বটিয়াঘাটায় শার্টারগান ও গুলিসহ আটক ১

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক গোপাল চন্দ্র রায় সহ সঙ্গীয় ফোর্স সোমবার রাত পৌনে ৯ টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার জয়পুর এলাকা থেকে ১ টি অত্যাধুনিক পি শার্টারগান ও ১ রাউন্ড গুলি, ৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি এবং ৪ রাউন্ড বন্দুকের গুলিসহ সাগর (৩২) নামের এক দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। সে বাগেরহাট জেলার আদাঘাট গ্রামের আঃ ছাত্তারের পুত্র। এব্যাপারে থানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে ঐ রাতেই অস্ত্র আইনে ১০নং মামলা দায়ের করেছে।

কেশবপুরে সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেকের পক্ষে যুবলীগের কম্বল বিতরণ

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুর : যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতৃবৃন্দ সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বর্তমান কেশবপুরের সাংসদ জনাব ইসমাত আরা সাদেকের পক্ষে গরীব, দুঃস্থ, অসহায় ও শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে। সোমবার ৩০ শে ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬:০০ মিনিটে বেগমপুর বাজার মোড়ে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এসময়ে উপস্থিত ছিলেন ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ইউপি সদস্য মাস্টার কামরুজ্জামান টিটো, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শামীম রেজা, মাসুম বিল্লাহ, যুবলীগের সদস্য আসাদুজ্জামান, মনিরুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রলীগ নেতা শাহিন রেজা লিখন, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেশবপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বটিয়াঘাটা আ’লীগ নেতার মাতার মৃত্যুতে শোক

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখা আ’লীগের সহ-সভাপতি প্রদীপ বিশ্বাসের মাতা সুভাষিনী বিশ্বাস (১০১) সোমবার সকালে গজালমারীস্থ নিজ বাস ভবনে বাধ্যক্ষ জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন । তিনি মৃত্যুকালে ৩ পুত্র, ৪ কন্যা, নাতি-নাতনী সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে তার মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন, আ’লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রদত্ত বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা- চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ হালদার, সহ-সভাপতি অধ্যাঃ ফিরোজুর রহমান, মীর মোহম্মদ আলী, আকরাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপ গোলদার, বিএম মাসুদ রানা, স্বপন কুমার সরকার, চঞ্চলা মন্ডল, ওয়াহিদুর রহমান, মোশারফ হোসেন, গোবিন্দ মল্লিক, গোবিন্দ রায়, খলিলুর রহমান, জাকির হোসেন লিটু, রাজ কুমার রায়, নারায়ণ সরকার, মিজানুর রহমান বাবু, মানস পাল, জিএম মিলন, প্রকাশ রায়, অরিন্দম গোলদার, হুমায়ুন কবির, মিজানুর রহমান মিজান, গৌর দাস ঢালী, সুরজিৎ মন্ডল, ইব্রাহীম শেখ প্রমূখ। বিকাল ৪ টায় চক্রাখালী মুক্তিধাম মহাশশ্মানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

বটিয়াঘাটায় দুঃসাহসিক গরু চুরি

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলার কল্যাণশ্রী গ্রামের আলাল সরদারের বাড়িতে গত রবিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে এক দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়েছে। এসময়ে গৃহকর্তার গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে ২ টি বিদেশী জাতের গাভী (গাভীন) ও ১ টি ক্রস জাতের বকনা গরু চুরি করে নিয়ে পিকাপ যোগে জলমার কৃষ্ণনগরের দিকে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। চোরাই গরুগুলির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

ফুলতলায় ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ফুলতলা অফিসঃ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফুলতলা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে গত শনিবার সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় অধিকাংশ যুগ্ন আহবায়ক ও সদস্যদের অবহিত না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আসাদুজ্জামান জুয়েল, শেখ আলিমুল ইসলাম, এস এম রিফাত হাসান, ফারুক সরদার, আরিফুজ্জামান শায়রা, মোতালেব হোসেন তারেক, রাসেল শেখ, গাউসুল আজম, আরমান হোসেন, সাগর গাজী, সালমান শেখ, সদস্য মারুফ হাসান অনিক, হাসান গাজী, লতিফ শেখ, মহিদুল ইসলাম, ইমরান বিশ্বাস, হাসান মোল্যা, নাজিম উদ্দিন হৃদয়, হাসিবুর রহমান, সালাউদ্দিন শেখ, আবির হোসেন, রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

ফুলতলায় করিমুন্নেছা স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সংবর্ধনা

ফুলতলা অফিসঃ ফুলতলার করিমুন্নেছা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রোববার বেলা ১১টায় স্কুল চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডাঃ মোঃ শফি উদ্দিন মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রুলী বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, আওয়ামীলীগ নেতা মৃনাল হাজরা, ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, শেখ মতলেব হোসেন। স্বাগত বক্তৃতা দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ কুন্ডু। মুজাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক ফজলে খোদা বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ বসু, ইউপি সদস্য সরদার আঃ রহমান, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস, সাংবাদিক শামসুল আলম খোকন, স্কুল পরিচালক শবিলী সাদিক, মাষ্টার নুরুজ্জামান সরদার, হুমায়ুন কবির মোল্যা, মোঃ ইকবাল হোসেন মোল্যা প্রমুখ। পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বটিয়াঘাটায় গাঁজা সহ আটক ২

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটায় গাঁজা সহ দুই মাদক সেবন ও কেনাবেচাকালে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ২০ গ্রাম গঞ্জিকাসহ ২ ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার হাটবাটী গ্রামের নিরোদ বাছাড়ের পুত্র নিখিল বাছাড় (৩৮) ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র এমারত শেখ (৩০)। পুলিশ গতপরশু শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। থানার ওসি মোঃ রবিউল কবির এর নির্দেশে ওসি (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ সহ সঙ্গীয় ফোর্স পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে মাদকদ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ঐ দিনই ৭ ও ৮ নং দুটি মামলা রুজু করে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

ধানের মূল্য না থাকায় দাকোপের কৃষকদের মাঝে হতাশা

সাবরিনা বিনতে মাহবুব : খুলনার উপকুলীয় কৃষি উৎপাদন অঞ্চল দাকোপে এবার আমন ধানের উৎপাদন প্রায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পর্যায়ে। কিন্তু ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের মূল্য না থাকায় কৃষকদের মাথায় হাত। অন্যদিকে সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের নীতিমালা অনুসারে দাকোপে প্রায় ৯৮% ভাগ কৃষক এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আগামীতে ধান উৎপাদনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে ভুক্তভোগী চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সুত্র জানায়, দাকোপে এবার উচ্চ ফলনশীল আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৯ শ’ হেক্টর। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৮ শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ৯ শ’ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৮ শ’ ২৫ হেক্টর। তারা মোট ৮ লাখ ১০ হাজার ১০১ টন ধান উৎপাদন হয়েছে বলে আশা করছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ধানের মূল্য ৫ শ’ টাকা মন দরে বিক্রি হওয়াতে কৃষকদের মাথায় হাত। খোজ নিয়ে জানা যায় অধিকাংশ কৃষকরা চাষাবাদ মৌসুমে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছে। অপরদিকে মাঝপথে কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দেওয়ায় ফসল বাঁচাতে তারা বিনিয়োগের কমতি রাখেনি। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক রবীন্দ্রনাথ সরদার গত বুধবার ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন উপজেলার সর্ববৃহৎ ধানের হাট চালনা বাজারে। ৫ শ’ টাকা ধানের মন শুনে তিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে বলেন, এবার পরিস্থিতি যা তাতে জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন চাষাবাদে বিঘা প্রতি জমিতে খরচ দাড়িয়েছে ক্ষেত্র বিশেষ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু ধান বিক্রিতে খরচ বাঁচানোর কোন সুযোগ নেই। সর্বশেষ কারেন্ট পোকার আক্রমনে বিঘা প্রতি ১০/১২ মন সর্বোচ্চ ধান পেয়েছি। সুতরাং আগামীতে আর বোধহয় ধান করা সম্ভব হবেনা। অপরদিকে সরকার ১০৪০ টাকা মন দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সে পরিমান অতি নগন্য। খোজ নিয়ে জানা যায় দাকোপে মোট ১৮৭৩ জন কৃষক এই সুযোগের আওতায় ১৮৭৩ টন ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। যা উপজেলার ধান উৎপাদনকারী মোট কৃষকের ২ দশমিক ১ ভাগ। অর্থাৎ প্রায় ৯৮% ভাগ কৃষক এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। আবার সেই সুবিধাভোগীর তালিকা নির্নয়ে আছে নানা সমস্যা। জানা গেছে ইতিমধ্যে সেই তালিকা একদফা করে বাতিল করা হয়েছে নানা ত্রুটি বিচ্যুতির অভিযোগে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে লটারীর ভিত্তিতে নতুন তালিকা চুড়ান্ত করা হবে বলে দাবী করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান। বর্তমান বাস্তবতায় কৃষকরা উৎপাদিত ধানের নায্য মূল্য না পেলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়। দাকোপে অন্য কোন আয়ের উৎস্য না থাকায় এখানকার মানুষের জীবন জীবিকা অনেকটা কৃষি নির্ভর। সেই কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছে ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার ও সচেতন মহল।

খুলনায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে বেড়েছে শীতের তিব্রতা : বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ

শিশু হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৪ শিশু ডায়ারিয়া সেবা নিচ্ছে

কামরুল হোসেন মনি : গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে খুলনা, যশোর, পাইকগাছা, তেরখাদায়সহ দেশের বরিশাল, ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে ২-১ জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ দিন দেশের সর্বন্মিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুলিয়ায় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার বিকেলের মধ্যে মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে জানুয়ারীতে প্রথম সপ্তাহে দেশে আরেকটি শৈত্য প্রবাহ সম্ভবনা রয়েছে।
পৌষের মাঝের দিকে এসে খুলনায় দুপুর ১২টা থেকে থেমে থেমে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে শীতের তিব্রতা  যেনো আরো বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় দিনে বেলাতেও আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবাড়নের চেষ্টা করে ছিন্নমুল মানুষগুলো। ঠান্ডার প্রকোট হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন প্যাডেল চালিত রিক্সাসহ খেটে খাওয়া মানুষগুলো।
এদিকে অক্টোবর ও নভেম্বর গত দুই মাসে খুলনা ৯ উপজেলাসহ আইডি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল মিলে ডায়ারিয়া আক্রান্ত সংখ্যা দাড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। চলতি মাসে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত খুলনা শিশু হাসপাতালে ৩৬৩ শিশু ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। সে হিসেবে গড়ে এ হাসপাতালে প্রতিদিন ১৪ শিশুকে ডায়ারিয়ার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, দুপুর ১২টার দিকে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২-১ জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিপাত হয়। এর মধ্যে খুলনাঞ্চলে পাইকগাছা, তেরখাদায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যশোর, বরিশাল, ঢাকা ও চট্রগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় বৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, দেশের সর্বনি¤œ গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় তেতুলিয়ায় ৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগের মধ্যে কুর্ষ্টিয়া কুমারখালীতে সর্বন্মিন তাপমাত্রা ছিলো ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার দেয়া তথ্য মতে, এ দিন খুলনায় সর্বন্মিন তাপমাত্রা ছিলো ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ছিলো ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ২৪ ডিসেম্বরে সর্বনি¤œ ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২৩ ডিসেম্বর  ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার বিকেলের মধ্যে মেঘ কেটে গেলে আবহাওয়া স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসার সম্ভবনা রয়েছে বলে খুলনার ওই আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন। এছাড়া আগামী জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহের দিকে শৈত্যপ্রবাহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে  শীতের তিব্রতায় খুলনায় ঠান্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়াতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বয়স্করাও ডায়রিয়াসহ নানা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। খুলনা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ও আরএমও ডাঃ মাহবুবুর রহমান গতকাল দুপুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, ঠান্ডাজনিত কারণে খুলনা জেলায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। ওষুধ ও খাবার স্যালাইন পর্যাপ্ত রয়েছে কোন ঘাটতি নেই। খুলনা সদর হাসপাতালে আলাদাভাবে কোন ডায়রিয়া ওয়ার্ড চালু নেই। কোন ডায়ারিয়া রোগীর আসলে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মীরের ডাঙ্গাস্থ আই ডিয়াল হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবর ও নভেম্বর এই দুই মাসে খুলনায় ৯ উপজেলায়সহ আইডিয়াল ও শিশু হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ৯ হাজার ৫২১ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিেেয়ছেন। এর মধ্যে গত নভেম্বর মাসে ৪ হাজার ৬৮১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদান করা হয়। দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩৯ জন, বটিয়ঘাটায় ৫৫৭ জন, রূপসায় ৪২৩ জন, তেরখাদায় ৬১৭ জন, দিঘলিয়ায় ৪৬৫ জন, ফুলতলায় ২১৯ জন, ডুমুরিয়ায় ৫৩৫ জন, পাইকগাছা ৫৭৭ জন ও কয়রা উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ৩৩০ জন ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে মীরেরডাঙ্গা আইডিয়াল হাসপাতালে ২৭৩ জন এবং নগরীর শিশু হাসপাতালে ৩৪৬ শিশুকে ডায়রিয়ার চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এর আগে মাসে অক্টোবরে ৪ হাজার ৮৪০ জন সেবা প্রদান করা হয়। যার  মধ্যে আইডিয়াল হাসপাতালে ২৪০ জন ও শিশু হাসপাতালে ২৮৯ জন সেবা প্রদান করা হয়। এর বাাইরে চলতি ডিসেম্বর মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত নগরীর শিশু হাসপাতালে ৩৬৩ শিশু ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
নগরীর তেতুলতলা মোড় এলাকার রিক্সা চালক জিন্নাত আলী জানান, খুব সকালে তিনি যখন রিকশা নিয়ে বের হন, তখন কুয়াশারসহ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিলো। দুপুর ১২ দিনে ফোটা ফোটা পানি পড়ছিলো। তিনি ভেবেছিলেন, শিশির পড়ছে। তাই বৃষ্টির কোন প্রস্তুতি নেননি। এখন ঠান্ডার তিব্রতা বেড়ে যাওয়ায় রোডেঘাটে যাত্রী কম পাওয়া যাচ্ছে। এখন পেটের দায়ে এমন অবস্থায় রিক্সা চালাতে তাকে।

কক্সবাজারে ভ্রমনে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো দাকোপের মেধাবী ছাত্র রেজওয়ান

দাকোপ প্রতিনিধি : স্বজনদের সাথে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমনে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো মেধাবী ছাত্র শেখ রেজওয়ান আহম্মেদ (১৩)। সে দাকোপের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সাবেক ৪০ বছরের চেয়ারম্যান মরহুম শেখ আব্দুল হামিদের নাতি। এ ঘটনায় গোটা দাকোপবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস শেখ রেজওয়ান খুলনা সেন্ট যোজেফ স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর মেধাবী ছাত্র ছিল। মামা মামি ও খালামনিদের সাথে রেজওয়ান এবং তার বোন কক্সবাজারে যায় বেড়াতে। বুধবার সকালে হিমছড়ির সৈকতে আনন্দ উৎসবে সকলে মাতোয়ারা। হটাৎ স্রোতের টানে সকলে নিরাপদে উঠে আসতে পারলেও রেজওয়ান নিখোজ হয়ে যায়। সেই থেকে নৌ বাহিনী কোষ্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা টানা উর্দ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। অবশেষে প্রায় ৩০ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার বেলা ২ টার দিকে কোষ্টগার্ড রেজওয়ানের লাশ উর্দ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখান থেকে লাশ খুলনায় আনার প্রক্রিয়া চলছিল। ঘটনা জানার পর থেকে গোটা দাকোপের মানুষ রেজওয়ানের শেষ সংবাদের জন্য তার পরিবার এবং মিডিয়া কর্মিদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে আসছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় রেজওয়ানের সংবাদ ও ছবি। সর্বশেষ এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর দাকোপের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ আপামর জনতা শোক প্রকাশ করেছে। তারা শিশু রেজওয়ানের রুহের মাগফেরাত কামনাসহ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেনা জ্ঞাপন করেছে। রেজওয়ানের বাবা বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও আওয়ামী রাজনীতিবিদ, মা খুলনা নজরুল নগর কলেজের প্রফেসার। তার দাদা মরহুম শেখ আব্দুল হামিদ ছিলেন দাকোপ সদর ইউনিয়নের ৪০ বছরের চেয়ারম্যান, তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত উপজেলা জাপার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। দাকোপের অধিকাংশ উন্নয়নে এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদের অবদানের কথা দাকোপবাসী কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করে। এ দিকে মৃত্যু রেজওয়ানের দাফন প্রক্রিয়ার ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত খুলনায় হতে পারে বলে ধারনা দেওয়া হয়েছে।