ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির পরীক্ষা কেন্দ্র কেশবপুরে অব্যাহত থাকার আবেদন

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ
যশোর-৬ কেশবপুরের সংসদ সদস্য জনাব ইসমাত আর সাদেক, জেলা প্রশাসক যশোর, কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এর প্রচেষ্টায় এবং যশোর বি.আর.টি.এ এর সহযোগীতায় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের মাধ্যমে হয়রানি মুক্ত এবং অবৈধভাবে লেনদেন ছাড়াই মোটর সাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির কাজ শুরু হয় । প্রথম ধাপে ১৪৮ জন প্রার্থী মোটর সাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন এবং তারা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পান । পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য ০৬ ই নভেম্বর ২০১৯ ইং বুধবারে কেশবপুরেই লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় কেশবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মৌখিক পরীক্ষা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এবং ফিল্ড টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় কেশবপুর উপজেলা পাবলিক ময়দানে । লিখিত মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষার মাধ্যমে ৬৪ জন প্রার্থী মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জন করে । লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম, কেশবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান , ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (শহর ও যানযট) প্রশান্ত কুমার দাস, মোটর যান পরিদর্শক রাম কৃষ্ণ পোদ্দার, সহকারী মোটর যান পরিদর্শক আব্দুল মতিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেশবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ এনামুল হক ও কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ । মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির পরীক্ষা কেন্দ্র কেশবপুরে হওয়াতে কেশবপুর এবং এর আশ পাশের লোকজনের মোটর সাইকেলের লাইসেন্স প্রাপ্তিতা সহজবোধ্য হয় এবং গ্রাম্য অঞ্চল থেকে শুরু করে শহুরে পর্যায়ের লোকেরা লাইসেন্স নেবার জন্য আকুল হয়ে উঠেছে । তাই জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বিভাগীয় কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট কেশবপুরের মানুষের প্রাণের দাবি এই মোটর সাইকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির পরীক্ষা কেন্দ্র কেশবপুরেই যেন থাকে ।

বটিয়াঘাটার সুরখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : আওয়ামীলীগের সুন্দর ইমেজের লোকদের নিয়ে নতুন সদস্য এবং বিগত তালিকার বিতর্কিত লোকদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ও সুন্দর তালিকা প্রণয়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন উপলক্ষ্যে এক সভা বুধবার বিকাল ৩টায় ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ চত্ত্বরে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক সরদার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম শাহীনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আকরাম হোসেন, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শেখ ওয়াহিদুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রসাদ চন্দ্র রায়, সদস্য আব্দুল মান্নান গোলদার, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জাকির হোসেন লিটু, সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরকার, আ’লীগ নেতা আহম্মদ আলী গাজী, খলিলুর রহমান, আ’লীগ নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব মোতাহার হোসেন (শিমু), মোঃ মুন্নাফ বিশ্বাস, গোলাম মওলা, সুশান্ত বাছাড়, গোপাল চন্দ্র ম-ল, মোঃ হাবিবুর রহমান, জামির শেখ, প্রবীর কুমার ম-ল, আওছাফুর রহমান, রতœা অধিকারী, মোঃ শহীদুল ইসলাম, অমৃত ম-ল, শফিকুল ইসলাম, জহুর আলী খাঁ, আমিনুর ইসলাম শেখ, সাকির সরদার, বুল বুল হোসেন বিপ্লব, রঞ্জন সরকার, মোঃ কবির শেখ, পরিমল ম-ল, মোঃ বকুল শেখ, ডাঃ আঃ সালাম, আজাদ হোসেন জোয়াদ্দার, নিরঞ্জন ম-ল, মোঃ মিন্টু শেখ, স্বপন মহলদার, অখিল ঢালী, জলিল গাজী, রেজওয়ান গোলদার, আজমল হোসেন, মুসা কারিমুল ইসলাম (মিলন) প্রমুখ।

বটিয়াঘাটা বালিয়াডাঙ্গার ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলায় আহত ৩

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটা উপজেলার ভাদালবুনিয়া আশ্রায়ন প্রকল্পের পুকুর অবৈধভাবে লীজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলায় ৩ জন গুরুত্বর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার রাত ৮ টায় দিকে বিরাট খেওয়াঘাট নামক স্থানে সালিশী বৈঠকের মধ্যেই। অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলার ভাদালবুনিয়া এলাকায় সরকার ৪০টি পরিবারের জন্য আশ্রায়ন প্রকল্প তৈরী করে। ৪০টি পরিবারের জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবাসন ঘর, ল্যাটিন সহ মৎস্য চাষের জন্য ৩টি পুকুর খনন করে। কিন্তু বালিয়াডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাসান সম্প্রতি আশ্রায়ন প্রকল্পের মধ্যে ভূমিহীনদের কার্য্যে ব্যবহার্য্য ৩টি পুকুরের মধ্যে ১টি গত ৩ বছর যাবৎ তার আপন সহোদর ভাই সাবেক মেম্বর মনিরুজামান(মনি) কে দিয়েই নিজে ভোগদখল করে। অপর একটি পুকুর জনৈক খোকন হালদারকে অবৈদভাবে লীজ প্রদান করে। শুধু তাই নয়, পুকুর নামক অন্য একটি খাল জনৈক রেজওয়ান মল্লিককে লীজ প্রদান করে। উক্ত দফায় দফায় লীজ প্রদান করায় প্রকল্পের ভিতরে বসবাসকারী ভূমিহীনরা ইউপি চেয়ারম্যান ও লীজ গ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইউপি চেয়ারম্যান তার গ্রাম্য পুলিশ ইবাদতকে দিয়ে উপকারভোগীদের সালিশী বৈঠকের কথা বলে বিরাট খেওয়া ঘাটে ডেকে এনে সালিশী বৈঠক শুরু করে। সালিশে ভূমিহীনরা তাদের পুকুর নিজেরাই ভোগদখলে থাকবেন বলে জানালে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ভূীমহীনদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় গুরুত্বর আহত হয়ে প্রকল্পের অধিবাসী মোক্তার সেখ(৭০) বিল্লাল ইজাদ্দার(৫৫) ও মুসা সেখ ঐ রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। পরবর্তীতে আশ্রায়ন প্রকল্পের অধিবাসীরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এক লিখিত অভিযোগ গত ইং ৪ নম্ভেবর সোমবার জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করে। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বটিয়াঘাটা খুলনাকে ব্যাবস্থা নিতে নিদের্শ প্রদান করলে ইউএনও আহমেদ জিয়াউর রহমান, সিঃ মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুনকে প্রধান করে সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ অমিত কুমার সমাদ্দার ও ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে দ্বায়িত্ব প্রদান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ৫ কার্য্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গোলাম হাসান জানান সামনে নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ মিথ্যা জিনিষকে পূঁজি করে আমার ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে সাপেক্ষ্যে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পের পুকুর সুফল ভোগীদের বাহিরে লীজ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

নতুন করে যেনো কোন ব্যক্তি মাদকাসক্ত না হয় : খুলনা জেলা প্রশাসক

বিজ্ঞপ্তি : নুতন করে যেনো তরুণ সমাজ বা কোন ব্যক্তি বা যে কোন শ্রেনীর পেশার লোক মাদকাসক্ত না হয় তার জন্য সরকার গণসচেতনতামুলক ওপর গুরুত্বরোপ করেছেন। এ জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গণসচেতনতামুলক করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মাদকের ভয়াবহ দিকগুলো তুলে ধরার জন্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানান খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।  আজ বুধবার (৬ নভেম্বর) নগরীর সরকারি ব্রজলাল কলেজে একাডেমিক ভবন-২ এর হল রুমে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামুলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
খুলনা জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজনে উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম আলমগীর হোসেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি আরো বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে যুব সমাজকেই মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ছেলে-মেয়েদের ওপর পিতা-মাতাদের বিশেষ নজর রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ( কেএমপি)’র উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্ল্যা জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইউসুপ আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন সরকারি ব্রজলাল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শরীফ আতিকুজ্জামান। এছাড়া খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রল অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান, সহকারি পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দনসহ কলেজের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এ সময় খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক বিরোধী গণসচেতনতামুলক ডিজিটাল স্কেল, লিপলেট, ফেস্টুন বিতরণ করেন।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশীয় অর্ধশত প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন

বাগেরহাট: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশীয় অর্ধশত প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন । এখন আর পুকুর ভরা মাছ নেই। “মাছে ভাতে বাঙ্গালী” এ প্রবাদটি এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম বিকল্প হিসাবে শুটকি ও সামুদ্রিক মাছের আমদানি । জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসচেতনতা, অবাধে লবণ পানি তুলে বাগদা চিংড়ি চাষ, ফসলের ক্ষেতে দেশীয় অর্ধশত প্রজাতিরক্ষতিকর কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের যথেচ্ছা ব্যবহার এবং মিঠাপানির অভাবে মৎসখনি খ্যাত দক্ষিণাঞ্চলে অর্ধশত প্রজাতির মিঠাপানির দেশীয় মাছের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। সুস্বাদু দেশীয় মাছ এখন আর তেমন মিলছে না। বাজারে যদি বিদেশী ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ না থাকতো তাহলে আমিষের চাহিদা মিটানো সম্ভবপর ছিলোনা।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার শহর বন্দর গ্রামে গঞ্জে সর্বত্রই দেশীয় মাছের চরম সংকট। যা পাওয়া যায় তার অগ্নিমূল্য। বিগত দিনে সরকারের উদাসীনতা, মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবসম্মত সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহনের অভাব এবং যে সকল প্রকল্প ও কর্মকান্ড হাতে নেয়া হয়েছিল তার যথাযত বাস্তবায়ন না করায় এ সেক্টরটি “শিকেয়” উঠেছে। অতিব গুরুত্বপূর্ন এবং অত্যাবাশকীয় সম্ভবনাময় এ খাতটি এখন চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মৎস্য অধিদপ্তর এবং কয়েকটি এনজিও এসব বিষয়ে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে তাও যৎ সামান্য । তাছাড়া যে সকল প্রচলিত আইন ও ধারা রয়েছে তার বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। জন সচেতনতা তৈরীতে দায়িত্বশীলরা এগিয়ে আসছে না।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে কয়েক দশক পুর্বেও এ অঞ্চলে আড়াইশত প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন চোখে পড়ে না। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমের সময় নদী-খাল-বিল থেকে কারেন্ট জালের মাধ্যমে ব্যাপকহারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে দেশীয় মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কালের গর্ভে মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
মৎস অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুই দশক পূর্বেও বাগেরহাটের শরনখোলা , মোড়েলগঞ্জ, মংলার ,রামপাল, খুলনার রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা ও ফুলতলা এবং খুলনা সন্নিকটস্থ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় আড়াইশ’ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত। যার মধ্যে শোল, টাকি, কৈ, গজাল, টেংরা, চিতল, শিং, খয়রা, বাটা, পাইশ্যা, কালিবাউশ, বাইল্যা, কাজলি, সরপুটি, পাবদা, খৈলশা, ডগরি, জাবা, ভোলা, বাগাড়, বাশপাতা, ভাঙ্গান, কাইন, খল¬া, দেশী পুটি, গোদা চিংড়িসহ অর্ধশত প্রজাতির মিঠাপানির মাছ এখন বিলুপ্তির পথে। এ সকল মাছ স্বাদে ও পুষ্টি গুনে ছিল ভরপুর। এ অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জের কয়েকশ’ হাওড় বাওড়, বিল, খাল নদী থেকে এসকল মাছ সংগ্রহ করতো জেলে সম্প্রদায়। সারা বছর তারা মৎস শিকার করে নিজ পরিবারের চাহিদাপূরণ সহ জীবিকা নির্বাহ করত। শুষ্ক মৌসুমে খাল বিল হাওরের পানি কমে গেলে চলত মাছ ধরার উৎসব। দেশের দূর দূরান্তের বাজার সমূহে দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন অঞ্চলের পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের শরনখোলা , মোড়েলগঞ্জ, মংলার ,রামপাল, সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের সাতক্ষীরার শ্যামনগর খুলনা কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ উপজেলার কালা বগী, নলিয়ান, থেকে বিপুল পরিমান খুলনাঞ্চলে দেশীয় অর্ধশত প্রজাতির-মাছ সরবরাহ করা হত। কিন্তু এষড়ন দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় চট্রগ্রাম কক্সবাজার থেকে মাছ এনে চাহিদা পূরন করা হয়। সামুদ্রিক মাছ আসছে দেদারসে । বিকল্প হিসাবে শুটকি মাছেরও প্রচুর ব্যবহার হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমের পুর্বে এপ্রিল মাস থেকে খালে বিল নদীতে মাছ ডিম্ব নিঃস্বরন শুরু করে। কারেন্ট জালের ব্যাপকতায় খাল, বিল নদীতে এ মাছের রেনু ধরা পড়ে মাছের প্রজনন প্রচন্ডভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জালে ধরা পড়ে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার রেনু মাছ। পরিবেশ ও মৎস বিজ্ঞানীদের মতে দক্ষিণাঞ্চলে মৎস প্রজাতি বিলুপ্তির কারন হচ্ছে, অপরিকল্পিততভাবে জলাধারে বাধ দেয়ায় ভরা বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ার মা মাছ আসতে বাঁধা পায়। মাছের স্বাভাবিক চলাচলে বাঁধা তদুপরি খাল, বিল, হাওড়, বাওড়গুলো ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসার কারণে মাছের বংশ বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে পানি দুষণ জলাশয়ের গভীররা হ্রাস, ছোট মাছ ধরার জন্য কারেন্ট জালের ব্যবহারের কারণেও মাছে প্রজাতি ধ্বংস হচ্ছে। মারাত্মক পানি দূষনের কারনে আজ খুলনার ময়ূর নদী মাছের বংশ বৃদ্ধি ও জীবন ধারনের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য বাধ দিয়ে লোনা পানির আধার নির্মানের কারনে অনেক প্রজাতির মিঠাপানির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ফসলের ক্ষেতে মাত্রারিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাছে বিলুপ্তি ঘটছে। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ কয়েকজন প্রবীন ব্যাক্তি জানিয়েছেন, এক সময় জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পানগুছি নদীতে ২ কেজি ওজনের ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। পানগুছি নদীতে পাওয়া যেত ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোন মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিল অথবা নলামারা, বাইশোর বিলে পাওয়া যেতনা। নলামারা বিলে ১২ কেজি ওজনের কালিবাউশ মাছ তারা জাল দিয়ে ধরেছেন পর্যন্ত। বাইল¬া, ডগরা, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ তারা খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন এগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে মনে হবে কল্প কাহিনী। দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে মৎস্যজীবী তথা সর্বসাধারণকে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন ও মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করণের মাধ্যমেই সম্ভব