কেশবপুরে পুলিশি বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১১

কেশবপুর, যশোর :  যশোরের কেশবপুরে বিশেষ অভিযানে নিয়মিত মামলা ও বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদেরকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কেশবপুর থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, সোমবার ও মঙ্গলবার রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা কালে নিয়মিত মামলায় উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের মশিয়ার রহমান সরদারের ছেলে রেজাউল করিম (৩৫) ও বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ভোগতি গ্রামের মৃত ইনতাজ আলী মোড়লের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০), আলতাপোল গ্রামের মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে আবদুল ওয়াদুদ (৪৫), মৃত আবুল কাশেম মোড়লের ছেলে কবির হোসেন (৪০), কামাল হোসেন (৩৫) ও শাহাদৎ হোসেন (৩৭), কবির হোসেনের স্ত্রী সলিমুন্নেছা বেগম (৩০), মধ্যকুল গ্রামের মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হামিদা বেগম (৩৫), ইয়াসির আর রাফির স্ত্রী জোহরা বেগম (৪০), কড়িয়াখালি গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী হারিচা বেগম (৪২) ও বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের খোকন মোড়লের ছেলে আবদুল গনি মোড়লকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা ও আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। গ্রেফতাকৃতদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাটে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু!

বাগেরহাট : বাগেরহাটে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শাহানাজ পারভিন (৩০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরের পুরাতন বাজার এলাকার পলি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ওই ক্লিনিক ঘিরে হইচই এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ-চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন। নিহত শাহানাজ পারভিন জেলার শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা এলাকার রাজু পাইকের স্ত্রী। তারা দু’জনেই চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ ক্লিনিকেই ছিল। নিহতের বোন নারগীস আক্তার জানান, ডেলিভারির জন্য সোমবার তার বোনকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর দুপুর ৩টার কিছু পরে ক্লিনিকের সত্ত্বাধিকারী ও পরিচালক ডা. সুনীল কুমার দাস তার সিজারিয়ান অপারেশন  করেন। একটি ছেলে সন্তান হয় শাহানাজের। তবে অপারেশন শেষে প্রায় পৌনে ৬টার দিকে তাকে ওটি থেকে বের করা হয়। বেশ কিছুক্ষণ সে সুস্থ ছিল। ৬টার কিছু পরে তার খিঁচুনি শুরু হয়। সে সময় কয়েক দফা ডাক্তার ও নার্সদের ডাকা হলেও তারা রোগীর কাছে আসেননি। কিছুক্ষণ পর শাহানাজের মুখ থেকে লালা বের হয়। তখন ডাক্তার ও সেবিকারা এসে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে সে মারা গেছে। তখন ডাক্তার মৃত্যুর খবর গোপন করে রোগীকে স্যালাইন দিয়ে খুলনাতে নিয়ে যেতে বলেন। নিহতের ফুফু সুফিয়া আক্তারের অভিযোগ, সিজার করবেন বলে ৮ হাজার টাকায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়। সেইভাবে তারা সিজারও করেন। কিন্তু মেয়েটারে মেরে ফেলার পর তারা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের চাপ দেয়। ঘটনার পর স্বজন ও স্থানীয়রা ওই ক্লিনিকে জড়ো হলে এ সময় কিছুটা উত্তেজনাও দেখা দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. সুনীল কুমার দাস বলেন, আমাদের তরফ থেকে কোনো ধরণের অবহেলা ছিল না। ওই প্রসূতি ‘একলামসিয়ায়’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছি। তারাও এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম শামসুজ্জামান মঙ্গলবার বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে জানতে  তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাতাব উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয় জনতার মধ্যে উত্তেজনা ছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সৌদি থেকে ফিরলেন ‘নির্যাতিত’ ৬৪ গৃহকর্মী

ঢাকা অফিস :  সৌদি আরবের নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে আরও ৬৪ জন নারী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ‘সেইফ হোমে, আশ্রয় নেওয়া এই নারীদের সোমবার ফেরত পাঠানো হয় বলে ফার্স্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারা ‘স্বেচ্ছায়’ দেশে ফিরে যেতে চেয়েছিল। তাই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে কর্মরত এসব শ্রমিক সোমবার রাতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তাদের গ্রহণ করেন। এবিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তা  বলেন, সৌদি আরব থেকে ফেরা নারী শ্রমিকদের সবারই নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কোনো না কোনো অভিযোগ ছিল। সৌদি আরবের বাসা-বাড়িতে কাজ করতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি নারীই অকালে দেশে ফিরে নিয়োগকর্তাদের কাছে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করেন তারা। বাংলাদেশের সঙ্গে ২০১৫ সালে চুক্তির ভিত্তিতে সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে প্রায় দুই লাখ নারী গৃহকর্মী পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল মুসলিম দেশটিতে। এর আগে এক চুক্তির ভিত্তিতে ২০১১ সালের বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে গৃহকর্মী নিয়োগের কথা থাকলেও ২০১০ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে দেশটিতে কর্মরত ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার ১৫০ জন গৃহকর্মীর সাক্ষাৎকারে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ ঘটনা উঠে এলে কোনো নারী আর যাননি। সৌদি ফেরত নারীরা নির্যাতনের কথা বললেও তা নাকচ করে আসছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা। অভিযোগ ওঠার পর সৌদি আরব ঘুরে এসে সংসদীয় একটি কমিটির সদস্যরা বলেছেন, ভাষা না জানা, খাবার ভালো না লাগা এবং ঘরের প্রতি অতি টানের কারণে বাংলাদেশি গৃহকর্মীরা দেশে ফিরতে চান। গতবছর জুলাই মাসে এক আদেশে হাই কোর্টে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যৌন হয়রানিসহ শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের ফিরে আসা নারী কর্মীদের তালিকাসহ তাদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিল।

বর্ধিত ফি আদায়কারী কলেজের তালিকা চাইলেন শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা অফিস : সারাদেশে ‘সেশন ফি’ এর নামে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণকারী বেসরকারি কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা আগামি তিন কর্মদিবসের মধ্যে চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মন্ত্রীর নির্দেশে মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জরুরিভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে তালিকা চেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সব অঞ্চলের উপ-পরিচালককে চিঠি দিয়েছে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য সেশন ফি’র নামে শিক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, সেশন ফি’র নামে রীতিমতো ডাকাতি করছে বগুড়ার নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। সরকার নির্ধারিত নীতিমালা কেউই তোয়াক্কা করছে না। ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দৌরাত্ম্য সীমা অতিক্রম করেছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সেশন ফি ছাড়াও বাজার থেকে চারগুণ-পাঁচগুণ বেশি টাকায় এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বই, খাতাসহ শিক্ষা উপকরণ বাধ্য হয়ে কিনতে হয়। এমনকি স্কুল ড্রেসও প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হয়।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ডাকাতি কারবার বন্ধ করতে বগুড়ার সমাজসেবী আবদুল মান্নান আকন্দ হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। তিনি জনস্বার্থে চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২ জুলাই হাইকোর্টের বিচারক জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মাত্রাতিরিক্ত সেশন ফি গ্রহণকারী বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালার বাইরে নেওয়া বাড়তি টাকা অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে মর্মে আদেশ দেন। এমতাবস্থায় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে সারাদেশে যেসব বেসরকারি কলেজ অতিরিক্ত ফি আদায় করছে তাদের তালিকা আগামি তিন কর্মদিবসের মধ্যে সফট কপি ই-মেইলে ( ahowlader525 @ gmail. Com) এবং হার্ডকপি সহকারী পরিচালক (কলেজ) বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধায় ভুয়া চিকিৎসক আটক

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলায় এক ভুয়া চিকিৎসককে চারমাসের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দ-িত আবদুল রাজ্জাক সরকার আপেল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মো. ইদ্রিস আলী সরকারের ছেলে। উপজেলা সদরে বেগম রোকেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মঙ্গলবার এই অভিযান চালানো হয় বলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শি চাকমা জানান। এছাড়া বেগম রোকেয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো অনুমোদন না থাকায় পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে।

অতীশ বলেন, রাজ্জাক নিজেকে এমবিবিএস ডাক্তার এবং বিভিন্ন রোগের বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।

পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কোটি টাকা দুর্নীতি মামলায় সাব রেজিস্ট্রার গ্রেপ্তার

পাবনা :  দুই কোটি ৩৮ লাখ টাকা দুর্নীতির মামলায় পাবনা সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহিম আলীকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহরের পোস্ট অফিস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। গত বছরের ১৫ অক্টোবর ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা। ওই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে দুই কোটি ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ৯২৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন- ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে গত মার্চে ইব্রাহিম আলীর দুর্নীতি সংক্রান্ত স্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করতে আদেশ দেয় আদালত।

 

ঘুমন্ত দাদিকে গলা কেটে হত্যা! 

নরসিংদী: নরসিংদীতে মোবাইল ফোনসেট নেওয়ার অভিযোগে ঘুমন্ত অবস্থায় আপন দাদিকে গলা কেটে হত্যা করেছেন কলেজপড়ুয়া নাতি। হত্যার পর দাদির স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে অবশ্য তাকে ও তার বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে সদর থানা পুলিশ চিনিশপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিজ বসত ঘর থেকে সাজেদা বেগমের (৬৫) মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আটক হয়েছেন নিহতের ছেলে আইন উদ্দিন (৩৮) ও নাতি মঞ্জুরুল ইসলাম রিজু (১৮)। সাজেদা বেগম ওই গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের স্ত্রী। আটক রিজু নরসিংদী সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, দুই দিন আগে রিজুর মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ নিয়ে রিজু ও তার মা ফজিলা খাতুন বৃদ্ধা সাজেদা বেগমকে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে পরিবারে লোকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ছোট মেয়ের সঙ্গে গতকাল ঢাকায় আসার কথা ছিল সাজেদা বেগমের। কিন্তু গতকাল ভোরেই ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর গলা কেটে হত্যা করেন নাতি রিজু। পরে দাদির ব্যাগে থাকা এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। সকালে সাজেদা বেগমকে ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে নিহত বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে আইন উদ্দিন ও নাতি মঞ্জুরুল ইসলাম রিজুকে আটক করা হয়েছে।

ফেসবুক ছেড়ে রাজপথে নামুন: মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস : ফেসবুকে আন্দোলন না করে দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘ফেসবুকে থাকলে আন্দোলন হবে না। দয়া করে ফেসবুক ছেলে রাজপথে নেমে আসুন। আন্দোলনের জন্য নিজেদেরকে সংগঠিত করুন।’

বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় জলমা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য চুনি লাল মন্ডল তার জামাতা হারান চন্দ্র মল্লিকের পক্ষে কথিত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, জামাতা হারান চন্দ্র মল্লিক গত ২৪/১০/২০১৮ ইং তারিখে রাজবাঁধ মৌজার সি,এস ১৮৫, এস,এ ১৪৫ ও বি আর আর ১৬৩ নং খতিয়ানের ২৩২ নং দাগের ৮০২৫ নং কবলা দলিল মূলে ০.০৫ একর সম্পত্তি ক্রয় পূর্বক ঘেরা-বেড়া দিয়ে চাষাবাদ করে জীবন যাপন করে আসছে। সম্প্রতি রাজবাঁধ গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পুত্র মোঃ মিরাজ, জাকাত আলী মোল্লার পুত্র আব্দুর গফুর মোল্লা, বয়রা ও রায়ের মহল এলাকার ইমতাজ শেখের পুত্র বাচ্চু শেখ, মোঃ বিল্লাল ও জয়খালি এলাকার অতুল কবিরাজের পুত্র অচিন্ত্য কবিরাজ সহ কতিপয় ভূমি দখলবাজ ব্যক্তিবর্গ আমার জামাতার ভোগদখলীয় সম্পত্তি দখল করার হীন মানসে হানিফিয়া জামে মসজিদের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছে। আমি ও আমার জামাতা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় জামাতার রেকর্ডীয় ভোগদখীয় জমিতে মসজিদের সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেওয়ায় সেখানে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। সেই সাথে কথিত ঐ সকল ভূমিদস্যূদের নয়া কৌশলে দখলবাজির কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। উক্ত ভূমিদস্যূদের মধ্যে অনেকেই বিগত দিনে চরমপন্থী দলের সক্রিয় সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলাও রয়েছে। বর্তমানে আমার জামাতা ও তার পরিবার-পরিজন জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমিদাতার জমি দখল নেয়ার পায়তারা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমিদাতা রমাকান্ত মল্লিকের ক্রয়কৃত জমি দখল করে নেয়ার পায়তারা করছে একটি চিহ্নিত ভূমিদুস্য চক্র। উক্ত চক্রের প্রধান হোতা দাঁনিয়াফাঁদ গ্রামের অনন্ত মন্ডলের পুত্র দীনবন্ধু মন্ডল। সে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে সরকারি সম্পত্তি ও ব্যাক্তিগত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রে প্রকাশ উপজেলার বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (জলমা তহশীল) ভূমি দাতা রমাকান্ত মল্লিক গত ৩০ ডিসেম্বর ৩৬৪৪/১৯৫৪ নং কবলা দলিল মূলে ছয়ঘরিয়া মৌজার সি,এস ২০৫/১ খতিয়ানে খরিদাকৃত মালিক গোবিন্দ রায় ও ধীরেন্দনাথ রায়ের কাছ থেকে ৫০ শতক জমি ক্রয় করে কর খাজনা পরিশোধ পূর্বক ভোগদখলে থাকিয়া চাষাবাদ করে ফসলাধী উৎপাদন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে এবং এস,এ জরিপ কার্যক্রম চলা কালে এস,এ ৩৬২ নং খতিয়ানে রেকর্ডীয় মালিক হন। উক্ত এস,এ রেকর্ডীয় মালিক রমাকান্ত মল্লিক গত ২ মে ২০১৬ তারিখে ২০১৩/১৬ নং দানপত্র দলিল করে দেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক। যার চেনা স্বাক্ষী থাকেন তৎকালিন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তুষার কুমার পাল ও বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের (জলমা তহশিলদার )ভূমি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। ভূমি দাতা রমাকান্ত তার ক্রয়কৃত বাকী সম্পত্তি সংলগ্ন ভরাটি ইনেদা খাল ভোগ দখল করে আসছে। উল্লেখ্য ভরাটি ইনেদা খালে কিছু অংশ জলাম তহশীল অফিস ভোগ দখল করে আছে। উক্ত রমাকান্ত মল্লিকের ব্যাক্তিগত সম্পত্তি ও দখলে থাকা সরকারি ইনেদা খালের সম্পত্তি ভূমিদস্যু দিনবন্ধু জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। বিগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মহিউদ্দিন সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে
ভূমিদস্যু দীনবন্দু মন্ডলকে ভ্রাম্যম্যান আদালত পরিচালন করে এক মাসের বিনাশ্রম জেল প্রদান করেন। শেখ মহিউদ্দিন পদন্নতি নিয়ে অন্যত্র বদলী হলে এবং জেল বের হইয়ে উক্ত ভূমিদুস্য দীনবন্দু মন্ডল পুনঃরায় রমাকান্ত মল্লিকের দখলীয় ইনেদার ভরাটি খাল যাহার খতিয়ান-১,দাগ ২৫২৮,২৩১৯,২৫০৮ দাগে ০.৫০ একর জমি ও আমার নিজ সম্পত্তি আবার দখলের পায়তারা করছে। বিষয়টি ভূমিদাতা রমাকান্ত মল্লিক বর্তমান সহকারি কমিশনার (ভূমি) দেলোয়ার হোসেনকে অবগত করনে। ভূমি কর্মকর্তা জলমা তহশীলদার কাজী রেজাউল ইসলামকে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ করেন। জলমা তহশীলদার উক্ত ভূমিদুস্য দীনবন্দু মন্ডলকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে খাল থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত সরকারি নিদের্শ উপেক্ষা করে দিনবন্ধু তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভূমিদাতা রমাকান্ত মল্লিক উক্ত খাল একসনা বা স্থায়ী বন্দোবস্ত পেতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন দাখিল করেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক সহ প্রধান মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।