দেশের কয়েকটি স্থানে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

ঢাকা অফিস : সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আজ দেশের কয়েকটি স্থানে পালন করা হচ্ছে ঈদুল আজহা।

দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টি এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামায়াতে নারী-পুরুষসহ দুইশত মুসুল্লি অংশ নেন। এছাড়াও জেলার চিরিরবন্দর কাহারোল ও বীরগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি স্থানে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আজ ঈদ উদযাপন করেছে সাতক্ষীরার ৮টি গ্রামে বাসিন্দারাও। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাউখোলায় ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতে বাউখোলা,সাতানি,ভাদড়া,নলতা,খুলনার ডুমুরিয়া ও পাইকগাছাসহ ৮ গ্রামের শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করেন।

সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পটুয়াখালীর ২৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষও পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। সকাল ৯টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা

ঢাকা অফিস : রাত পোহলেই ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, ঈদের দিন ঢাকায় বৃষ্টি ঝরতে পারে। সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির ধরন পাল্টে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে।

ঢাকার বাইরেও থাকতে পারে একই অবস্থা। ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল বিভাগেও ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটাই বলছে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস।

এদিকে বাংলা মাস অনুযায়ী শ্রাবন প্রায় শেষ দিকে চলে এসেছে। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে বর্ষার শেষ মাসটির আর বাকি মাত্র তিন দিন। গত মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি এরই মধ্যে দুর্বল হয়ে গেছে। বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু তেমন সক্রিয় নেই। বাতাসে জলীয়বাষ্প অনেক বেশি থাকায় রোদের প্রখরতা বাড়বে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকবে।

আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, গতকাল শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৬৭ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৬৬ মিলিমিটার ও হাতিয়ায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল বিভাগে আজ রবিবার থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণও হতে পারে। অবশ্য বাকি বিভাগগুলোতে ভারি বর্ষণের শঙ্কা নেই। থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। আবার রোদও উঠবে। এতে করে দিনের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। গতকাল সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্য জেলাগুলোতে গড়ে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে বাংলাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। একটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। দেশের কয়েকটি স্থানে এই মাসে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে। এর আগের মাস জুলাইয়ে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

নোয়াখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজনের মৃত্যু

নোয়াখালী : নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আজ ভোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজন মারা গেছেন। তার নাম আমির হোসেন (৬০)।

গত ২৪ ঘন্টায় রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫৩ জন এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ৭ ও ৮ আগস্টের তুলনায় ৯ তারিখ কমেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভর্তি।  জ্বর নিয়ে ঢাকার বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সেবা দিতে হাসপাতালগুলোতে সার্বক্ষণিক সেবার ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে, আর একদিন পর ঈদ হলেও ডেঙ্গু আতঙ্কে হাসপাতালের বেডে বা রাজধানীতেই কাটবে আক্রান্ত অনেকেরই ঈদ। তাদের সেবা দিতে ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সবারই এবার ঈদ কাটবে কর্মব্যস্ততায়।

মহাসড়কে ‘মহাসমাবেশ’

ঢাকা অফিস : ঈদ যাত্রার চতুর্থ দিনেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটে নাকাল হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা মানুষদের। গেল মধ্যে রাত তিনটা থেকে সকাল ৯টা প্রায় ৬ ঘন্টা কার্যত অচল হয়ে পড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুরের পাকুল্ল্যা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু প্রান্তের প্রায় ৪০ কি.মি এলাকা। এ যেন মহাসড়কে যানবাহনের মহাসমাবেশ!

এমন অবস্থার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনগন মহাসড়কের অন্তপক্ষে দশটি স্থানে ঢাকামুখী লেনে আগুন জ্বালিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ভোগান্তির মাত্রা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। পরে সকাল দশটার দিকে ধীর গতিতে যান চলাচল শুরু হলে কিছুটা শান্ত হয় ঘরমূখী মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, গেল চব্বিশ ঘন্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন পারাপার করেছে কতৃপক্ষ। যা গেল দিন চেয়ে এক হাজার কম ও বিগত বছরের ঈদের আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার চেয়ে বেশি। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৭০ কি.মি অংশের বিভিন্নস্থানে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজটের। তা কোথাও কোথাও দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর ফলে এই অংশ পাড়ি দিতেই সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা! একদিকে যানজট অন্যেিদক তীব্র তাপাদহের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। প্রখর রোদে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নারী-শিশু ও বয়বৃদ্ধ। পানি  ও খাদ্য সংকটে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তারা।

এদিকে পয়:নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অমানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়েছে নারী যাত্রীদের। এমনটাই অভিযোগ ভোগান্তির শিকার হওয়া পরিবহণ চালক ও যাত্রীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা কোন কাজেই আসেনি বলেও অভিযোগ তাদের। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই বছর বছর মানুষের ভোগান্তীর মাত্রা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, ভারী বর্ষণ ও দুর্ঘটনায় মহাসড়কে গাড়ি বিকল, এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ও বঙ্গবন্ধু সেতুতে কয়েক দফা টোল আদায় বন্ধ এবং সিরাজগঞ্জ অংশে সরু ব্রীজ ও সড়কে খানাখন্দ থাকায় গাড়ির স্বাভাবিক গতি ব্যহত হওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি বলে দাবী প্রশাসনের। তবে প্রশাসনের দাবী যানজট নিরসনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

মহাসড়কে ভোগান্তির জন্য দু:খ প্রকাশ

ঢাকা অফিস : মহাসড়কে যাত্রী ভোগান্তির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। যাত্রীদের এই ভোগান্তির জন্য দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানান মন্ত্রী। রবিবার সকালে, রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বৈরি আবহাওয়া ও পশুবাহী গাড়ির কারণেই মূলত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রামে রুটে ভোগান্তি হয়নি। কেবল ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের কিছু অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই পয়েন্টেই কেবল সমস্যা। সে কারনে টার্মিনালেও খানিক দুর্ভোগ হয়েছে। টাঙ্গাইল অংশে দুর্ভোগের জন্য আন্তরিকভাবে দু:খিত।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দুপুরের পর থেকে যান চলাচলের অবস্থার উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘সারাদেশে ঘরমুখো মানুষ মোটামোটি নির্বিঘ্নেই যাত্রা করেছেন। একটা পয়েন্টে সমস্যা হয়েছে। ঢাকা এলেঙ্গা চার লেনের রাস্তা দুই লেনে গিয়ে পড়ার কারনেই চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটা সাময়িক কষ্ট। এছাড়া রং সাইডেও অনেক গাড়ি চলে এসেছে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন করার পরিকল্পনা চলছে।’

আর যেখানে যানজট সেখানে হাইওয়ে পুলিশও যান চলাচল নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভিজিলেন্স টিম অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধে সায়েদাবাদে ১২ টি গাড়িকে জরিমানা ও দুটি কাউন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’