ডুমুরিয়ায় ঘের ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া থানা পুলিশ রোববার দুপুরে উপজেলার ঘোনা-মাদারডাঙ্গা এলাকা থেকে এক ঘের ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে।
ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, উপজেলার রংপুর ইউনিয়নের ঘোনা মাদারডাঙ্গা বিলে একটি মৎস্য ঘেরের পানি থেকে ছগির হাওলদার সেলিম (৩৫) নামের এক ঘের ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সে দাকোপ উপজেলার হাবির হাওলদারের ছেলে। নিহত সেলিম ৭/৮ বছর ধরে ওই এলাকায় হারিতে জমি নিয়ে ঘের ব্যবসা করে আসছিল। রোববার সকালে স্থানীয়রা পানির মধ্যে তার লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরোতহাল রির্পোট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা দাকোপে তার স্বজনদের অবিহিত করেছি এবং তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।

ফকিরহাট প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৪

ফকিরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ একই পরিবারের ৪জন গুরুত্বর আহত হয়েছে। ঘটনাটি রোববার সাড়ে আটটার দিকে মৌভোগ পশ্বিমপাড়া এলাকায় ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা জানায়, নলধা-মৌভোগ পশ্বিমপাড়া এলাকার মোঃ আরিফ শেখ একটি ইটের সড়কে মালবাহী ভ্যান চলাচলে বাধা দেয়ায় একই এলাকার মহিদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ৩/৪জন সহযোগি মিলিত হয়ে আরিফ শেখের পরিবারের উপর অতর্কিত লাঠি-সোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুরুত্বর আহত হয়েছে মোঃ আরিফ শেখ (৪০), স্ত্রী লিপি বেগম (৩২), পিতা শরিফুল ইসলাম (৬৫) ও মাতা ফরিদা বেগম (৬০)। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা মহিদুল ইসলামকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

মোল্লাহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৬০

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: মোল্লাহাটে আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান দুই পক্ষের দীর্ঘ দুই ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে পুলিশের একজন অফিসার ও এক কনষ্টেবলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার দারিয়ালা বাজারে শনিবার বিকাল ৪টা হতে ৬টা পর্যন্ত একটানা চলে এ সংঘর্ষ। এখবরে মোল্লাহাট থানা ওসি’র নেতৃত্বে ঘটনা স্থলে পুলিশ পৌছে এবং সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রেনের চেষ্টা করে। এসময় সংঘর্ষকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের এসআই আবু তাহের ও কনষ্টেবল পিকুল আহত হয় বলে নিশ্চিত করেছেন অফিসার ইনচার্জ কাজী গোলাম কবীর। পুলিশের আপ্রাণ চেষ্টায় দীর্ঘসময় চলমান সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে।
এখবরে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন মোল্লাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুল আলম ছানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাঈদ মোমেন মজুমদার ও সহকারী পুলিশ সুপার (ফকিরহাট সার্কেল) ছয়রুদ্দিন আহম্মেদ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়-দারিয়ালা গ্রামের রজু শেখ ও একই এলাকার ছোটকাচনা গ্রামের সবুজ মেম্বারের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্ত বিস্তার সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জেরে বিকাল ৪’টার দিকে দুই পক্ষের অন্তত সহ¯্রাধিক লোক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উভয় পক্ষের লোকজন ইট-পাটকেল ও কাচের বোতল ভেঙ্গে প্রতিপক্ষের ওপর বৃষ্টির মতো ছুড়তে থাকে। এঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ৬০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হানপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসংবাদ লেখা পর্যন্ত আহত যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন-দলপতি সবুজ মেম্বার, হাসমত শেখ, দেলোয়ার, মোস্তাইন, মোস্তাক, আবু সাঈদ সিকদার, কালিম শেখ, আহম্মদ শরীফ, মফিজ শেখ, মেহেদি মোল্লা, দুলাল খান, জাকির খান ও ইপিয়ার খান। উক্ত ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেঙ্গুতে অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রীর মৃত্যু

ঢাকা অফিস : অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দীন কোরেশীর স্ত্রী সৈয়দা আক্তার (৫৪) আজ সকাল সাড়ে এগারোটায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সৈয়দা আক্তার ৩০শে জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগ পুলিশলাইনস হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৪৯ জন।  সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ৬ হাজার ৮৫৮ জন। শনিবার দেশের তিন জেলায় ৩ জনসহ এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের।

এর আগে, গত ৩১শে জুলাই রাজধানীর সিটি হাসাপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপ-পরিদর্শক কোহিনূর খাতুন। গত ৩০শে জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিটের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) ড. নুরুল আমিনের স্ত্রী ফারজানা (৪২) মারা যান।

প্রসঙ্গত, রাজধানীসহ সারা দেশে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই রেকর্ড হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সামান্য জ্বর হওয়া মাত্রই অনেকে হাসপাতালে ছুটছেন ডেঙ্গু আতঙ্কে। তাই ডেঙ্গু পরীক্ষায় হাসপাতালগুলোতেই রয়েছে সাধারণ মানুষের ভিড়।

ঢাকার বাইরে থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ হাসপাতালে আলাদাভাবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ কর্ণার খোলা হয়েছে। সেইসাথে চিকিৎসকদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ১০

আন্তর্জাতিক : যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের ডেটনে আবারও বন্দুকধারীর হামলায় দশজন নিহত হয়েছে।

এর কয়েকঘন্টা আগে, যুক্তরাষ্ট্রের এল পাসো শহরে ওয়ালমার্টের একটি সুপার স্টোরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০ জন। এই ঘটনায় আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সন্দেহভাজন হামলাকারী ২১ বছর বয়সী প্যাট্রিক ক্রসিয়াসকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ১৫ জন নিহত হবার কথা জানিয়েছিলেন। ঘটনার পরপরই মেক্সিকো সীমান্তের একেবারে কাছের শহর এল পাসোর মেয়র জানিয়েছিলেন, সিয়েলো ভিস্তা শপিংমলে অন্তত তিন বন্দুকধারী এলোপাতাড়িভাবে গুলি চালায়। পরে পুলিশ জানায় এক বন্দুকধারী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

এ ঘটনাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুইটে আরও জানিয়েছেন সম্পূর্ণভাবে ফেডারেল সরকার থেকে সহায়তা করা হবে।

ঝিনাইদহে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকূপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসরাইল ও প্রতিপক্ষ মতিয়ার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিলো। এরই জেরে গত শনিবার মতিয়ার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দশ নারী ও বৃদ্ধসহ উভয়পক্ষের অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে। গুরুতর ছয়জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও অন্যদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাইকপাড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বরগুনার স্কুল-কলেজে মাদকের ভয়াবহতা

বরগুনা : বরগুনার স্কুল-কলেজে প্রায় অবাধে মাদক সেবন। মাদক বিকিকিনির রাজত্ব তৈরি হয়েছে যেন। বিশেষত রিফাত হত্যার পর এসব বিষয় জনস্মুখে আসছে বেশি।   হত্যাকান্ডের মূল হোতা নিহত নয়নের জিরো জিরো সেভেন গ্রুপের মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী।

রিফাত হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আরিয়ান শ্রাবন এবছর রবগুনা জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও গ্রেপ্তার রাতুল সিকদারও একই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়েন।

বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে গিয়ে দেখা যায় বেশ কয়েকবছর ধরে পরিত্যক্ত প্রধান শিক্ষকের বাসভবনেই চলে ইয়াবা সেবন। ছাত্রাবাসেও একই দৃশ্য। আর ছাত্রদের অনেকেই বিদ্যালয় কম্পাউন্ডের ভেতরেই মাদক সেবন করে।

বড় বড় নেতা এবং আইন শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর সদস্যও জড়িত এসব মাদক সেবন ও বাণিজ্যের সাথে, এমনটাই জানা গেল অভিভাবক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে।

এখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন ও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান বরগুনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, আমারটা বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিটি করেছি। তারা শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণ ও মাদকের কোন গ্যাং আছে কি না সেটা দেখছে। এক সপ্তাহ পর আমরা তাদের কাছ থেকে এর ফলাফল নিবো।

যথাযথ পাঠদান ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অভাব এবং মোবাইল ফোনের যথেচ্ছ ব্যাবহার এবং নৈতিক অবক্ষয়কেই দায়ী করছে সচেতন মহল।

বরগুনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহবুব চৌধুরি বলেন, আগে একজন মানুষের সঙ্গে বা ছোটদের সঙ্গে বড়দের মধ্যে যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এখন আর তা নেই। আগে বয়সে ছোটরা বড়দের দেখলে সম্মান বা সালাম দিতো,কিন্তু এখন দেখা যায় তারা বসে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহারেই ব্যস্ত থাকে।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কঠোর তদারকি এবং অভিভাবক-সন্তানের বন্ধুসুলভ আচরণ ই পারে কিশোরদের মানসিক উন্নয়ণ ঘটাতে।

ডেঙ্গু রোগীর চাপে হিমশিম হাসপাতালগুলো

ঢাকা অফিস : হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম চিকিৎসক-নার্স। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৪৯ জন।  সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ৬ হাজার ৮৫৮ জন। শনিবার দেশের তিন জেলায় ৩ জনসহ এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৮ জনের। অবশ্য এমন পরিসংখ্যানের পরও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীসহ সারা দেশে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই রেকর্ড হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সামান্য জ্বর হওয়া মাত্রই অনেকে হাসপাতালে ছুটছেন ডেঙ্গু আতঙ্কে। তাই ডেঙ্গু পরীক্ষায় হাসপাতালগুলোতে লম্বা লাইন।

ঢাকার বাইরে থেকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ হাসপাতালে আলাদাভাবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ কর্ণার খোলা হয়েছে। সেইসাথে চিকিৎসকদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে, প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলো রি-এজেন্টের অজুহাতে ডেঙ্গুর পরীক্ষা না করলে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আর শিশু হাসপাতালে রোগীদের দেখতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ডেঙ্গু কখনোই নিয়ন্ত্রনের বাইরে ছিল না। তাই আতঙ্কিত হয়ে জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষা না করানোর আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, মশা নিধন অভিযান সফল করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটির সব ওয়ার্ডের কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক ও ঈদের ছুটি বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

খুলনায় ১৪৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত : খুমেক হাসপাতালে ভর্তি ৯৮

ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে : দুটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু

সরকারি হাসপাতালে কেসিসি’র মশক নিধন কার্যক্রম নেই

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা বিভাগের বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। শুধু পরিধি বাড়ছে তাই নয়, বাড়ছে প্রতিদিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা রয়েছে ৬৮ জন। শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী (১ জুলাই-৩ আগস্ট) খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮০ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছে ১৪৫ জন। যার মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। ডায়াবেটিস, গর্ভবতী, কিডনীজনিত রোগ, লিভারজনিত রোগ ও বয়স্ক ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ দুইটি ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যা বেড চালু করেছেন। রোগীর চাহিদার তুলনায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ সনাক্তকরণ কিটস অনেক কম। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মনে আতঙ্কও বাড়ছে। হাসপাতালে মশক নিধন কার্যক্রমে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেই বলে রোগীর স্বজনরা জানান।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় নতুন করে আরও ৬৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে রয়েছে খুলনায় ৯ জন, বাগেরহাটে ৮ জন, যশোরে ১৪ জন, ঝিনাইদহে ৭ জন, মাগুরায় ৮ জন, নড়াইলে ১ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ২ জন রয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮০ জন।
খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তরের সূত্র মতে, ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট সকাল ১১টা পর্যন্ত খুলনা জেলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে মোট ১৪৫ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৮ জন, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন, ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, পাইকগাছায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন, খুলনা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ৪ জন ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন। শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে খুমেক হাসপাতালে ৪ জন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত গত এক মাসে ৯৮ জনকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ জন ভর্তি রয়েছেন। বাকীরা চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। রোগীর চাহিদা অনুযায়ী তার হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরনের কিটস খুবই কম। মাত্র ৩০টি কিটস শনিবার সকালে ম্যানেজ করা হয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে আরো কিটস চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি বিভাগে নিচ তলায় শনিবার থেকে আরও ২০টি বেড চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৪০ শয্যা বেড চালু রয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস এম তুষার আলম বলেন, জ্বর, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এ সমস্ত লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাদেরকে এনএসওয়ান টেস্ট করে ডেঙ্গু জ্বর নিশ্চিত করে ৯৮ জনকে ডেঙ্গু জ্বরে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। যারা একাধারে ৫ দিনের বেশি জ্বরে ভুগছেন তাদেরকে এন্টিবডি টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে ডেঙ্গুর লক্ষণের বিষয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এফসিপিএস (মেডিসিন) বিশেষজ্ঞ ডাঃ শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যাদের কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি বেশি হচ্ছে তাদের চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসাধীন অখিল জানান, গত মঙ্গলবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে ঢাকায় থাকাকালীন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। ঢাকায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার দ্বীপবরন এলাকার বাসিন্দা কমলেসের পুত্র।
খুমেক হাসপাতালে একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বেড স্বল্পতার কারণে অনেক রোগী বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, খুমেক হাসপাতালে প্রতি মাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা রাজস্ব প্রদান করা হয়। সেই হিসেবে মশক নিধন কার্যক্রম আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি। কেসিসি শুধু হাসপাতালের বর্জ্য নিয়ে যায়। মশক নিধনের স্প্রে কার্যক্রম কোনো দিনও চোখে পড়েনি।
উল্লেখ্য, খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, ২ আগস্ট (গত ২৪ ঘন্টায়) খুলনা বিভাগে ৭৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে রয়েছে খুলনায় ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, বাগেরহাটে ২ জন, যশোরে ১৯ জন, ঝিনাইদহে ৮ জন, মাগুরায় ৭ জন, নড়াইলে ৭ জন, কুষ্টিয়ায় ১১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ১ জন রয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০৯ জন। এর মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়।

ঈদকে সামনে রেখে জালনোট চক্র-ছিনতাইকারী তৎপর : প্রতিরোধে কেএমপি’র গোয়েন্দা টিম মাঠে

কামরুল হোসেন মনি : ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর বেড়ে যায় মৌসুমী অপরাধীদের তৎপরতা। খুলনা নগরীতে প্রতারণার ফাঁদ পাতে এমন চক্র। অন্যাবারের মতো এবারও তৎপর রয়েছে একাধিক চক্র; এমন তথ্য থেকেই সতর্ক অবস্থানে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ। ঈদের কেনাকাটার ব্যস্ততায় বেড়ে যাওয়া ছিনতাইসহ মৌসুমী অপরাধী ধরতে আজ রোববার থেকে গোয়েন্দা একাধিক টিম মাঠে সক্রিয় থাকবেন। এ সব অপরাধীরে ধরতে ছদ্মবেশে নগরীর ব্যস্ত জায়গা ও শপিংমলগুলোর পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ডিবির একাধিক সদস্য।
এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আগামী ৬ আগস্ট থেকে খুলনা-সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোরের মণিরামপুর নিয়ে ১৫টি পশুর হাট বসবে। ওই দিন বিকলে ৪টায় পশুর হাট উদ্বোধন করা হবে।
কেএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি,এম নূরুজ্জামান (বিপিএম) শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, আগামী ৬ আগস্ট নগরীর জোড়াগেট এলাকায় কোরবানির হাট শুরু হবে। হাটের উদ্বোধন দিন থেকে ২৪ ঘন্টার সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা টিম মাঠে থাকবে। এছাড়া কোরবানির হাটে জালটাকা সনাক্তকারী মেশিন ও অভিযোগ বুথও থাকবে। দালালদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ তাদের অভিযোগ বুথে দিতে পারবেন। নগরীর বড় বড় মার্কেটগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দার একাধিক টিম মাঠে থাকবে। এছাড়া রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আজ (রোববার) থেকে গুরুত্বপুর্ণ স্পটগুলোতে সাদা পোশাকধারী ডিবি পুলিশ মাঠে সক্রিয় থাকবেন।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি,এম নূরুজ্জামান (বিপিএম) জানান, সাধারণ জনগণকে সতর্ক হতে হবে। কারণ অপরাধীচক্র পান, ডাব, শরবত, মসল্লা-মুড়ি ও নানা ধরনের মুখরোচক খাদ্যের বিক্রেতা হিসেবে হকারি করে। ভদ্র চেহারার যাত্রীবেশে বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে ঘুরে যাত্রীদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। কোরবানির হাটে মলম ও অজ্ঞান পার্টিকে ধরতে ও বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানে তাদের সাদা পোশাকধারী টিম মাঠে ২৪ ঘন্টা সক্রিয় থাকবেন। নির্বিঘেœ, নিরাপদে, নিশ্চিন্তে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উদ্যাপন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে।
এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বাজার সুপার মোঃ সেলিম জানান, আগামী ৬ আগস্ট থেকে নগরীর জোড়াগেট এলাকায় কোবানির পশুর হাট উদ্বোধন করা হবে। এর বাইরে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোরের মণিরাপুর মিলে মোট ১৪-১৫টি পশুর হাট একই দিনে উদ্বোধন করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রূপসা, তেরখাদার ইখড়ি, নড়াইল, কেশবপুর, শাহপুর, ফয়লা, সাতক্ষীরার কলারোয়া ইত্যাদি।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সাধারণত তিনটি গ্রুেেপ ভাগ হয়ে কাজ করে। একটি গ্রুপ ফেরি করে খাবার বিক্রি করে। আরেক গ্রুপ উদ্ধারকর্মী হিসেবে বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। তৃতীয় গ্রুপ রিকশা বা ইজিবাইক নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে থাকে। টার্গেট ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে পরিচিত সহযাত্রী অথবা নিকটাত্মীয় হিসেবে দ্বিতীয় গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে যায়। অচেতন ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার নাম করে তারা নিজেদের (তৃতীয় গ্রুপ) যানবাহনে তোলে। এরপর সুযোগ বুঝে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে অচেতন ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে দেয়। কখনও হাসপাতালে ভর্তিও করে দেয় তারা। কিছু ক্ষেত্রে প্রথম গ্রুপ অর্থাৎ ফেরিওয়ালাই অচেতন ব্যক্তির সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে পালায়। এজন্য যানবাহনে চলার পথে অপরিচিত কারও কাছ থেকে কিছু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তাগণ।