রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে আটক ৩

চট্টগ্রাম : ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় চট্টগ্রাম নির্বাচন অফিসের কর্মচারী জয়নাল আবেদিনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ১ ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে নগরীর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আটক করা হয়।

এর আগে, রবিবার সকালে রোহিঙ্গাদের ভুয়া পরিচয়পত্রের বিষয়ে তদন্তের জন্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল সেখানে এ অভিযান চালায়। দুদক টিম নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে রোহিঙ্গাদের এনআইডি সংরক্ষিত থাকার প্রমাণ এবং এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধিসহ এই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লাকী ওরফে রমজান বিবি নামে এক রোহিঙ্গা নারী জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তার স্মার্টকার্ড পরীক্ষা করে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে থাকা কোড নম্বরের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। জানা যায়, ঐ রোহিঙ্গা নারী ভুয়া ঠিকানা দিয়ে তৈরি করিয়েছেন জাল এনআইডি।

এছাড়া টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নুর মোহাম্মদের কাছে এনআইডি পাওয়া যায়। এই ২টি কার্ডের সুত্র ধরে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি উঠে আসে।

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড: আরেকটি নতুন ভিডিও প্রকাশ

বরগুনা : বরগুনায় রিফাত শরীফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের আরেকটি নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভিতে ধারণ করা। সদ্য প্রকাশ পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাত শরীফকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে কুপিয়ে জখম করার পর তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একাই রক্তাক্ত অবস্থায় রিফাতকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নতুন এই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গেল ২৬শে জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে একটি অটোরিক্সায় রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করে জরুরি বিভাগের গেটে যান মিন্নি। এ সময়, এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে রিফাতকে দেখার পর স্ট্রেচার নিয়ে এসে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।

১০টা ২২ মিনিটে গেটে দাঁড়িয়ে মিন্নি এক ব্যক্তির ফোন থেকে কাউকে ফোন করেন। এরপর, ১০টা ৩৮ মিনিটের সময় মিন্নির চাচা আবু সালেহ হাসপতালের জরুরি বিভাগে আসেন। ১০টা ৩৮মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। এ সময়, রিফাত শরীফকে জরুরি বিভাগ থেকে বের করে অ্যম্বুলেন্সে তোলেন রিফাত শরীফের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম ওরফে জনসহ বেশ কয়েকজন। ঠিক একই সময়ে মিন্নির চাচা আবু সালেহ স্যালাইন নিয়ে আসেন।

১০ট ৪৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের সময় একজন পুলিশ অ্যাম্বুলেন্সের কাছে আসেন। ১০টা ৪৯ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর একটি বাইকে করে হাসপাতালের প্রবেশ করেন। এ সময়, মিন্নি তার বাবার সাথে অ্যাম্বুলেন্সের সামনের দিকে আসেন।

মিন্নির বাবা অ্যাম্বুলেন্সের সামনে সিটে বসার পর ১০টা ৪৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় অ্যাম্বুলেন্সটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যলা কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

রিফাত শরীফকে ২৬শে জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কোপানোর পর একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা যখন কোপাচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাতকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এর কিছুদিন পর, দ্বিতীয় আরেকটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, রিফাতকে সন্ত্রাসীরা যখন কলেজ গেট থেকে নিয়ে যায়। সে সময়, মিন্নি সন্ত্রাসীদের পিছনে খুব স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যায়। এই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই সন্দেহের জেরেই রিফাতের বাবা ১৩ই জুলাই একটি সংবাদ সম্মেলন করে রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত বলে অভিযোগ তোলেন। সেই সঙ্গে প্রকাশিত দ্বিতীয় ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে দাবি করেন রিফাতের বাবা। তবে, এরপর মিন্নি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনের পর ১৬ই জুলাই আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বরগুনা পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। পরে, সেখান থেকে  রাত ৯ টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বরগুনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরের দিন, বিকেল সোয়া তিনটার দিকে কারাগার থেকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে নেয়ার ৪৮ ঘন্টা পরেই ১৯শে জুলাই বেলা ২টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়। একইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে মিন্নি বরগুনা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ছিলেন।

সবশেষ গেল ৩রা সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ বরগুনা জেলা কারাগারে পৌঁছালে মুক্তি পান মিন্নি। তবে, উচ্চ আদালত তাকে দুই শর্তে জামিন দিয়েছেন। একটি হলো জামিনে থাকাকালীন সময়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। আরেকটি শর্ত হলো, জামিন থাকা অবস্থায় তার বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের জিম্মায় থাকতে হবে।