কেশবপুরে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে মত বিনিময়

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হল । উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ । সভাপতিত্ব করেন ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন দফাদার । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন বালা, সেকেন্ড অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান, ভাল্লুকঘর ক্যাম্প ইনচার্জ এস.আই নাছির, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মশিয়ার রহমান দফাদার, ইউপি. সদস্য রুহুল কুদ্দুস, কামরুজ্জামান টিটু, যুবলীগ নেতা আমজেদ হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, শামীম রেজা ও ইউনিয়ন পুলিশিং কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দীন, বাজার কমিটির সভাপতি প্রদীপ দাস, জাতীয় পার্টির ইউনিয়ন সভাপতি জি.এম হাসান সহ প্রমুখ । আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন সমাজ থেকে মাদককে নির্মূল করতে হবে । এরই ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে নিজ পরিবার থেকে শুরু করে গোটা সমাজের মানুষকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে । এক্ষেত্রে পুলিশ ও জনগণ মিলেমিশে কাজ করতে হবে ।

খুলনা মাদক ব্যবসায়ী মা-ছেলেসহ আটক ৫

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী অভিযানে চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী মা-ছেলে সহ ৫ জন আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে রওশনারা বেগম (৬০) ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪৮), মোঃ শামীম হোসেন (২৪), মোঃ শিমুল (১৯) এবং মোঃ তারেক (৩২)। এদের কাছ থেকে গাজা-ইয়াবাসহ মাদক সেবনের উপকরণ জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও তারেককে ১ মাসের কারাদ-সহ ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং শামীম ও শিমুলকে ২ মাসের কারাদ-সহ ১ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন আক্তার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। গতকাল মঙ্গলবার  দিনব্যাপী রূপসা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ‘ক’ ‘খ’ সার্কেল ও গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয়ে একটি যৌথ টিম গতকাল মঙ্গলবার সকালে রূপসা উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় রূপসা উপজেলা আইচগাতী ইউনিয়নের খানমোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মান্নান হাওলাদারের স্ত্রী রওশনারা বেগম ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে ১শ’ গ্রাম গাজাসহ আটক করা হয়। একই এলাকায় সিদ্দিক ব্যাপারীর পুত্র শামীম হোসেন, মো: রজব আলীর পুত্র মো: শিমুল এবং বাচ্চু শরীফের পুত্র মো: তারেককে ইয়াবা সেবনরত ও উপকরণ পাওয়ায় তাদেরকে আটক করেন। আটককৃতদের মধ্যে ৪ জনকে জেল-জরিমানাসহ উভয়দ- প্রদান করা হয়। এছাড়া রওশানারা বেগমের নামে রূপসা থানায় একটি মাদকের আইনের মামলা দায়ের করা হয়। মামলা বাদী ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। অভিযানে গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক পারভীন আক্তার, ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, রওশনারা ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর রূপসা এলাকায় চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি। এর আগে রওশনারা ও তার ছেলেকে একাধিকবার মাদকসহ আটক করা হয়। তারা বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এছাড়া শিমুল ও শামীমের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে তাদের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে রূপসা থানা পুলিশ আমাদেরকে অবহিত করেন।

বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউপি চেয়ারম্যান আঃ হাদী’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ হাদী সরদার এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ হাদী সরদার বিভিন্ন সময় টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করে। এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য বিএমমাসুদ রানা, মোঃ জাহিদুর রহমান শেখ ও স্বপ্না রানী রায় সহ একাধিক ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান এর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি ৭৪৬ নং স্বারকে গত ১৭/১০/২০১৯ ইং তারিখে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ আত্মসাতের বিষয় সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি সুপারিশনামা সহ উক্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। আত্মসাতের মধ্যে সুরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রীড়া সামগ্রী সঠিকভাবে ক্রয় না করে বিতরণ দেখানো, এলজিএসপি ২০১৭-২০১৮ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরমহল খেয়াঘাট পুনঃ পাকাকরণ ও সুন্দর মহল বাজার হতে খেয়াঘাট পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ/সংস্কার প্রকল্পের আওতায় ৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এলজিএসপি ২০১৬-২০১৭ প্রকল্পের আওতায় গাওঘরা চান্দারডাঙ্গা হাবিবুর শেখ এর বাড়ি হতে রকিব উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সোলিং রাস্তা নির্মানের নামে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রিন্টার ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, এলজিএসপি ২০১৭-২০১৮ প্রকল্পের আওতায় ভগবতীপুর গ্রামের খালের উপর নির্মিত ফুট ব্রীজ নির্মাণ কাজ আংশিক ও দায়সারা ভাবে করে সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ, ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন কাজের টাকা আদায় ও অন্যান্য খাত হতে আদায়কৃত টাকা পরিষদের তহবিলে জমা না দিয়ে সকল টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব, ইউপি শাখা-১ বরাবর প্রেরন করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সাতক্ষীরায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ : আহত ২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার বাইপাস সড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বাইসাইকেল আরোহী এক গ্রাম্য ডাক্তার নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে আরো দুই জন। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে শহরের অদূরে বাইপাস সড়কের বকচরা মোড় এলাকায় এ দূর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাইকেল আরোহী গ্রাম্য ডাক্তারের নাম শামীম হোসেন ছট্টু (৪৫)। তিনি বকচরা গ্রামের মৃত সিদ্দিক হোসেনের ছেলে।
অপরদিকে, আহতরা হলেন, খুলনার ময়লাপোতা এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে নুর মোহাম্মদ ও ডুমুরিয়া এলাকার সোবহান শেখের ছেলে তাজুল ইসলাম। এদের মধ্যে নুর মোহাম্মদের অবস্থা আশংকাজনক।
স্থানীয়রা জানান, সকালে বাইসাইকেল আরোহী গ্রাম্য ডাক্তার শামীম হোসেন ছট্টু শহরের অদূরে বাইপাস সড়কের বকচরা মোড় পার হওয়ার সময় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বাইসাইকেল আরোহী শামীম হোসেন ছট্টু। এ সময় আহত হন মোটর সাইকেলে আরোহী নুর মোহাম্মদ ও তাজুল ইসলাম। স্থানীয়রা তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর সেখানে নুর মোহাদ্দের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেলে স্থানান্তর করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।