বটিয়াঘাটা ইউএনও’র হস্তক্ষেপে সরকারী রাস্তায় প্রাচীর নির্মান বন্ধ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো নজরুল ইসলামের হস্তক্ষেপে সরকারী রাস্তায় ইটের সোলিং উঠিয়ে প্রাচীর নির্মান বন্ধ হয়েছে। তবে যে কোন মুহুর্তে প্রাচীর নির্মান করে সর্ব সাধারনের চলাচলের রাস্তা দখল করার আশংকা দেখা দিয়েছে। সূত্রে প্রকাশ, উপজেলার চক্রাখালী গজালমারী গ্রামের সংযোগস্থলে নব জলমা এলাকায় সর্ব সাধারনের একমাত্র চলাচলের সরকারী রাস্তাটির ইটের সোলিং উঠায়ে পাকা প্রাচীর নির্মান পূর্বক দখল করার পায়তারা করছে একদল ভূমি ব্যবসায়ী চক্র খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ রাশেদুজ্জামান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান চঞ্চলা মন্ডল ও থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল কবীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভূমি ব্যবসায়ী সুবীর বিশ^াসের ব্যবহৃত মটর সাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় ভূমি ব্যবসায়ী মোঃ অলিম উদ্দীন ও মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গত ২৬ জানুয়ারী রবিবার বেলা ২টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকলের উপস্থিতিতে প্রাচীর নির্মানসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, প্রায় ২ হাজার সাল থেকে জলমা-কচুবুনিয়ার নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা পরিবারগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার উপর বসবাস করে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। পাশাপাশি উক্ত সরকারী রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছিল সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে কতিপয় ভূমি ব্যবসায়ীগণ উক্ত রাস্তাটি দখল করার পায়তারা করছে। এ ব্যাপারে ভূমি ব্যবসায়ী আলিম উদ্দীন ও মোঃ জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, আমরা প্রসাশনকে ২ লক্ষ টাকা দিয়েছি। প্রয়োজন হলে আরও বেশি টাকা দিয়ে প্রাচীর নির্মান করবো। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী প্রাচীর নির্মানের কাজ বন্ধ ও রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বটিয়াঘাটায় নবাগত সাব-রেজিস্ট্রার বিজয় কৃষ্ণ বসুর যোগদান

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলায় নবাগত সাব-রেজিস্ট্রার বিজয় কৃষ্ণ বসু রবিবার যোগদান করেছেন। তিনি চাঁদপুর জেলার দক্ষিণ মতলবপুর উপজেলায় দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করে ৯ ই ফেব্রুয়ারী এ উপজেলায় যোগদান করেন। তিনি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারপুর উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত মহেন্দ্রনাথ বসুর পুত্র। তিনি ঢাকা বিশ^ বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে ২০০৯ সালে শরিয়তপুর জেলার গোসাইহাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রথম যোগদান করেন। উল্লেখ্য, গত ০৯/১০/২০১৯ তারিখে সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ অন্যত্র বদলী হলে উক্ত পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে অস্থায়ীভাবে সাজ্জাদ হোসেন ও মোহায়মিনু রহমান পৃথক পৃথক ভাবে প্রায় ২মাস দায়িত্ব পালন করেন। গতকাল রবিবার সকালে তিনি উক্ত শূন্যপদে স্থায়ীভাবে যোগদান করেন। সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায় তিনি প্রতি সপ্তাহে রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার মোট ৪দিন দলিল রেজিস্ট্রি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে নবাগত সাব-রেজিস্ট্রার বিজয় কৃষ্ণ বসুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য দলিল লেখকগণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অফিস সহকারী শ্যামল কুমার বিশ^াস, দলিল লেখক সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মোঃ ইউনুচ আলী, আলমগীর হোসেন, অনুকুল চন্দ্র গোলদার, দিপংকর বিশ^াস, জগদীশ রায়, আমজাদ হোসেন, নকল নবীশ সমিতির সভাপতি প্রসাদ মল্লিক, সম্পাদক কালি ঠাকুর, সাংগঠনিক সম্পাদক হিরক মন্ডল। পরে দলিল লেখক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তাকে আবারও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সদ্য যোগদানকারী সাব-রেজিস্ট্রার বিজয় কৃষ্ণ বসু বলেন, আপনাদের সকলের সহযোগিতা পেলে দূর্নীতি মুক্ত ভাবে স্বচ্ছ ও জবাব দিহিতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবো।

জলমা ভূমি অফিসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ঝটিকা অভিযান

আজগর হোসেন ছাব্বির : খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব জলমায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকর্ষিক পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পেলেন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা আর অনিয়মের চিত্র। তিনি এমন কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্থির নির্দেশ দিলেন।
সর্ব সাধারনের কাছে দেশের সকল ভূমি অফিস এবং ভূমি সংক্রান্ত কাজের সাথে দায়িত্বশীল সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়ে নীতিবাচক প্রচারনার কথা সব মহলে শোনা যায়। বিশেষ করে খুলনা মহানগরীর সন্নিকটে বর্ধিত শহর এলাকায় জমি কেনাবেচার প্রবনতা বেশী থাকায় বটিয়াঘাটাসহ সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস গুলোর কর্মকান্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগের কথা প্রতিনিয়ত শোনা যায়। নানা সমস্যা দেখিয়ে সময় ক্ষেপনের মাধ্যমে নামজারী কেসে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অনেকটা ওপেন সিক্রেট। গতকাল রবিবার খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব সরোয়ার আহমেদ সালেহীন জলমা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকর্ষিক ঝটিকা অভিযানে গিয়ে এমন অনেক অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে তিনি সেখানে ঝটিকা অভিযানে যায়। প্রাথমিকভাবে কাজের কিছু অনিয়ম দেখে তিনি ব্যাপক তল্লাশী করেন। এ সময় ২১৩ টি অনিষ্পন্ন নামজারী কেস উর্দ্ধার হয়। তিনি ভূমি সহকারী কর্মকর্তার ই মিউটেশন আইডি পরিক্ষা করে প্রায় ২ হাজার নামজারী অনিষ্পন্ন অবস্থায় দেখতে পায়। দায়িত্বে অবহেলার এই চিত্র দেখে তিনি তাৎক্ষনিক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কৃষ্ণপদকে নথি জমে থাকার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নথি গুলো পূর্বের কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সময়কার। আমি গত ২৩ জানুয়ারী ২০২০ এখানে যোগদান করেছি। এভাবে অভিযানের এক পর্যায়ে বেরিয়ে পড়ে ওই অফিসের আলোচীত অফিস সহায়ক হোসনে আরা লাকীর নানা অনিয়ম দূর্ণীতির চিত্র। তার নামে থাকা বেশ কিছু নামজারী কেসে অর্থ লেনদেনের হিসাব লিপিবদ্ধ ছিল যে গুলি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লাকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। সাথে সাথে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এই কাজের জন্য হোসনে আরা লাকীকে তাৎক্ষনিক ভৎসনাসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্থি মূলক ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার ভূমি বটিয়াঘাটাকে নির্দেশ দেন। সেখানে বিভিন্ন সময় নামজারী কেসে হয়রানীর শিকার ভুক্তভোগীরা এই আকর্ষিক অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে এই ধারা অব্যহত রাখার আহবান জানিয়েছেন।

বহিরাগতদের অবৈধ দখলে খুলনা মেডিকেলের কোয়ার্টার : পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকিপূর্ন বসবাস

আজগর হোসেন ছাব্বির : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোয়ার্টার গুলো বহিরাগতদের অবৈধ দখলে। পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করছে বসবাস। প্রতি মাসে সরকারী কোষাগার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার পানি ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হচ্ছে। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।
সংশ্লিষ্ট ভবন গুলোতে বসবাসকারী এবং মেডিকেল কলেজ প্রশাসনের একাধীক সুত্র জানায়, বর্তমানে সেখানে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ২৩ টি কোয়ার্টার ভবন আছে। নিয়ম অনুযায়ী ৫শ’ থেকে ৮শ’ স্কয়ার ফুটের ভবনগুলো ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ। আর ১ থেকে দেড় হাজার স্কয়ার ফুটের ভবনগুলো ডাক্তারসহ কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন হিসেবে বরাদ্দ থাকার কথা। খোজ নিয়ে জানা যায়, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং উপধ্যক্ষ নিজেদের ভবনে না থাকায় সেখানে বসবাস করছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা। ভবনটিতে বর্তমানে দিদারুল ইসলাম রিপন এবং আঃ হাই নামের ৪র্থ শ্রেনীর দুই কর্মচারী পরিবার এবং তাদের স্বজনদের নিয়ে বছরের পর বছর দখলে রেখে বসবাস করছেন। ড্রাইভার কামরুল ইসলাম দ্বিতল একটি ভবন একাই দখলে রেখেছেন ১০/১২ বছর। অনুরুপভাবে ডাক্তারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দের ভবনগুলো অধিকাংশ রয়েছে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী আর বহিরাগতদের অবৈধ দখলে। সে ক্ষেত্রেও আছে ভিন্ন অভিযোগ। অধিকাংশ বসবাসকারীদের নামে কাগজপত্রে কোন বরাদ্দ নেই। মেডিকেল কলেজের ৩য় শ্রেনীর পদ মর্যাদার ক্যাশিয়ার রুহুলামিন, ব্লাড ব্যাংকের আবুল কালাম আজাদ. মেডিকেল টেকনোলোজিষ্ট আনোয়ার হোসেন, আর্টিষ্ট মাহফুজুর রহমানসহ আরো কয়েকজন নিজেদের কক্ষে রীতিমত এসি লাগিয়ে ব্যবহার করছেন। জানতে চাইলে ক্যাশিয়ার রুহুলামিন বলেন, তার স্ত্রীর অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শে এসি ব্যবহার করছেন। ক্ষমতাসীনদলের পরিচয়ে রুমান আহম্মেদ, হিন্দু বৈদ্য খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা প্রবির রায়, বেলায়েত নজরুল, কাওছার, মহসিনসহ আরো অনেকেই বহিরাগত হয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোয়ার্টার বছরের পর বছর অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। ভবনের মুল ফটকে পরিত্যক্ত ঘোষনার সাইনবোর্ড, অথচ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন অনেক পরিবার। তাদেরই একজন মেডিকেল কলেজের নিরাপত্তা প্রহরী আবুল কালাম আজাদ। বিদ্যুৎ পানির বিল কে পরিশোধ করছে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর মেলেনি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পরিত্যক্ত ভবন গুলোতে বিদ্যুৎ পানির সংযোগই থাকার কথা না। জানা গেছে অধ্যক্ষের পক্ষে ষ্টোরকিপার মঞ্জু মূলত এই ভবন বরাদ্দসহ সব কিছু দেখভাল করে থাকেন। একদিকে সরকারী কোষাগারে ভাড়ার টাকা জমা হচ্ছেনা, অপরদিকে প্রতিমাসে এই অবৈধ বসবাসকারীদের জন্য কর্তৃপক্ষকে দিতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার পানি ও বিদ্যুৎ বিল। নিয়ম অনুযায়ী অডিট হয়ে আসছে, কিন্তু এ সকল দূর্ণীতি অনিয়মের কোন প্রতিকার হচ্ছেনা। এ যেন সরকারী সম্পদের হরিলুট। বৈধ কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেখানকার অবৈধ দখলমুক্ত, দুর্ঘটনা এড়াতে পরিত্যক্ত ভবন থেকে বসবাস কারীদের নামিয়ে দেওয়া এবং সরকারী অর্থের অপচয় রোধ করতে সংশ্লিষ্ট উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ অধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের নাম বলা হয়েছে তারা সকলে বহিরাগত না। আর পরিত্যক্ত ভবন থেকে ওদের বার বার নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু অনেকে আবার সেখানে থাকে। সুতরাং সেখানে বসবাসে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার দ্বায় দায়িত্ব কলেজ কর্র্তৃপক্ষ নিবেনা। একই সাথে ওই ভবনে বৈধ কোন বিদুৎ সংযোগ নেই বলে তিনি দাবী করেছেন।

খুলনার প্রান কেন্দ্রে তাঁত বস্ত্র মেলা : উচ্চ শব্দে বিপাকে পরিক্ষার্থীরা

আজগর হোসেন ছাব্বির : এস এস সি পরিক্ষার মধ্যেই নগরীর প্রান কেন্দ্রে মেলা। আবাসিক এলাকার মাঝে অবস্থিত মেলা প্রাঙ্গনে সার্বক্ষনিক উচ্চ শব্দের গানবাজনায় শব্দ দুষনে এসএসসি পরিক্ষার্থীরা বিপাকে। অতিষ্ঠ নগরবাসীর মেলা বন্ধের দাবী। খুলনা পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) আয়োজনে চলমান তাঁত বস্ত্র ও হস্ত কুটির শিল্প মেলার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম মোড় পুলিশ ক্লাব মাঠে গত ১০ ফেব্রুয়ারী হতে শুরু হয়েছে তাঁত বস্ত্র ও হস্ত কুটির শিল্প মেলা। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি(পুনাক) এই মেলার আয়োজক। আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মেলাটি চলবে বলে জানা গেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এর মেয়াদকাল বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। মেলা পরিচালনা কমিটির সাথে কথা বলে জানা যায় মোট ৪৭ টি ষ্টল আছে মেলায়। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে মেলা। বিভিন্ন ষ্টল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় সকালে শুরু হলেও মেলায় ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভীড় শুরু হয় বিকাল থেকে। এখানে কসমেটিকস, জুতা, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, গার্মেন্টস, বাচ্চাদের খেলনা, গৃহস্থলির আসবাবপত্র, ক্রোকারিজের সামগ্রী বেচা বিক্রি বেশী হচ্ছে। এ ছাড়া এখানে আছে নানা বয়সিদের জন্য রাইড ম্যাজিক নৌকা, ট্রেন, ঘোড়া, এবং এয়ারগান শুটিংয়ের ব্যবস্থা। আগত ক্রেতা দর্শনার্থীদের কথা হলে তারা জানায়, এখানে জায়গাটি ছোট হওয়ায় প্রত্যাশা অনুযায়ী ষ্টল সংখ্যা কম, তাছাড়া মেলায় তেমন ডিসকাউন্ট ও দেখছিনা। তারপর ও যতটুকু আছে তারা খুশী। তবে মেলার সময়টি এসএসসি পরিক্ষার আগে অথবা পরে হলে ভাল হত বলে তারা মনে করে। বিভিন্ন ষ্টল মালিকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন বেচা কেনা যা হচ্ছে সেটাতে খুব বেশী না হলেও মোটামুটি খারাপ বলা যাবেনা। আয়োজক কমিটি পুনাকের পরিচালিত দোকানে মিলছে ওয়ানপিচ টুপিচ, শাড়ী, বেডকভার, ব্যাগ, এসি ফ্রিজ ও রাইচ কুকারের কাভারসহ নানা সামগ্রী। সেখানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ওয়াহেদুজ্জামান বলেন প্রতিদিন ৫/৬ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে তাদের দোকানে। এদিকে নগরীর প্রান কেন্দ্রে ঘনবসতিপূর্ন আবাসিক এলাকার মাঝে চলমান এই মেলা এবং মেলার পরিবেশ নিয়ে জনসাধারনের মাঝে নীতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে এস এস সি ও সমমানের পরিক্ষা চলাকালীন মেলায় দিনরাত উচ্চ শব্দে চলা সাউন্ডে আশ পাশের পরিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বিঘœ ঘটছে। এ ব্যাপারে কথা হয় মেলা পরিচালনা কমিটির প্রধান মোঃ রাসেল মিয়ার সাথে। শব্দ দুষনের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, পরিক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে খুব কম সাউন্ডে বাজানো হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন প্রচার স্বল্পতাসহ নানা কারনে প্রথম দিকে মেলা ঠিক জমেনি। তবে ধীরে ধীরে ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে। সুতরাং সার্বিক বিষয়গুলি অনুকুলে থাকলে মেলার মেয়াদকাল বাড়লেও বাড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক এস এস সি পরিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা অভিযোগ করে বলেন, চারিপাশে আবাসিক ভবন পরিবেষ্টিত এলাকায় পরিক্ষার মাঝে এমন মেলা আয়োজনে তারা হতভাগ। মেলার জন্য বিকাল থেকে ওই সড়কে যানযট লেগেই থাকে। মুজিব বর্ষে সরকার যেখানে শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে উচ্চ শব্দের গানবাজনাসহ পরিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মারাতœক প্রতিবন্ধক এই মেলা বন্ধের জোর দাবী জানান তারা।