বটিয়াঘাটার শৈলমারী নদীতে অবৈধ জাল নির্মূলে কম্বিং অপারেশন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ: বটিয়াঘাটায় মৎস্য দপ্তর ও কোস্টগাড এর যৌথ অভিযানে শৈলমারী নদীতে বেহুন্দি ও অন্যান্য অবৈধ জাল নির্মূল করণে এক বিশেষ কম্বিং অপারেশন -২০২০ পরিচালিত হয়। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে কম্বিং অপারেশনে ১ টি বেহুন্দি জাল ও ২০ টি পোনারি জালসহ প্রায় ৭৫ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। উক্ত জব্দকৃত জাল প্রকাশ্য দিবালোকে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড রূপসা রেঞ্জের সহযোগীতায় জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ সাফায়েত আলম, জেলা মৎস্য জরিপ কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আমীর আলী, ক্ষেত্র সহকারী মোঃ মোফিজুল ইসলাম, তারিক আহমেদ, মোঃ নাসিম ও ফরিদ শেখ উপস্থিত ছিলেন।

যশোরে চোরাই সাইকেলসহ আটক ৩

যশোর : যশোরে সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের তিন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে চোরাই ১১টি সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। যশোরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। আটক তিন চোর হলো, যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার চানমিয়ার ছেলে সবুজ ও সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর পূর্বপাড়ার নওয়াব আলীর ছেলে ওয়াদুদ দফাদার ও একই উপজেলার আবাদ কচুয়ার আব্দুল মালেক মোল্যার ছেলে হাসানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জয়নগর গ্রামের আব্দুল গফ্ফার মোল্যার ছেলে রিফাত হোসেন মুন্না শনিবার রংয়ের লেবার হিসেবে যশোর ডিসি অফিসে কাজ করতে আসে। তাই সাইকেলটি ডিসি অফিসের দক্ষিণপাশে গাড়ি রাখার গ্যারেজের মধ্যে রেখে রংয়ের কাজ করতে থাকে। শনিবার অফিস বন্ধ থাকার গ্যারেজের মধ্যে অন্য কোন গাড়ি ছিল না। দুপুরে খাওয়ার জন্য নিচে নামলে তার সাইকেলসহ অন্য আরেক জনের সাইকেলটি খুঁেজ পায় না। পরবর্তীতে ওই স্থান থেকে ইতোপূর্বে অনেকগুলো সাইকেল চুরি হয়েছে বলে সে জানতে পারে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের হস্তান্তর করে।
গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সবুজ ও ওয়াদুদ দফাদারকে আটক করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে হাসানুর রহমানকে আটক করা হয়। এসময় তার বাড়ি থেকে চোরাই ১১টি সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মণিরামপুরের সাবেক ওসি ছয়রুদ্দিনকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

যশোর : মনিরামপুর থানার সাবেক ওসি ছয়রুদ্দিন আহমেদকে দুর্নীতির মামলা থেকে দেয়া অব্যহতির আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তার অব্যহতির আদেশ বাতিল চেয়ে দুদকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন একেএম ফারহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।
গত বছরের ৩ জুলাই যশোর স্পেশাল জজ তাকে চার্জ শুনানির সময় মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। সেই অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়ের করে দুদক।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, যশোরের মনিরামপুর থানার নেহালপুর গ্রামে প্রভাষ চন্দ্র ঘোষ ধান চাষ করেন। সেই জমিতে বিরোধ দেখা দিলে ছয়রুদ্দন আহমেদের হুকুমে প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের ৫ একর জমির মধ্য থেকে ৫ বিঘা জমির ৬১ মণ ৫০০ কেজি ধান কেটে নিয়ে নেহালপুর বাজারে হাটচান্দিতে মাড়াই করে গোডাউন ভাড়া করে রাখেন।
পরে ওই ধান আদালতের কোনো অনুমতি না নিয়ে কোনো ধরনের নিলাম না ডেকে নিজের ইচ্ছেমত ৪১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রভাষ চন্দ্রের অভিযোগ ওই ধান ও পরে টাকা ফেরত চাইলে ছয়রুদ্দিন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। বাদী নিরুপায় হয়ে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। পরে ছয়রুদ্দিন প্রভাষকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা দেন।
এ ঘটনায় প্রভাষ চন্দ্র ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াজেদ আলী গাজী তদন্ত করে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তালায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় পল্লী বিদ্যুতের খুটিতে কাজ করার সময় বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে এক বিদ্যুৎ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পাটকেলঘাটা থানার ছোটকাশিপুর গ্রামেএ ঘটনাটি ঘটে। নিহত বিদ্যুৎ শ্রমিকের নাম ফারুক হোসেন (৩০)। সে লালচন্দ্রপুর গ্রামের শেখ আব্দুল লতিফের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সাড়ে দশটার দিকে ছোটকাশিপুর এলাকায় বিদ্যুতের খুটিতে উঠে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হন বিদ্যুৎ শ্রমিক ফারুক। এরপর সাথে সাথেই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাটকেলঘাটা পল্লী বিদ্যুত সমিতি’র জেনারেল ম্যানেজার সন্তোষ কুমার সাহা জানান, ঠিকাদারের অধীনে বিদ্যুৎ উন্নয়নের কাজ করা সময় এই বিদ্যুৎ শ্রমিকের মৃত্যুু হয়েছে। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।