ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুরিকাঘাতে ডাঃ উত্তম দেওয়ান গুরুতর জখমঃ ছুরিসহ উপ-সহকারী মহাসিন আটক

তাপস কুমার বিশ্বাস, ফুলতলা অফিসঃ খুলনার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোমবার সকালে সদ্য বদলীকৃত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহাসিন গাজীর ছুরিকাঘাতে কর্তব্যরত ডাঃ উত্তম কুমার দেওয়ান গুরুতর জখম হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হাসপাতালের কর্মচারীরা হামলাকারী মহাসিন গাজীকে ছুরিসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকে হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডাঃ উত্তম কুমার দেওয়ান ৩৬ নম্বর রুমে বসে রোগী দেখছিলেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটের সময় ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সদ্য বদলীকৃত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মহাসিন গাজী (৩৫) পিয়ন হাসিবকে ধাক্কা দিয়ে ঐ পক্ষে প্রবেশ করে ডাঃ উত্তম কুমার দেওয়ানের উপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় ডাঃ উত্তম বাম হাতের কনুইয়ের উপর, কপাল ও মাথায় জখম হন। হাসপাতালের কর্মচারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মোঃ আশরাফ ও এম্বুলেন্স চালক মিরাজ হামলাকারী মহাসিন গাজীকে ছুরিসহ জাপটে ধরেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে ডাঃ উত্তম কুমার দেওয়ান প্রকাশ্য দিবালোকে নিজ কক্ষে চুরিকাঘাতে জখম হওয়ায় হাসপাতালে অন্যান্য ডাক্তার ও কর্মচারীরা আতর্কিত হয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে সমবেত হয়। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শেখ কামাল হোসেন, ওসি (তদন্ত) উজ্জল কুমার দত্ত , জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আসলাম খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার শাহাবুদ্দিন জিপ্পীসহ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ও নিয়মিত পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থায় হাসপাতালের কার্যত্রম স্বাভাবিক হয়।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শেখ কামাল হোসেন বলেন, গত ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে মহাসিন গাজী যোগদান করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে দাপ্তরিক অভিযোগ থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে গত ৫ জানুয়ারী নড়াইল সদরের বাঁশখালী ইউনিয়ন সাব সেন্টারে বদলী ও ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল অফিস সূত্র জানায়, মহাসিন গাজী সার্ভিস বুক নিতে গতকাল সকালে হাসপাতালে আসে। এখানে থাকাকালীন সময়ে ডাঃ উত্তম কুমার দেওয়ান ও মহাসিন গাজী পাশাপাশি কক্ষে বসে রোগী দেখতেন। পূর্বের মনোমালিন্যের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ সুজাত আহম্মাদ বলেন, জরুরী কাজে খুলনার বাইরে ছিলাম। দুঃখজনক ঘটনাটি শুনতে পেরে খুলনার পুলিশ সুপার ও নড়াইলের সিভিল সার্জনকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শেখ কামাল হোসেন নিজেই বাদী হয়ে মহাসিন গাজীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। ওসি (তদন্ত) উজ্জল কুমার দত্ত বলেন, প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ ও আসামী আটক রয়েছে । মামলা প্রস্তুতি চলছে।

যশোরে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

যশোর : যশোর শহরের ভৈরব নদের পাশে আম গাছ থেকে ইজিবাইক চালক সুমন হোসেনের (২৪) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে যশোর শহরের পুরাতন কসবা টালিখোলা এলাকায় বসবাস করে এবং সে যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ বুরুজবাগান এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে ভৈরবের পাড়ে আমগাছে সুমন হোসেনকে ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। কোতয়ালী থানার এসআই ফেরদৌস হোসেন সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, সুমন হোসেন শহরের টালিখোলা এলাকার আকবরের বাড়িতে ঘর জামাই হিসেবে বসবাস করে। রবিবার রাতে তার স্ত্রীর সাথে গোলযোগ হয়। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাতে কোনো এক সময় সে ঘর থেকে বের হয়ে ঘোষপাড়ার ভৈরব নদের পাশে আমগাছের ডালে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়ে।
যশোর কোতয়ালি থানার এস আই ফেরদৌস জানান, ভৈরব নদের পাশে আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমনের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। কি কারণে সে আত্মহত্যা করেছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফুলতলায় বৃহত্তর ব্রাক্ষ্মণ সমাবেশে শ্যামল সভাপতি ও উদয় সম্পাদক নির্বাচিত

ফুলতলা অফিসঃ খুলনার ফুলতলায় বৃহত্তর ব্রাক্ষ্মণ সমাবেশ সোমবার দুপুরে স্থানীয় ক্যাশখোলা মহাশ্মশানে উদয় চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাক্ষ্মণ সংসদ খুলনা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নব কুমার চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা কমিটির সহসভাপতি সিদু রঞ্জন চক্রবর্তী, অর্থ সম্পাদক এ্যাড. সমীর কুমার ভট্রাচার্য। পল্লব চক্রবর্তীর পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাবেক অধ্যক্ষ প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী, প্রধান শিক্ষক অজয় চক্রবর্তী, প্রেসক্লাব সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস, শিক্ষক অজিত সরকার, বিশ্বনাথ চক্রবর্তী, শংকর ব্যানার্জি, সানা চক্রবর্তী প্রমুখ। সমাবেশ শেষে শ্যামল চক্রবর্তীকে সভাপতি, উদয় চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক ও পল্লব চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা কমিটি ঘোষনা করা হয়।

মঙ্গলবার থেকে বেকারি মালিকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপের্টার : বেকারির পন্য বাজারজাতে নিয়োজিত হকাররা বেকারির পণ্য সামগ্রী আজ সোমবার থেকে বাজারজাত না করে তাহলে আগামী মঙ্গলবার ( ৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে খুলনার বেকারি মালিকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তাদের উৎপাদিত বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার বেকারি মালিকগণ ও হকার্স ইউনিয়নের সাথে বৈঠকের পর বেকারি মালিক সমিতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাধারণ জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে বেকারি মালিকরা এই সিদ্ধান্ত পৌছায়ছেন।
এর আগে বৈঠকে হকারদের আজ সোমবার থেকে বেকারি পণ্য বাজারজাত করার জন্য আল্টিমেটাম দেন খুলনা বেকারি মালিকরা। বৈঠকে বেকারি মলিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার থেকে বেকারির মালিকরা নিজস্ব বেতন ভুক্ত কর্মচারিদের দিয়ে নগীরর বিভিন্ন দোকানে ও চায়ের দোকানে পাইকারি প্রতি পিস বনরুটি ৪টা ৪০ পয়সা, প্রতি পিস নান রুটি ৪ টাকা ৮০ পয়সা, প্রতি পিস স্পেশাল কেক ৫ টাকা ৪১ পয়সা এবং পাউরুটি (এক পাউন্ড) ২০ টাকার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন।
গতকাল রোববারও বেকারি পন্য বাজারজাত না করা হকার্স ইউনিয়নের অঘোষিত এই সিদ্ধান্তের ফলে মহল্লার চায়ের দোকান ও মুদি দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেকারি পণ্য সামগ্রী পাওয়া যায়নি। ফলে স্কুল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। হকার্সদের অঘোষিত এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের ছেলেমেয়েদের টিফিনের জন্য বেকারি পণ্য কিনতে না পেরে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে বেকারি মালিক সমিতির সভাপতি মো: শামসুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, বেকারি কাচা মালের পণ্যর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদিত ৫০টির মধ্যে ৪টি পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাতে বেকারির পণ্য তৈরির গুনাগতমান ঠিক থাকে। দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একই সাথে সকল বেকারি মালিকদেরকে বেকারির সকল পন্যগুলো গুনগতমান ঠিক রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। দাম বৃদ্ধি বিষয়ে হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটারি উপস্থিতিতে এক আলোচনা মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি গৃহিত হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে হকার্স ইউনিয়ন তারা অঘোষিতভাবে আমাদের এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন না করে বাজারজাত থেকে বিরত থাকেন। এতে সাধারণ জনগণ বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। বেকারি মালিকদের সাথে হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি ও সেক্রেটারি সাথে গতকাল বৈঠক হয়। তাদেরকে সোমবার থেকে আমাদের বেকারি পণ্য বিক্রির জন্য আল্টিমেটাম দেই। তারা যদি এ সময়ের মধ্যে বাজারজাত না করে তাহলে আমাগী মঙ্গলবার থেকে বেকারির মালিকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খুলনায় মুদি দোকান ও চায়ের দোকানে তাদের পন্য বিক্রি করার সিদ্বান্ত নিয়েছেন। যাতে পরবর্তীতে সাধারণ জনগণ ভোগান্তীতে না পড়েন। সে অনুযায়ী তাদের নিজস্ব কর্মচারিদের দিয়ে পাইকারি প্রতি পিস বনরুটি ৪টা ৪০ পয়সা, প্রতি পিস নান রুটি ৪ টাকা ৮০ পয়সা, প্রতি পিস স্পেশাল কেক ৫ টাকা ৪১ পয়সা এবং পাউরুটি (এক পাউন্ড) ২০ টাকার বিক্রি করবেন।
বেকারি মালিকরা জানান, তাদের উৎপাদিত ৫০ টি অধিক পণ্যের মধ্যে ৪টি পণ্যে দাম বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ৪টি বেকারি হকার্স ইউনিয়ন সেক্রেটারি ও সভাপতি উপস্থিতিতে সবার অনুমতি ক্রমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি হওয়ার পরেও একটি কু-চক্র মহলের ইন্ধনে হকার্স ইউনিয়ন সদস্যরা বেকারির পণ্য বাজার জাত করা থেকে হকাররা বিরত রয়েছেন। এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে আমরা মনে করি যাতে এই শিল্প ধ্বংসের দিকে যায়। বর্তমানে খুলনা জেলায় ৮০-১০০টির মধ্যে বেকারির উৎপাদিত পণ্যর কারখানা রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। যাদের বেতন ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। অনেক পরিবারের সদস্যরা এই শিল্পে নিয়োজিত থেকে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দিচ্ছেন। এ শিল্পটা ধ্বংস হলে অনেকে পরিবার-পরিজনরা পথে বসবেন।
উল্লেখ্য, গত দেড় মাসে ব্যবধানে বেকারি পণ্য কাচা মালের দাম অস্বভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে পামওয়েল তেল কেজিতে ৩৪ টাকা, চিনি বস্ত প্রতি ৯৫০ টাকা, ময়দা বস্তা প্রতি ২০০ টাকা এবং ডালডা বস্তা প্রতি ২৯০ টাকায় বৃদ্ধি পায়। বেকারী উৎপাদিত পণ্য তৈরি করতে এই কাচা পণ্য গুলোতে সব চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। অস্বভাবিকভাবে এইসব কাচা পণ্যর মুল্য বৃদ্ধি: হওয়া বেকারি মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। বেকারি মালিকরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাদের উৎপাদিত ৫০ টি অধিক পণ্যের মধ্যে ৪টি পণ্যে দাম বৃদ্ধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পণ্যে গুলো হচ্ছে বন রুটি খুচরা মুল্য ৫টাকার পরিবর্তে ৬ টাকা, নান রুটি ৬ টাকার পরিবর্তে ৭টাকা, পাউরুটি (সাইজ) প্রকার ভেদে ২৫ থেকে ২৮ টাকা এবং স্পেশাল কেক ৬ টাকার পরিবর্তে ৮টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এই ৪টি বেকারি হকার্স ইউনিয়ন সেক্রেটারি ও সভাপতি উপস্থিতিতে সবার অনুমতি ক্রমে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

মোংলায় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে নাচ-গানের আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে নাচ-গানের আয়োজনকারী স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি মেম্বর মো: মতিউর রহমান মোড়লকে আটকে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রাহাত মান্নান সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারী) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় দোষী চাঁদপাই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মতিউর রহমান মোড়লকে অপসারণও করা হবে। তিনি আরো বলেন, ভাষার মাসে শহীদ মিনার অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পক্ষ থেকেও তাকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।
উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের নামে রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শহীদ মিনারের উপরে জুতা পায় দিয়ে গান বাজনা ও নৃত্য পরিবেশনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার সকালে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুমন্ত কুমার পোদ্দারকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও মোঃ রাহাত মান্নান।
শহীদ মিনারে জুতা পায়ে নাচ-গানের ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুমন্ত কুমার পোদ্দার উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের বিষয়টি আমি এবং আমাদের ইউএনও মহোদয় কেউই জানিনা। আমাদেরকে জানাননোও হয়নি। এ ঘটনায় উত্তর চাঁদপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেরি রানী দাস ও স্কুল কমিটির সভাপতি মো: মতিউর রহমান মোড়লেরে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তর চাঁদপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেরি রানী দাস বলেন, আমাকে না জানিয়েই স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের নামে রাতের বেলায় শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে নাচ-গানের অনুষ্ঠান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (পরিচালনা পর্ষদ) সভাপতি ও ইউপি মেম্বর মো: মতিউর রহমান মোড়ল তার একক সিদ্ধান্তেই করেছেন। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
শহীদ মিনারে জুতা পায়ে গান-বাজনা ও নৃত্য পরিবেশনের বিষয়ে জানতে চাইলে মেম্বর মতিউর রহমান মোড়লের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুষ্ঠান চলবে, আপনারা যা পারেন তাই করেন’।
তবে শহীদ মিনারে জুতা নিয়ে নাচ-গানের অনুষ্ঠানের খবর জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাহাত মান্নানের নির্দেশে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী তাৎক্ষনিকভাবে রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, শহীদ মিনারে জুতা পায়ে নাচ-গান পরিবেশনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর যে কেউ কোন অভিযোগ কিংবা মামলা দিলে তা গ্রহণ করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসীসহ সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত স্থানীয় ইউপি মেম্বর ও স্কুল কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান মোড়লের একক উদ্যোগে উত্তর চাঁদপাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের উপর জুতা পায়ে গান-বাজনা ও নৃত্য পরিবেশন করার ঘটনা ঘটে। #