দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল

দাকোপ ,খুলনা : খুলনার দাকোপে উপজেলা পরিষদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান সম্পর্কে একটি কুচক্রীমহল অপপ্রচার, বিজয় দিবসের দিন বঙ্গবন্ধুর ভাষন বন্ধ ও সরকারী কর্মচারীকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় মিছিলটি ডাকবাংলা চত্বর থেকে শুরু করে আচাঁভূয়া বাজার ও উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে পথসভায় বক্তৃতা করেন আ‘লীগনেতা গোলাম মোস্তফা খান, অধ্যক্ষ ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল, শেখ যুবরাজ, সমরেশ রায়, ছাব্বির আহম্মেদ শেখ,শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, আফজাল হোসেন খান, বাবুল আকতার, কমলেশ বাছাড়, মাখন চক্রবর্তী, ভবেন্দ্রনাথ মন্ডল, গোলাম রসুল, মহিউদ্দিন , দেবানন্দ মন্ডল, শ্যামল মন্ডল, সঞ্জয় বৈদ্য প্রমুখ। বক্তৃতায় নেতৃবৃন্দ বলেন রাজাকারের বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের সুযোগ নিয়ে দাকোপের এশটি কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়,তা দাকোপের জনগন আর কোনদিন বাস্তবায়ন হতে দেবে না ।

সাতক্ষীরায় দুই জনপ্রতিনিধিকে নগ্ন করে নারী দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : পৃথক দুটি ঘটনায় দুই জনপ্রতিনিধিকে নগ্ন করে নারী দিয়ে ভিডিও ধারণের অভিযোগে সাতক্ষীরার দুই সাংবাদিকসহ ৫ জনের নামে থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় ইতিমধ্যে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী জয়যাত্র টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আকাশ ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এ মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদিক, তুহিন, সাংবাদিক মনি ও সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে নিহত দীপ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা থানায় পর্ণোগ্রাফি আইনে দায়ের করা ২৮ নং মামলার বাদী একজন জনপ্রতিনিধি (সামাজিক কারণে বাদীর নাম গোপন রাখা হলো)। তিনি দায়েরকৃত মামলার এজাহারে বলেন আসামীরা তাকে এমটি রুমে ঢুকিয়ে নগ্ন করে নারী দিয়ে ভিডিও করে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের চেষ্টা করে। এই মামলায় উক্ত ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপর মামলার বাদিও একজন জনপ্রতিনিধি (সামাজিক কারণে তারও নাম গোপন রাখা হলো)। এই মামলার ঘটনায়ও একইভাবে ঐ জনপ্রতিনিধিকে নগ্ন করে ভিডিও করার অভিযোগ করা হয়েছে এবং ঐ ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে থেকে ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এই মামলার আসামি আকাশ ও সাদিক। এই মামলায় আকাশ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) ইলতুৎমিশ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি আকাশ ইসলামের নিকট থেকে বেশকিছু পর্ণোগ্রাফি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে ভিডিও ধারণ করে অর্থ আদায় করে আসছিল। উক্ত আকাশ ইসলাম আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে বলে তিনি আরো জানান।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক : রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মোশাররফের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।  রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে দেশটির বিশেষ আদালত। মঙ্গলবার পেশওয়ার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়াকার আহমেদ শেঠের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারকের একটি প্যানেল এই রায় দেয়। বিশেষ আদালতের অন্য সদস্যরা হলেন সিন্ধ হাইকোর্টের বিচারপতি নজর আকবর ও লাহোর হাইকোর্টের শহীদ করিম।

২০০৭ সালের ৩রা নভেম্বর সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশে জরুরি অবস্থা জারির অভিযোগে ২০১৩ সালে মামলা দায়ের করা হয়।

দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ বর্তমানে দুবাইয়ে রয়েছেন। রাষ্ট্রদ্রোহ, জরুরি অবস্থা জারি, বেআইনি উপায়ে বিচারপতি বরখাস্ত, বেনজির ভুট্টো হত্যা এবং লাল মসজিদ তল্লাশি অভিযানসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বর্তমানে পলাতক তিনি।

দাকোপে উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থকদের পাল্টা মিছিল

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপে মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্চিত করার ঘটনার জের হিসাবে উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী সমর্থকরা পাল্টা মিছিল করেছে। মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলীকে নিয়ে নানা কটুক্তি এবং অপমান জনক কথা বলার অভিযোগ এনে তার সমর্থক আওয়ামীলীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি চালনা বাজারের গুরুত্বপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে ডাকবাংলার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যানকে হেয় করে কটুক্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবী করেছেন।

দাকোপে বিশৃংক্ষলার মধ্যদিয়ে বিজয় দিবস পালন : মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্চিত করার অভিযোগে

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃক্ষলার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। উপজেলা আওয়ামীলীগ তাৎক্ষনিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্চিত করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সংবাদের কারনে দৈনিক দেশ সংযোগের ফটোকপি জনতার হাতে হাতে দেখা যায়।
জাতীয় কর্মসূচীর সাথে সমন্বয় রেখে দাকোপে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। যথারীতি তোপধ্বনি, স্মৃতি সৌধে দাকোপ উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, চালনা পৌরসভা, উপজেলা আ’লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পন করে। সরকারী বেসরকারী ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী শেষে সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা শুরু হয়। সভায় সকল মুক্তিযোদ্ধা বক্তারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিদের রুখে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা কোন রাজাকারের হাতে জাতীয় পতাকা দেখতে চাইনা রাজাকারের কাছ থেকে সম্মাননা পেতে চাইনা। এক পর্যায়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন তার বক্তৃতায় প্রশ্ন রেখে বলেন আজকের অনুষ্ঠানে নির্বাচীত জনপ্রতিনিধি অনুপস্থিত কেন। এ সময় দর্শক সারি থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খানের সমর্থকরা উঠে দাড়িয়ে তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করলে শুরু হয় উত্তেজনা। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঘোষকের কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে নির্বাহী অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, এখানে বিশৃংক্ষলা সৃষ্টি করলে আমি এখনি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব। এমন অবস্থার মাঝে শেষ হয় সংবর্ধনা। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান লাঞ্চিত করা হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা আ’লীগের যৌথ উদ্যোগে তাৎক্ষনিক একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিন করে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবী করেন। সমাবেশ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সর্বশেষ কমিটির ডেপুটি কমান্ডার মোহিত চন্দ্র রায় লিখিত বক্তৃতায় বলেন, মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় চিহ্নিত তালিকাভুক্ত রাজাকার মুনসুর আলী খানের পুত্র ভাই ও নাতীর নেতৃত্বে একদল উশৃংক্ষল যুবক বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেনের বক্তব্যে বাধা প্রদান এবং তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালি গালাজসহ লাঞ্চিত করে। তারা ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং গ্রেফতারের দাবী জানান। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা মনোজ কুমার রায়, চীররঞ্জন মন্ডল, জয়তীষ মন্ডল, আশিষ মন্ডল, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন, সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত কুমার মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের, চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল, চালনা পৌর মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, জেলা পরিষদ সদস্য কবির খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আকতারসহ উপজেলা আ’লীগ,যুবলীগ,মহিলালীগ.শ্রমিকলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ,ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যাক নেতাকর্মি উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে আ’লীগনেতারা অভিযোগ করে বলেন ঘটনার প্রতিবাদে আমরা মিছিল নিয়ে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্চিতের বিচার দাবী করি। কিন্তু নির্বাহী অফিসার কোন সহানুভূতি না দেখিয়ে বরং ঠিক ওই সময় প্রশাসন হটাৎ মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষন বাজিয়ে সমাবেশ বাধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টা করে। উল্লেখ্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খানের নাম থাকায় দাকোপে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় কোন রাজাকারের কাছ সংবর্ধনা না নেওয়ার দাবী জানাই। খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকায় বিজয় দিবসের দিন “রাজাকারের হাত থেকে সম্মাননা নেবেনা দাকোপের মুক্তিযোদ্ধারা” শিরোনামে একটি সংবাদ ফলাও করে প্রকাশিত হয়। এ দিন দাকোপে দেশ সংযোগের শত শত ফটোকপি জনতার হাতে দেখা যায়। এ দিকে সরকারী প্রজ্ঞাপনে বিজয় দিবসে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা থাকলেও দাকোপ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে সেটি মানা হয়নি। সেখানে ভবনের ছাদে বাকা অবস্থায় পতাকা উড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে অল্প সময়ের জন্য দায় সারাভাবে পতাকা উত্তোলিত হয় বলে সেখানকার সংবাদ কর্মিদের মাধ্যমে জানা যায়। মহান বিজয় দিবস উদযাপনে এমন অব্যবস্থাপনায় সর্ব সাধারনের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।