পাইকগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র নিহত : আহত ১

স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা : পাইকগাছায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মেহরাব মোল্লা (১৪) নিহত হয়েছে। সে মৌখালী মোল্লা বাড়ীর মজিদ মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই একই শ্রেণীর ছাত্র রাহাত আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় মৌখালীর মোল্লা বাড়ীর নিকট পাইকগাছা-কয়রা প্রধান সড়কে এ দু’ছাত্র সাইকেলযোগে যাওয়ার সময় ইটের ট্রলীর মুখোমুখি সংঘর্ষে মেহরাবের মৃত্যু হয় ও রাহাত গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, এ ঘটনায় কোন অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৭১ টিভি সাংবাদিক পান্নুর উপর হামলার প্রতিবাদে ফুলতলায় সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সভা

ফুলতলা অফিসঃ খুলনার ওয়াসার অব্যবস্থাপনার সংবাদ সংগ্রহকালে ৭১ টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান রকিব উদ্দিন পান্নু ও ক্যামেরাম্যান আতিকুর রহমান সোহেলের উপর ওয়াসার ঠিকাদার ও কর্মচারীদের হামলা এবং পরবর্তীতে ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর বাশার কর্তৃক হাতকড়া দেয়ার প্রতিবাদে ফুলতলার কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্যোগে সোমবার বিকালে স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৈনিক পূর্বাঞ্চল প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, প্রেসক্লাব সম্পাদক মোঃ সেকেন্দার আলী, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম, সাংবাদিক ইমরানুল ইসলাম রুমন, এমরানুর রহমান বিপ্লব, মাহিদুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, মোঃ কামরুজ্জাামান, শেখ ওসমান কবির, কবি শহিদুল ইসলাম, মোঃ জাকির হোসেন, শামীম হোসেন, রমজান মাহমুদ অরণ্য প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় অবিলম্বে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতিকে জেলা সৈনিকলীগের সংবর্ধণা

বিজ্ঞপ্তি : খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক বিরোধী দলীয় হুইপ শেখ হারুনুর রশিদ বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বেশী বেশী করে তুলে ধরতে হবে। গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করে সাধারণ মানুষকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য সম্পর্কে বুঝাতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সাফল্য অনেক কিন্তু প্রচারের অভাবে মানুষ জ্ঞাত রয়েছে। এই অবস্থায় সরকারের অভাবনীয় সাফল্য বিশেষ করে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিক্ষা, খাদ্য, মানবিক উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রকার ভাতা, নারীর মর্যাদা ও জীবন-যাত্রার মানউন্নয়নে যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে তা প্রচার করতে হবে। তিনি সোমবার বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা জেলা শাখা প্রদত্ত এক সংবর্ধণায় আগত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এসকল কথা বলেন।
জেলা পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবর্ধণায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা এসএম ফরিদ রানা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আ’লীগের সাবেক সিনি: সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড: নবকুমার চক্রবতী, আ’লীগনেতা রবীন্দ্রনাথ ঢালী, মুক্তিযোদ্ধা কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস, মাস্টার আবুল কালাম, জেলা সৈনিকলীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হিমাংশু রায়, বীরমুক্তিযোদ্ধা নিখিল চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক(ভার:) রফিকুল ইসলাম রফিক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাহার আক্তার, এসএম শাহিন আলম, ডুমুরিয়ার আহবায়ক গাজী আব্দুল হক, ফুলতলার আহবায়ক খুরশীদ আলম মোড়ল, পাইকগাছার মোঃ রফিকুল ইসলাম, কয়রার আরাফত হোসেন, মোঃ মিল্টন শেখ, অলোক মল্লিক, উজ্জল রায়, এমআর রাহুল মিত্র, ডাঃ সুব্রত মন্ডল, নিউটন মন্ডল, মোঃ কাবেদুল সরদার, মোঃ সাইফুল্লাহ, অভিজিৎ মন্ডল।
বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ওইদিন খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের নব-নির্বাচীত সাধারণ সম্পাদক এ্যাড: সুজিত কুমার অধিকারীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নবীনদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য তিনি সর্বত্মক সহযোগীতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক মাদক কারবারি

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা : বাগেরহাটের শরণখোলায় র‌্যাব-৬ খুলনার সোপশাল কোম্পানীর সদস্যরা রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ইউসুফ আলী আকন (৪৯) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে। তার কাছ থেকে ২১৭পিচ ইয়াবা, একটি মোবাইল ফোন, একটি মেমোরি ও একটি সীমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করার পর তাকে বাগেরহাট আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইদিন রাতরাত ৮টার দিকে শরণখোলার পহলানবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ইউসুফকে আটক করে র‌্যাব। ওই মাদক কারবারি উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ছোট নলবুনিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী আকনের ছেলে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ক কর্মকর্তা (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, র‌্যাব-৬ (ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেলাইজড কোম্পানী) খুলনার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হায়দার বাদি হয়ে ইউসুফের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, ইউসুফ দীঘদিন ধরে ইয়াবার কারবার করে আসছে। জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, ফকিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহ করায় তার বিশাল মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

ঝিনাইদহের অপহৃত ব্যবসায়ীকে যশোরে উদ্ধার : আটক ৭

যশোর : ঝিনাইদহের অপহৃত এক ব্যবসায়ীকে যশোর শহর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় সাত অপহরণকারীকে আটক করেছে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ। অপহৃত ব্যবসায়ীর ভাই রাশিদুল ইসলাম অভিযোগ দিলে তাদেরকে আটক এবং অপহৃতকে উদ্ধার করে।
যশোর শহরের মাইকপট্টি এলাকা থেকে রবিবার রাতে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের আটক করে। যশোর গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার দুপুরে প্রেসব্রিফিং এ তথ্য জানান।
আটককৃতরা হলেন, যশোর শহরের জেল রোড এলাকার জাহিদুল ইসলাম, ফতেপুরের নয়ন, শেখহাটি বাবলাতলা এলাকার রাব্বি হোসেন, সার্কিট হাউসপাড়ার গোলাম রসুল ,মুরুলী এলাকার শওকাত হোসেন, ষষ্ঠীতলার মানিক ম-ল ও পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার নূর ইসলাম।
সোমবার দুপুরে
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনের মাদারবোর্ড ও সার্কিট বিক্রির কথা বলে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদপুরের ব্যবসায়ী কহিদুল ইসলামকে ডেকে এনে যশোর শহরের মাইকপট্টি এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দুই দফায় তার কাছ থেকে ৯৯ হাজার ৬০০ টাকাও তারা হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা আরও টাকা দাবি করতে থাকে। বিষয়টি কহিদুল ইসলামের ভাই যশোর পুলিশকে জানালে যশোর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রবিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে কহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজন এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরে আরো ৫ অপহরণকারীকে আটক করা হয়।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম আরো জানান, যে বাসা থেকে অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের আটক করা হয় সে বাসাটির মালিক যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর হাজী আলমগীর হোসেন। অভিযানের সময় অপহরণকারীদের কাছ থেকে সাড়ে ১৮ হাজার টাকা, ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, একটি ব্যাংকের চেক, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের পুরাতন ও নষ্ট মোবাইল ফোনের মাদারবোর্ড ও সার্কিট উদ্ধার করা হয়।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মারুফ আহমদ অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও ৭ অপহরণকারীকে আটক করার কথা নিশ্চিত করেছেন।

চালনার আচাভূয়া বাজার সমিতির নির্বাচনে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপ উপজেলা সদর আচাভূয়া ডাকবাংলো বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আগামী ২৭ জানুয়ারীর নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্ভব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। ৯ পদের বিপরীতে গতকাল শেষ দিনে ১৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
আগামী ২৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দাকোপ উপজেলা সদর চালনার ঐতিহ্যবাহী আচাভূয়া ডাকবাংলো বাজার ব্যবসায়ী সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। দাকোপ উপজেলা সমবায় দপ্তরের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ঘোষনা অনুযায়ী গতকাল রবিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা সমবায় দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক লস্কর সাহাবুর রহমান জানায়, ৯ টি পদের বিপরীতে মোট ১৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সভাপতি পদে আলহাজ্ব সরদার আবুল হোসেন ও জাহাঙ্গীর মোল্যা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সহসভাপতির ১ টি পদের বিপরীতে মনোরঞ্জন বাহাদুর, মাহবুবুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম খোকন। সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ ওসমান গণি, মোঃ কামরুল ইসলাম এবং শাহজাহান শেখ। কোষাধ্যক্ষ পদে আনিসুর রহমান, কাজী ইকরামুল কবীর পান্না এবং মোঃ ফরিদ আলী। সদস্যের ৫ টি পদের বিপরীতে আসিফ ইকবাল টিটু, মোঃ কামাল গাজী, আব্দুল গফুর সরদার, জলিল মিয়া, পিতর মিস্ত্রী, মোশারফ হোসেন লিমন, লাভলু গাজী এবং মোঃ শাহাদাত হোসেন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আজ সোমবার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই এবং ১৬ জানুয়ারী প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই প্রতিক বরাদ্দের মাধ্যমে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারনা। আগামী ২৭ জানুয়ারী সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। এ দিকে বাজার সমিতির এই নির্বাচনকে ঘিরে দিনরাত চায়ের দোকান গুলুতে জমে উঠেছে ভোটের আলোচনা। প্রার্থীরাও সাধ্যমত আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোটারদের পক্ষে রাখার কাজে মাঠে নেমে পড়েছেন নানা কৌশলে।

জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে নির্দেশ

ঢাকা অফিস : জনগণের আস্থা নিয়ে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  জঙ্গি-সন্ত্রাস দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার প্রশংসাও করেছেন তিনি। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২০ উপলক্ষে উর্ধতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য বক্তব্যে, পুলিশ বাহিনীকে সংস্কারের কথাও জানিয়েছেন সরকার প্রধান।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারাদেশের উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিলো আজ। শুরুতেই তাদের নানান কার্যক্রম পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও আগামীর কর্ম পরিকল্পনাসহ নানান বিষয় ও সুপারিশ তুলে ধরেন উর্ধতন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

পরে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রসংশা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেও বিএনপিসহ অন্য সরকারগুলো পুলিশের কল্যাণে কাজ করেনি বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ বাহিনীর দক্ষতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে প্রথমে যখন সরকারে আসি তখন পুলিশ বাহিনীর রেশন বাড়িয়ে দিয়েছিলাম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছিলাম। ঝুঁকিভাতা থেকে শুরু করে অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করেছিলাম। প্রমোশনের ব্যবস্থা করেছিলাম, লোকবলও বৃদ্ধি করেছিলাম। দ্বিতীয় দফায় যখন সরকারে আসি তখন পুলিশের জন্য কাজ করেছি। এবারও এসেই আমরা জনবল বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল আমরা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করেছি এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছি।’

দাকোপে ইটালিয়ান সংস্থার অর্থ সম্পদ আত্মসাতকারী বহুলালোচীত কালু এখন শ্রীঘরে

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : খুলনার দাকোপে ইটালিয়ান সংস্থায় পিয়ন পদে চাকুরী নিয়ে প্রকল্পের পরিচালক দাবীকারী সেই ধুরন্ধর কালু এখন জেল হাজতে। স্কুল পরিচালনা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত এবং প্রতারনার মাধ্যমে সংস্থার অর্থে নিজ নামে সম্পত্তি ক্রয়ের অভিযোগে পৃথক ৮ টি মামলা চলমান আছে তার বিরুদ্ধে।
বাদীর এজাহার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ সামাজিক জনকল্যানমূলক কাজের উদ্দেশ্যে দাকোপ উপজেলা সদর চালনায় ইটালিয়ান সংস্থা এফডিজে ট্রাষ্ট ফিলোদিওতা পরিচালিত ২০০৪ সালে স্কুল কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। সে সময় চালনা আছাভুয়া গ্রামের মৃত্যু প্রফুল্ল্য রায়ের পুত্র দীপক রায় ওরফে কালু প্রতিষ্ঠানে পিয়ন পদে চাকুরীতে যোগদান করে। প্রতিষ্ঠানটিতে ইটালিয়ান নাগরিক আলেসান্দ্রো মসিনি (এ্যালেক্স) প্রশাসক, এডমিনেষ্ট্রেটর প্রটেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করেন। ধুরুন্ধর দীপক ওরফে কালু প্রশাসক আলেসান্দ্রো এ্যালেক্সের আস্থাভাজন হয়ে প্রকল্পের অলিখিত দায়িত্বভার নিজ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। এভাবে এক সময় সে পিয়ন থেকে প্রকল্পের ট্রাস্টি সদস্য হয়ে নিজেকে পরিচালক ঘোষনা দিতে থাকে। প্রকল্পের জন্য নিজস্ব জমি ক্রয়ের প্রস্তাব করলে দীপক ওরফে কালু সংস্থা এবং বিদেশীর নামে সম্পত্তি ক্রয় করা যাবেনা এই অজুহাতে অর্থ এবং সম্পত্তি হাসিলে ফন্দি আটে। ২০১০ সালে ট্রাস্টের নামে ১০০ শতাংশ জমি ক্রয়ের দায়িত্ব নিয়ে মাত্র ৩৭ শতাংশ জমি ট্রাস্টের নামে ক্রয় করে। পানখালী মৌজার জেএল নং ৪ সিএস ও এসএ ১২৭১ খতিয়ান, ৫৫৬৭ নং দাগ হতে স্থানীয় সনত বিশ্বাস গংদের নিকট থেকে দাকোপ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ১৩/০৯/২০১০ তারিখে ১১৮০ নং দলিল বনিয়াদে অবশিষ্ট ৬৩ শতাংশ জমি নিজ নামে ক্রয় করে। পরবর্তীতে ২০১৫ ট্রাস্টের ৩৭ শতাংশ জমিও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দীপক ওরফে কালু নিজ স্ত্রীর নামে লিখে নেয়। জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে আলেসান্দ্রো মসিনি ৬৩ শতাংশ জমি ট্রাস্টের নামে ফেরত দিতে বললে কালু তা অস্বীকার করে এবং তাকে ভয়ভীতি প্রদান করতে থাকে। একই সাথে স্কুলসহ খলিশা ও পানখালি স্কুলের জমি বিক্রির পায়তারায় স্কুলে তালা মেরে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় অভিভাবকদের সহায়তায় আলেসানদ্রো মসিনি তালা ভেঙে পুনরায় স্কুল চালু করেন। এ ছাড়াও সংস্থার শিক্ষা কার্যক্রমের টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে দাকোপের চুনকুড়ি এলাকায় নিজ নামে ১০ বিঘা সম্পত্তি ক্রয় করে, অবৈধ অর্থে তৈরী করে আলিশান বাড়ী। তার এই অপকর্মকে স্থায়ীরুপ দিতে আলেসাদ্রো মসিনিকে বাংলাদেশে আসতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। একই সাথে তার নিরুদ্দেশ অথবা মারা যাওয়ার অপপ্রচার চালাতে থাকে। কালুর সাথে যোগাযোগ এবং সম্পদ ফিরে পাওয়ার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নিরূপায় আলেসান্দ্রো মসিনি মহামান্য আদালতের শরনাপন্ন হন। সম্পত্তি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীপক ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ৪টি দেওয়ানী এবং ৪টি ফৌজদারী মামলা দায়ের করে যা বর্তমানে চলমান আছে। সি আর ১৭/১৮ নং মামলায় আদালত গত ২ জানুয়ারী অভিযুক্ত দীপক ওরফে কালুর জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। আলেসান্দ্রো মসিনি (এ্যালেক্স) প্রশাসকের পক্ষে মৃত্যুঞ্জয় দাস নামের তার নিযুক্ত ব্যক্তি মামলা পরিচালনা করছেন। এলাকাবাসী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের অর্থ সম্পদ আতœসাতকারী এই বহুলালোচীত কালুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছে।

শেখ হাসিনার সাহসী দেশে উন্নয়নে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে : শেখ হারুনুর রশিদ

দাকোপ প্রতিনিধি : বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে ্ভাগ্য বঞ্চিত মানুষ তার নায়্য অধিকার ফিরে পায় এ কথা উল্লেখ করে খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক বিরোধী দলীয় হুইপ আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে এদেশে উন্নয়নে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ সরকারের আমলে উন্নয়নের জন্য সাধারণ মানুষকে দৌড়াতে হয় না। এখন উন্নয়নই মানুষকে খুজে নেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এদেশে আ’লীগ ছাড়া যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছে।
তিনি রবিবার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল দাকোপে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে অধিগ্রহনকৃত জমির ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। দাকোপ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদদু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোঃ ইকবাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিফ-উল হাসান, থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ সফিকুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়, চালনা পৌরসভার মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুস সালাম। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য জয়ন্তী রানী সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান সরোজিত রায়, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম আক্কেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের, সরদার জাকির হোসেন, জামিল খান, বিধান চন্দ্র রায়, ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল, ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কুমার মন্ডল, জেলা পরিষদ সদস্য এ্যাডঃ রজত কান্তি শীল, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আকতার, ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায়, নিমাই চাঁদ দাস, অধ্যাপক সুপদ রায়, তপন রায়, মোঃ শিপন ভূঁইয়া. জি এম রেজা, যুবনেতা রতন কুমার মন্ডল, জাহিদুর রহমান মিল্টন, আরাফাত আজাদ, ছাত্রলীগনেতা ফয়সাল শরীফ, মাসুম হাওলাদারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ হারুনুর রশিদ এরপর দাকোপের বিভিন্ন স্থানে অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেন।