সুন্দরবনে অনুপ্রবেশ করার অভিযোগে ৬টি ট্রলারসহ আটক ১৪১

মোংলা, বাগেরহাট : মোংলায় মাছ ধরার জেলের ছদ্মবেশে সুন্দরবনে অনুপ্রবেশ করার অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬টি ট্রলারসহ ১৪১ জন পর্যটককে আটক করেছে বনবিভাগ। সোমবার বিকেলে বনের ধানসিদ্ধির চর, সোমবার রাতে পশুর নদীর চরাপুটিয়া ও মঙ্গলবার সকালে হারবাড়িয়ার নিচে ভদ্রা এলাকা থেকে এদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতদেরকে পুর্ব চাঁদপাই রেঞ্জ কার্যালয়ে আনার পর তাদের বিরুদ্ধে সিওআর মামলায় জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছদ্মবেশী আটককৃত এসকল জেলেদের সবার বাড়ি মোংলার বুড়িরডাঙ্গা, চিলার জয়মনী ও বানিয়া শান্তার বিভিন্ন এলাকায়। এর আগে একই অপরাধে গত ৫ অক্টোবর সুন্দরবনের জয়মনির নন্দবালা এলাকা থেকে ৩টি ট্রলারসহ ৬০ জেলেকে আটক করে বনরক্ষীরা। এদের বাড়ী বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের বিভিন্ এলাকায়। তাদেরকেও একই আইনে (সিওআর) জনপ্রতি নগদ ১০ হাজার টাকা করে মোট ৬ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয় বনবিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, দুবলার চরের রাস মেলা উপলক্ষে আটককৃতরা কয়েকদিন আগে মাছ ধরার জেলের ছদ্মবেশে ট্রলার যোগে বন রক্ষিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনের দুবলার চরে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে সোমবার বিকেলে বনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত ৪টি ট্রলারও। একই অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে চরাপুটিয়া খাল সংলগ্ন থেকে দাকোপের বানিয়া মান্তা এলাকার ১টি ট্রলারসহ ১৩জন ও সকালে বনের ভদ্রা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি ট্রলারসহ বনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে চিরা ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য নজনুল ইসলামসহ আরো ১৯ জনকে আটক করা হয়। এ সকল ব্যক্তিদের বাড়ী মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ও চিলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিন কবির বলেন, প্রথমে আটক হওয়া প্রথমে ১৩জন ও পরে আটক ৪৯ জন কোন পাস না নিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনে অনুপ্রবেশ করে। এ ছাড়া দ্বিতীয় দফায় আটককৃতদের মাছ ধরার পাস থাকলেও দুবলায় রাস মেলায় যাবার বৈধ কোন অনুমতি ছিল না। আটক সবাইকে সিওআর মামলার আওতায় নগদ ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

ফুলতলায় দলিত জনগোষ্ঠীর মতবিনিময় সভা

ফুলতলা অফিসঃ বাংলাদেশ দলিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সমন্নতকরণ প্রকল্পের আওতায় ও নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত বাস্তবতা ও করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কেএম জিয়া হাসান তুহিন। পলাশ দাসের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলম, যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম বদিউজ্জামান, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ আফরুজ্জামান, সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, খাদ্য পরিদর্শক পল্লব ঘোষ, নাগরিক উদ্যোগ কর্মকর্তা কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, রিংকি বৈড়ই, প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, দলিত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান, সিএসএস কর্মকর্তা তাপস কুমার ঘোষ প্রমুখ।

বুলবুলে আর্থিক ক্ষতি ২৬৩ কোটি ৫ লাখ টাকা

ঢাকা অফিস : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ১৬ জেলায় ২৬৩ কোটি ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর কৃষি জমি এবং ৭২ হাজার ২১২ টন ফসল। আর আক্রান্ত কৃষকের সংখ্যা সাড়ে ৫০ হাজার। সকালে সচিবালয়ে এসব তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে কৃষকদের বর্ণিত ক্ষয় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পুনরবাসনের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ প্রাপ্তির পর যথা সম্ভব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় কৃষি পুনরবাসন কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নেরও প্রস্তুতি চলছে।

ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ : তূর্ণা নিশীথার চালক-সহকারি চালক বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। এই ঘটনার তদন্তে তিনটি কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ। বরখাস্ত করা হয়েছে তূর্ণা নিশীথার চালক ও সহকারি চালককে।
সোমবার রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা আর সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মন্দবাগ স্টেশনে ঢুকতে থাকা উদয়ন এক্সপ্রেসের পেছনের দিকে ধাক্কা দেয় তূর্ণা নিশীথা। এতে উদয়নের কয়েকটি বগি দুমড়ে মুচড়ে যায়। বিধ্বস্ত হয় তূর্ণার ইঞ্জিনও। ঘটনাস্থলেই নিহত হন বেশ কয়েকজন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু, ছয় নারী ও সাত পুরুষ যাত্রী রয়েছে। আহত ২০ জনের অবস্থা গুরুতর। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা সবাই উদয়নের যাত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, আহতদের উদ্ধার করে কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বগিগুলো সরিয়ে নেয় দুটি রিলিফ ট্রেন। সকাল পৌনে এগারোটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এ ঘটনায় তুর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের চালক ও সহকারী চালককে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি জানান, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে রেল মন্ত্রণালয় থেকে ১ লাখ টাকা দেয়া হবে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।