পদ্মার মূল সেতুর ৮৪% কাজের অগ্রগতি

ঢাকা অফিস : পদ্মার মূল সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩২টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  পদ্মার মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৪ শতাংশ। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় একথা জানান তিনি।

দ্রুত কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের জুনের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে চাই। তবে পদ্মা নদী খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। একইসঙ্গে নদীতে তীব্র স্রোত থাকে এবং প্রচুর পলি বহন করে। এতে করে পিয়ারে স্প্যান বসানো সম্ভব হয় না। শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মূল সেতুর সবকটি পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩২টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পিয়ারের কাজ চলমান আছে। মোট ৪১টি স্প্যানের মধ্যে চীন থেকে মাওয়া সাইটে এসেছে ৩১টি। এর মধ্যে ১৪টি পিয়ারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। ১৫তম স্প্যান পিয়ার ২৩-২৪ এর কাছে রাখা হয়েছে। চারটি স্প্যান কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে আছে ও একটি চর এলাকায় ২৮ নম্বর পিয়ারের কাছে রাখা আছে।’

কারিনা ও কারিশ্মা লোকাল ট্রেনে করে কলেজ করতেন

বিনোদন : কপূর পরিবারের মেয়ে হয়েও করিশ্মা কাপুর এবং করিনা কাপুর নাকি লোকাল ট্রেনে, স্কুল বাসে চেপে স্কুল-কলেজে যেতেন! বিশ্বাস হয়? যদিও এমনটাই দাবি করেছেন করিশ্মা কাপুর।

বলিউডের হেভিওয়েট পরিবারগুলির মধ্যে কাপুর পরিবার অন্যতম। চলনে-বলনে তাঁরা যেআর পাঁচ জনের মতো হবেন না, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে কাপুর পরিবারের মেয়ে হয়েও করিশ্মা কাপুর এবং কারিনা কাপুর নাকি লোকাল ট্রেনে, স্কুল বাসে চেপে স্কুল-কলেজে যেতেন! বিশ্বাস হয়? যদিও এমনটাই দাবি করেছেন করিশ্মা কাপুর। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়।

এক সাক্ষাৎকারে করিশ্মা বলেন, ‘ছোট থেকেই খুব সাধারণ ভাবে বড় হয়ে উঠেছি আমরা। আমি আর বেবো(কারিনা কাপুর) স্কুলবাসে স্কুলে যেতাম। কলেজও গিয়েছি লোকাল ট্রেনে চেপে।’ মা ববিতার প্রসঙ্গ টেনে করিশ্মা যোগ করেন, ‘মা-ই শিখিয়েছে কী ভাবে শিকড়ের কাছাকাছি থাকতে হয়। মা জানত অভিনয়ের প্রতি আমার ভালবাসার কথা। সব সময়েই আমাকে উৎসাহ দিয়ে এসেছে মা।’

বুধবার বিয়ের সাত বছর পার করলেন কারিনা-সইফ। ধুমধাম করেই পালিত হয়েছে সেই অনুষ্ঠান। করিশ্মাও বোনের বিশেষ দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন পার্টিতেও।

ইদানীং সিনেমা থেকে নিজেকে কিছুটা দূরেই রেখেছেন করিশ্মা। ২০১২-তে করিশ্মা অভিনীত ‘ডেঞ্জারাস ইশক’ বক্স অফিসে একটুও সাফল্য পায়নি। ২০১৬-তে ব্যক্তিগত জীবনেও টানাপড়েন চলছিল করিশ্মার। সঞ্জয় কপূরের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায় ওই বছর।

অন্যদিকে, তৈমুরের জন্মের পর সাময়িক বিরতি নিলেও আবার পুরোদমে কাজে ফিরেছেন করিনা। হাতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় বাজেটের প্রজেক্ট।

খুমেক হাসপাতাল : অপারেশনের সূতা সাপ্লাই সত্ত্বেও রোগীদের কিনতে হচ্ছে

ভুক্তভোগীর অভিযোগ দায়ের

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, স্টাফ, ফ্রি সার্ভিস, আউটসোর্সিং ও দালালদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগীরা। এমন পরিণতিতে হাসপাতালে আসা রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনের পর দিন এ রকম ঘটনা ঘটেই চলেছে। এ ব্যাপারে এক ভুক্তভোগী রোগী হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। খুমেক হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি সাথে সাথে ফ্রি সার্ভিসকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছি। এমনকি ওই ফ্রি সার্ভিস টিটো শুধু রোগীকে সূতা কেনার পাশাপাশি ওষুধও কেনার জন্য রোগীকে স্লিপ ধরিয়ে দেন। তিনি বলেন, সব সূতা ও দামি এন্টিবায়েটিক হাসপাতালে সরবরাহ রয়েছে। ফ্রি সার্ভিস আজহারও একবার ওষুধ চুরির সময় হাতে নাতে ধরা পড়েন। তাকেও বের করে দিয়েছিলাম। তিনি যদি আবারও হাসপাতালে কাজ করে থাকেন, আমি তা জানি না।
জানা গেছে, খুমেক হাসপাতালে মারামারি, কোপাকুপি, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যে সব রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ওই সমস্ত রোগীদের অপারেশনের সেলাই করার জন্য দামি দামি সূতাগুলোা বাইরে থেকে কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু সব সূতা হাসপাতালে সাপ্লাই রয়েছে। কিন্তু কতিপয় অসৎ স্টাফ, ফ্রি সার্ভিস ওই সমস্ত রোগীদের সেলাই করে থাকেন তারা ওই রোগীদের লোকদের দিয়ে বাইরে ওষুধের দোকান থেকে কিনে আনতে বলেন। রোগীদের কিনে আনা দামি দামি সূতা রেখে দিয়ে হাসপাতালের সাপ্লাই করা সূতা দিয়ে সেলাই করে পরক্ষণে সেই সূতাগুলোই আবার বাইরের ওষুধের দোকানে বিক্রি করে দিচ্ছে। এখানেই ক্ষান্ত না। রোগী প্রতি তারা ১ থেকে ২ হাজার টাকার সূতা কেনায় সাথে আরও ৩/৪ রকমের ওষুধ কেনায় তারা।
খুমেক হাসপাতালের স্টোর কিপার মোঃ শরিফুর রহমান বলেন, সার্জিক্যাল আইটেম অধিকাংশই সাপ্লাই রয়েছে। এর মধ্যে তিন প্রকার সূতার মধ্যে ভিকরিল, ইথিলন, প্রোলিন। এছাড়া দামি এন্টিবায়েটিক সাপ্লাই রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু ওষুধ সঙ্কট থাকলেও ওগুলো আনার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুমেক হাসপাতালে পরিচালকের বরাবর ভুক্তভোগী রোগীর অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর মোহাম্মদ আলী শেখ (৬৩) এর ডান হাতটি স’মিলে কাজ করার সময় মেশিনে ঢুকে যায়। এ সময় তার তিনটি আঙ্গুল কেটে গিয়ে হাতটা থেঁতলে যায়। তাকে ওই দিন বাগেরহাটের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ারে পর তাকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সার্জারি ৯-১০ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখান কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দেন। রোগীর অত্মীয় জুয়েল শেখ অভিযোগে উল্লেখ করেন, টিটো নামে ফ্রি সার্ভিস আমাকে বলে তোমার রোগীকে সেলাই করা লাগবে। এগুলো বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। সেই সাথে ওষুধও কিনে আনতে বলে। আমি ওগুলো কিনে এনে দেই। ওই সব সূতা ও ওষুধ সে রেখে দিয়ে টিটো বলে স্যার আসলে কাজ করবো। পরে জানতে পারি সব ওষুধ ও অপারেশনে সেলাই করা সূতা হাসপাতালে সাপ্লাই রয়েছে।
জানা গেছে, সার্জারি ৯-১০ ওয়ার্ডে ফ্রি সার্ভিসে নিয়োজিত আজহার ও সালমা নামে এক মহিলাও কাজ করেন। ফ্রি সার্ভিস আজহার হাসপাতালের ওষুধ চুরি নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পড়েন। ওই সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বেরও করে দেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের এক স্টাফের মাধ্যমে তিনি পুনরায় ফ্রি সার্ভিস হিসেবে কাজ করছেন। এ রকম অহরহর ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। হাসপাতালে বর্তমানে ৭০-৭৫ জন পুুরুষ-মহিলা মিলে ফ্রি সার্ভিস নিয়োজিত রয়েছে।
সূত্র মতে, ফ্রি সার্ভিস আজহার স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারের কাছের লোক হওয়ার কারণে প্রতিবার তিনি অপরাধ করে পার পেয়ে যান।
সূত্র মতে, হাসপাতালের প্রবেশ গেট থেকে শুরু করে কেবিন, বেড পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ফ্রি সার্ভিস ও এক শ্রেণির দালালরা। নানা প্রলোভন, যেমন দ্রুত ডাক্তার সেবা পাইয়ে দেওয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ, থাকার জন্য কেবিন ইত্যাদি দেখিয়ে তারা দরিদ্র ও সহজ সরল রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এক রকম সর্বস্বান্ত করে ছাড়ে। বিষয়টা অনেকটা এমনই- আগে টাকা পরে চিকিৎসা সেবা। এদের খপ্পরে পরে অনেককেই চিকিৎসা সেবা তো দূরের কথা উল্টো দ্বিগুন অসুস্থ হয়ে কখনও হাসপাতালের বারান্দায়ও শুয়ে কাতরাতে দেখা যায়। ওই সব দালালই এই পর্ব শেষে আবার সরকারি মেডিকেলের কাজের হতাশাপূর্ণ বর্ণনা দিয়ে প্রাইভেট ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ করে।