বটিয়াঘাটায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধুর শ্লীতলাহানীর অভিযোগ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলা হেতালবুনিয়া মৌজার জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মারপিট, শ্লীতলাহানী সহ হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রবিন সাহা বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং-০২ তারিখ ০২/০৮/২০১৯ ধারা ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৫৪, ৪২৭, ৫০৬(২), ১১৪। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা হেতালবুনিয় মৌজার এস,এ ১৮১ খতিয়ানের ৭৪৪ দাগে ২৫ শতক জমি রবিন সাহা গং পৈত্রিক ওয়ারেশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখলে আছেন। উক্ত ভোগদখলে থাকা সম্পত্তিতে গত ০২ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৭ টা ৪৫ মিনিটের সময় আসামী মৃত কিরণময় সাহার পুত্র করুনা সাহা (৫৫) শ্যাম সহা(৪৫), জনক সাহা(৩৫) শংকর সাহা (৩৮) দিবাকর সাহা (৪২) শেখর সাহা (৪০) এবং রসময় সাহার পুত্র রতন সাহা (৫৮) ও রঞ্জন সাহা (৪৫) মিলে বে-আইনী জনতাবদ্ধ ভাবে লাঠিসোটা, হাতুড়ী, দা, শাবল সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত সম্পত্তিতে ঘেরাবেড়া ভাঙ্গীতে থাকে। সংবাদ পেয়ে রবিন সহ টুম্পা, দিবা,শিলা, শিবু সাহা একত্রে তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাদের এলোপাতাড়ী মারপিট সহ টেনে হেচড়ে শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ সময় টুম্পাকে হাতুড়ী দিয়ে মারপিট শুরু করায় সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে টুম্পাকে উদ্ধার করে বটিয়াঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশংঙ্খা জনক বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার করতে পারেনি। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই নুর মোহাম্মদ জানায়, অভিযান অব্যহত রয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামী গ্রেফতার করতে পারবো।

ফুলতলায় থানা প্রশাসনের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনামুলক র‌্যালী

বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের গনসচেতনা মূলক র‌্যালী ও পথ সভা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের আয়োজনে গনসচেতনা মূলক এক র‌্যালী ও পথ সভা শনিবার বিকাল ৫টায় থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। ওসি তদন্ত মোস্তফা হাবিবুল্লাহ্ এর সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, সাংবাদিক মহিদুল ইসলাম শাহীন, থানার এস,আই আসাদুজ্জামান, এস,আই প্রকাশ চন্দ্র বাছাড়, এস,আই অহম্মেদ কবির, এস,আই সু-প্রভাত, এস,আই স্বপন কুমার পাল, এস,আই নুর মোহম্মাদ,এস,আই কামরুল ইসলাম, এ,এস,আই জিয়াউল ইসলাম, এ,এস,আই গণপতি সরকার,ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম খাঁ, বটিয়াঘাটা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ম্যানেজার মোঃ শাহাজাহান আলী. সহ পুলিশ সদস্য বৃন্দ ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময়ে বক্তরা ডেঙ্গু আতংঙ্কিত না হয়ে সকলে মিলে গনসচেতনা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পথসভার পূর্বে এক বর্নাঢ্য র‌্যালী উপজেলা প্রধান প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করেন।

বটিয়াঘাটায় জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলার ৮০ নং তেঁতুলতলা মৌজার জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ১৩ জনের স্বাক্ষরিত পুলিশ সুপার, খুলনা বরাবর একটি ৪৬৭৭ নং স্মারকের মিথ্যা হয়রানী মূলক অভিযোগে আমাকে (আশরাফুল আলম হাওলাদার) বিবাদী করে অভিযোগ দায়ের করেছে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপারের আদেশ ক্রমে গতকাল থানা প্রতিনিধি এস,আই আসাদুজ্জামান সরেজমিনে তদন্তে গেলে বিবাদী এ অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন ১৩ জন বাদী আমার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর যে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে তা সর্ম্পূণ মিথ্যা। আমি বাদীদের স্বত্ব ও ভোগদখলীয় জমি জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছি তা সরেজমিনে তদন্তে তার কোন সত্যতা মেলে নাই। উক্ত ১৩ জন বাদীর মধ্যে ৩ জন বাদী তদন্তে কালে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন মোঃ ওমর আলী শেখ, মোঃ হাকিম, মোঃ ইউনূছ আলী ও মোঃ ইমান শেখ। থানা প্রতিনিধি এস,আই আসাদুজ্জামান তদন্তেরে এক পর্র্য্যায়ে উভয় পক্ষকে আগামী ১৭ আগষ্ট শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হবার জন্য নিদের্শ প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনা মিয়া, মালেক ফারাজী, মোঃ ইসলাম সহ প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষ ।

বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবে গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টায় এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিরাট গ্রামের আরজ মোল্লার পুত্র মোঃ বেল্লাল মোল্লা। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলা ভাদালবুনিয়া মৌজার বিগত ২০০৯ সালে ৪৬৬১ নং কবলা দলিলে ০.৬৮ একর, ৪২৫ নং কবলা দলিল মূলে ০.৩৬৫০ একর ও ২০১৩ সালে ৮৫৪০ নং কবলা দলিল মূলে ০.৩২ একর মোট ১.৩৬৫০ একর সম্পত্তি আমি ও আমার ভাইপো এড, শরিফুজ্জামান খরিদ করিয়া ভোগ দখলে থাকিয়া ফসল ও মৎস্য চাষ পূর্বক জীবন জীবিকা নির্বাহ করিয়া আসিতেছি। উল্লেখ্য উক্ত ১.৩৬৫০ একর সম্পত্তি মধ্যে আমার মাত্র ০.৯০ একর সম্পত্তি ভোগ দখলে আছি। বাকী সম্পত্তি দখল চাইতে গেলে বিবাদী ভাদাল বুনিয়া গ্রামের ইলিয়াস শেখের পুত্র মোঃ বজলুর রহমান এবং বিরাট গ্রামের হাবিবুর রহমান গোলদারের পুত্র লাভলু গোলদার ও ফজর শেখের পুত্র জুলফিকার আলী শেখ সহ আরো কিছু সহযোগী মিলে আমাকে ও আমার ভাইপোকে জীবন নাশের হুমকি দিতেছে। পাশাপাশি আমাদের ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখল করার পায়তারা করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাসান এক শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আপোষ মিমাংশা করে দিলেও বিবাদীদের কার্যক্রম বন্ধ না থাকায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪/১৪৫ ধারায় এম,পি ৪৭৪/২০১৯ নং মামলা দায়ের করেছি। যা বর্তমান চলমান ও বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে বিবাদীরা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে চলাফেরা করায় আমার ও আমাদের পরিবারে জান মালের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মোঃ বেল্লাল ও ভাইপো শরিফুজ্জামান প্রশাসনের উচ্ছ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

জিরেপয়েন্টে ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে জিরেপয়েন্টে ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন-২০১৯ সম্পন্ন হয়েছে। যার নিবন্ধন নং-১৬২৯ । গত বৃহস্পতিবার দিন ব্যাপী উপজেলা জিরোপয়েন্ট ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির নির্বাচনে ৩৮ জন প্রার্থীদের মধ্যে ৩৫৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেন। নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন আলহাজ্ব শেখঃ আঃ কাদের, সিঃ সহ-সভাপতি তাইজুল ইসলাম রাজা, সহ সভাপতি সাংবাদিক এস,এম বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ নেতা অভিজিৎ রায় অভি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মুন্না,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক হাসিবুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ রকি শেখ, সমাজ কল্যান সম্পাদক জাকির হোসেন, দপ্তর কারিমুল ইসলাম, সদস্য মোঃ লালু, জাহাঙ্গির হোসেন,রবিউল ইসলাম।

দাকোপে পুলিশের র‌্যালী ও সমাবেশ

দাকোপ প্রতিনিধি : এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে দাকোপ থানা পুলিশের আয়োজনে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার বিকাল ৪ টায় জন সচেতনতার লক্ষ্যে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালী উপজেলা সদর চালনা পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চালনা বৌমার গাছতলাস্থ ওসি তদন্ত দেবাশীষ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন থানা পুলিশের অফিসার ইনর্চাজ শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন এস আই শহিদুল ইসলাম, এসআই আল মামুন,এএসআই আবু জাফর, কমল কৃষ্ণ, মনিরুল ইসলাম,রবিউল ইসলাম, আজিজুর রহমান, হাফিজুর রহমানসহ থানা পুলিশের সদস্য বৃন্দ।

দাকোপে কোস্টগার্ডের অভিযানে বন্দুক উদ্ধার

দাকোপ প্রতিনিধি : কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের বিশেষ অভিযানে দাকোপ উপজেলা অন্তগত পূর্ব সুন্দরবন থেকে ১ টি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে।
কোস্টগার্ড অপারেশান কর্মকর্তা লেঃ বিএন মাহমুদ সুত্রে জানা যায়, শনিবার ৩ আগস্ট আনুঃ সকাল সাড়ে ১০ টায় সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোষ্টগার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন বিসিজি স্টেশান নলিয়ান খুলনা জেলার দাকোপ থানাধীন গোনারী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্যরা পরিত্যক্ত অবস্থায় উক্ত স্থান হতে ১ টি আগ্নেয় অস্ত্র ( একনলা বন্দুক) উদ্ধার করে । উদ্ধারকৃত একনলা বন্দুক দাকোপ থানায় হস্তান্তর করেছেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্র্ড পশ্চিম জোনের এখতিয়ারভূক্ত এলাকাসমূহে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি সুন্দরবনে জলদস্যু,বনদস্যু ও ডাকাতি দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বটিয়াঘাটায় স্লুইস গেট বন্ধ করে ইট ভাটা : ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতা

বটিয়াঘাটা(খুলনা) : উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নে গজালিয়া গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাধে নির্মাণ স্লুইচ গেট বন্ধ করে ইটভাটা তৈরী করায় প্রায় পঁচশ’ একর ধানের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বিলে ধান চাষ করতে পারছে না। জমির মালিকরা এ ব্যপাপারে জেলা প্রসাশক ও খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ নং পোল্ডারে মুক্তার শেখের বাড়ীর পাশে ওয়াপদা বাঁধে একটি ইনলেট গেট রয়েছে। এ গেট দিয়ে বিলের পানি ঝপঝপিয়া নদীতে সরবরাহ হয়। ভাটা মালিক জে,বি ইটভাটার ক্লিন সহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। চলতি বর্ষা মৌসূমে গেট বন্ধ থাকায় বিলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে তিন শতাধিক কৃষকের ফসল উৎপাদন ব্যাহতের আশংকা রয়েছে।
জমির মালিক গজালিয়া গ্রামের বাবুল মোল্যা, মোফাজ্জেল মোল্যা, আবুল হোসেনসহ অনেকেই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চলতি আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে তারা এখনও বিলে ধান চাষ করতে পারেনি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যাান আব্দুল হাদী সরদার বলেন, ওয়াপদা গেট বন্ধ করে ইটভাটা তৈরী করায় সমস্ত বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমন ধান চাষ বন্ধ রয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনা স্থলে যেয়ে গেটের সামনে থেকে মাটি কেটে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চক্রবর্তী বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে গেট উন্মুক্ত করার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। তারা মাটি না সরালে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইটভাটার মালিক আব্দুল লতিফ দেশের বাইরে থাকায় তার ব্যবস্থাপক ইকরাম হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ার আলহাজ আব্দুল লতিফ জমাদ্দার ওয়াপদা বাঁধের ভিতর ও বাহিরে জমি ক্রয় ও লিজ নিয়ে ইট ভাটা নির্মান করছেন। তার নির্দেশে কাজ চলছে।

কাশিয়ানীর কালনা ফেরিঘাটে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাটে যাবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের নামে বেপরোয়া চাঁদা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজদের হাত থেকে ভ্যান রিক্সা চালকরা পযর্ন্ত রেহাই পাচ্ছে না।
দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলে সব থেকে গুরুত্বপূর্ন পেরি ঘাট হচ্ছে কালনা ফেরি ঘাট। এই ঘাট দিয়ে যশোর, খুলনা, বেনাপোল, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলার যানবাহন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকে।

এ রুট দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী গাড়ী থেকে নড়াইল শ্রমিক ইউনিয়নের নামে এ চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার চালকেরা।

গাড়ী চালকদের অভিযোগ, নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের কথা বলে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে সরকারি ঘাটে প্রতিটি গাড়ী থেকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে।

কালনা ফেরিঘাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ফেরিঘাট এলাকায় কয়েকজন লোক বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। এ সময় চালকদের হাতে ‘নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন’ লেখা সম্বলিত ২০ টাকার একটি টোকেন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পাশেই বসে আছেন নামধারী কয়েকজন শ্রমিক নেতা।

চাঁদা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ী আটকে রেখে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ চালকদের। এতে পরিবহন যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ট্রাক চালক মাহাবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘এ পথে যাতায়াত করতে প্রতিবার সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনকে ২০/৩০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজনের কাছে চরম নাজেহাল হতে
হয়। এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি।  চাঁদা আদায়কারী মোঃ তবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি দিন মজুর হিসেবে গাড়ী থেকে
নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের টাকা কালেকশন করে দেই। তবে আমি এ ব্যপারে আর কিছু বলতে পারি না।’

নড়াইল জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাদেক খান কালনা ফেরিঘাটে চাঁদা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ঘাটে সিরিয়াল মতো যানকাহন ফেরিতে উঠতে হয়। ফেরিতে আগে উঠা নিয়ে প্রায়ই বাস-ট্রাক শ্রমিকদের মধ্যে দন্দ্ব হত। যার কারণে ঘাটে যানবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের জন্য দশ টাকা করে নেয়া হয়।’

এই ঘাটটি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা এলাকার মধ্যে হলেও প্রধান্য বিস্তার করে চলছে নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের লোকজন।
তারাই কালনা ঘাটের পশ্চিম পাড় নিয়ন্ত্রন করে চাঁদা আদায় করে থাকে।  ঘাট মালিক মঞ্জুর সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি কালনা ঘাটের পশ্চিম পাড়ে
চাঁদা নেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, যারা ওপার থেকে এপারে আসন তারাও তার কাছে চাঁদা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু, ওপারে গিয়ে তাদের
কিছু করার নাই বলে তিনি অসায়ত্ব প্রকাশ করেন। এ ব্যপারে আইন-শৃংখলা রক্ষা সংস্তাকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, গুরু নিয়ে আসা রোকজন এসময় ব্যপক চাঁদাবাজির শিকার হবেন। এটি বন্ধ হওয়া উচিৎ।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঞা সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি ওসি সাহেবকে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলবো।

এ ব্যপারে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিজুর রহমান কালনা ঘাটের পশ্চিমপাড়ে নড়াইলের লোহাগাড়া অংশে (যদিও তা কাশিয়ানী উপজেরার অংশ) ব্যাপক চাঁদাবাজির হচ্ছে একথা স্বীকার করে বলেন, ওপারে আসলে আমাদের কিছুই করার নাই।

তিনি বলেন, ওইপাড় আমাদের মধ্যে হলেও আইন-শৃংখলা রক্ষার কাজ করে নড়াইল জেলা পুলিশ। কাশিয়ানী অংশের চাঁদাবাজি আমরা অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি।