যশোরে শিশুকে হত্যা করে গর্ভবতী মায়ের আত্মহত্যা

যশোর : যশোরের শার্শা লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে ৬ বছরের শিশুকে বালিশ চাপা দিয়ে গর্ভবতী মা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মেয়েকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন, রামচন্দ্রপুর গ্রামের আল মামুনূর রহমান ওরফে খোকনের স্ত্রী জুলেখা খাতুন (২৬) এবং তার মেয়ে আমেনা খাতুন (৬)। রাম চন্দ্রপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন জানান, শনিবার সকালে খোকনের মেয়ে জুলি বাড়ির পাশে গ্যাদোর দোকানে যায়। এসময় জুলির গলায় স্বর্ণের চেইন দেখে গ্যাদোর মেয়ে নিজের দাবি করে ছিনিয়ে নেয়। সে বাড়ি এসে মা জুলেখাকে বিষয়টি জানালে সে গ্যাদোর দোকানে যান। দোকানদার জুলেখার মেয়ে চোর বলে অপবাদ দিলে সে অপমানিত হয়ে বাড়ি চলে আসে। আমেনাকে ঘরের মধ্যে নিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ঘরের আড়ার সাথে শাড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। নিহতের স্বামী খোকন বলেন, সকালে খাওয়ার পর মাঠে কাজ করতে থাকি। এসময় বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে এসে দেখি মেয়ের মা ও মেয়ের মৃত দেহ পড়ে আছে। সে এমন কাজ করবে আমি কখন ভাবতে পারি এমন ঘটনা ঘটাবে। খোকনের বোন সীমা খাতুন জানান, ‘সকালে আমার ভাবি সবার সাথে দেখা করে, আমার ভাইয়ের কাজে যাওয়ার গোজগাজ করে দিলে কাজে চলে যায়। কিছু পরে ভাবিকে ডাকতে থাকলে কোন সাড়া পাই না। এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে সিটকি দেয়া। পাশের জানলা দিয়ে দেখতে পাই, ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে আছে। পরিবারের লোকজন এসে দরজা ভেঙ্গে দেখি পাশে মেয়েটার মৃতদেহ পড়ে আছে। শার্শা থানার পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্ধেহে স্বামীসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

বাগেরহাটে গৃহবধুর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে হাতের মেহেদী রং শুকাতে না শুকাতেই গৃহবধু সোনিয়া বেগম (১৯) এর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার সকালে হোচলা গ্রামে শ্বশুরবাড়ীতে একটি সবেদা গাছের ডালের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়,সাতবাড়িয়া গ্রামের বিল¬াল হোসেনের কন্যা সোনিয়ার সাথে গত তিন মাস পূর্বে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে হোচলা গ্রামের জামাল ফরাজীর পুত্র রহিম ফরাজীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। গৃহবধুর শ্বশুরবাড়ীর লোকজনের দাবী সে রাতের কোন এক সময় সকলের অজান্তে গাছের ডালের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে কি কারনে আত্মহত্যা করেছে এ রিপোর্ট লেখা পযন্ত তাৎক্ষনিক জানা যায়নি। এ ব্যাপারে সংশিষ্ট মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

বাগেরহাটে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে আটক ১

বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের রামপালে ৪র্থ শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে এক ব্যাক্তিকে আটক করেছে রামপাল থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যাক্তির নাম ওসমান মোড়ল (৩০)। সে ভুইয়ারকান্দর গ্রামের এস্কেন মোড়ল এর পুত্র। তার বিরুদ্ধে ১/০২/২০১৯ তারিখে রামপাল থানায় একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ সবুর জানান, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় ওসমান মোড়ল ৯ বছর বয়সী ওই নাবালিকাকে গাছ থেকে কাঠবাদাম পেড়ে দেয়ার প্রলোভনে পার্শবর্তী বাগানে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষন করে ও ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতী প্রদর্শন করে। বাড়ি ফিরে একপর্যায়ে মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মায়ের কাছে ঘটনা প্রকাশ করে। শনিবার ভিকটিমের মা বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা দায়ের করে। এ ব্যাপারে রামপাল থানার ওসি মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,এ ব্যাপারে রামপাল থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামীকে আটক করেছে। ভিকটিমকে আগামীকাল (রবিবার) ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।

পাইকগাছায় বিদেশী রিভলবার ও গুলি সহ আটক ১

স্নেহেন্দু বিকাশ, পাইকগাছা : পাইকগাছায় বিদেশী রিভলবার ও তাজা গুলি সহ একাধিক মামলার আসামী ওবায়দুল্লাহ জোয়াদ্দার (৪৫) কে পুলিশ আটক করেছেন। সে উপজেলার বান্দিকাটি গ্রামের মৃত ওহাব জোয়াদ্দারের ছেলে। থানা পুলিশ সুত্র জানিয়েছেন, মাদক ও জুয়া বিরোধী অভিযান চলাকালে শনিবার রাত ১২ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই অভিজিৎ পাল,নিমাই চন্দ্র কুন্ড ও মিন্টু মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাহামুদকাঠি বাজার থেকে ওবায়দুল্লাহকে আটক করে। এ সময় মিলন নামে আর একজন পালিয়ে জায়। ঘটনার সময়ে তার দেহ তল্লাসী করে একটি বিদেশী ‘৩৮ বোরোর রিভলবার ও ৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওবায়দুল্লার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে, যার নং- ৩। ওসি এমদাদুল হক শেখ জানান, আটক ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ টি অস্ত্র মামলা সহ বিভিন্ন অপরাধে এ পর্যন্ত ১২ টি মামলা রয়েছে। আটক যুবকের স্বীকারোক্তি মতে সর্বশেষ ঘটনায় কারা জড়িত তাদেরকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দাকোপে প্রধান শিক্ষকের কিলে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী হাসপাতালে

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপে প্রধান শিক্ষকের এক কিলে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী হাসপাতালে। ঘটনার পর যন্ত্রনাকাতর শিশুটি সেখানেই শুয়ে পড়ে। কিন্তু পাষন্ড শিক্ষক সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে স্কুল ছেড়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষকের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা সদর আনন্দ নগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ভুক্তভোগীর সহপাঠিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ৫ম শ্রেনীর ইংরেজী বই পাঠদানে যায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন কুমার বিশ্বাস। তিনি শ্রেনী কক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ডেকে স্কুলে থাকা জন্ম নিবন্ধনের ফাইল এগিয়ে দিয়ে সে গুলো বাছাই করতে নির্দেশ দেন। বাছাই চলাকালীন আবার তাদেরকে নির্দিষ্ট আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় দৃষ্টি জোয়াদ্দার এবং জুই খাতুন নামের ২ ছাত্রী ছিটে ফিরতে দেরি করে। এ ঘটনায় উত্তেজিত শিক্ষক সুমি নামের অপর ছাত্রীকে ডেকে বলে “এদের দু’জনকে মেরে ফেল দেখি”, এ কথা বলে এগিয়ে গিয়ে দৃষ্টির তলপেটের ডান পাশে স্বজোরে কিল মারে। সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রীটি বাবাগো বলে চিৎকার করে সেখানে লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু পাষন্ড শিক্ষক সুরঞ্জন সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে ক্লাস থেকে বেরিয়ে স্কুল ছেড়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক দৃষ্টির সহপাটি জুই, তুলি, সুমাইয়া, সুমিসহ অন্যরা দৌড়ে বাইরে এসে চেচামেচি করে মাথায় ঢালার উদ্যোগ নেয়। তখন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস পারভীন এবং কাকলী রায় সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খারাপ দেখে শিশুটির পরিবারকে খবর দেয়। ততক্ষনে অভিযুক্ত শিক্ষক আবার স্কুলে ফিরে এসে ঘটনা দেখে পরিবারের সাথে শিশুটিকে নিয়ে প্রথমে চালনা বাজারে ডাঃ হরিদাস বাবুর চেম্বারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। কিন্তু শিশুটি ব্যাথায় কাতর হতে থাকলে তাকে দাকোপ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার মোজাম্মেল হক নিজামীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, স্বজোরে আঘাত লাগায় তলপেটের ডানপাশে প্রচন্ড ব্যাথায় কাতর হয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসা দেওয়ায় এখন আশংকামুক্ত। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় এবং হাসপাতালে গিয়ে না পেয়ে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু একবার রিং হওয়ার পর থেকে তার নাম্বারটি বন্দ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম বলেন, আমি কিছুক্ষন আগে ঘটনাটি জেনেছি। শিক্ষার্থীদের শাররীক নির্যাতনের বিষয়টি জিরো টলারেন্স নীতিতে দেখা হবে। দোষী প্রমানিত হলে তাকে অবশ্যই বিধি মোতাবেক শাস্থি পেতে হবে। ভিকটিম ছাত্রী দৃষ্টি আনন্দ গ্রামের শ্রমজীবি কার্তিক জোয়াদ্দারের কন্যা।