খুলনায় আ’লীগের সদস্য টিকিট পাচ্ছেন ব্যাটারী চোর সিন্ডিকেটের প্রধান ‘শহিদ’

স্টাফ রিপোর্টার : কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে খুলনা মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য টিকিট পাচ্ছেন বহু অপকর্মের হোতা, মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারী চোর সিন্ডিকেটের প্রধান মো. শহিদুল ইসলাম খান। এ বিষয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অবৈধ টাকার প্রভাবে তাকে সদস্য টিকিট দেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর পূর্বেও ১৭নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা ময়লাপোতায় মুদি’র দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন শহিদ। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে পুরনো ফার্ণিচারের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। একটি সূত্র বলছে- এই কয় বছরে অন্তত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। পুরনো ফার্ণিচার বোর্ড ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারী চোরের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই চোরদের মাধ্যমে ব্যাটারী চুরি করে পরবর্তীতে গোপন কারখানায় নিয়ে যন্ত্রাংশ আলাদা করে বিক্রি করেন বলে জানা যায়।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারী টাওয়ারের চোর সিন্ডিকেটের সদস্য মো. মিলনকে ২৩ পিস ব্যাটারী ও একটি ইজিবাইকসহ নগরীর পাওয়ার হাউজ কদমতলা মোড় থেকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোনাডাঙ্গা থানাধীন আল-ফারুক সোসাইটি এলাকা থেকে সিন্ডিকেটের প্রধান শহিদসহ ৬ জনকে আটক করা হয় এবং ২৪টি ব্যাটারীর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে এক দিনের রিমাণ্ডেও নেওয়া হয়েছিলো। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, আলোচিত শহিদ সোনাডাঙ্গা ময়লাপোতা এলাকায় পুরনো ফার্ণিচার বোর্ডের ব্যবসা করাকালীন রাস্তা দখল করে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করেন। যা ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত দেখা যায়। রাস্তায় বসে পেরেক ছাড়ানোর সময় হাতুড়ি ও ছেনির আঘাতে অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের সড়ক। প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এছাড়া কিছুদিন পূর্বে তার নিজ স্ত্রী রেখে অন্যের স্ত্রীর সাথে অবৈধ মেলামেশার করার কয়েকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ হয়। কিন্তু অর্থ দিয়ে সে ঘটনা ধামাচাপা দেন তিনি।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, প্যানার মাধ্যমে কখনো ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান, কখনো আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী খানের নজর কেড়েছেন নব্য আওয়ামী লীগ নেতা শহিদ। আবার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নূর ইসলামের ব্যবসায়িক পার্টনার বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তার সুবাদে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বদ্বয়কে ম্যানেজ করে তিনি এবারের সদস্য টিকিট পাচ্ছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। যাতে বাদ পড়ছেন না হাইপ্রোফাইল নেতারাও। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতারা পদ থেকে থেকে বাদ পড়েছেন নিজেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে। তৃণমূল পর্যায়ে যাদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তাদের টিকিট না দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না কেউ। ফলে বহু অপকর্মের হোতা শহিদুল ইসলামকে টিকিট দেওয়ার ব্যাপারে চেষ্টা করে যাচ্ছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা।
এ বিষয়ে ১৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নূর ইসলাম গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে জানান, সেন্টার কমিটি থেকে তালিকা করে আমাদের কাছে পাঠাবেন। এখানে কোন বির্তকিত লোক থেকে থাকলে আমরা তাদেরকে অবহিত করবো। এখনো পর্যন্ত তার ওয়ার্ডে কোন ফাইনাল তালিকা করা হয়নি।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী খান প্রতিবেদককে জানান, আওয়ামী লীগ থেকে কাউকে টিকিট দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য কোন দলের থেকে আসতে চাইলে তাদেরকে না নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বিষয়টি নেতাকর্মীদের অবহিত করা হয়েছে। সেন্টার কমিটি থেকে লিস্ট করে আমাদের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে কোন বির্তকিত ব্যক্তির নাম থাকলে আমরা তা সংশোধন করার জন্য সুপারিশ করতে পারি। এর বাইরে আমাদের কিছু করার থাকে না।
তিনি আরও জানান, শহিদুলের বাবা টিকিট পাওয়ার কথা ছিলো সে বয়স্ক হওয়ার কারণে তার ছেলে শহিদুলকে দেওয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে, আমরা তাকে বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারি।
তবে ওই এলাকার একটি সূত্র বলছে- আলোচিত শহিদ ছাড়াও তার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তার বাবা আবুল হোসেন খান সুসময়ের পাখি বলে এলাকায় পরিচিত। সরকার বদলের সাথে সাথে তিনিও দল বদল করে ফেলেন। ইতোপূর্বে কয়েকবার বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে, আবার আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে ভিড়েছেন। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এবার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের টিকিট পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা।

পাকিস্তানে ট্রেনে আগুন : নিহত ৬২

আন্তর্জাতিক :  পাকিস্তানের পাঞ্জাবে লিয়াকতপুর শহরের কাছে একটি ট্রেনে আগুন লেগে অন্তত ৬২ জন মারা গেছেন।  এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে আরও অন্তত ৮৪ জন।

বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনটিতে রান্নার জন্য রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।  ট্রেনটি করাচী থেকে রাওয়ালপিণ্ডি যাওয়ার পথে পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণের শহর রহিম ইয়ার খানে এ ঘটনা ঘটে।

আগুনে ট্রেনের তিনটি বগি পুড়ে যায়।  মৃতদের মধ্যে কয়েকজন আগুনের ধোঁয়া থেকে বাঁচতে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিয়েছিলেন।  নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  সহস্রাধিক দমকলকর্মী ট্রেনটিতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

খুলনা কারাগারে মায়ের সঙ্গে ৯ শিশুর বসবাস

খুলনা অফিস : মায়ের শাস্তির জন্য কোনো অপরাধ না করেও দেশের বিভিন্ন কারাগারে বসবাস করছে অনেক শিশু।  অপরাধীদের সঙ্গে থাকায় এসব শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা।

অন্যদিকে, আইনজ্ঞরা বলছেন, কারাগারে বড় হওয়ায় লঙ্ঘিত হচ্ছে শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার।  এসব শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খুলনাসহ সারা দেশের সাতটি কারাগারে কাজ করছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

খুলনা কারাগারে ফৌজদারী অপরাধে অভিযুক্ত মায়েদের সঙ্গে বন্দি জীবনযাপন করছে নয়জন শিশু।  কোনো অপরাধ না করেও এসব শিশু মাসের পর মাস কাটাচ্ছে কারাগারে।  আবার অনেক শিশুর জন্মই এই কারাগারে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কারাগারে বন্দি ও অপরাধীদের সংস্পর্শে থাকায় শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এস এম ফরিদুজ্জামান বলেন, “এখানে থাকতে সে নিজেকেও এক ধরনের অপরাধী ভাবতে শুরু করে। অনেকটা সময় তার নিজের ভিতরে যে মানবিক গুণাবলীর চর্চা, সেটা হয় না।  কাজেই আমাদের অনেক বেশি ঝুকিঁ রয়ে যায়।”

আইনজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীরা আইনের সুবিধা নিতে শিশুদের ব্যবহার করছে।  তবে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধী মায়ের সঙ্গেই রাখা হচ্ছে এসব শিশুদের।

খুলনার বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম বলেন, “শিশু অধিকার আইনই বলি, অথবা বাংলাদেশের সংবিধানই বলি, অথবা বাংলাদেশের অন্য কোনো আইন বলি, কোনো আইনেই কিন্তু শিশুরা জেলখানায় কোনো অবস্থায় থাকতে পারবে না।”

খুলনা জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের আত্মীয়দের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে খুজেঁ তাদের বাচ্চা তাদের হেফাজতে দিয়ে দেয়াই নিয়ম। যদি সত্যিই কোনো গার্ডিয়ান না থাকে তাহলে তাদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটা আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”

কারাগারে মায়ের সঙ্গে বসবাসরত এ ধরনের শিশুদের দৈনিক তিন ঘন্টা বিনোদনের সঙ্গে লেখাপড়া শেখানোর ব্যবস্থা করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরাজেয় বাংলাদেশ’র ডে কেয়ার সেন্টার।

খুলনা জেলা কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারের শিক্ষিকা শাহেরজাদী সুলতান সোমা বলেন, “লেখাপড়ার ব্যবস্থা, তাছাড়া ওদেরকে একটু কালচারাল বিষয়গুলো দেখানো, শেখানো হয়।  তাদের জন্য খেলাধূলার সরঞ্জাম আছে কিছু, সেগুলো দিয়ে তারা খেলাধূলা করে কিছু সময়।”

শিশুদের অধিকার রক্ষায় ২০১৫ সালে কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অপরাজেয় বাংলাদেশ পরীক্ষামুলকভাবে দেশের সাতটি কারাগারে চালু করেছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

অপরাজেয় বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুব আলম প্রিন্স বলেন, “মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন করে শিশু আমরা পাই জেলখানা থেকে, যারা অপরাধী মায়ের সঙ্গে থাকে।”

এসব শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন-এমনই প্রত্যাশা মনোবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞদের।

দাকোপে ২ বছরের শিশু বলাৎকার : অভিযুক্ত গ্রেফতার

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোর পল্লীতে ২ বছরের শিশুকে বলাৎকার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে এলাকাবাসীর সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, দাকোপ থানার লাউডোপ গ্রামের শিমুল বিশ্বাসের ২ বছর বয়সি শিশু পুত্র বাপ্পি বিশ্বাসকে বলাৎকার করেছে তার প্রতিবেশী জসিম বিশ্বাস (২০)। জানা যায়  বুধবার বেলা ১০ টার দিকে শিশুটি নিজ বাড়ীর উঠানে খেলছিল। এ সময় অভিযুক্ত জসিম শিশুটিকে কোলে করে নিজ ঘরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর শিশুটির কান্নাকাটির আওয়াজে তার পিতা ঘরে গেলে অভিযুক্ত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির পরনের প্যান্ট খোলা এবং মলদার দিয়ে রক্ত নির্গত হতে দেখে শিমুল এলাকাবাসীর সহায়তায় অভিযুক্ত জসিমকে আটক করে দাকোপ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় শিশুটিকে দাকোপ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযুক্ত জসিম একই গ্রামের পাচুরাম বিশ্বাসের পুত্র। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ৩৭৭ পেনাল কোর্ড ধারায় দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ১১। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিশুটি খুলনা মেডিকেলের ভিকটিম শিশু সাপোর্ট কর্ণারে চিকিৎসাধীন আছে। পুলিশ আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

বটিয়াঘাটার শৈলমারী নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, আহবমান কাল ধরে চলে আসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতিকে লালন করতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। কারণ দিনে দিনে গ্রামবাংলা থেকে প্রাচীন লোক সংস্কৃতি ও খেলাধূলা বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা সকলে মিলে যদি হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারি তাহলেই আগামী প্রজন্ম বাঙ্গালীর ঐতিহ্যকে চিরাচারিত টেনে নিয়ে যেতে পারবে। তিনি বুধবার বিকাল ৩ টায় শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা উপলক্ষ্যে উপজেলার হাটবাটি সৎসঙ্গ মঠ মন্দির কমিটির আয়োজনে শৈলমারী নদীতে অনুুষ্ঠিত এক বিশাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। বাইচ কমিটির সভাপতি হিমাদ্রী বিশ্বাস হিমুর সভাপতিত্বে ও উপজেলা আ’লীগনেতা বিবেক বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিতরণী সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন থানার ওসি মোঃ রবিউল কবীর, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ শিল্পপতি ও সমাজসেবক শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ বাপি রায়। বক্তৃতা করেন উপজেলা আ’লীগ নেতা রবীন্দ্র নাথ ঢালী, মৃন্ময় পাল, অধ্যাঃ মনোরঞ্জন মন্ডল, চয়ন বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপম বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক শুভংকর মন্ডল, সহকারী শিক্ষক লিটন রায়, আ’লীগ নেতা পলাশ সরকার, সনেট মল্লিক, সাবেক ছাত্রনেতা মিঠুন রায়, অলোক মল্লিক, অনিমেষ মল্লিক, মিলন মল্লিক, কমলেশ সরকার, সাংবাদিক শাহীন বিশ্বাস, বীরমুক্তিযোদ্ধা, আবুল হাশেম মলঙ্গী প্রমূখ। প্রতিযোগীতায় ৪টি নৌকার মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করে একটি ফ্রিজ জিতে নেন সাতক্ষীরা তালার আবুল হোসেনের নৌকা, ২য় স্থান অধিকার করে রঙিন টেলিভিশন অর্জন করেন উপজেলার হাটবাটি পবিত্র বাবুর নৌকা, ৩য় স্থান অধিকার করে রঙিন টেলিভিশন জিতে নেন মশিয়ার ডাঙ্গার সুরঞ্জনের নৌকা এবং ৪র্থ স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরার ষষ্ঠগ্রামের মনিন্দ্রনাথের নৌকা। অতিথিবৃন্দ সকল বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন। বাইচে নদীর দু’কূল দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটে। পরবর্তীতে রাতে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ডোপ টেস্টে মাদক সেবন সনাক্ত : আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাদক বিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযানকালে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীসহ ৩ জনকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে ইয়াবা বিক্রেতা জোসনা বেগম (৫৫), এবং ইয়াবা সেবনকারী রেখা বেগম (৩২) ও শেখ আব্দুর রশিদ (৪৬) কে আটক করেছেন। এর মধ্যে গাজা  বিক্রেতা জোসনা বেগমকে ১ দিনের কারাদ- এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ইয়াবা সেবন প্রমানিত হওয়ায় রেখাকে ২০ দিনের কারাদ- এবং দেড় হাজার টাকা জরিামানা এবং আঃ রশিদকে ২ দিনের কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ বিভাগের ৪ জেলার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি যৌথ টিম নগরীর খালিশপুর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইমরান খান ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে এবং উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে খুলনাসহ ৪ জেলার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে যৌথ একটি মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে নগরীর খালিশপুর উত্তরকাশিপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত ইউসুফ সরদারের স্ত্রী জোসনা বেগমকে ৫ গ্রাম গাজাসহ আটক করেন। অপরদিকে একই এলাকায় মৃত আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা রেখা বেগম ও মৃত ইউসুফ সরদারের কন্যা রেখা বেগম এবং মৃত সাহামুতুল্যার পুত্র শেখ আব্দুর রশীদকে ইয়াবা সেবনের অপরাধে তাদেরকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে একটি প্রাইভেট ডায়াগণস্টিক সেন্টারের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে ইয়াবা সেবনের প্রমানিত হয়। এ সময় আটকৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদ- করা হয়।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, খুলনা বিভাগের ৪ জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম মঙ্গলবার দিনব্যাপী নগরীর বিভিন্ন স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইয়াবা সেবন অবস্থায় দুইজনকে আটক করে তাদেরকে ডোপ টেস্ট করানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক পারভীন আক্তার বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর খালিশপুরথানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবুল হোসেনসহ উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদ- প্রদান করা হয়েছে। জেল ও জরিমানা উভয়দ- দন্ডিত করা হয়।

খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে  মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাড়ালো ১০ হাজার ৪৯২ জন। বর্তমানে ১৫৪ জন ভর্তি রয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
সূত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ৪০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ১ জন,  সাতক্ষীরায় ৩ জন, যশোরে ১৮ জন, ঝিনাইদহে ৩ জন, মাগুরায় ৪ জন, নড়াইলে ১ জন, কুষ্টিয়ায় ৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ১জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন ভর্তি রয়েছে।

বটিয়াঘাটার শৈলমারী নদীতে নৌকা বাইচ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : আগামীকাল বুধবার বিকাল ৩ টায় স্থানীয় বটিয়াঘাটার শৈলমারী নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে। শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা উপলক্ষ্যে হাটবাটি সৎসঙ্গ মঠ মন্দির এর আয়োজনে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে। বাইচে সভাপতিত্ব করবেন হিমাদ্রী বিশ্বাস হিমু। সাধারণ সম্পদক ইন্দ্রজিৎ রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগীতায় প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান, থানার ওসি মোঃ রবিউল কবীর, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ বাপি রায়,শিল্পপতি শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক প্রফুল্ল কুমার রায়, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক মামুন আল হাসান নাজু ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ। বাইচে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সকল দর্শকদের অংশগ্রহণের বিনম্র আহ্বান জানানো হয়েছে।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গনসচেতনতা মূলক সভা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উদ্দ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় স্থানীয় জলমা চক্রাখালী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে বিদ্যুতের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার বিষয়ে এক গনসচেতনতামূলক সভা সহকারী প্রধান শিক্ষক তৃপ্তী রানী বিশ্বাসের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সিনিয়র প্রকৌশলী মোঃ আলতাফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী ইউএমএমএস মোঃ সাঈদ হোসেন, ডিজিএম (কারিগরী) আল মামুন, সহকারী প্রকৌশলী উত্তম রায়, এমএসসি প্রশান্ত কুমার, সহকারী হিসাব রক্ষক মোঃ মাহাবুল হক।

সুরখালী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন সভা অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন উপলক্ষ্যে এক সভা মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় কল্যাণশ্রী ক্লাব মাঠ চত্ত্বরে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানে মোড়লের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শেখ আকরাম হোসেন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শেখ ওয়াহিদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক বিএম মাসুদ রানা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রসাদ চন্দ্র রায়, সদস্য আব্দুল মান্নান গোলদার, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জাকির হোসেন লিটু, সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরকার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসফিকুর রহমান সাগর, আ’লীগ নেতা মোঃ মুন্নাফ বিশ্বাস, গোলাম মওলা, প্রদীপ কুমার মণ্ডল, মহিদুল ইসলাম শাহীন, সুশান্ত বাছাড়, সাকির সরদার, বুল বুল হোসেন বিপ্লব, জিয়ার রহমান জিয়া, মোঃ মিন্টু শেখ, স্বপন মহলদার, জলিল গাজী, রেজওয়ান গোলদার, আজমল হোসেন প্রমুখ।