বটিয়াঘাটায় সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুতে শোকসভা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শোকসভা বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে পার্টির সভাপতি মোঃ মোতওয়ালী শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলের চেয়ারম্যানের প্রেস এন্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারী সুনীল শুভ রায়। সাধারণ সম্পাদক এড. প্রশান্ত কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন। বক্তৃতা করেন মোস্তফা সরদার, বজলার রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান এলাহী, প্রবীর শিল, সঞ্জয় গোলদার, সবুর হোসেন, অধ্যাঃ জি.এম ইলিয়াস, শাহীন মোল্যা, শওকত তরফদার, অসিম মল্লিক, বরীন্দ্রনাথ মন্ডল, মেহেদি হাসান, ছাত্র সমাজের সভাপতি শাওন হাওলাদার, মিহির বিশ্বাস, আব্দুল হক, বাবুল মোল্যা, জাবেরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, রবীন্দ্রনাথ মল্লিক,সুব্রত রায়, শহীদ সানা, পল্লব রায়, শহর আলী,আক্তারুল গাজী, মানস সরকার, উত্তম রায়, মুজিবর ফকির, আবু বক্কর, রবীন শিল, খোকন মল্লিক, শহিদুল গাজী, হাফিজুর রহমান, শামছ ফকির, আলীম গাজী প্রমূখ। সভায় আজ শুক্রবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী থাকায় ঐ একই দিনে পার্টির চেয়ারম্যানের কুলখানি থাকা স্বত্বেও দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে আগামী শনিবার সারাদেশের ন্যায় পালনের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরতে রাজি নয়

ঢাকা অফিস : রোহিঙ্গারা কেউ মিয়ানমার ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায়, প্রত্যাবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আজ প্রত্যাবাসন শুরুর কথা থাকলেও, তা এখনও শুরু হয়নি।

দুপুরে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানান, গত দুই দিনে সাক্ষাৎকার নেয়া তালিকাভুক্ত ২৯৫টি পরিবারের কেউ মিয়ানমারে ফিরে যেতে রাজি নয়। তবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের সুযোগ থাকায় সে পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত দুই দিনে ২৯৫টি রোহিঙ্গা পরিবারের মতামত নেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধিরা।

প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম থাকলেও, স্বীকৃতি ও ভিটেমাটি ফিরে না পেলে ফেরত যেতে রাজী নয় রোহিঙ্গারা। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ২২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা থেকে তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয় মিয়ানমার।

ভারতীয় ভিসা অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি

কামরুল হোসেন মনি : ভ্রমণের জন্য ভারতীয় ভিসা পেতে ই-টোকেনের ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হলেও কমেনি দালালদের দৌরাত্ম্য। নগরীর কেডিএ এভিনিউস্থ স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ভিসা প্রসেসিং অফিসের সামনে দিনের অধিকাংশই ১৫-২০ জন দালালের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এদের একেক গ্রুপে ৪-৫ জন করে সদস্য থাকে। মাঝেমধ্যে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) অভিযান চালিয়ে দালালদেরক আটক করলেও থেমে নেই এই চক্রটির দৌরাত্ম্য। দালালরা স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় সাধারণ দোকানীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। খুলনা ও বাগেরহাটের মানুষ বিশেষ করে মহিলাদের টার্গেট করে ওই দালাল চক্র।
কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্ বলেন, নগরীর ভিসা অফিসের সামনে তাদের সাদা পোশাকধারী পুলিশ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে অভিযান চালিয়ে একাধিক দালালকে আটক করা হয়েছে। ভ্রমণের জন্য ভারতীয় ভিসা পেতে এসে যাতে সাধারণ মানুষ দালালদের খপ্পরে না পড়ে সে জন্য সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। সার্বক্ষণিক তাদের সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিয়োজিত আছে। দালাল চক্রকে ধরতে একাধিক টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে ভ্রমণের জন্য ভিসা পেতে ই-টোকেনের ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়। তারপর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে ভারতের ভিসা পেতে আবেদন করলে ৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে ভারতীয় ভিসা অফিসে পাসপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত সময় দিয়ে দেন। সেক্ষেত্রে সাধারণ দোকানীরা অনলাইনের মাধ্যমে ভারতীয় ভিসা প্রসেসিং এর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে মাত্র ১০০-২০০ টাকা নেন। আবেদনটি রি-প্রিন্টের জন্য নেওয়া হয় ৫০-১০০ টাকা ।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জনৈক মহিলা ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে আসলে এক দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন। ওই দালাল তাকে রি-প্রিন্ট করার কথা বলে নিয়ে যান। রি-প্রিন্ট বের করে দেওয়ার পর ওই মহিলার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে মহিলার পাসপোর্ট আটকে রাখেন ওই দালাল। পরে নিরুপায় হয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মহিলা দিতে বাধ্য হয়।
অনেক কষ্ট করে যখন পাসপোর্ট, অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে আবেদন জমা দিতে আসেন তখন আবার নানান ছুতোয় তা বাতিল করা হয়। শেষ পর্যন্ত যখন আর এলাকায় ফিরে গিয়ে কাগজপত্র আনার সময় না থাকে তখনই তাদেরকে দালালদের শরণাপন্ন হতে হয়। দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে ২০১৮ সাল থেকে ভারতীয় হাইকমিশন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ই-টোকেন ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরেও খুলনায় ভারতীয় ভিসা অফিসের সামনে দালালদের দৌরাত্ম্য কমেনি। দালালদের খপ্পরে পড়ে নিরীহ মানুষগুলো নানাভাবে হয়রানির শিকারসহ মহিলাদেরও লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ আছে।
এভাবেই ভারত ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশিদের দালালদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হয়। অনলাইন আবেদন ফরম থেকে শুরু করে জমা দেওয়া পর্যন্ত দালালদের কাছে জিম্মি হয়েই থাকতে হয় খুলনাঞ্চলের মানুষদের।
অধিকাংশ দালাল স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার কারণে ভারতীয় ভিসা প্রসেসিং দোকানারীরা তাদের বিষয়ে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

বন্দুকযুদ্ধে দুই রোহিঙ্গা নিহত

কক্সবাজার : কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। বিজিবির দাবি নিহত রোহিঙ্গারা মাদক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার ভোরে, টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নাফ নদীর উলুবনিয়া পয়েন্টে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের মৃত সৈয়দ হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ সাকের ও টেকনাফের মুচনী রোহিঙ্গা শিবিরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে নুরুল আলম।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাফ নদী দিয়ে ইয়াবার একটি চালান আসার খবরে বিজিবির একটি দল অভিযানে যায়। এ সময়, বিজিবির সদস্যদের অবস্থান টের পেয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রোহিঙ্গারা গুলি ছুড়লে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলি শেষে মাদক ব্যবসায়ী দলটি পালিয়ে গেলে দুইজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ সময়, ঘটনাস্থল থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।