নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষের পানির সংকট মিটাতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, দেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকুলিয় লবনাক্ত এলাকার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। এটি একটি প্রাকৃতিক সংকট। এই সংকট মোকাবেলায় নতুন নতুন আবিস্কৃত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবনাক্ত পানিকে বিশুদ্ধ সুপেয় পানিতে পরিনত করে সাধারন মানুষের পানির সংকট দুর করতে হবে।
তিনি বলেন এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। আগামীতে দেশের শতভাগ মানুষ যাতে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি পেতে পারে সে লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সেই প্রকল্প গুলোকে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে সুবিধাভোগীদের এর রক্ষনা বেক্ষনে যতœশীল হতে হবে। তিনি সোমবার দাকোপের বারইখালী চমক বহুমূখী সমবায় সমিতি সিবিওতে স্থাপিত ভুগর্ভস্থ পানিকে পরিশোধিত করে আর ও প্লান্টের মাধ্যমে জীবানুমুক্ত (রিভার্স অসমোসিস) সুপেয় পানির প্লান্ট উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। উপকুলিয় গোটা দাকোপে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। এই সংকট মোকাবেলায় ইউএসএআইডি নবযাত্রার অর্থায়নে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগীতায় ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে বারুইখালীতে, এবং ২০ লাখ ২১ হাজার টাকা করে ব্যয়ে উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ও লাউডোপ ইউনিয়ন পরিষদে একই দিনে পৃথক ৩ টি প্লান্টের উদ্বোধন করা হয়। স্মার্ট ওয়ার্টার ট্রিটমেন্ট টেকনোলজির কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। বাস্তবায়নকারী সংস্থা দাবী করেছেন বারইখালী প্লান্ট থেকে প্রতিদিন ১০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সুফলভোগী চমক সমিতি ৪০ পয়সা লিটার মুল্যে ওই পানি সর্বসাধারনের মাঝে সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা যায়। জানা যায় বাংলাদেশে এই প্রথম গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউেিকশনের (জি এস এম) মাধ্যমে রিভার্স অসমোসিস সিস্টেম পরিচালিত হতে যাচ্ছে। এ সময় দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ, পৌর মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের, নবযাত্রা প্রকল্পের মাহবুবর রহমান, স্মার্ট ওয়ার্টার ট্রিটমেন্ট টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ ইমরান যুবরাজসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনার দাকোপ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নবযাত্রা প্রকল্পের খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় গ্রাম উন্নয়ন কমিটির বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেন।

মণিরামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বোনের করুণ মৃত্যু

যশোর প্রতিনিধি : ছোট মেয়ে মোহনা (১৫ মাস)কে দাফন করে বড় মেয়ে মৌ‘র (৭) লাশ নিতে হাসপাতালে এসেছেন বাবা বিল্লাল সর্দার। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দেবীদাসপুর গ্রামে ঘটেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইটভাটার শ্রমিক বিল্লাল সর্দার জানান, সে এবং তার স্ত্রী আমেনা খাতুন মণিরামপুর উপজেলার দেবীদাসপুর গ্রামে পদ্মা ইটভাটায় কাজ করেন। তাদের দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। তারা ইটভাটায় কাজ করায় পাশ^বর্তীতে ছোট একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করে। তার বাড়ি খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার নালিয়া গ্রামে।
রবিবার বিকেল ৪টার দিকে মোহনাকে কোলে করে মৌ ভাটার অদূরে ঝিকরগাছা মণিরামপুর সড়কের জামতলা নামক স্থানে দোকানে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় পিকআপের সাথে ধাক্কা লাগে। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহনার মৃত্যু হয়। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় মৌকে ওই সময়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিল্লাল সর্দার আরো জানান, ‘বিকেলে ছোট মেয়ের মৃত্যু হলে তার লাশ নিয়ে বাড়িতে যাওয়া হয়। সকালে দাফন শেষ হওয়ার পর বেলা ১১টার দিকে বড় মেয়ের লাশ নিতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এসেছি।’
মণিরামপুর থানার এসআই আব্দুর রহমান পিকআপের ধাক্কায় রবিবার মোহনা এবং সোমবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত মামলা হয়েছে। পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। ড্রাইভার পালিয়েছে।