মোংলায় পূর্ণস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাস উৎসব

মোংলা : পূর্ণস্নানের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন উপকুলীয় এলাকা মোংলায় হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বিদের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব পালন করেছে কয়েক শতাধিক শিশু ও নারী-পুরুষরা। রাতভর পুজা ও আরাদনা শেষে সকালে সমুদ্রের প্রথম জোয়ারের নোনা পানিতে পাপ মোচনের প্রত্যাশায় পূর্ণস্নানের অংশ নেয় হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বিরা। তবে ঘুর্নিঝড় বুলবুলের কারনে এবার সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলে তিনশ বছরের পুরানো রাস উৎসব পন্ড হয়ে যাওয়ায় পশুর নদীর ঘোলাটে জলেই পূর্ণস্নান শেষ করেন তারা। প্রতি বছর বাংলা কার্ত্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের রাস পূর্ণিমার তিথিতে এই রাস উৎসব উদযাপিত হয়ে থাকে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা রাস পুর্নিমার পর দিন প্রথম জোয়ারে বঙ্গোপসাগরের নোনা পানিতে পূর্ণস্নান করে তাদের পাপ মোচন হবে-এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস উৎসবে যোগ দেয় তারা। এ রাস মেলা উপলক্ষ্যে মোংলার বুড়িরডাঙ্গা, কানাই নগর, চিলার কলাতলা এলাকায় পৃথক ভাবে রাস মেলার আয়োজন করে স্থানীয় হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বিরা। মন্দিরে পুজা অর্চনার পাশাপাশি রাত ভর চলে ধর্মীয় আলোচনা। পরে ভোরের সূর্যাদয়ের সাথে সমুদ্রের জোয়ারের নোনা পানিতে পূর্ণস্নানের যোগ দেন পুজারীরা। রাস উৎসব মুলত হিন্দু সনাতন ধমাবলম্বিদের হলেও কালের বিবর্তনে এ মেলা ও উৎসব এখন সকল ধর্মাবলম্বিদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে থাকে। তবে এবারের ঘুর্নিঝড় বুলবুলের কারনে সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগর পাড়ে দুবলার চরে আলোরকোলের রাস উৎসব পন্ড হয়ে যায়। ১৪০০ খ্রিস্টাব্দের পুর্ব থেকেই সুন্দরবনে এ রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও যোগ দিতে পারেনি সনাতন ধর্মাবলম্বিরা। উপজেলার চাদঁপাই ইউনিয়নের কানইনগর রাস উদযাপন কমিটির সভাপতি সপ্না মজুমদার জানান, দুবলার চরের আলোরকোলে রাস উৎসব পালন হয়। তারই অংশ হিসেবে আমরাও দীর্ঘ প্রায় শত বছর ধরে পশুর নদীর তিড়ে এ রাস উৎসব পালন করে আসছি। তবে সাগর পাড়ের রাসের জন্য প্রতি বছর এখানে লোকজনের সমাগম কম হলেও এবারের শিশু ও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষরা ব্যাপক সারা পেয়েছি। তাই আমাদের পুর্ব পুরুষের ধর্মিও উৎসব পালন করা হয়েছে।

সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের দায়ে ১৪ ট্রলারসহ জন আটক ১৯৬

সবুজ হাওরাদার, মোংলা : মোংলায় চলতি মাসের ৫ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত ৯ দিনের ব্যবধানে সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৪টি ট্রলারসহ মোট ১৯৬ জনকে আটক করেছে বনবিভাগ। আটককৃতদের সবাইকে সরকারী বিদান অনুযায়ী সিওআর মামলার মাধ্যমে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সুন্দরবনে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বুধবার ভোরে বনের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকা থেকে ৪টি ট্রলারসহ ৫৫ দর্শনার্থীকে আটক করেছে বন রক্ষীরা। এর আগেরদিন মঙ্গলবার সকালে বনের ভদ্রা এলাকা থেকে ১টি ট্রলারসহ ১৯ জন ও চরাপুটিয়া এলাকা থেকে ১টি ট্রলারসহ ১৩ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া সোমবার বিকেলে বনের ধানসিদ্ধির চর এলাকা থেকে ৪টি ট্রলারসহ ৪৯ জনকে আটক করা হয়ে। অপরদিকে গত ৫ নভেম্বর সুন্দরবনের জয়মনির নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথম দফায় ৩টি ট্রলারসহ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নের ৬০ জনকে আটক করেছিল বনবিভাগ। অপরদিকে বন বিভাগের অনুমতি ও রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে দুই জেলেকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলা টহল ফাঁড়ির নীল বাড়িয়া খাল থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ২৫ কেজি কাঁকড়াও জব্দ করা হয়। আটককৃত জেলেরা হলেন, মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপাই গ্রামের মৃত রশিদ শেখের ছেলে হোসেন শেখ ও মজিদ মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লা। বন আইনে মামলা দায়েরের তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, দুবলার চরের রাস মেলা উপলক্ষে আটককৃতরা কয়েকদিন আগে মাছ ধরার জেলের ছদ্মবেশে ট্রলার যোগে বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সুন্দরবনের দুবলার চরে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে অধিকাংশ অনুপ্রবেশকারীকে বন রক্ষীরা পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করে। তবে প্রথম দফায় ৩ টি ট্রলারসহ আটক ৬০ জন সুন্দরবনে অনুপ্রবেশের আগেই হরিণ ধরার ফাঁদ, দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ বন রক্ষীদের হাতে আটক হয়।

কাঁদতে ভূলেগেছে কয়রার মানুষ : ৫ ঘন্টার তান্ডবে লন্ডভন্ড কয়রা

ইমতিয়াজ উদ্দিন, কয়রা : রাস্তার মাঝে পড়ে আছে সারি সারি গাছ। গৃহহারা মানুষেরা নির্বাক তাকিয়ে আছে বিদ্ধস্ত গৃহের দিকে। বিলের ধান গুলো সব লুটিয়ে পড়ে আছে পানিতে। থইথই পানিতে একাকার হয়ে গেছে মৎস ঘের। এই চিত্র ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে লন্ডভন্ড উপকূলীয় উপজেলা কয়রার। ঘুর্ণিঝড়ের কবলে বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন পুরো এলাকা। ব্যাপক ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার জনসাধারণ। প্রলয়ংকরী এই ঝড়ে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব মানুষগুলো এখন সরকারি সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সবধরণের সহযোগীতার আশ্বাসও দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুলবুলের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি, হাজার হাজার গাছপালা, ছোট বড় কয়েক হাজারের মতো মৎস ঘের ও শত শত একর ফসলি জমি। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ৪৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বিধ্বস্ত হয়েছে ।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এই উপজেলায় মোট ৫ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছিল তারমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৭২০ হেক্টর জমির আমন ফসল। ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কৃত সবজির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬০ হেক্টর। ৫৫০ হেক্টর জমিতে ফল চাষ হয়েছিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৫ হেক্টর জমির ফল।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায় ৩ হাজার ২৬০ টি মৎস্য ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যার আয়তন ৩৩শ হেক্টর।

গত ৮ নভেম্বর শুক্রবারের থেকেই মূলত উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করে। এরপর শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে থেমে থেমে মাঝারি ধরনের
বৃষ্টিপাত শুরু হয়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিবেগও বাড়তে থাকে। আবহাওয়া অফিস থেকে ঘোষনা আসে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে দিনভর বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়বে।। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে যে কারণে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় উপজেলা কয়রাও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এমন ঘোষনা শুনে আতঙ্কিত হয় এই উপজেলার বাসিন্দারা কারণ এই অঞ্চলের নদীর বেড়ীবাঁধ গুলি প্রচন্ড ঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিনে শনিবার সকালে হরিণখোলা ২ নং কয়রা উত্তর বেদকাশি সহ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখাযায় এলাকা গুলির বহু মানুষ উৎকন্ঠা নিয়ে বেড়িবাঁধের রাস্তায় দাড়িয়ে আছে । তাঁরা আশঙ্কা করছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানলে গ্রামের সামনের ছোট্ট বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাবে। এতে লোনা পানিতে পুরো এলাকা ভেসে যাবে। এসময় দেখাযায় অনেকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে ঘর-বাড়ি বেঁধে রাখার চেষ্টা করছেন। অনেকে গরু–ছাগল নিয়ে নিরাপদজায়গায় চলে যাচ্ছেন। সেসময় হরিণখোলা এলাকার ৬০ উদ্ধ বয়সের বৃদ্ধ কেরামত শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি। সত্যি সত্যি যদি ঘূর্ণিঝড় আঘাত
হানে, তবে পুরো এলাকা ভেসে যাবে। এ এলাকায় প্রায় হাজার খাানেক মানুষ বাস করে।’ হরিণখোলা এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪ / ২ পোল্ডারের আওতায়। ১০ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় আইলায় এখানে ব্যাপক খতি হয়েছিল। সে স্মৃতি এখনো মানুষের মনে গেঁথে আছে। তাই ঘূণিঝড়ের নাম শুনলেই প্রতিটি মানুষ আতঙ্কিত হয়। শনিবার বিকেল থেকেই আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে যাওয়া শুরু করে মানুষ যা স্রোতের আকার ধারণ করে সন্ধা হবার সাথে সাথে। একটু রাত বাড়তেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। গবাদি পশু আর মানুষের ঠাশাঠাশি অবস্থান যেন
ভয়ঙ্কর কিছুর পূর্বাভাষ দিচ্ছিল। রাত সাড়ে তিনটা থেকেই শুরু হয় বুলবুলের তান্ডব লিলা। টানা পাঁচ ঘন্টা চলে প্রলয়। শেষ হয় সকাল সাড়ে আটটার দিকে। এতেই পাল্টে গেছে কয়রা উপজেলার চেহারা। সকালে বাতাসের গতি একটু কমে আসলে দেখা যায় কয়রা সদর ইউনিয়নের মধ্য বিল এলাকার মুনছুর গাইনের ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে পড়ে আছে প্রায় ২০০
ফুট দূরে। রান্নার জায়গার টিনের চাল উড়ে গিয়ে আটকে আছে দূরের একটি গাছের ডালে। বুলবুলের তান্ডবে তার সমেত উপড়ে পড়েছে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি বিদ্যুতের খুঁটি।

কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের আঃ জলিল জানান, পরিবার নিয়ে রাতে ছিলেন নিকটস্থ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয় কেন্দ্রে। সকালে ঝড় থেমে গেলে বাড়ি ফিরে দেখেন বসত ঘরের পাশের সিরিস গাছটির নিচে চাপা পড়ে আছে ঘরের চাল ও
দেয়ালের একাংশ। গাছটি কেটে আবার পুনরায় ঘর তৈরী করতে হবে জানান তিনি।
১ নং কয়রা পায়রাতলার আইট গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক আমির হোসেন ভাঙা ঘরের দিকে নির্বাক তাকিয়ে থেকে জানান, আবার কবে ভালকরে ঘর ঠিক করতে পারবো জানিনা। একই এলাকার সেন্টু গাজীর বসত ঘরটিও গাছের নিচে চাপা পড়ে থাকতে দেখা যায়। বুলবুল তান্ডবে গৃহহারা মদিনাবাদ লঞ্চ ঘাট এলাকার স্বামী হারা খায়রুন নেছা, গোবরা পূর্বচক এলাকার ইয়াকুব আলী ২ নং কয়রার নেছার শেখের বিলাপ চোখে পানি এনে দেয়। হতদরিদ্র মানুষগুলো জানায় বুলবুল তাদের সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।
৪নং কয়রা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার তারিফিয়া জামে মসজিদটির চালের একটি টিনও অবশিষ্ট নে। তার একটু সামনে অগ্রসরহলে দেখাযায় ৬ নং কয়রা সর্বজনিন দূর্গা মোনদিরটিরও একই অবস্থা।

মদিনাবাদ গ্রামের সফুরা বেগম বলেন, ‘‘সন্ধ্যায় বাড়িতেই ছিলাম। হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে আসে। শেষ রাতের দিকে শুরু হয় ভয়ঙ্কর ঝড়। নতুন তৈরি সিমেন্টের বাড়িটা ঝড়ে দুলছিল। একটা সময়ে জোর শব্দে টিনের ছাউনি উড়ে যায়। আমরা মা আর ছেলে মিলে খাটের নিচে কোনও রকমে বসে রাত পার করেছি।’’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সঠিকভাবে নিরপন করা না গেলেও এ মুহুর্তে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে পাঁচ হাজারের মতো ঘর বাড়ি বিদ্ধস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান কবি শামসুর রাহমান জানান, তার ইউনিয়নে কয়েক হাজার বিঘা জমির মৎসঘের ঘের ভেসে গেছে। ঘরবাড়ি বিদ্ধস্ত হয়েছে প্রায় দুই হাজারের অধিক।

উত্তরবেদকাশী ইইউপি চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিদ্ধস্ত হয়েছে । প্রায় বিশ হাজার গাছপালা নষ্ট হয়েছে।

বাগালী ইউপি চেয়ারম্যান আঃ সাত্তার পাড় জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি বিদ্ধস্ত হয়েছে । বিশেষ করে বেশকিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিদ্ধস্ত হয়েছে । ভেসে গেছে শতাধিক মৎসঘের ।

এদিকে ঝড়ে তিগ্রস্তদের সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা পরিষদের
চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ইতিমধ্যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা বলেন, সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় ভলেন্টিয়ারদের সমন্বয়ে রাস্তা থেকে গাছ অপসারনের কাজ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনঃবাসনের কাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরো বলেন, দূর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সরকারিভাবে ২ লক্ষ ৫০হাজার টাকা, ৫০মেট্রিক টন চাল ও ৭০০ প্যাকেজ শুকনা খাবার বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
ত্রাণ সহায়তা হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ১০ কেজি চাল ১ কেজি ডাল ১ কেজি তেল ১ কেজি লবণ এক কেজি চিনি ২কেজি চিড়া ও আধা কেজি নুডুলস । এই ত্রাণ সহায়তা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

তবে ভয়াবহ এ ঝড়ের কবলে পড়া ভুক্তভোগী জনসাধারণের পুনর্বাসনে কার্যকারী ভূমিকা রাখবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা কয়রাবাসীর।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে, জড়িত ২৫

ঢাকা অফিস : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট পাঠানো হয়।
বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, মামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছেন ডিবি। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৬ জন ও এজাহারের বাইরে ৫ জন। বাকি চারজন পলাতক। মনিরুল ইসলাম আরো জানান, চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, আবরার হত্যা সরাসরি অংশে নেয় ১১ জন। বাকি ১৪ জন হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের নেতাসহ বুয়েটের ২৫ ছাত্রের সম্পৃক্ততা পান তদন্ত কর্মকর্তারা। তাদের সবাইকেই চার্জশিটভুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী হয়েছেন ৩০ জন।

তিনি বলেন, আসামীরা র‌্যাগিং ও উশৃঙ্খল আচরণসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ছিল। সিসিটিভি’র ফুটেজ দেখে ও বিভিন্ন আলামত থেকে চার্জশীট প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনায় হল প্রশাসন ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মনিরুল ইসলাম।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অমিত সাহা, মাজেদুল ইসলাম, মো. মুজাহিদুল, মো. তানভীর আহমেদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, মো. আকাশ, শামীম বিল্লাহ, মো. সাদাত, মো. তানিম, মো. মোর্শেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, মুনতাসির আল জেমি, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, এস এম মাহমুদ সেতু প্রমুখ। তাদের মধ্যে মুন্না, অমিত সাহা, মিজান, রাফাত ও সেতুর নাম এজাহারে ছিল না। আসামিদের মধ্যে রাসেল ছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক, ফুয়াদ সহসভাপতি, অনিক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক, সকাল উপসমাজসেবা সম্পাদক, মনির সাহিত্য সম্পাদক, জিয়ন ক্রীড়া সম্পাদক, রাফিদ উপদপ্তর সম্পাদক, অমিত সাহা উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তানিম, মুজাহিদুর ও জেমি সদস্য। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মোর্শেদ ও এহতেশামুল তানিম এখনো পলাতক।

এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট জন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন—নাজমুস সাদাত, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ও মনিরুজ্জামান মনির।

গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে পিঠিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১)। পরদিন ৭ অক্টোবর আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। একই দিনের দুপুরে দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ লাশের ময়নাতদন্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

বাংলাদেশের সড়কে মৃত্যুর হার কম

ঢাকা অফিস : বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা এবং এর থেকে মৃত্যুর হার এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে বেশি নয় দাবি ওবায়দুল কাদেরের।
এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সড়কে মৃত্যুর হার কম বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার সকালে, চট্টগ্রামে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এপ্রোচ সড়ক পরিদর্শন শেষে এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে। তাছাড়া এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার বেশি নয়।’

মন্ত্রী বলেন, সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মইন উদ্দিন খান বাদলের স্বপ্নের কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ কোরিয়ার অর্থায়নে আগামী বছর শুরু হবে। সড়ক সেতুর কাজের ব্যাপারে কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চলছে।সরকার চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ৬ লেনের সেতু ও সড়কটি নির্মিত হলে চট্টগ্রামের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘দুর্ঘটনা অনেক সময় বেপরোয়া চালকের কারণে হয়ে থাকে। বেপরোয়া চালকের মতো রাজনীতিতে যারা বেপরোয়া আচরণ করছেন, এই বেপরোয়া আচরণ আপনাদের (বিএনপি) রাজনীতিতেও দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।সেটা নিয়ে জাতি শঙ্কিত। সেটা সবচেয়ে দুর্ভাবনার কারণ।,

বুলবুলের আঘাতে কয়রার কৃষকদের মাথায় হাত

ইমতিয়াজ উদ্দিন, কয়রা : বুকভরা আশা নিয়ে তিন একর জমিতে ধান চাষ করেছিলেন খুলনার কয়রা উপজেলার কৃষক আসাদুল ইসলাম। কয়রা সদরের ওড়াতলা এলাকার এই কৃষক কয়েক দিন আগেও সোনালি ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে সে স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে গেছে। সংসার পরিচালনার সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে তার। ঝোড়ো বাতাসে ধানগাছগুলো সব লুটিয়ে পড়েছে পানিতে। জমির দিকে তাকালে কান্নায় বুক ভেঙে যাচ্ছে বলে জানালেন তিনি।
উপজেলার মহারাজপুর এলাকার কামাল হোসেনও প্রতিবেশী শামীম শেখের নিকট থেকে জমি লিজ নিয়ে দুই একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলেন। সাথেই ছিলো মাছের ঘের। বুলবুলের ছোবলে মাছের ঘের আর ধানের ক্ষেত দুটোই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
আসাদুল ইসলাম আর কামাল হোসেনের মতো কয়রার বহু কৃষক, মৎস্য খামারিসহ গ্রামের দরিদ্র লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বুলবুলের ছোবলে। বিশেষত এই অঞ্চলের কৃষকদের মাথায় হাত দিয়ে হতাশা ও দুশ্চিন্তায় সময় ক্ষেপণ ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই।
উপজেলাটির পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী কয়রার মোট ৪০ হাজার কৃষক পরিবারের অধিকাংশই বুলবুলের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান অফিসার শেখ আব্দুল মজিদ জানান, তাদের হিসেবে এ মৌসুমে কয়রায় মোট ৩৭হাজার ৩শত ২একর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছিল। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৫৫ হাজার ৪শত ৯০ মেট্রিকটন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে অধিকাংশ জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

কয়রা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজান মাহমুদ জানান, “ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে আমরা এ পর্যন্ত ১৭২০ হেক্টর জমির আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। এরমধ্যে ১৫০ হেক্টর জমির ধান পুটরোপুরি পানিতে নিমজ্জিত, ৭৫০ হেক্টর জমির ধান গাছ সম্পুর্ণরুপে হেলে পড়েছে এবং ৮শত হেক্টর জমির ধানের ফুল ঝরে পড়েছে। এছাড়া
উপজেলাটির ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ কৃত সবজির ৮৫ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫৫০ হেক্টর জমিতে চাষকৃত ফলের ১৬৫ হেক্টর জমির ফলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান কয়রা উপজেলার এই কৃষি কর্মকর্তা।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় ও অতিমাত্রায় বৃষ্টিতে কয়রার ৩ হাজার ২৬০ টি মৎস্য ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যার আয়তন ৩৩শ হেক্টর।

গত ১০ নভেম্বর রোববার রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়রা উপজেলার উপর আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। টানা পাঁচ ঘন্টা চলে প্রলয়। শেষ হয় সকাল সাড়ে আটটার দিকে। এতেই পাল্টে গেছে কয়রা উপজেলার চেহারা।
ঝড়ে ফসল ও মৎস্য ঘরের ক্ষতির পাশাপাশি বহু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়াগেছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল কুমার সাহা জানান,কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৩শত ঘরবাড়ি একেবারেই বিদ্ধস্ত হয়েছে। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮শত ঘর।

কয়রার ঘাটাখালী এলাকার কৃষক আবু তৈয়েব জানান, ঘাটাখালী এলাকার মাঠের অনেক জমির আমন ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আর কিছু দিন পরেই আমার আমন ধান কাটা যেত। কিন্তু ঝড়ের কারণে সব ধান গাছ পানিতে ডুবে গেছে। এখন তো গরিব কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে গেল। ঝড়ে আমার একটা ঘরও পড়ে গেছে।”

একই এলাকার আবুল কাশেম জানান, তার আট বিঘা জমির ধানে কেবল ফুল এসেছিল । কয়েক সপ্তাহর মধ্যেই এটা ঘরে তোলা যেত। কিন্তু ঝড়ে সব ধান ক্ষেতে শুয়ে পড়েছে।

তবে ধান গাছ যেন নষ্ট না হয় সেজন্য কৃষকদের কয়েকটি ধানগাছ একসঙ্গে গোছা বেঁধে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে। এ পদ্ধতিতে ডুবে যাওয়া ধানগাছ পচন থেকে রক্ষা করা যাবে। তবে ফুল ঝরেপড়া গাছগুলোর ধানের ভেতর চালের বদলে চিটা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে জানান উপজেলা কৃষি অফিসার মিজান মাহমুদ।

কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো দরকার। আগামীতে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাটিতে সরকারি সহযোগিতা অব্যহত থাকবে বলে জানান তিনি।

দাকোপে বুলবুলের তান্ডবে ১ জনের মৃত্যু : ঘরবাড়ি গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

দাকোপ,খুলনা : গত শনিবার সকালে ঘূর্নিঝড় বুলবুলের প্রচন্ড গতির আঘাতে উপকূলিয় উপজেলা দাকোপে ১ জনের মৃত্যু সহ ১ লক্ষাধীক গাছ ও দেড় সহস্রাধীক ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে।
ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতির আশংখায় আগে থেকে যে কোন ধরনের মোকাবেলা ও ঝড় পরবর্তী উদ্ধার কার্যের জন্য সরকারের এবারই প্রথম নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিতে লক্ষ্য করা গেছে।শনিবার সকালে ঝড় শুরু হলে দাকোপ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড়ের সুভাস মন্ডলের স্ত্রী প্রমিলা মন্ডল ঘরের বারান্দায় বসে থাকা অবস্থায় ঘর লাগোয়া গাছ পড়ে মারা যায়।খোজখবর নিয়ে জানা গেছে,এবারের ঝড়ে প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক হারে গাছ তারপরে কাঁচা ও কাঁচাপাঁকা ঘর পড়েছে অনেক বেশি হারে।সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক হিসাবে ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে লক্ষাধীক গাছ ও দেড় সহস্রাধীক বসত ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।দাকোপ ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়ের সাথে এ বিষয় আলাপ হলে জানান আমার ইউনিয়নে ১জন গৃহবধু গাছচাপা পড়ে মারা গেছে আর এবার ঝড়ে গাছ পড়েছে বেশি,বসত ঘরও বেশ পড়েছে আমি মেম্বরদের নিয়ে তালিকা করেছি আমার ছোট ইউনিয়ন হলেও ১০৫টি ঘর সম্পূর্ন ক্ষতি হয়েছে।কামারখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল জানান তার ইউনিয়নে ৫০ টি ঘর সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আর ১৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতি হয়েছে,তিনি আরও জানান ঝড়ের রাতে সাইক্লোন স্লেটারে থাকা সাহারাবাদ গ্রামের গর্বগতী রাবেয়া বেগম ছেলে সন্তান প্রসব করে।চেয়ারম্যান সন্তানটিকে স্মরনীয় করে রাখতে নাম বুলবুল রাখার পরামর্শ দেন। এ দিকে চালনা এমএম কলেজের ভবনে শত শত মানুষ আশ্রয় নিতে গেলে কতৃপক্ষের মাধ্যমে বাধার সৃষ্টি হয় বলে অনেকেই অভিযোগ করেন যা নিয়ে এলাকায় চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।আজ সোমবার সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান,মেম্বররা সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে পিআইও অফিসে তালিকা জমা দিয়েছেন।সব মিলিয়ে প্রায় দেড় সহস্রাধীক বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক তালিকায় প্রকাশ,তবে মঙ্গলবার ছবিসহ জমার সময় পরিমান কমবেশি হতে পারে বলে চেয়ারম্যানরা জানান।এদিকে ঝড়ের পরদিন আগে থেকে মোতায়েন থাকা ফায়ার সার্বিস,সিভিল ডিফেন্স,স্কাউট বিভিন্ন দায়িত্বরত দলের জরুরী ভিত্তিেিত কাজের জন্য সম্পূর্ন চলাচলের অযোগ্য রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয় ।

হাজী ফয়েজ উদ্দিন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এসএসসি ফরম পূরনে অতিরিক্ত টাকা আদায় : দিচ্ছে না টাকার রশিদ

ভুক্তভোগীর ‘১০৬’ নাম্বারে অভিযোগ

কামরুল হোসেন মনি : শিক্ষা বোর্ডের নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে নগরীর বয়রাস্থ হাজী ফয়েজ উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরম পূরণে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ১৮৫ টাকা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই টাকা নেওয়ার সময় কোনো রশিদ দিচ্ছেন না স্কলে কর্তৃপক্ষ। দ্বিগুন টাকা নেওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থী আরিয়ানা’র চাচা শেখ মামুনুর রশিদ অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা দীপ্তি রানী দে’র কাছে জানতে চাইলে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর চাচা ‘১০৬’ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করেন। এসএসসি ফরম পূরণে বিষয়ে নিয়ে অভিভাবকের সাথে ও স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কথার ভিডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে নগরীর বাগমারাস্থ শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েও এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাজী ফয়েজ উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীপ্তি রানী দে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, এসএসসি ফরম পূরণে ১ হাজার ৯শ টাকার একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত তার স্কুল থেকে ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ফরম পূরণ করেছেন। এসএসসি ফরম পূরণে ৩৭শ টাকা কি কি বাবদ নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে কোচিং করার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। কোচিং বাবদ কতো নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জানা গেছে, এবার এসএসসি পরীক্ষা-২০২০ ফরম পূরণে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত বোর্ড ও কেন্দ্র ফিসহ ১ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯৭০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্র ফি রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য ৪৬৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষায় ধার্য রয়েছে ৪৩৫ টাকা।
হাজী ফয়েজ উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আরিয়ানার চাচা শেখ মামুন রশীদ ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দীপ্তি রানী দে এর কাছে এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তাকে বলেন, মোট ৩ হাজার ৭শ টাকা ফরম পূরণের জন্য দিতে হবে। আপনি কোচিং বাবদ ৯শ টাকা কম দিয়ে ২ হাজার ৮শ টাকা দিলেই হবে। এই বলে তাকে একটি কাগজে ৯শ টাকা মওকুফ লিখে একটি সাক্ষর করা চিরকুট হাতে ধরিয়ে দেন। টাকা দিতে অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেও ওই শিক্ষিকার মন গলেনি। (এ বিষয়ে কথাকোপন ভিডিওটি এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।) ওই সময় ছাত্রী আরিয়ানা’র চাচা শেখ মামুনুর রশীদ ‘১০৬’ এ অতিরিক্ত এসএসসি ফি এর বিষয়ে ফোন করে অভিযোগ দেন।
একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, নগরীর বয়রাস্থ হাজী ফয়েজ উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯ সালের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কয়েক লাখ টাকা আদায় করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপ্তি রানী দে। প্রধান শিক্ষিকা সম্পূর্ণ নিজের গড়া নিয়মেই প্রতিবারের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন।
ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার এ প্রতিবেদককে সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বলেন, ১৯শ টাকার চেয়ে একটু বেশি নিচ্ছি। ৩৭শ টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষিকার সাথে এ বিষয়ে আলাপ করেন। এদিকে নগরীর বাগমারাস্থ শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়েও এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই স্কুলে এক ছাত্রীর অভিভাবক হাবিবা খাতুন গতকাল রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রত্যেক ছাত্রীর কাছ থেকে এসএসসি ফরম পূরণের জন্য ৪ হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত এ টাকা নেওয়া বাবদ কোনো টাকার রশিদ দিচ্ছেন না। কি কি বাবদ নেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইদুর রহমান সাঈদ তাকে বলেন, ফরম পূরণের জন্য ২ হাজার টাকা, অতিরিক্ত দুটি পরীক্ষার জন্য ১ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য ১ হাজার টাকাসহ মোট ৪ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।
শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাইদুর রহমান সাঈদ এ প্রতিবেদককে সন্ধ্যায় বলেন, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি থেকে অতিরিক্ত ৭০-৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রিন্ট বাবদ নিচ্ছেন। অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, বাকি টাকাগুলো অভিভাবকদের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষার জন্য বাকি ২ হাজার টাকা নিচ্ছি। অভিভাবকরা যদি টাকা ফেরত চায় তাহলে ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।