ফুলতলায় ছাত্রদলের নিন্দা ও প্রতিবাদ

ফুলতলা অফিসঃ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফুলতলা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে গত শনিবার সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় অধিকাংশ যুগ্ন আহবায়ক ও সদস্যদের অবহিত না করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আসাদুজ্জামান জুয়েল, শেখ আলিমুল ইসলাম, এস এম রিফাত হাসান, ফারুক সরদার, আরিফুজ্জামান শায়রা, মোতালেব হোসেন তারেক, রাসেল শেখ, গাউসুল আজম, আরমান হোসেন, সাগর গাজী, সালমান শেখ, সদস্য মারুফ হাসান অনিক, হাসান গাজী, লতিফ শেখ, মহিদুল ইসলাম, ইমরান বিশ্বাস, হাসান মোল্যা, নাজিম উদ্দিন হৃদয়, হাসিবুর রহমান, সালাউদ্দিন শেখ, আবির হোসেন, রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

ফুলতলায় করিমুন্নেছা স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও সংবর্ধনা

ফুলতলা অফিসঃ ফুলতলার করিমুন্নেছা মডেল স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান রোববার বেলা ১১টায় স্কুল চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডাঃ মোঃ শফি উদ্দিন মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও রুলী বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, আওয়ামীলীগ নেতা মৃনাল হাজরা, ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, শেখ মতলেব হোসেন। স্বাগত বক্তৃতা দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিশ্বনাথ কুন্ডু। মুজাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক ফজলে খোদা বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ বসু, ইউপি সদস্য সরদার আঃ রহমান, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস, সাংবাদিক শামসুল আলম খোকন, স্কুল পরিচালক শবিলী সাদিক, মাষ্টার নুরুজ্জামান সরদার, হুমায়ুন কবির মোল্যা, মোঃ ইকবাল হোসেন মোল্যা প্রমুখ। পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়।

বটিয়াঘাটায় গাঁজা সহ আটক ২

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটায় গাঁজা সহ দুই মাদক সেবন ও কেনাবেচাকালে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ২০ গ্রাম গঞ্জিকাসহ ২ ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার হাটবাটী গ্রামের নিরোদ বাছাড়ের পুত্র নিখিল বাছাড় (৩৮) ও বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র এমারত শেখ (৩০)। পুলিশ গতপরশু শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। থানার ওসি মোঃ রবিউল কবির এর নির্দেশে ওসি (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ সহ সঙ্গীয় ফোর্স পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে মাদকদ্রব্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ঐ দিনই ৭ ও ৮ নং দুটি মামলা রুজু করে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

ধানের মূল্য না থাকায় দাকোপের কৃষকদের মাঝে হতাশা

সাবরিনা বিনতে মাহবুব : খুলনার উপকুলীয় কৃষি উৎপাদন অঞ্চল দাকোপে এবার আমন ধানের উৎপাদন প্রায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পর্যায়ে। কিন্তু ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের মূল্য না থাকায় কৃষকদের মাথায় হাত। অন্যদিকে সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের নীতিমালা অনুসারে দাকোপে প্রায় ৯৮% ভাগ কৃষক এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে আগামীতে ধান উৎপাদনের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে ভুক্তভোগী চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সুত্র জানায়, দাকোপে এবার উচ্চ ফলনশীল আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৯ শ’ হেক্টর। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৮ শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ৯ শ’ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৮ শ’ ২৫ হেক্টর। তারা মোট ৮ লাখ ১০ হাজার ১০১ টন ধান উৎপাদন হয়েছে বলে আশা করছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ধানের মূল্য ৫ শ’ টাকা মন দরে বিক্রি হওয়াতে কৃষকদের মাথায় হাত। খোজ নিয়ে জানা যায় অধিকাংশ কৃষকরা চাষাবাদ মৌসুমে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছে। অপরদিকে মাঝপথে কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দেওয়ায় ফসল বাঁচাতে তারা বিনিয়োগের কমতি রাখেনি। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক রবীন্দ্রনাথ সরদার গত বুধবার ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন উপজেলার সর্ববৃহৎ ধানের হাট চালনা বাজারে। ৫ শ’ টাকা ধানের মন শুনে তিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে বলেন, এবার পরিস্থিতি যা তাতে জমি বিক্রি করে ঋণ শোধ করা ছাড়া উপায় নেই। তিনি বলেন চাষাবাদে বিঘা প্রতি জমিতে খরচ দাড়িয়েছে ক্ষেত্র বিশেষ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু ধান বিক্রিতে খরচ বাঁচানোর কোন সুযোগ নেই। সর্বশেষ কারেন্ট পোকার আক্রমনে বিঘা প্রতি ১০/১২ মন সর্বোচ্চ ধান পেয়েছি। সুতরাং আগামীতে আর বোধহয় ধান করা সম্ভব হবেনা। অপরদিকে সরকার ১০৪০ টাকা মন দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সে পরিমান অতি নগন্য। খোজ নিয়ে জানা যায় দাকোপে মোট ১৮৭৩ জন কৃষক এই সুযোগের আওতায় ১৮৭৩ টন ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। যা উপজেলার ধান উৎপাদনকারী মোট কৃষকের ২ দশমিক ১ ভাগ। অর্থাৎ প্রায় ৯৮% ভাগ কৃষক এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। আবার সেই সুবিধাভোগীর তালিকা নির্নয়ে আছে নানা সমস্যা। জানা গেছে ইতিমধ্যে সেই তালিকা একদফা করে বাতিল করা হয়েছে নানা ত্রুটি বিচ্যুতির অভিযোগে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে লটারীর ভিত্তিতে নতুন তালিকা চুড়ান্ত করা হবে বলে দাবী করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান। বর্তমান বাস্তবতায় কৃষকরা উৎপাদিত ধানের নায্য মূল্য না পেলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায়। দাকোপে অন্য কোন আয়ের উৎস্য না থাকায় এখানকার মানুষের জীবন জীবিকা অনেকটা কৃষি নির্ভর। সেই কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছে ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার ও সচেতন মহল।