চট্ট্রগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে মাদকসেবীসহ ১৯ জনকে সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোট্র: উপঅঞ্চলের মাদক বিরোধী অভিযানে আটক মাদকসেবা ও মাদক ব্যবসায়ীসহ মোট ১৯ জন ভ্রম্যমান আদালাতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে মো: রানা (২০), মো: হাসানম (২৬), মো: জসিম (৩১), মো: নাসির (৩৫), মো: হারুন (৩৮), মাইকেল লিকসান (২৯), মো: সাকিব (২২), মো: শহিদুলøাহ (২৬), হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ(৪০), মো: বাহাউদ্দিন (২৮), দিদার হোসেন (২৬), রাজা মিয়া (৫৫), মো: সেলিম (২৪), মো: লিটন (২৫), পারুল (৩৫), মো: কাশেম (২৭), ইয়ার হোসেন (২৮), মো: বাদশা মিয়া (৫৯) এবং মো: আজিজ (৩৪)।  শনিবার দিনব্যাপী নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন। এ সময় এদের কাছ থেকে ১৭ পিস ইয়াবা ও ৩ কেজি ৬শ’ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু সিদ্দিকী ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিক আকতার ভ্রম্যমান আদালতটি পরিচালনা করেন। এছাড়া অপর একটি অভিযানে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন মেরিনার্স রোড এলাকা থেকে মো: আজিজ (৩৪)নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেন। সে ওই এলাকার বাসিন্দা মো: মীর কাসেমের পুত্র। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্ট্রো: উপ-অঞ্চলের পাচলাই সার্কেলের পরিদর্শক মো: আমিরুজ্জামান বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে সংশিøষ্ট থানায় মাদকের আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মেট্ট্রো উপঅঞ্চল সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামনের তত্ত¡াবধানে সার্কেল সমূহের সমন্বয়ে একটি টিম গতকাল শনিবার দিনব্যাপী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।
উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, মাদক বিরোধী বিশেষ এ অভিযানটি নগরীর বিভিন্ন্ এলাকায় অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উলেøখ করেন।

ফুলতলায় প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মশালার উদ্বোধন

ফুলতলা অফিসঃ ফুলতলা উপজেলা রিসোর্স সেন্টার আয়োজিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহাকারী শিক্ষকদের ইংরেজী বিষয়ে ৫দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শনিবার সকালে ফুলতলার আলকা পল্লীমঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইউএনও পারভীন সুলতানা। উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইন্সট্রাক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম রনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন সহকারী শিক্ষক রাবেয়া পারভীন ও সাবিনা ইয়াসমিন। কর্মশালায় উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পাইকগাছায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা : পাইকগাছা স্মার্টফোনের জন্য মায়ের উপর অভিমান করে বোয়ালিয়ার জেলে পল্লীর অভাবী পরিবারের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুজয় (১৬) আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে মোবাইল ক্রয় নিয়ে সুজয়ের সাথে তার মায়ের সামান্য ঝগড়া হলে না খেয়ে ছিল। দুপুরের পরে তার মা ঘরের বাহিরে গেলে এ সুযোগে সে ঘরের মধ্যে গঁলায় রশি দিয়ে ঝুলে পড়ে। টের টেয়ে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত্যু ঘোষনা করেন। নিহত সুজয় এর বাবা কেনারাম বিশ্বাস এ মুহুর্তে সুন্দরবনের জেলে পল্লীতে রয়েছেন। পুলিশ এসআই অখিল মন্ডল লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোট শেষে ময়না তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, মৃত্যুর কারন নির্নয়ের জন্য লাশ ময়না তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে শনিবার লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

মোংলায় গৃহবধুর রহস্য জনক মৃত্যু

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় বসত ঘরের আড়াড় সাথে গলায় ওড়না প্যাঁচানো কুলসুম বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামের স্বামী আলম শেখের বসত ঘর থেকে ওই গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যু গৃহবধু কুলসুমের বড় ভাই আব্দুল হালিম ফরাজি জানায়, প্রায় আড়াই বছর পূর্বে পার্শবর্তী সুন্দরবন ইউনিয়নের রড়ইতলা এলাকার মৃত মোকতার শেখ’র ছেলে আলম শেখের সাথে কুলসুমের বিয়ে দেয়া হয়। বিবাহের পর থেকেই বোন কুলসুমকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন বিভিন্ন ভাবে শাররীক ও মানুষিক নির্যাতন করে আসচ্ছিল। শনিবার ভোর রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পারে, তার বোন গুরুত্বর অসুস্থ। কিন্তু সেখানে গিয়ে বোনের গলায় ওড়না প্যাচানো ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তারা। এব্যাপারে স্বামী আলম শেখ’র পরিবার জানায়, তার কুলসুম বেগম কারো সাথে অভিমান করে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আতœহত্যা করেছে।
মোংরা থানার এস আই আব্দুল আহাদ জানান, শনিবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো এক গৃহবধুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে মৃত্যুর কারন বা রহস্য না জানালেও ময়ানা তদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে এবং থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানায় পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানায়, গৃহবধু কুলসুমকে হত্যা করা হয়েছে না সে নিজে আতœহত্যা করেছে তা এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে লাশের সুরাতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে এবং ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে রিপোটে আসলে ঘটনা জানা যাবে। স্বজনদের অভিযোগ, কুলসুমকে তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের লোকজন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে আতœহত্যার নাটক সাজিয়েছে আলম শেখ ও তার পরিবারের লোকজন। এব্যাপারে স্বামী আলম শেখসহ তার পরিবারের লোকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বোনের মৃত্যুর রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলেও জানায় কুলসুমের বড় ভাই আব্দুল হালিম ফরাজি।

যশোরে বৈদ্যুতিক পিলারে সাথে প্রাইভেটের ধাক্কায় তিন নারী নিহত

যশোর প্রতিনিধি : যশোরে বিয়ের আলোকসজ্জা দেখে বাড়ি ফেরার সময় নববধূসহ একই পরিবারের তিন নারী নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে শিশুসহ চার জন। পুলিশ গাড়ির চালককে আটক করেছে। নিহতরা হলো, যশোর শহরের ঢাকারোডের বিসিএমসি কলেজ এলাকার ইয়াসিন আলীর মেয়ে ও আদদ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসা (২৫) তার বোন তানজিলা ইয়াসমিন (২৮)। আহত হয়েছে পিয়াসার খালাত ভাই আরএন রোড এলাকার মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী (২৬), শহরের লোন অফিসপাড়ার এলাকার ব্যবসায়ী ও পিয়াসার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (২৮), আফরোজা তাবাসসুম তিথীর মেয়ে মানিজুর (৩), জ্যেতির বন্ধু শাহিন হোসেন (২৩) ও হৃদয় (২৮)।
নিহতের চাচাত ভাই আব্দুল করিম জানান, গাড়ির চালক শফিকুল ইসলাম জ্যোতির সঙ্গে তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসার (২৫) দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াসাকে তাদের তুলে নেয়ার কথা। এ কারণে জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়। পিয়াসা রাতে ফোন করে জ্যোতিকে জানান, তারা আলোকসজ্জা দেখবেন এবং শহর ঘুরবেন। এ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জ্যোতি তার নিজস্ব প্রাইভেটটি নিয়ে বের হন। গাড়িতে পিয়াসার বোন তানজিলা ইয়াসমিন ও পিয়াসার খালাত ভাবি আফরোজা তাবাসসুম তিথী, তার মেয়ে মানিজুর, জ্যেতির বন্ধু শাহিন হোসেন ও হৃদয় ছিলেন। তারা রাতে আলোকসজ্জা দেখে শহরে তাদের স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পালবাড়ি এলাকা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ফেরার পথে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে যশোর শহরের পুরাতন কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের (আকিজের গলি) পাশে থাকা একটি বিল্ডিংয়ের প্রাচীর ও বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করে গাড়িটি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গাড়িতে থাকা অন্যরা কমবেশি আহত হন। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, একই পরিবারের তিনজন নিহতের ঘটনায় যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নিজামদ্দিন অমিতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ হাসপাতালে হাজির হন। এসময় তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া যশোরের উৎসুখ জনতার ভিড় জমায় হাসপাতালে। এসময় কি ভাবে এবং কি কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন, গাড়ির গতিবেগ ছিল কমপক্ষে ১৮০ কিলোমিটার। কেউ বলছেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার গাড়ির চালক শফিকুল ইসলাম জ্যোতির পরিচিত তামিম জানান, জ্যেতির গাড়ি চালায় খুব রাফ ভাবে। একই কথা বলছেন শহরের আর এন রোডের মোটরপার্টস ব্যবসায়ী কামাল। তিনি জ্যেতিকে অভিযুক্ত করেছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, শুক্রবার নিজেই গাড়ি চালিয়ে জ্যেতি যশোরে এসেছেন। তাতে যথেষ্ট ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তারপর রাতে ফের গাড়ি চালানোর সময় সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা জানিয়েছেন, প্রাইভেটের গতিবেগ খুব বেশি ছিল। এসময় শফিকুল ইসলাম জ্যেতিকে স্লো করার অনুরোধ জানালেও সে শোনেনি।
যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর শেখ তাসমীম আলম বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১টার দিকে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর থেকে আমরা জানতে পারি, শহরের শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কে একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তথ্য পেয়েই পুলিশের রাত্রিকালীন দুটি টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর সেখানে আমিও যাই। ওই প্রাইভেটকারে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও একটি শিশু ছিল। ঘটনাস্থল শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের প্রাক্তন কাস্টমস কমিশনার জিএম কামালের বাড়ির প্রাচীর ও বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করে প্রাইভেটকারটি। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিহত পিয়াসের স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতিকে আটক করা হয়েছে। মাদকাসক্ত ছিলেন কি না তা পরিক্ষার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং মাদকাসক্তের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছে।

যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার ইয়াসিন আলীর মেয়ে তানজিলা ইয়াসমিন (২৮), তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসা (২৫) ও পিয়াসার খালাত ভাই আরএন রোড এলাকার মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী (২৬)। আহত হয়েছেন পিয়াসার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (২৮), আফরোজা তাবাসসুম তিথীর মেয়ে মানিজুর (৩), শাহিন হোসেন (২৩) ও হৃদয় (২৮)।

ইয়াসিন আলীর ভাই, নিহত দুইবোনের চাচা আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ২৩ জানুয়ারি তার ভাতিজি পিয়াসার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার কথা ছিল।

পিয়াসার মামা শাহিনুর রহমান ঠান্ডু সাংবাদিকদের জানান, নিহতরা হলেন যশোর শহরের ঢাকা রোড বিসিএমসি কলেজ এলাকার ইয়াসিন আলীর মেয়ে তানজিলা ইয়াসমিন (২৮), তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসা (২৫) ও পিয়াসার খালাত ভাই আরএন রোড এলাকার মঞ্জুর হোসেনের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী (২৬)। আহত হয়েছেন পিয়াসার স্বামী শফিকুল ইসলাম জ্যোতি (২৮), আফরোজা তাবাসসুম তিথীর মেয়ে মানিজুর (৩), শাহিন হোসেন (২৩) ও হৃদয় (২৮)।

ইয়াসিন আলীর ভাই, নিহত দুইবোনের চাচা আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ২৩ জানুয়ারি তার ভাতিজি পিয়াসার বিবাহোত্তর সংবর্ধনার কথা ছিল।
দুর্ঘটনাস্থল

পিয়াসার মামা শাহিনুর রহমান ঠান্ডু সাংবাদিকদের জানান, শহরের লোনঅফিসপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জ্যোতির সঙ্গে আদদ্বীন সখিনা মেডিক্যালের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী তনিমা ইয়াসমিন পিয়াসার দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। আগামী ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে পিয়াসাকে তাদের তুলে নেওয়ার কথা। সে জন্য জ্যোতির বাড়িতে আলোকসজ্জা করা হয়। পিয়াসা রাতে ফোন করে জ্যোতিকে জানান, তারা আলোকসজ্জা দেখবেন এবং শহর ঘুরবেন। এ কারণে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জ্যোতি তার নিজস্ব প্রাইভেটকার নিয়ে বের হন। গাড়িতে পিয়াসার বোন তানজিলা, খালাত ভাইয়ের স্ত্রী আফরোজা তাবাসসুম তিথী, তার মেয়ে মানিজুর এবং জ্যোতির দুই বন্ধু হৃদয় ও শাহিন ছিলেন। তারা রাতে আলোকসজ্জা দেখে শহরে তাদের স্বজনদের দাওয়াত দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের পালবাড়ি এলাকা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।

ফেরার পথে রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে যশোর শহরের পুরাতন কসবা শহীদ মসিয়ূর রহমান সড়কের (আকিজের গলি) পাশে থাকা একটি বিল্ডিংয়ের প্রাচীর ও বিদ্যুতের খাম্বায় সজোরে আঘাত করে প্রাইভেটকারটি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গাড়িতে থাকা অন্যরা কমবেশি আহত হন।
প্রাইভেটকারের আঘাতে ভেঙে যাওয়া খাম্বা

ঘটনার পরপরই পুলিশ ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। যশোর কোতোয়ালি থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) তাসমীম আলম জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের ব্রাদার (সিনিয়র নার্স) মোফাজ্জেল হোসেন জরুরি বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিনজন মারা যান। আহত শিশুটি আশঙ্কামুক্ত।

খুলনার ফার্মেসীগুলো নকল ওষুধে সয়লাব : কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

ইনভয়েসের মাধ্যমে ওষুধ ক্রয়ের পরামর্শ মহাপরিচালকের

কামরুল হোসেন মনি : ‘যে ওষুধ আমার বাচ্চাকে আমি খাওয়াবো না, আমার স্ত্রীকে খাওয়াবো না, আমার পরিবার-পরিজনকে খাওয়াবো না’- ‘সেই ওষুধ আমি কেনো বিক্রয় করি। আমার তো এই ওষুধ বিক্রয় করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। যারা এই ওষুধ বিক্রয় করে তারা অবশ্যই জেনে শুনে বিক্রয় করেন। একটা হসপিটালের মাল বিক্রয় করলে চুরির অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, বিদেশের ওষুধ অবৈধভাবে আনলে রাষ্ট্রদোহিতার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু একটা জীবনরক্ষাকারী ওষুধ না দিয়ে নকল ভেজাল ওষুধ বিক্রয় করা মনেই হত্যার অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। নকল ভেজাল ওষুধে উৎসাহ কোথায়- এগুলো তৈরি করে কোনো কোম্পানি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
শুক্রবার ১০টায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ মডেল ফার্মেসী ও মডেল মেডিসিন সপ এর প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ সব কথা তুলে ধরে। বিসিডিএস খুলনা জেলা শাখা এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ মোঃ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ, খুলনা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ বিপিএম, খুলনা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ সাইদুল ইসলাম, খুলনার ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক ও খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম কবির উদ্দিন বাবলু। স্বাগত বক্তৃতা করেন ম্যানেজমেন্ট সাইন্সেস ফর হেলথ ভারপপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক ডাাঃ ইফতেখার হাসান খান।
সভায় প্রধান অতিথি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধের জন্য আপাতত যে পদ্ধতি রয়েছে দোকানদারকে ইনভয়েসের মাধ্যমে ওষুধ কিনার জন্য অনুরোধ করেন। কোম্পানির অথোরাইজ যে প্রতিনিধি আছে তার কাছ থেকে ওষুধ নিতে হবে। এর বাইরে নকল ও ভেজাল ওষুধ ঠেকানো সম্ভব না। ফিজিসিয়ান স্যাম্পল ওষুধ কোনো দোকানদার বিক্রয় করতে পারবে না। এটা আমাদের আইনগত নিষিদ্ধ। এটা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা কোম্পানির ফিজিসিয়ান স্যাম্পল (ওষুধ) বিক্রয় না করেন- এ বিষয়ে তিনি খুলনা ডেপুটি সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া এই স্যাম্পল ওষুধগুলো ওষুধ ফার্মেসী দোকানীদের না কেনার জন্য নিদের্শনা প্রদান করেন।
বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক ও খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম কবির উদ্দিন বাবলু বলেন, যতো দিন ওষুধ কোম্পানির ওষুধ ভিজিট করা হবে, ততোদিন ফিজিসিয়ান স্যাম্পল দোকানে পাওয়া যাবে। স্যাম্পল আলাদা কালারের করা হোক, অথবা বন্ধ করা হোক। কারণ আমাদের সাধারণ কেমিস্ট স্যাম্পল ওষুধ আসলে বিক্রয় করতে চায় না- পরিস্থিতির শিকার। এদেশের এই যাদের সার্টিফিকেট নিয়ে আমাদের চলতে হয় সেই ডাক্তার যখন স্যাম্পল বিক্রয় করে দেন দোকারদারদের কাছে- তখন এই ওষুধ দোকান কি করবে? স্যাম্পল ওষুধ দোকানদারের কাছে পেলে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মডেল বাংলাদেশ, মডেল ফার্মেসী ও মডেল মেডিসিন সপ তৈরির আগে নিজেকে তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, অস্ট্রোক্যাল-ডি ট্যান্সকম কোম্পানি যার মূল্য হলো ২১০ টাকা, আমরা কিনি ১৯০ টাকায়। ঠিক একই রকমে দেখা যাচ্ছে শুধুমাত্র ১২ টাকা দুইটা প্যাকেট দেখতে একই রকম। এ রকম হাজারও এই ধরনের ওষুধ আছে। আরেকটি ‘মনিস’ ক্যাপসুল এমআরপি দেড় হাজার টাকা কেনা আছে, শুধুমাত্র ১শ টাকা একটা বক্সের দাম। ফর্মেসী ট্রেনিং এবং লাইসেন্স প্রদানের প্রসঙ্গে বলেন, যে কয়টা বৈধ লাইসেন্স আছে তার চেয়ে অবৈধ লাইসেন্স বেশি। খুলনায় এমন কোনো মাস নেই দুই একটা লাইসেন্সহীন ওষুধের দোকান হচ্ছে না। কিভাবে আগামী দিনে লাইসন্সেবিহীন দোকানগুলো বন্ধ করা যায় সেটা ভাবতে হবে। অথবা শুধুমাত্র মানসম্মত দোকানকে লাইসেন্স দিতে হবে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, নকল ওষুধের কথা আমরা অনেক শুনেছি, আমি কিন্তু দেখিনি। সত্যি কথা বলতে এতো দিন ডাক্তারি করছি, নকল ওষুধ চোখে পড়েনি, আজকে দেখলাম নকল ওষুধ কাকে বলে। একনজরে দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা আসল, কোনটা নকল। প্রশাসন যদি ঠিক থাকে, তাহলে এই চক্রকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, আড়াইশর ওপরে মেডিসিন কোম্পানি রয়েছে দেশে। এর মধ্যে অনেক কোম্পানি মানহীন ওষুধ উৎপাদন করে।
বিসিডিএস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, সাবস্ট্যান্ডার্ড- নি¤œমানের ওষুধ তো ভালো দোকানদার বিক্রয় করে না। যাদের পুঁজি নেই, একটা দোকান খুলে বসছেন, সামান্য কিছু সেল হচ্ছে- তারা এই নকল ওষুধ বিক্রয় করেন।