ফুলতলায় মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় বিএল কলেজ ছাত্র নিহত অপর দু’বন্ধু আহত

ফুলতলা অফিসঃ শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ফুলতলা-জামিরা সড়কের গাড়াখোলা গাজীপাড়া মোড়ে মটর সাইকেল দুর্ঘটনায় রাসেল মোল্যা (২১) নামে কলেজ ছাত্র নিহত ও অপর দুই বন্ধু গুরুতর আহত হন। মৃতঃ রাসেল ডুমুরিয়া উপজেলার চেচুড়ি গ্রামের কুদ্দুস মোল্যার পুত্র। আহত হুমায়ুন ও মাজেদুলের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় ৩ বন্ধু পালসার মটরসাইকেল যোগে (নং-যশোর-ল-১১-৬৪৪৬) বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌছালে রাস্তার পাশে থাকা বাঁশে সজোরে ধাক্কা খেয়ে তারা ছিটকে পড়েন। এলাকাবাসি দ্রæত তাদেরকে উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাসেল মোল্যাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন। আহত হুমায়ুন বিশ্বাস (২০) ও মাজেদুল গাজী (২২) কে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রæত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হুমায়ুন বিশ্বাস মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামের খবির বিশ্বাসের পুত্র ও শাহাপুর মধুগ্রাম কলেজের ডিগ্রী প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং মাজেদুল গাজী চেচুড়ি গ্রামের গনি গাজীর পুত্র ও বিএল কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এ ছাড়া নিহত রাসেল মোল্যা বিএল কলেজের মার্কেটিং প্রথম বর্ষের ছাত্র।

কেশবপুরের সাতবাড়িয়াতে আওয়ামীলীগের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুর: যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয় ২৯শে ফেব্রুয়ারী ২০২০ইং রোজ শনিবার। কর্মীসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর ৬ কেশবপুর আসনের  উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জননেতা শাহীন চাকলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন,সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু, সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, উপজেলা চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, পৌর সভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল,উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রমেশ দত্ত,কেশবপুর নিউজক্লাবের সভাপতি আশরাফুজ্জামান।কর্মী সভায় সভাপতিত্ব করেন ১০নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক জি এম হোসেন। কর্মী সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড মিলন মিত্র,০১নংত্রিমোহিনী ইউপি চেয়ারম্যান এস এম আনিছুর রহমান আনিছ,০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক আব্দুল আলিম বাবুল বিশ্বাস,০২ নং সাগরদাঁড়ী ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মুস্তাফিজুল  ইসলাম মুক্ত,০৮ নং সুফলাকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ,১০ নং সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন দফাদার, ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা মশিয়ার রহমান দফাদার,আবু বক্কর সিদ্দিক,ইউপি সদস্য মাষ্টার কামরুজ্জামান টিটো,ইউপি সদস্য লিপিকা ঘোষ,ইউপি সদস্য নূর ইসলাম,ইউপি সদস্য মো:মুজিবর রহমান, ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমজেদ হেসেন,মাসুম বিল্লাহ,শামীম রেজা,যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী,কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কাজী আজহারুল ইসলাম মানিক সহ প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে জননেতা শাহীন চাকলাদার বলেন আওয়ামীলীগের সংগঠনকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আর এজন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ। সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার শক্তিশালী হবে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে ধর্ষনের অভিযোগ : ইর্ন্টানী চিকিৎসক গ্রেফতার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ক্লিনিকের রিসিপশন বিভাগের এক মেয়েকে কোমলপানীর মধ্যে চেতনাাশক ঔষধ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইর্ন্টানী চিকিৎসক রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ধর্ষিতা ওই মেয়ে বাদী হয়ে ধর্ষক রিয়াজুলসহ তিন জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী রিয়াজুল ইসলাম (২৫) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দিপুর গ্রামের আনসার আলীর ছেলে ও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইর্ন্টানী চিকিৎসক।
এ মামলার অপর দুই পলাতক আসামীরা হলেন, কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও সদর উপজেলার বাঁকাল গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান মিঠুন(৩৬)।
এদিকে, ধর্ষিতা ওই মেয়ে (১৬) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। মেয়েটি বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারী মেয়েটি শহরের পলাশপোল এলাকার শিমুল মেমোরিয়াল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্ট সেন্টারে রিসিপশন বিভাগে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে চিকিৎসক রিয়াজুল তাকে বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভনসহ কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই জেরে গত বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে ওই ক্লিনিকের ৫ তলায় ২ নং আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সহযোগিতায় চিকিৎসক রিয়াজুল তাকে কোমলপানীয় কোকোকোলার মধ্যে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। ঘটনাটি ক্লিনিক মালিক ৩ নং আসামী মিজানুর রহমান মিঠুনকে জানানোর পর তিনি বিষয়টি সমঝোতা করবেন বলে সময় ক্ষেপন করতে থাকেন এবং টাকা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। কোন উপায় না পেয়ে অবশেষে শুক্রবার রাতে মেয়েটি ধর্ষক ইর্ন্টানী চিকিৎসক রিয়াজুলসহ উক্ত তিন জনের নামে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ওই ইর্ন্টানী চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মেয়েটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার শেষে গ্রেফতারকৃত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান,এ মামলার অপর দুই পলাতক আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্ত্রীর পরকীয়া জানাজানিতে প্রবাসী স্বামীর আত্মহত্যা

ডুমুরিয়া (খুলনা) : স্ত্রীর পরকীয়ায় সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুর রহমান গাজীর (৪৬) আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে ১২টায় সৌদি আরবের কনফুদা এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার খবরটি সাথে সাথে ইন্টারনেট- মোবাইলে ছড়িয়ে পড়লে ডুমুরিয়ার আন্দুলিয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসিসূত্রে জানা যায়; পরকীয়ার বলি আব্দুর রহমান গাজীর বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামে। পেশায় ছিল একজন রাজমিস্ত্রি। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করতেন। ১০ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি। ২ পুত্র সন্তান জন্মের পর আব্দুর রহমান গাজী ১ম স্ত্রীকে তালাক দেন। পরবর্তীতে প্রেমের সুত্র ধরে আব্দুর রহমান খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘরা গ্রামের হেকমত আলী বিশ্বাসের একাধিক স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে মুর্শীদা সুলতানা (৩০) কে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনে মিম নামে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। মিমের বর্তমান বয়স ৫ বছর। আব্দুর রহমান গাজী বসবাসের ভিটেটুকু ছাড়া সকল জমিজমা সম্পদ বিক্রি করে সর্বশান্ত হন। ধারদেনা করে বড় ছেলে সাগরকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন। ছোট ছেলে আকাশ তার মায়ের সাথে মামার বাড়ি অবস্থান করে পড়ালেখা করে। শেষ সম্বল বাড়িটাও অবশেষে স্ত্রীর চাপে ৭ শতক জমিসহ মুর্শীদার নামে লিখে দেয়।
মুর্শীদা আন্দুলিয়া গ্রামের আঃ রহমান বিশ্বাস ওরফে কুদা’র ছেলে ব্যবসায়ী শাহ বিএম কিবরিয়ার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। অনেকটা স্বামী স্ত্রীর মতই ছিল কিবরিয়া ও মুর্শীদার মেলামেশা। কিবরিয়ার অবাধে যাতায়াত চলে মুর্র্শীদার ঘরে। পাশের বাড়ির ইজিবাইক চালক মোঃ রাশেদ আকুঞ্জী জানায়; কিবরিয়া বিভিন্ন সময়ে খাবারসহ জিনিসপত্র নিয়ে প্রায়ই মুর্শীদার ঘরে প্রবেশ করতো। যা সবার নজরে ছিল।
আব্দুর রহমানের সৎ মা রহিমা বেগম জানায়; আত্মহত্যার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টায় আমাকে ফোন দিয়ে রহমান মুর্শীদার ঘরে যেতে বলে। রহমান আমাকে বলেছিল ঘরে লোক ঢুকেছে, আমাকে সে ভিডিও কলের মাধ্যমে লোকটাকে দেখিয়েছে। তখন আমি বউমাকে ডাকলে দরজা না খোলায় আমি ফিরে আসি।
বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে সহকর্মীরা আব্দুর রহমানের অবস্থান না থাকায় তাকে খুঁজতে থাকে । একপর্যায়ে মরুভূমির মাঝে একটি ঘরে ঝুলান্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানের লাশ উদ্ধার করেন প্রবাসি চাচাতো ভাই এমদাদুল হক ও ওলিয়ার রহমান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আব্দুর রহমানের আত্মহত্যার নেপথ্য কাহিনী উদঘাটন ও ৩ সন্তানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আন্দুলিয়া গ্রামের ঐ বাড়িতে শোকাহত পরিবেশে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এক আলোচনায় বসেন। বৈঠকে মুর্শীদা সুলতানা তার পরকীয়া প্রেমের উপাখ্যান অকপটে স্বীকার করেন এবং আব্দুর রহমানের ৩ সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের নামের বসবাসের ভিটে তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার ঘোষণা দেয় এবং মুর্শীদা শেষমেশ তার পরকীয়া প্রেমিক কিবরিয়ার ঘরে উঠিয়ে দেয়ার জন্য সুধিজনদের কাছে দাবি জানান।
বৈঠকে উপস্থিত সুধিজনদের নিকট মুর্শীদা সুলতানা জানায়; আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে কিবরিয়ার স্ত্রীর মোবাইলে ম্যাসেজ দিত। তখন আমি আমার স্বামীকে বলেছিলাম আমিও কিবরিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেম করবো। কিন্তু মুর্শীদা বৈঠকে তার কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। যা এলাকাবাসি অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
এদিকে আব্দুর রহমানের লাশ ফেরত আনার ব্যাপারে তার বড় ছেলে ও চাচাতো ভাইয়েরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
এদিকে ৯৯৯ নং এ মুর্শীদার উপর টর্চার এবং মারধর করছে তার পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডুমুরিয়ার রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমদাদুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায়। কিন্তু পুলিশ মুর্শীদা এবং তার মায়ের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিযোগের কোন সত্যতা পাননি বলে জানালেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। তখন পুলিশকর্তা তাদেরকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ধৈর্য্য ধারণ করার পরামর্শ দেন।

সাতক্ষীরায় পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় পৃথক দুটি সড়ক দূর্ঘটনায় দুই জন নিহত হয়েছে। শনিবার সকালে তালায় উপজেলার বালিয়া বেইলি ব্রীজের পাশে ও সাতক্ষীরা শহরের এসপি বাংলোর সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, তালা উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের কৃষ্ণ দাসের ছেলে গনেশ দাস (৪৮) ও সদর উপজেলার পরানদহ গ্রামের গোলাম রহমান (৫০)। স্থানীয়রা জানায়, সকালে গনেশ দাস বাড়ী থেকে গরু নিয়ে বিলে কাজ করতে যাওয়ার সময় তালা উপজেলার বালিয়া বেইলি ব্রীজের পাশে পৌছালে পিছন দিকে থেকে একটি ইট বোঝাই ট্রলি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানয়ীরা তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ সময় তার সাথে থাকা গরুটিও ঘটনাস্থলে মারা যায়। এদিকে, দুপুরে শ্রমিক গোলাম রহমান শহরের কাটিয়া এলাকা থেকে মাটির কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার সময় পথিমধ্যে শহরের এসপি বাংলোর সামনে পৌছালে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী একটি বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ঘটনা স্থলেই মারা যান। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান পৃথক দুটি স্থানের সড়ক দূর্ঘটনায় দুই জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

খুলনার বাজারে করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব

আজগর হোসেন ছাব্বির : করোনা ভাইরাসের কারনে চীন থেকে পণ্য আমদানী বন্ধ রয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুলনার বাজারে। চায়নার প্রতিটি পণ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দাম বেড়ে গেছে। তাই এ সব পণ্য কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।
বিশ^ অর্থনীতির জন্য একটা বড় ধাক্কা করোনা ভাইরাস। ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিভিন্নখাতে চীন যেমন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন, তেমনি এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীন থেকে একদিকে যেমন আসছেনা কোন মূলধনী সরঞ্জাম, তেমনি আসছেনা কোন শিল্পের কাঁচামাল। শেষ হয়ে আসছে চীন থেকে আমদানীকৃত টিভি, ফ্রিজ, এসি, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, ফ্যান, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইলসহ সকল ধরনের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক পণ্য-সামগ্রীর দেশীয় মজুত। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে উৎপাদিত বা বাজারজাতকৃত অনেক আন্তর্জাতিক ব্যান্ড এর বাংলাদেশে রিজার্ভকৃত কম্পিউটার মোবাইল টিভি এসি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহে মারাত্বক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। কারণ ওই সকল ব্র্যান্ডের অনেক সহযোগী কারখানা চীনে অবস্থিত। তারই ফলশ্রুতিতে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চীনের কারখানাগুলো একের পর এক বন্দ হয়ে যাওয়ায় আমাদের দেশে ১০০% চায়না নির্ভর ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড বিক্রয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা চীন থেকে আমদানীকৃত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগরীর জলিল টাওয়ার, খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, ডাকবাংলা সুপার মার্কেট, এস, এম, এ রব শপিং কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য মার্কেট ঘুরে এমন অবস্থা দেখা গেছে। জলিল টাওয়ারের এন এন্ড কম্পিউটারের প্রোপাইটার সুমিত কুমার ঘোষ বলেন, মাদার বোর্ড, মনিটর, হার্ডডিক্স, র‌্যাম, প্রসেসর, কি বোর্ডসহ কম্পিউটারের সকল সামগ্রী চায়না থেকে আমদানী করা হয়। করোনার প্রভাবে গত ১ মাসের ব্যবধানে প্রতিপিচ হার্ডডিক্সের দাম ৩ থেকে ৭ শ’ টাকা, র‌্যামে ৮ থেকে ৯ শ’ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই মার্কেটের নিউ বেষ্ট ওয়ে কম্পিটারের মালিক সঞ্জয় গোলদার জানায়, গত ১ মাসের ব্যবধানে প্রতিপিচ মাদারবোর্ড ৪ থেকে ৬ শ’ টাকা, প্রিন্টার ৫ শ’ থেকে হাজার টাকা দাম বেড়ে গেছে। অস্বাভাবিক এই মূল্য বৃদ্ধির কারনে বর্তমানে বেচাকেনা অর্ধেকের নীচে নেমে গেছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসে যাবে এমন দাবী তাদের। মূল্য বৃদ্ধির জন্য তারা পাইকারী ডিলারদের দায়ী করে বলেন আমদানী বন্ধ থাকায় ষ্টক সীমিত হয়ে আসছে। ডিলারদের কাছে যে পণ্য সামগ্রী মজুদ আছে তারা সেটা এই মুহুর্তে বাজারে ছাড়তে চাইছেনা। খুলনা শপিং কমপ্লেক্স এবং রব শপিংয়ে মোবাইল বাজার ঘুরে অনুরুপ অবস্থা দেখা যায়। ডাকবাংলা সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক বাজার ঘুরে দেখা যায় চীন নির্ভর সকল পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। খুরশীদ ইলেকট্রিক হাউজের ম্যানেজার টুটুল জানায়, পি আই বি টেপ ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ১৬০ টাকার স্থলে ১৯০ টাকা, তিশা টেপ ২৪০ এর স্থলে ৩০০ টাকা প্রতি ডজনে বেড়ে গেছে। কলিংবেল, সুইচ, এম সিভি চ্যানেল, তারসহ সকল ইলেকট্রিক মালামালের সরবরাহ না থাকায় অনুরুপ মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ অতিরিক্ত মুনাফার লোভে চীন থেকে আমদানী বন্দ থাকবে এমন গুজব ছড়িয়ে ব্যবসায়ীরা বাজারে পণ্যের কৃত্তিম সংকট তৈরী করছে। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী সাময়িক এই সংকটকে পুঁজি করে অধিক মুনাফার পায়তারা করে ক্রেতা সাধারণ এ বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারী কামনা করেছে।
খুলনা কম্পিউটার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সরদার মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ফেব্রুয়য়ারী মাসে চায়না মার্কেট লম্বা ছুটিতে থাকে। তাই ব্যবসায়ীরা আগে থেকে এলসি করে থাকে। এই মুহুর্তে কম্পিউটার সামগ্রীর দাম তেমনভাবে বাড়েনি। কিন্তু মেমোরী সম্পর্কীত পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। তবে দ্রুত করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার না হলে আমাদের আইটি সেক্টরসহ ইলেক্ট্রনিক্স বাজার মারাত্বক ক্ষতির সন্মুখীন হবে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক চায়না পণ্যের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, চীন সংঘবদ্ধ একটি জাতি। তারা তাদের নিজ স্বার্থে এই সংকট থেকে উত্তরনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তবে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে সকল ধরনের আমদানী পণ্যের যথেষ্ট পরিমান মজুদ আছে। সুতরাং অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, শুধুমাত্র আমদানী নয়, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানীযোগ্য বিভিন্ন পণ্য রপ্তানীতেও ভাটা পড়েছে।
মূলত দুই ধরনের ক্ষতির সন্মুখীন হবে বাংলাদেশ। একটি অবকাঠামোগত উন্নয়নে। অন্যটি উৎপাদনগত উন্নয়নে। করোনা ভাইরাসের কারণে আমদানী-রপ্তানী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে পণ্য ক্রয় ক্ষমতা সাধারণ মানুষের বাইরে চলে যাবে। ফলে মুদ্রাস্ফীতিসহ অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। যা আগামী বাজেটে বড় প্রভাব ফেলবে। এর আগে চলতি অর্থ বছরে যে সংশোধিত বাজেট আসবে সেখানে আমরা একটা বড় ধরনের সংশোধন দেখতে পাবো। সরকার এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিকল্প উপায় খুঁজছেন স্বজনরা

ঢাকা অফিস : আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি। জামিন আবেদন খারিজ হওয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিকল্প উপায় খুঁজছেন স্বজনেরা। দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের কথা বললেও তা নিয়ে দলে রয়েছে নানান মত। এদিকে, আন্দোলন চাঙ্গা করতে কমিটিতে দলের তরুণদের প্রাধান্য দেয়ার কথা বলছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সর্বশেষ আবেদনে নতুন কোনও কারণ না থাকায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেয় উচ্চ আদালত। পাশাপাশি খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসা শুরু করারও আদেশ দেয়া হয়।

যদিও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন মনে করেন রাজনৈতিক কারণেই খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি। তবে তার মতে, রাজপথে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো সাহসী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে দলে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে এতোদিন কারাগারে রাখার ফলে যারা বিএনপি সমর্থন করে না তাদেরও তার প্রতি একটি সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বে আরও সৎ এবং সাহসী হতে হবে। তাহলেই রাজপথ উত্তপ্ত করে তাকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এদিকে, জামিন আবেদন খারিজ হলেও খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় তার মুক্তির জন্য বিকল্প পথও খুঁজছেন স্বজনরা। খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন,এই অবস্থায় তাকে এখানে আর বেশিদিন রাখা ঠিক হবে না। আমরা চিন্তা করছি,তবে এখনও কিছু ঠিক করি নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের কথা বলা হলেও পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে বিএনপির অনেকেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আন্দোলন কখন যে টার্ন নিবে তা বলা যায়না। বেগম জিয়া জেলে থাকবে আর এদেশের মানুষ বের হবে না তা হয় না।

তবে আন্দোলন চাঙ্গা করতে দলের কাউন্সিলসহ স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের তাগিদ দিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন,বিএনপির বিভাগীয় কাউন্সিল করা দরকার। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে তাদের আরও নতুন ছয় সাতজন কম বয়সি লোক নেয়া দরকার। আমার মত বৃদ্ধদের নিয়ে কোন লাভ নেই।

খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের সাথে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনসহ অন্যান্য জনসম্পৃক্ত ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করারও পরামর্শ তার।

দিল্লীতে মসজিদে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ সমাবেশে ইমাম পরিষদের হুশিয়ারী

মোদীর আগমন ঠেকাতে প্রয়োজনে বিমান বন্দর ঘেরাও করা হবে

আজগর হোসেন ছাব্বির : প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধু আপনার পিতা নয়, তিনি এদেশের শ্রেষ্ট সন্তান ১৬ কোটি মানুষের নেতা। এই মহান নেতার জন্ম শত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদীর মত একজন মানবতা বিরোধী কসাই অতিথি হিসাবে থাকতে পারেনা। আমরা যখন এই নেতার জন্য পবিত্র কুরআন তেলোয়াত করছি তখন পবিত্র মসজিদ ও কুরআন শরীফে অগ্নি সংযোগের গডফাদার মোদী সেই নেতার অনুষ্ঠানে থাকতে পারেনা।
শুক্রবার বাদ জুম্মা খুলনার ডাকবাংলার মোড় চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে খুলনা জেলা ইমাম পরিষদ নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। দিল্লীতে মসজিদ ও কুরআন শরীফে আগুন, মুসলমানদের বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ বর্বরোচীত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে জেলা ইমাম পরিষদ এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়। সমাবেশে বক্তারা মোদীর আগমন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবী জানিয়ে বলেন এরপর ও যদি তাকে আনার চেষ্টা করা হয়, তাহলে ঢাকা শহর মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত হবে। তারা হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন প্রয়োজনে ইমাম পরিষদ বিমান বন্দর ঘেরাও কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে। তারা বলেন মুসলমানেরা নিজ ঘরের আগুন মেনে নিতে পারে, কিন্তু আল্লাহ’র ঘর মসজিদে আগুন মেনে নিতে পারেনা। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকান্ড নির্যাতন বন্ধ করে মোদীকে মুসলমানদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করার আহবান জানান। সমাবেশে বক্তারা ভারতের মুসলমানদের পাশে দাড়াতে সকল মুসলিম উম্মার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, এই ইস্যুতে আমরা এদেশে কোন সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হতে দেবনা। খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি আলহাজ¦ মাওলানা মোঃ সালেহ আহম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন, ইমাম পরিষদনেতা মুফতি গোলামুর রহমান, মাওলানা আ ফ ম নাজমুস সউদ, মাওলানা আসাদুজ্জামান, মাওলানা কারামত আলী, মাওলানা মুশফিকুর রহমান, মাওলানা মোশারফ হোসেন, মুফতি সেফাতুল্লাহ, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ফরিদী, মুফতি ইমরান বিন হুসাইন, মাওলানা মুফতি অলিউল্লাহ, মাওলানা ইলিয়াজ হুসাইন, মাওলানা ইব্রাহীম খলিল, মাওলানা হেকমত আলী, মাওলানা নুর সাইদ জালালী, মাওলানা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ থেকে এ বর্বরোচীত ঘটনার জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ এবং সংসদে বিশেষ অধিবেশন আহবান করে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহন করতে সরকারের নিকট দাবী জানানো হয়। একই ইস্যুতে আগামী পহেলা মার্চ রবিবার বাদ আছর ফেরীঘাট মোড় থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষনাসহ ১৪ মার্চ কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষনার দাবীতে খুলনা মহাসমাবেশের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়। সমাবেশ শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নিউ মার্কেট বায়তুন নুর মসজিদ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

তালায় ট্রলির ধাক্কায় কৃষক নিহত

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় ইট বহনকারী ট্রলির ধাক্কায় গণেশ ঘোষ (৪৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত কৃষ্ণ পদ ঘোষের পুত্র। শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টার দিকে তালা উপজেলার বালিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকালে কৃষক গণেশ ঘোষ গরু নিয়ে বাড়ি থেকে মাঠের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বালিয় ব্রিজের কাছে বিপরীত দিক থেকে ইটবাহী একটি ট্রলি ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থ্য়া গণেশ ঘোষকে তালা হাসপাতালে নিয়ে আসলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ ১৯২০ থেকে ১৯৭৫

ইউনিক নিউজ ডেক্সঃ ১৯২০ঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।
১৯২৭
৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন।
১৯৩৪
১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে।
১৯৩৭
চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।
১৯৩৮
১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী।
১৯৩৯
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধু স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন।
১৯৪০
শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়।
১৯৪২
এস.এস.সি পাস করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। বঙ্গবন্ধু এই বছরেই পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।
১৯৪৩
সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
১৯৪৪
কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতাস্থ ফরিদপুর বাসীদের একটি সংস্থা ‘ফরিদপুরস্থ’ ডিসট্রিক্ট এসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৪৬
বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।
১৯৪৭
কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে কোলকাতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে’ বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক-ভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন। ২ মার্চ ভাষা প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবμমে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে সারাদেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৪৯
২১ জানুয়ারি শেখ মুজিব কারাগার থেকে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। কর্মচারীদের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে তাকে জরিমানা করে। তিনি এ অন্যায় নির্দেশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহি®কৃত হন। ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারণে গ্রেপ্তার হন। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন। জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন। সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন। ১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারে তাকে প্রায় দু বছর পাঁচ মাস জেলে আটক রাখা হয়।
১৯৫২
২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। এর প্রতিবাদে বন্দি থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্দি মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একটানা ১৭ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। জেলখানা থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে তাকে ঢাকা জেলখানা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি “পিকিং”-এ বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন।
১৯৫৩
৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়। এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
১৯৫৪
১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়। ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।
১৯৫৫
৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন। ২৫ আগস্ট করাচীতে পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বলেন,

Sir, you will see that they want to place the word ‘East Pakistan’ instead of ‘East Bengal’. We have demanded so many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word ‘Bengal’ has a history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. If you want to change it then we have to go back to Bengal and ask them whether they accept it. So far as the question of One-Unit is concerned it can come in the constitution. Why do you want it to be taken up just now? What about the state language, Bengali? What about joint electorate? What about Autonomy? The people of East Bengal will be prepared to consider One-Unit with all these things. So, I appeal to my friends on that side to allow the people to give their verdict in any way, in the form of referendum or in the form of plebiscite.

অনুবাদ : “স্যার আপনি দেখবেন ওরা পূর্ববাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে; আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে এর একটা ঐতিহ্য। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এক ইউনিটের প্রসঙ্গটা গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আপনারা এই প্রসঙ্গটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলাভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে? যুক্ত নির্বাচনী এলাকা গঠনের প্রসঙ্গটারই কি সমাধান? আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধেই বা কি ভাবছেন? পূর্ববাংলার জনগণ অন্যান্য প্রসঙ্গগুলোর সমাধানের সাথে এক ইউনিটের প্রসঙ্গটাকে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন। ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৬
৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে খসড়া শাসনতন্ত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। ১৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সভায় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন বঙ্গবন্ধু। ৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল বের করা হয়। চকবাজার এলাকায় পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে ৩ জন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
১৯৫৭
সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট তিনি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফর করেন।
১৯৫৮
৭ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়। প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়।
১৯৬১
৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। সামরিক শাসন ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এ সময়ই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬২
৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। ২৫ জুন বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন। ৫ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু লাহোর যান, এখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। অক্টোবর মাসে গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সারা বাংলা সফর করেন।
১৯৬৩
সোহরাওয়ার্দী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে পরামর্শের জন্য লন্ডন যান। ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন।
১৯৬৪
২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্বলিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। দাঙ্গার পর আইয়ুব বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৬৫
শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলা দায়ের। এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।
১৯৬৬
৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। এ সময় তাকে সিলেটে, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বার বার গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম তিন মাসে আট বার গ্রেফতার হন। ৮ মে নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতা শেষে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়।
১৯৬৮
৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সি এস পি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচার কার্য শুরু হয়।
১৯৬৯
৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। পরে ১৪৪ ধারা ও কার্ফু ভঙ্গ, পুলিশ-ইপিআর-এর গুলিবর্ষণ, বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার ১ ফেব্রুয়ারি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তিদান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তিদান প্রত্যাখ্যান করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু রাওয়ালপিন্ডিতে আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, ‘গণ-অসন্তোষ নিরসনে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।’ পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদরা বঙ্গবন্ধুর দাবি অগ্রাহ্য করলে ১৩ মার্চ তিনি গোলটেবিল বৈঠক ত্যাগ করেন এবং ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন। ২৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু তিন সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে লন্ডন গমন করেন। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।
১৯৭০
৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রসঙ্গ আওয়ামীলীগ কে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন এবং ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ২৮ অক্টোবর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বেতার-টিভি ভাষণে ৬ দফা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। ১২ নভেম্বরের গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকার ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দুর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্ত-মানবতার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের উদাসীনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গোর্কি উপদ্রুত মানুষের ত্রাণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।
১৯৭১
৩ জানুয়ারি রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যরা ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচনা এবং জনগণের প্রতি আনুগত্য থাকার শপথ গ্রহণ করেন। ৫ জানুয়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে সর্বাধিক আসন লাভকারী পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনে তার সম্মতির কথা ঘোষণা করেন। জাতীয় পরিষদ এক বৈঠকে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২৮ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনদিন বৈঠকের পর আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুট্টো ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে দুই প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের প্রতি ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান। ১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে জনাব ভুট্টোর দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভুট্টো সাহেবের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ক্ষমতা একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ।’ ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ৩ মার্চ সারা বাংলায় হরতাল পালিত হবার পর বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানান। ৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’। ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃঙ্খল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।” শত্রু“র বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। একদিকে রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়ার নির্দেশ যেত অপরদিকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ যেত, বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলতেন। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, গাড়ি, শিল্প-কারখানা সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেছে। ইয়াহিয়ার সব নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগ আন্দোলনে বাংলার মানুষের সেই অভূতপূর্ব সাড়া ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মূলত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুই রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। ১৬ মার্চ ঢাকায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার জন্য জনাব ভুট্টো ও ঢাকায় আসেন। ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো আলোচনা হয়। ২৫ মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হবার পর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন :

This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.

অনুবাদ : ‘সম্ভবতঃ এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’] এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ট্রান্সমিটারে প্রেরিত হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আμমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রু দের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু কে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।
-শেখ মুজিবুর রহমান

হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষণিক-ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। রাতেই এই বার্তা পেয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালি জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করা হয় গভীর রাতে। স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার অপরাধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১-১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ তাকে বন্দি অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬শে মার্চ জেঃ ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ লাভ করে স্বাধীনতা। তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের লায়ালপুর সামরিক জেলে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার করে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ বঙ্গবন্ধুর জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানায়। ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই পাকিস্তানের কোন অধিকার নেই তাকে বন্দি করে রাখার। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বহু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে।

১৯৭২
৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠান হয়। ৯ জানুয়ারি লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাৎ হয়। লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লি−তে যাত্রা বিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু বিমান বন্দর বন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে লক্ষ জনতার সমাবেশ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ভারত যান। ২৪ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান। ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ১ মে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ৩০ জুলাই লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর পিত্তকোষে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর লন্ডন থেকে তিনি জেনেভা যান। ১০ অক্টোবর বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কারে ভূষিত করে। ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ (৭ মার্চ ১৯৭৩) ঘোষণা করেন। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০,০০০ প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/ স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্স এর প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
১৯৭৩
জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৯৩ আসন লাভ। ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ঐক্য-ফ্রন্ট গঠিত। ৬ সেপ্টেম্বর জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনের যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু আলজেরিয়া যান। ১৭ অক্টোবর তিনি জাপান সফর করেন।
১৯৭৪
২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দান। ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গমন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।

২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ। ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন। বঙ্গবন্ধু ২৫ ফেব্রুয়ারি এই জাতীয় দলে যোগদানের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাঙালি জাতিকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তাই স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজান। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্ল−বের কর্মসূচি ঘোষণা দেন যার লক্ষ্য ছিল- দুর্নীতি দমন; ক্ষেতে খামারে ও কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। এই লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত করবার মানসে ৬ জুন বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পান। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। চোরাকারবারি বন্ধ হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্ষমতার আওতায় চলে আসে। নতুন আশার উদ্দীপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু মানুষের সে সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয় না।

১৯৭৫
১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাষী অফিসার বিশ্বাস ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শেখ কামাল, পুত্র লেঃ শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নীপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হবার পর দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। শুরু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কেড়ে নেয়া হন জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার। বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্ম-স্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেবার জন্য এক সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে। খুনিদের বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে।

সূত্র : জাতির জনক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, রাস্তা-৩২, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯