জয়ন্তীকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে ধর্ষকরা

চাঁদপুর : চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জামাল হোসেন ও আনিছুর রহমান নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংকালে এই তথ্য জানান পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন শহরের ষোলঘর পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টারে শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী তার বাস ভবনে এক অবস্থান করছিলেন। এসময়, ওই এলাকার ডিশের লাইনম্যান জামাল হোসেন ও ডিশ লাইনের মালিক আনিছুর রহমান মাদক সেবন করে সুকৌশলে ডিশের তার ঠিক করার কথা বলে জয়ন্তীর রুমে ঢুকে। তখন তারা উভয়ই তাকে ধর্ষণ করে এবং তা ধামাচাপা দিতে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদেরকে আটক করতে সমর্থ হয় পিবিআই পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামি জামাল হোসেন ১৬৪ ধারায় এই ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং তার সহযোগী আনিছুর রহমানের কথাও বলেছে।

চাঁদপুর শহরের ষোলঘর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন জয়ন্তী চক্রবর্তী। গত ২১শে জুলাই তিনি নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন।

প্রেমিকার বাসা থেকে প্রেমিকের লাশ উদ্ধার

ঢাকা অফিস : গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রেমিকার বাসা থেকে এক প্রেমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার, বিকেল ছয়টায় খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে প্রেমিকা রত্না আক্তারকে আটক করেছে।

নিহত প্রেমিকের নাম মোজাম্মেল হোসেন মারুফ। তিনি তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জুতা বানাতেন। তার পরিবারের অভিযোগ, হত্যা করা হয়েছে তাকে। তবে, তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকা রত্নার দাবি, মারুফের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রেমিকা রত্নার বাসা থেকে মারুফের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ফেইসবুকে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। প্রথমে রত্না আক্তার মারুফের মৃত্যুর বিষয়টি ধামা-চাপা দেবার চেষ্টা চালায়। পরে, ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ নিহতের লাশটি উদ্ধার করে গাজীপুর মর্গে প্রেরণ করে। নিহত মারুফ চাঁদপুর জেলার পুরান বাজার গ্রামের হারুন অর-রশিদের ছেলে। এ ঘটনায়, একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে মাদ্রাসার এক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ মামলা হয়েছে। সদর উপজেলার তেরআনা শাহ মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসার অভিযুক্ত অধ্যক্ষ এসএম কামাল হোসাইন এ ঘটনার পর পালিয়ে রয়েছেন। ওই ছাত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি কামাল হোসাইনের বাসায় ৫ বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করতো।

পুলিশ ও নির্যাতিতা মেয়েটির পরিবার জানায়, গত ১৫ই আগস্ট দুপুরে কামাল হোসাইনের বাড়িতে ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। অধ্যক্ষের স্ত্রী তা দেখে ফেললে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে, কামাল হোসাইন পালিয়ে যায় এবং মেয়েটিকে অধ্যক্ষের ভাইয়ের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গত শনিবার রাতে সেখান থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এলাকাবাসী জানায়, দরিদ্র পরিবারের মেয়েটিকে বাসায় কাজে রেখে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ কামাল হোসাইন ধর্ষণ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে অধ্যক্ষ কামাল হোসেনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ জানায়, নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

খুলনার সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

খুলনা : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের ২টি বগি লাইনচ্যুত খুলনার সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

 

বিস্তারিত আসছে…

ফুলতলায় বীর মুকিযোদ্ধার ইন্তেকাল : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

ফুলতলা অফিসঃ খুলনার ফুলতলায় উত্তরডিহি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিহাব উদ্দিন এবং যুগ্নিপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুদ্দিন এর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম বাশার টিটো (৬৫) এর মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়। রোববার বিকালে ফুলতলার বেজেরডাঙ্গাস্থ আকিজ নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা টিটোর কফিনে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অনিমেষ বিশ্বাস ও মুক্তিযোদ্ধা পতাকা প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ। এ সময় থানার এসআই জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে করুন সূরে ভিউগাল বাজিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জানাযা শেষে বাইতুল আকসা জামে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। মাওঃ নাজমুল সাকিবের পরিচালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফর উদ্দিন, আশরাফ হোসেন আশু, আওয়ামীলীগ নেতা ইমাম হোসেন মোড়ল, প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন মোড়ল, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, সম্পাদক মোঃ সেকেন্দার আলী, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সম্পাদক মুরাদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মনজেল সরদার, ফজলুল হক, কাজী শাহাদাৎ হোসেন, সুবোধ বসু, রফিউজ্জামান, সাহিদুল গাজী, আজগর হোসেন, মোফাজ্জেল হোসেন, শেখ আহাদ আলী, ইব্রাহীম কাগজী, আঃ মজিদ, শেখ আনছার আলী, করিম মোল্যা, বালা মিঞা, শিক্ষক সানোয়ার মোড়ল, আলম সরদার, মুক্তার হোসেন, আনোয়ার হোসেন বাবু, আঃ ওহাব,কবি সহিদুল ইসলাম প্রমুখ। প্রসঙ্গতঃ শনিবার দিবাগত রাত ১২টায় ফুলতলার মধ্যডাঙ্গাস্থ নিজ বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধা টিটো হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২পুত্র ও মুক্তিযোদ্ধা সহকর্মীসহ বহু আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান।

বটিয়াঘাটার জলমা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল রবিবার বিকাল ৩ টায় ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নারায়ন চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মিজানুর রহমান বাবুর সঞ্চলানায় স্থানীয় দলীয় কার্যলয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ হালদার,উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি প্রদীপ বিশ্বাস, ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক আহ্বয়ক ও সভাপতি গোবিন্দ মল্লিক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপজেলা কার্যনির্বাহী সভাপতি ও আ’লীগ নেতা আলহাজ্ব আসলাম তালুকদার। অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ’লীগ নেতা সুধাংশু রায়, রাজকুমার রায়, অনুপ গোলদার, মানস পাল, সুপদ মল্লিক, আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ, রমেশ মন্ডল, গুরুদাস ঢালী, প্রশান্ত গোলদার, উপজেলা মহিলা আ’লীগের নেত্রী চঞ্চলা মন্ডল, বিধান হালদার, সুবীর মল্লিক, প্রদীপ টিকাদার, সুকন্ঠ রায় ,রঞ্জন রায়,বিপ্লব মল্লিক, পার্থ রায় মিঠু, ইউপি সদস্য বিপ্রদাস টিকাদার, আশোক মন্ডল, নিভানন গোলদার, দেবব্রত মল্লিক দেবু, তরিকুল ইসলাম ও পতি বিশ্বাস, ডলি রানী রায়, ভগবতী গোলাদার, প্রতিভা বিশ্বাস,সেচ্ছা সেবকলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান, অরিন্দাম গোলদার, শংশাঙ্ক রায়, সুরজিৎ মন্ডল, মমতা মল্লিক, সুইটি মন্ডল, বিউটি বিশ্বাস, প্রমুখ। অনুষ্ঠানের আলোচনা শেষে বাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়।

সুন্দরবনের অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মাছ শিকার

মনিরুল হক মনি, বাগেরহাট: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মৎস্য প্রজনন জোনের অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ ধরার অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে জেলেরা চরপাটা (চরঘেরা), ভাসনা, খরচি, নেট সাবার ও খুটা জাল পেতে মৎস্য প্রজনন এলাকার ছোট বড় মাছ ধ্বংস করে দিচ্ছে। গোটা রেঞ্জের নদী ও ছোট-বড় খালে দু’মাস মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা (অভরোধ) থাকলেও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা তা মানছে না। বনবিভাগের কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ম্যানেজ করে শরণখোলা ও পাথরঘাটা উপজেলার চিহ্নিত কিছু মাছ ব্যবসায়ীরা এ অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।
জানা যায়, শরণখোলা রেঞ্জের অধিকাংশ এলাকাকে বনবিভাগ মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষনা করেছে। এতে জীবন জীবিকার জন্য জেলেরা যেমন বিপাকে পড়েছেন। তেমনি, অসাধু বনকর্মীদের অবৈধ আয়ের উৎস বন্ধ হয়েছে। একারনে বনবিভাগের কতিপয় অসৎ বনকর্মী ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, মৎস্য অভয়াশ্রম খ্যাত কটকা ও তার অফিস আওতাধীন ছোট-বড় খাল, কচিখালী ও তার আশেপাশের খাল, শেলা, কোকিলমনি, টিয়ারচর, ছাপড়াখালীসহ অন্যান্য এলাকায় ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ আহরন করছে শরণখোলা উপজেলার চালিতাবুনিয়ার চাঁন মিয়া ওরফে চান্দু, এবং গাবতলার, তাফালবাড়ি ও রাজাপুর কয়েকজন চিহিৃত মৎস্য ব্যবসায়ী এবং পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা স্লুইজের হালিম খাঁসহ অন্যান্যরা।

চান্দেশ্বর টহলফাঁড়ি অফিসের আওতাধীন অভয়াশ্রম ও সুপতি এলাকায় মাছ আহরন করে থাকে চরদোয়ানী এলাকার মাফুল মেম্বর। সিজন চুক্তিতে জাল প্রতি সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও টহলফাঁড়িতে ব্যসায়ীদের দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া, প্রতি গোনে জাল প্রতি ৫ হাজার টাকা, ৫টি ইলিশ ও অন্যান্য মাছ। কচিখালী অফিস সংলগ্ন খাল, কটকা, বন্ধুর খালসহ বিভিন্ন খাল ও শেলা এলাকায় ২৫ থেকে ৩০ টি খুটা জাল পাতা হয়। এদেরকেও একই রেটে টাকা পরিশোধ করতে হয়।

সুত্র আরো জানায়, শরণখোলা স্টেশন আওতাধীন ভোলা নদীতে ভাসান জাল, নেট সাবার, খরচি ও মাছের রেনু-পোনা ধ্বংসকারী চরপাটা (চরঘেরা) জাল পেতে ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ ধরে থাকেন শরণখোলার সেনাতলা গ্রামের আলম, মিজানুর রহমান, রাসেল, কালাম, মাহাবুব ও খলিলুর রহমানসহ অন্যান্য জেলেরা। এদের কাছ থেকে জাল ও গোন প্রতি আদায় করা হয় ৫ হাজার টাকা করে। এরা বড়শি পাস নিয়ে এসব অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।

বন সংলগ্ন শরণখোলার একাধিক ব্যক্তি জানান, ১ জুলাই থেকে ৩০ আগষ্ট পূর্ব সুন্দরবনে মাছ আহরন নিষিদ্ধ (অবরোধ) ঘোষনা করা হলেও কেউ মানছেন না এ আইন। অররোধের প্রথম দিকে কোকিলমনি এলাকায় শরণখোলার তাফালবাড়ির জনৈক ব্যবসায়ীর এরকম একটি অবৈধ ট্রলার মাছ শিকারকালে কোষ্টগার্ড আটক করে বনবিভাগের হস্তান্তর করেন। কিন্তু তদবিরের জোরে এবং অজ্ঞাত কারনে নাম মাত্র জরিমানা দেখিয়ে বনবিভাগ ট্রলারটি ছেড়ে দেন।

এ বিষয়ে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন শরণখোলা রেঞ্জ এলাকার অভয়াশ্রমে মাছ শিকারের কথা অস্বীকার করেন। ডিএফও (পূর্ব বিভাগ) মাহামুদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের অভয়াশ্রমে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। যদি কেউ ধরে তাহলে তদন্ত করে যারা যারা জড়িত তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোপালগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় বৃদ্ধসহ নিহত ২ : আহত ১ 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে পৃখক সড়ক দূর্ঘটনায় এক বৃদ্ধসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন।

আজ রোববার দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার রাগদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকায় ও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনামহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকায় এসব দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-মুকসুদপুর উপজেলার রাগদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকার নুরুল মোড়ল (৭০) ও কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের তাহেরশরীফের ছেলে হাবিব শরীফ (৪০)।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতাউর রহমান জানিয়েছেন, নুরুল মোড়ল বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুগন্ধা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে নুরুল মোড়ল ঘটনাস্থলে নিহত হন।পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

অপরদিকে, কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, হাবিব শরীফ মটর সাইকেল চালিয়ে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়াথেকে গোপালগঞ্জ আসছিলেন। এসময় মটর সাইকেলটি রাতইল এলাকায় পৌঁছালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেচালক হাবিব শরীফ মারা যান এবং আরোহী এনায়েত হোসেন আহত হন।

পরে স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।আহত এনায়েত হোসেনকে (৪৯) গোপালগঞ্জ ২৫০-শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্টে ভিন্ন রিপোর্টের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আটক ২ জনকে জিম্মায় মুক্তি

খুলনা অফিস : ডেঙ্গু টেস্টে ভিন্ন রিপোর্ট ঘটনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শনিবার ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামত সহকারে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। এর আগে ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট টেস্ট নগরীর বেসরকারি সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগীর প্লাটিলেট এর টেস্ট ভুল রিপোর্ট দাবি করে হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই কর্মচারীকে আটক করে। পরে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগী রেজাউল হোসেনের বড় ভাই আফজাল হোসেন থানায় সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে ১৬ আগস্ট সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহকারী ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট অশিষ রায় ও তার ভাই দেবাশীষকে সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। ডাক্তার সুকুমার সাহা মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনেন বলে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রোহিত কুমার বিশ্বাস জানান।
খুমেক হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ এটি এম এম মোর্শেদ শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্ট বিষয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ঘটনার তদন্তের জন্য ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোগীর প্লাটিলেট টেস্টে সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ভুল না সঠিক এটা তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়। আমাদের প্যাথলজি বিভাগের তথ্য সঠিক দাবি করে তিনি বলেন, তা না হলে ওই সব রোগীর শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ থাকতো। তারা তো এখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই কর্মচারী আটক চিকিৎসক সাক্ষরে ডেঙ্গু রিপোর্টে ভুল তথ্যসংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিটিতে খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এস এম কামালকে সভাপতি করা হয়। এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যের মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন বিভাগ) ডাঃ শেখ মামুন-অর-রশিদ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী ও আবাসিক ফিজিসিয়ান (মেডিসিন বিভাগ) ডাঃ শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস রয়েছেন। এই কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এদিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রহিত কুমার বিশ্বাস শুক্রবার রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাঃ সুকুমার সাহা থানায় এসে মুচলেকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ডাঃ সুকুমার সাহা তাদের বলে গেছেন যদি ভুল রিপোর্ট প্রমাণিত হয় তাহলে তখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই।

খুমেক হাসপাতালে অজ্ঞান পার্টি সক্রিয় : মালামাল লুট

কামরুল হোসেন মনি : গৃহবধূ শ্যামলী শনিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে তার ছেলে চিনময়কে দেখতে আসেন। হাসপাতালের পেছনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় বোরকা পরিহিত ও একজন স্যালোয়ার কামিজ পরা মহিলা তাকে সুকৌশলে ডাক দেন। তিনি তাদের কথায় সাড়া দিয়ে সামনে যান। এ সময় ওর মধ্যে একটা মেয়ে বলে উঠে আপা আপনার নাকে ময়লা এই বলে একটা সাদা কাগজ তার নাকের সামনে ধরে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন তার গলার দেড়ভরি ওজনের সোনার চেইন নেই। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গৃহবধূ রানী নামে অপর এক মহিলা ওই হাসপাতালে অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন। তার কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা, কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেন। তিনি তার বাবা মোহাম্মদ আলীকে এ হাসপাতালে দেখতে আসেন। এখন তিনিই অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, ওই অজ্ঞান পার্টি একই গ্রুপের সদস্য। তারা কৌশলে ডাক দিয়ে সিঁড়ির নিচে গিয়ে একটা কাপড়ে বাঁধা টোপলা দেখতে বলেন, ওটা নাকের সামনে নেওয়ার সাথে সাথে অচেতন হয়ে পড়েন তারা। দুজন মহিলা ও একজন পুরুষ ছিলো। এ ঘটনা শুনে খুলনা মেট্রোপলিটন পুুলিশ (কেএমপি)’র নগর গোয়েন্দা একটি টিম হাসপাতালে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে যান।
খুমেক হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ এটি এম মঞ্জুর মোর্শেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জরুরি বিভাগ ও বহিঃবিভাগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার করা হচ্ছে। তারপরেও রোগীরা ওই চক্রের খপ্পরে পড়লে কি করার আছে, আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, আরও সিসি ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কেএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি,এম নূরুজ্জামান (বিপিএম) শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনরা অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ার ঘটনা জানতে পেরে গোয়েন্দার একটি টিম হাসপাতালে ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নগর গোয়েন্দা টিম ওই চক্রটি ধরতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। হাসপাতালে গোয়েন্দার নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
আবাসিক ফিজিসিয়ান (মেডিসিন বিভাগ) ডাঃ শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, অজ্ঞান যারা হয় তাদের বেশি মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো বা চেতননাশক জাতীয় ওষুধ স্প্রে করা হয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত অচেতন থাকেন। রোগী যদি আগে থেকেই মস্তিষ্ক, হৃদরোগ, কিডনি ও লিভারের রোগে ভুগে থাকেন, তাহলে তার মৃত্যুও হতে পারে।
খুমেক হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায়ই রোগীর স্বজনদের মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এ হাসপাতালে রোগী দেখতে এসে স্বজনরা অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ছেন। গত দেড় মাসে মোবাইল ফোন চুরি, স্বর্ণালঙ্কার চুরি, মলম পার্টির খপ্পড়ে পড়ছেন ২০-২৫ জনের মতো। অজ্ঞান পার্টির প্রধান টার্গেট সাধারণ নিরীহ মানুষ, বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা। মফস্বল শহর থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীর রানী বেগম জানান, তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে পুরো একদিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তার এ ঘটনা জানতে পেরে গোয়েন্দার একটি টিম তার কাছ থেকে বিস্তারিত সব শুনে লিখে নিয়ে গেছেন।