিন ঈদ পালন করে।

সারাদেশের গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি

ঢাকা অফিস : রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভাঙছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৮৭ জন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে গত বছর রেকর্ডসংখ্যক ১০ হাজার ১৪৮ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। চলতি বছর সে রেকর্ড ছাড়িয়ে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে রেকর্ডসংখ্যক ২১ হাজার ২৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শুধু চলতি জুলাই মাসে  প্রায় ১৫ হাজার ডেঙ্গু রোগী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেল্থ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্র গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশ ও বিভাগওয়ারি ডেঙ্গু জ্বরের সামগ্রিক চিত্র:

  গত ২৪ ঘন্টায় মোট রোগী     ২৪ ঘন্টায় মৃতের সংখ্যা      বর্তমানে ভর্তি রোগী
           ১৬৮৭ জন                ০           ৬৫৮২ জন

বিভাগ আক্রান্ত রোগী বর্তমানে হাসপাতালে  ভর্তি ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ০১-০১-২০১৯ হতে

অদ্যাবধি মৃত্যু

ঢাকা ১৬৮৭ জন ৬৫৮২ জন ১৪ জন
চট্টগ্রাম ১১৯ জন ৩৫৫ জন
খুলনা ৯১ জন ৩৬৪ জন
রংপুর ৩৮ জন ১৬৩ জন
রাজশাহী ৮৭ জন ২৪৬ জন
বরিশাল ৭৭ জন ১৮৫ জন
সিলেট ১১ জন ৮৪ জন
ময়মনসিংহ ৭৮ জন ২৪৫ জন

ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার কোনো প্রকার লঙ্ঘন হলে তার অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জন-ভোগান্তি লাঘবে ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’-এ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম ও অভিযোগ জানাতে হটলাই : ০১৩১৪-৭৬৬০৬৯, ০১৩১৪-৭৬৬০৭০, ০২-৪৭১২০৫৫৬, ০২-৪৭১২০৫৫৭-এবং ministermonitoringcell@gmail.com ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ‘মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ’ পালন উপলক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগে ডেঙ্গু সংক্রান্ত মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য ও অভিযোগ জানাতে হটলাই: ০১৭১১-১৫২৩২৮, ০১৮৭৯-১৩২১৭৩, ০২-৯৫৭৩৬২৫, ০২-৯৫১১৬০৩, এবং lgccl@lgd.gov.bd ই-মেইল এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

তালা প্রেসক্লাবে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি : তালা প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটি ও সাধারণ সমদস্যদের সমন্বয়ে শুক্রবার সকালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু।
তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমানের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন তালা প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা এমএ হাকিম, আব্দুস সালাম, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ-সম্পাদক সব্যসাচী মজুমদার বাপ্পী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিম হায়দার, কোষাধ্যক্ষ এমএ ফয়সাল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ রোকনুজ্জামান টিপু, প্রচার সম্পাদক কাজী আরিফুল হক ভুলু, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিএম গোলাম রসুল, ক্লাবের সদস্য প্রভাষক ইয়াছিন আলী, খলিলুর রহমান লিথু, অর্জুন বিশ্বাস, মোঃ নূর ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, আছাদুজ্জামান রাজু, আজমল হোসেন জুয়েল, কাজী লিয়াকত হোসেন, সুমন রায় গনেশ, মোঃ তাজমুল ইসলাম, এস,কে রায়হান প্রমুখ।
সভায় প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া আফরীনকে বিদায় এবং নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেনকে সংবর্ধণা দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া প্রেসক্লাবের উন্নয়নসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা হয়।

বিজ্ঞানী পিসি রায়ের ১৫৮ তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা : বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র ( পিসি)রায় এর জন্ম বার্ষিকীতে বিজ্ঞানী পিসি রায়ের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা,বসত বাড়ীর সিমানা প্রচীর দিয়ে পিকনিং স্পট ,সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের অধিনে জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন, বিজ্ঞানীর নামে বোয়ালিয়া ব্রীজের নাম করণের দাবী উঠেছে। ২ আগষ্ঠ শুক্রবার বিজ্ঞানীর ১৫৮তম জন্ম বার্ষিকীর দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসুচির আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবী করেন। সকালে বিজ্ঞানীর জন্ম ভিটা রাড়ুলীতে পিসি রায়ের ভাস্কর্য্যে জেলা- উপজেলা প্রশাসন, সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও স্থানীয আ’লীগ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মাল্যদান করেণ। এর পর অতিঃ জেলা প্রশাসক( এলএ) মোঃ ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৬, (পাইকগাছা-কয়রার) এমপি আকতারুজ্জামান বাবু। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না। প্রভাষক ময়নুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সচিব খন্দকার মোঃ আছাদুজ্জামান,সহকারী পুলিশ সুপার( ডি সার্কেল) মোঃ আছাদুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ শাহাদৎ হোসেন বাচ্চু, ভাইস চেয়ারম্যান-শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, লিপিকা ঢালী, রাড়ুলী ইউপি চেয়ারম্যান-আঃ মজিদ গোলদার,সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র ঘোষ,মিহির বরন মন্ডল, উপজেলা আ’লীগ নেতা আনোয়ার ইকবাল মন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান মনছুর আলী গাজী,আনন্দ মোহন বিশ্বাস। বক্তব্য রাখেন আ’লীগ নেতা আরশাদ আলী, শংকর দেবনাথ,আঃ হাকিম গোলদার,ইকবাল হোসেন খোকন,সাবেক চেয়ারম্যান-কাজল কান্তি বিশ্বাস, উত্তম কুমার দাশ,প্রধান শিক্ষক গোপাল ঘোষ,অজিত কুমার সরকার,মোঃ খালেকুজ্জামান, দীপংঙ্কর দত্ত,সাংবাদিক আঃ আজিজ,শিক্ষার্থী প্রান্ত দাশ,নাবিরা হাসনাথ,মনিরা ফারজানা প্রমুখ।
বিজ্ঞানী পিসি রায় ১৮৬১ সালে ২ আগষ্ঠ পাইকগাছা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে রাড়ুলীতে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা হরিশ্চন্দ্র ও মায়ের নাম ভুবন মোহনী দেবী। বাঙালী এ বিজ্ঞানী একাধারে শিক্ষাবিদ,শিল্পপতি,রসায়নবিদ,সমাজ সংস্কারক,অ-সাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদ ও সমবায় আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন। পিসি রায় ১৮৯২ সালে কলকাতার মানিকতলায় মাত্র ৮শ টাকা পূঁজি নিয়ে বেঙ্গল কেমিক্যাল এ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ঔষধ শিল্প কারখানা গড়ে তোলেন। তিনি খুলনা,সাতক্ষিরা,বাগেরহাট সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাপড়ের মিল, উপমহাদেশের প্রথম সমবায় ব্যাংক, সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। বিজ্ঞানী একাধারে ২০ বছর ধরে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজে রসায়ন শাস্ত্রের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।১৯৩০ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করে। একই বছর লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়, ৩৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত বর্ষের মহিশুড় ও বেনারস বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞানীকে সন্মান সূচক ডক্টরেট ড্রিগ্রী প্রদান করে। চিরকুমার এই বিজ্ঞানী তাঁর জীবনের অর্জিত অর্থ-সম্পদ মানব কল্যানে দান করে গেছেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮৩ বছব বয়সে পিসি রায়ের জীবনাবসান ঘটে।

বাগেরহাটে সুনামগঞ্জের অপহৃত দুই ব্যবসায়ী উদ্ধার

বাগেরহাট : বাগেরহাটে কয়লা কেনার চুক্তির কথা বলে কৌশলে দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে সুনামগঞ্জ থেকে  ডেকে এনে অপহরণ করার পর মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পানগুছি নদীর পাড় থেকে অপহৃত দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহৃতদের উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিৎকিসা দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারকৃত দুই কয়লা ব্যবসায়ী হচ্ছেন- সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলার টেকেরঘাট গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে নুরুল আলম (৩৭) ও একই উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে মুসলিম মিয়া (৩৫)।

আর অপহরণকারীরা হলো- পিরোজপুর জেলার দক্ষিণ ভিটাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে তুহিন শিকদার (২২), একই জেলার উত্তর পূর্ব মাছিমপুর গ্রামের রফিক হালদারের ছেলে পারভেজ হালদার (২৫) ও পোরগোল গ্রামের আশরাফ আলী ছেলে আজগার আলী (৩৫)।

অপহৃত কয়লা ব্যবসায়ী নুরুল আলম বলেন, ইটভাটায় কয়লা কিনতে চুক্তি করার কথা বলে কৌশলে অপহরণকারীরা সুনামগঞ্জ থেকে আমাদের পিরোজপুর ডেকে আনে। গত ৩০ জুলাই ভোর ৫টায় আমরা পিরোজপুর এসে পৌঁছালে অপহরণকারীরা আমাদের নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নৌকায় দুদিন ধরে আটকে রাখে। এ সময় তারা আমাদের বেধড়ক মারপিট করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে আমাদের পরিবার থেকে পুলিশকে অবহিত করা পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল বলেন, ব্যবসার কথা বলে একটি চক্র ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সুনামগঞ্জের দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে। পরে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ অপহরণের বিষয়টি আমাদের অবহিত করলে জেলা পুলিশের একাধিক টিম অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে বাগেরহাট শহরের এসএ পরিবহনের অফিস থেকে মুক্তিপণের টাকা উত্তলনের সময় তিন অপহরণকারীকে আটক করা হয়। পরে পুলিশি তৎপরতায় বাকি অপহরণকারীরা দুই কয়লা ব্যবসায়ীকে ফেলে পালিয়ে যায়।

খুলনায় মহিলা কলেজের পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার

খুলনা অফিস : খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের পুকুর থেকে শেখ ওমর ফারুক সোহেল (৩০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত ১২ টা ২০ মিনিটে বয়রা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পুকুর থেকে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অনেক খোঁজাখুজি করে রাত ১১ টার দিকে পুকুর পারে একজোড়া জুতা দেখতে পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। সোহেল বয়রা মহিলা কলেজ মোড়ের মৃত শেখ লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি উক্ত কলেজের কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরী করতেন। তার এক বছর বয়সের একটি ছেলে আছে। বয়রা সদর ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর নুরুল আল রাজু জানান, আমরা রাত পৌনে ১২টার দিক খবর পাই স্থানীয়রা সন্দেহ করছে এখানে একজন ডুবে গেছে। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু নির্দিষ্ট ছিলনা যে ডুবে গেছে। তারপর আমরা দুটি ইউনিটের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে তাকে উদ্ধার করি। এ বিষয় খালিশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মামলা নং-১৩। তার পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, সোহেলের মৃগী রোগ ছিল। সে এশার নামাজের জন্য ওযু করতে পুকুর পারে আসেছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে।

৩৯০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু ঝুঁকিতে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব বিভিন্ন দেশে বেড়েই চলেছে। অতীতে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েক দশকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে নাটকীয়ভাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্বের ১২৮টি দেশের ৩শ ৯০ কোটি মানুষ রয়েছে এই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে।

যেসব অঞ্চল ডেঙ্গু আক্রান্ত

প্রধানত গ্রীষ্মপ্রধান, আংশিক গ্রীষ্মমন্ডলীয় বা নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। আক্রান্ত হয় শহর ও উপশহরগুলো। এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে প্রতিবছর অনেক মানুষের প্রাণহানির কারণ এই ডেঙ্গু। এছাড়া আফ্রিকা, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা ও ভূমধ্যসাগরীয় পূর্বাঞ্চলে ডেঙ্গুর উপস্থিতি রয়েছে।

এশিয়ার মধ্যে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ভারত, বাংলাদেশে প্রায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ডেঙ্গু আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে মেক্সিকো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও নিকারাগুয়া উল্লেখযোগ্য। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মূলত নির্ভর করে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, ও দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণ কতটা পরিকল্পিত-অপরিকল্পিত এসবের ওপর।

 

১৯৫০ সালে প্রথম ডেঙ্গু মহামারি হয়ে দেখা দেয় ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডে। এরপর ১৯৭০ সালের দিকে মাত্র ৯টি দেশ মারাত্মক ডেঙ্গুতে ভুগেছে। ২০১০ সালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ২ কোটি ২০ লাখের মতো। তবে ২০১৫ সালের দিকে শুধু আমেরিকা মহাদেশেই ২ কোটি ৩৫ লাখ ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়। সেখানে মারা যায় ১১৮১ জন।

বর্তমান ২০১৯ সালে এটির ভয়াবহতা বেড়েছে বহুগুন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু জ্বরে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা যায় বর্তমানে প্রায় ৩৯ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে সাধারণ জ্বর ও ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য বুঝতে না পারায় এই সংখ্যা কিছুটা কমও হতে পারে।

 

কেমন আছে ইউরোপ?

ভৌগলিক অবস্থান ও পরিবেশগত কারণে ইউরোপে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নেই বললেই চলে। তবে ডেঙ্গু রোগীর অস্তিত্ব যে একেবারেই মেলেনি তা নয়। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ায় ২০১০ সালে ডেঙ্গু রোগী লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়া, ২০১২ সালে পর্তুগালের মাদেরিয়া দ্বীপে সনাক্ত করা হয় ২০০ ডেঙ্গু রোগীর।

২০১৬ ছিল ভয়াবহ, ২০১৯ এও বাজে অবস্থা

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি ছিল ২০১৬ সালে। সেসময় শুধু আমেরিকা অঞ্চলেই ২০ লাখের ওপর মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। এরমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ আক্রান্ত ব্রাজিলে। যা ছিল ২০১৪ সালের তুলনায় দেশটিতে তিনগুন বেশি।

অপরদিকে এশিয়ার ফিলিপাইনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ও মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করা হয়। এছাড়া আফ্রিকায় বুরকিনা ফসোতেও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছিল পূর্বের চাইতে বেশি।

 

তবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০১৭-২০১৮ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসে। যদিও নিশ্চিতভাবে এর কারণ জানা যায়নি।

২০১৯ সালে এসে আবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে অন্তত ১৪ লাখ ডেঙ্গু জ্বরের ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এরমধ্যে শতকরা ৮৬ ভাগই হচ্ছে ব্রাজিল (১২ লাখ), কলম্বিয়া (৬১ হাজার), নিকারাগুয়া, (৪৬ হাজার) ও মেক্সিকোতে (৩০ হাজার) আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগী। ওই অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ৬ শ ছাড়িয়েছে।

এদিকে ফিলিপাইনে ডেঙ্গুর কারণে ইতোমধ্যে জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ১ লাখ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। মারা গেছেন ৪৫৬ জন।

ইন্দোনেশিয়ার সারা বছরই কমবেশি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকে চলতি বছর প্রায় ৩৬২টি শহরে ১০ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১০০ জন। ২০১৬ সালে সর্বাধিক ২ লক্ষাধিক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল দেশটিতে, যার মধ্যে ১৫৯৮ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া এ বছর থাইল্যান্ডেও ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৫০ জন।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপায় কী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। এজন্য পরিকল্পিত নগরায়ণ, বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার ওষুধ প্রয়োগ-বংশ বিস্তার করতে না দেওয়া ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিতে হবে।

এছাড়া ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে রোগীর প্রয়োজন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এতে প্রাণহানির সংখ্যা একেবারেই কমিয়ে আনা সম্ভব।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বয়ের ঘাটতি নেই

ঢাকা অফিস : ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করতে এসে তিনি এমন দাবি করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা একসঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করছে। দলও এরসাথে যুক্ত হয়েছে। মশা নিধনে যাতে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ করা যায়, সেজন্য নতুন ওষুধ আসা পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। এ সময় সারা দেশে তৃণমূল পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

এর আগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন দলের সাধারণ সম্পাদক। কর্মসূচিতে মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ বিভিন্ন সহযোগীসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৭

ঠাকুরগাঁও : ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তুত ২৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুওরগাঁও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে, জেলার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খোঁচাবাড়িতে এলাকার পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনায় ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ডিপজল পরিবহণ এবং ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া নিশাত পরিবহণ নামের একটি বাসের খোঁচাবাড়ি এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে, ঘটনাস্থলেই ৫ জন এবং হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের পরিচয় জানা যায়নি।

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে দিনে ১৩ জন

১০ জেলায় আক্রান্ত ৪৩০ জন, মৃত একজন

সরকারি হাসপাতালে ছুটি বাতিল

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু কীট ১১৯৩টি মজুদ, খুমেক হাসপাতালে নেই

কামরুল হোসেন মনি : সরকারি হিসেব অনুযায়ী বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় খুলনায় ১৪ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে ৭০ জন। খুলনায় গত এক মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১৮ জন। আর বিভাগের ১০ জেলায় এ সংখ্যা ৪৩০ জন। খুলনায় দিনে গড়ে ৩ জন এবং বিভাগের দিনে গড়ে ১৩ জন আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী পরীক্ষা তদারকি করতে সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের আক্রমণে দুই ধরনের সমস্যা হয়। একটি হচ্ছে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) অপরটি হচ্ছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (সিএসএস)। ডিএসএস হলো ডিএইচএফের পরের ধাপ এবং এই ডিএসএস রোগীর জন্য খুবই বিপজ্জনক। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। ডেঙ্গু জ্বর যদি আরও জটিল অবস্থার দিকে যায় তখন ডেঙ্গু শক হয়। ডেঙ্গু শক হলে যে উপসর্গগুলো সাধারণত হয় তা হলো- চামড়া ভেদ করে রক্ত চলে এসে চামড়ার ওপর কালো দাগ পড়ে। কালো পায়খানা হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত ঝরে। রক্তের প্লাজমা লিকেজ হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। লিভার ও হার্টের ক্রিয়া ক্ষমতা হ্রাস পায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৮২ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, বতর্মানে ডেঙ্গু জ্বরে রোগীদের জন্য ২০টি বেড চালু রয়েছে। দিনকে দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আরও ২০টি বেড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাল-পরশুর মধ্যে নতুন করে আরও ২০টি বেড চালু হয়ে যাবে। তিনি বলেন, তার হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরণের কিটস শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে ডেঙ্গু সনাক্ত কিটস সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চলছে।
খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্য (৫০০ টাকা) অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ডেপুটি সিভিল সার্জনসহ ৫ সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। তার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ সনাক্তের কিটস মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, খুলনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, ১ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩০ জন। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২৪৯ জন। এ সময়ের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে খুলনায় ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) রোগী ছিলো ২ জন এবং নড়াইলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (সিএসএস) আক্রান্ত রোগী ২ জন পাওয়া যায়। এছাড়া ডেঙ্গু ফিভারে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৬ জন।
সূত্র মতে, গত এক মাসে খুলনা বিভাগের মধ্যে খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১১৮ জন, বাগেরহাটে ৮ জন, সাতক্ষীরায় ২৬ জন, যশোরে ১১৫ জন, ঝিনাইদহে ৩৫ জন, মাগুরায় ১৩ জন, নড়াইলে ১১ জন, কুষ্টিয়ায় ৮৬ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১৩ জন ও মেহেরপুরে ৫ জন রয়েছে। এছাড়া এর আগে আরও ৩ জন আক্রান্ত হন। সে হিসেবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৩ জন।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডাঃ ফেরদৌসী আক্তার বলেন, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগ সনাক্তের কিটস বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৩টি মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৩২০টি, বাগেরহাটে ১২০টি, সাতক্ষীরায় ১০টি, যশোরে ৪০টি, ঝিনাইদহে ১২০টি, মাগুরায় ১৪৫টি, নড়াইলে ১৪৫টি, কুষ্টিয়ায় ১২০টি, চুয়াডাঙ্গায় ৫৩টি ও মেহেরপুরে ১২০টি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু মশা চার ধরনের স্ট্রেইন বহন করে এবং বারবার বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেইন হুল ফুটানোর মাধ্যমে মানুষের শরীরে আসতে পারে, তাই এ জ্বরের সঠিক চিকিৎসা অনেক সময় হয় না। আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো শরীরে এক ধরনের স্ট্রেইনের বিপরীতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করছে; কিন্তু দ্বিতীয়বার অন্য স্ট্রেইন দ্বারা আক্রান্ত হলে শরীর সেই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। ডেঙ্গু মশার এই নানা রূপের কারণে এবার মানুষের বেশি সমস্যা হচ্ছে। জ্বর হলেই তা অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।