ফুলতলায় ৫ হাজার ক্ষুদে ভোটারদের প্রতিনিধি নির্বাচন

ফুলতলা অফিসঃ খুলনার ফুলতলার ৫৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক যোগে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন-২০২০ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। রোববার সকাল ৯টা থেকে বিরতীহীনভাবে বেলা ১টা পর্যন্ত তৃতীয়, চতুর্থ ও ৫ম শ্রেণির ৫ হাজার ৪শ’ ৮৭ শিক্ষার্থী ভোটারদের মধ্যে ৪ হাজার ৮শ’ ৭৭জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। এ সময় ৬শ’ ৮৯ প্রার্থীর মধ্যে ৭টি দপ্তরের জন্য ৩৮৫ প্রার্থী জয় লাভ করে। নির্বাচন চলাকালে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম, রিসোর্স কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম রনি, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ আসাদুজ্জামান বিভিন্ন স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। শিশুদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশ ও সেবামুলক মানষিকতা সৃষ্টিতে এ নির্বাচন সময়পোযগী বলে শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম জানান।

ফুলতলায় শিল্পপতি’র মাতার ইন্তেকাল আওয়ামীলীগের শোক বিবৃতি

ফুলতলা অফিসঃ ফুলতলা আইয়ান জুটের এমডি আলহাজ্ব মোঃ ফেরদৌস ভুইয়া, সুপার জুট মিলের এমডি এম ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া, সুপার ব্রিকস এর স্বত্তাধিকারী আলহাজ্ব হাসান ইনামুল হক ভূঁইয়া, ফুলতলা ফ্লিলিং স্টেশন এর স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ মিজানুর রহমান স্বত্তাধিকারী ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাদারণ সম্পাদক মোঃ হুমাযুন কবির ভূঁইয়া এর মাতা এবং দামোদর গ্রামের মরহুম আব্দুল খালেক ভুইয়ার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৮৫) রোববার সকাল ৭টায় খুলনার একটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ( ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন) । মৃত্যুকালে তিনি ৫পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে যান। বাদ জোহর উপজেলা ডাবুর মাঠে নওয়াপাড়া পীর শাহ্্ বুখারী ইমামতিতে মরহুমার ১ম জানাযা ও মোঃ ইউসুফ হোসেনের ইমামতিতে আলকা ১৪মাইল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) জামে মসজিদ চত্ত্বরে ২য় জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন, ইউএনও পারভীন সুলতানা, আলহাজ্ব আনোয়ারুজ্জামান মোল্যা, আলহাজ্ব আবুল কালাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান কে এম জিয়া হাসান তুহীন, বিএনপি নেতা সাবেক এমপি ডা. গাজী আঃ হক, প্রফেসর ড. মাহাবুব উল ইসলাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী জাফর উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আসলাম খান, জেলা ওয়ার্কাার্স পার্টি সাধারণ সম্পাদক কমরেড আনছার আলী মোল্যা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার শাহাবুদ্দিন জিপ্পী, কাজী আশরাফ হোসেন আশু, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গাউসুল আযম হাদী, শিল্পপতি হাফিজুর রহমান বাবু, শফিয়ার রহমান, হাসনাত রেজভী মার্শাল, ওয়াহিদুজ্জামান মোল্যা নান্না, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মাদ ভূঁইয়া শিপলু, আবু তাহের রিপন, মুনাল হাজরা, কামরুজ্জামান নান্নু, সহাকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক অজয় চক্রবর্তী, মোশারফ হোসেন মোড়ল, প্রফুল্ল চক্রবর্তী, সন্দিপন রায়, মনজেল সরদার, বনিক নেতা রবিন বসু, এসকে মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম মোল্যা, মুফতি ফোরকান হুসাইন, আলহাজ্ব মাওলানা সেকেন্দার আলী, জাপা নেতা সাঈদ আলম মোড়ল, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা (মার্কসবাদ) নওশের আলী গাজী, বরকত আলী ভূঁইয়া বাটুল, আলী আজম মোহন, মোল্যা হেদায়েত হোসেন লিটু, আজিজুল ইসলাম ফরাজি, ইউপি সদস্য শেখ আঃ রশিদ এবং পরিবারের সদস্যের মধ্যে জহির উদ্দিন রাজীব, এমডি করিম আহমেদ, তাজ উদ্দিন সজীব, তন্ময় আহমেদ, কামরান আহমেদ, সামসাদ আহমেদ, কায়েস আহমেদ ভুইয়া প্রমুখ। এদিকে ফুলতলা আইয়ান জুট মিলের এমডি আলহাজ্ব মোঃ ফেরদৌস ভুইয়া ও সুপার জুট মিলের এমডি এম ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া’র মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হারুনুর রশিদ, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা বিএমএ সালাম, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল, মোঃ আসলাম খান, আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন, সরদার শাহাবুদ্দিন জিপ্পী, এ্যাড. তারিক হাসান মিন্টু, কাজী আশরাফ হোসেন আশু, শেখ আফসার আলী, মোশরফ হোসেন মোড়ল, শেখ রওশন আলী, মৃনাল হাজরা, আবু তাহের রিপন, কামরুজ্জমান নান্নু, ইসমাইল হোসেন বাবলু, শাহাদাৎ বিশ্বাস, আলী আজম মোহন, মোল্যা সাহিদুল ইসলাম, হেদায়েত হোসেন লিটু, শাহাবাজ মোল্যা, রবিউল ইসলাম মন্টু, আশরাফুল আলম কচি, রবিউল ইসলাম, টিটু ভুইয়া, প্রদ্যুৎ বিশ্বাস, গোলাম সরোয়ার মুন্সী, এস কে আলী ইয়াছিন, শহিদুল্লাহ প্রিন্স, এস কে মিজানুর রহমান, রবিন বস, মঈনুল ইসলাম নয়ন, এস কে সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ। অপরদিকে জাপা সভাপতি সাঈদ আলম মোড়ল, সম্পাদক আঃ আজিজ, রইচ মল্লিক, আলিয়ার রহমান, ওবেদ আলী, আসলাম হোসেন, আমিনুল ইসলাম, সাদ্দাম হোসেন অনুরুপ বিবৃতি প্রদান করেছেন।

ফুলতলায় অসচ্ছল বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী উন্মুক্তভাবে বাছাই

ফুলতলা অফিসঃ সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত সামাজিক কর্মসূচির আওতায় অসচ্ছল বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রমের উন্মুক্তভাবে ভাতাভোগী বাছাই রোববার সকালে ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনও পারভীন সুলতানা। স্বাগত বক্তৃতা করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ হোসেন আশু, ইউপি সদস্য হালিমা বেগম হাসি, সোনালী আক্তার, কবিতা খানম, আলী আজম মোহন, আলমগীর হোসেন মোল্যা, মাহমুদুর রহমান চয়ন, খলিলুর রহমান, মহিউদ্দিন শেখ, ফেরদৌস হোসেন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম ডিএনসি’র অভিযানে ৬৮৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : ”ট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)’র পৃথক মাদক বিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৮৮০ পিস ইয়াবাসহ ৪ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী মো: ফরিদ(২৭), মো: ছোরহাব (৫৩), মো: সাদ্দাম শেখ(২৮) এবং মো: শাহাদাৎ (২৯)। শনিবার দিনব্যাপী  চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মেট্রো: উপঅঞ্চল সার্কেল অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, মেট্রো: উপঅঞ্চল সূত্র মতে, সংস্থার উপ-পরিচালক মো: রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে কোতোয়ালী সার্কেল পরিদর্শক মো: মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে এক মাদক বিরোধী অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার কোতোয়ালী থানাধীন ৯৪, স্টেশন এলাকা থেকে  ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মো: ফরিদ(২৭) আটক করেন।  অন্যদিকে কোতোয়ালী সার্কেলের সহ উপ-পরিদর্শক মো: লুৎফর রহমান এর নেতৃত্বে অপর এক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো: ছোরহাব আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ডবলমুরিং পরিদর্শক মো: নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এক অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো: সাদ্দাম শেখ এবং মো: শাহাদাৎ কে আটক করেন। তাদের কাছ থেকে ৮৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা অপরাধ স্বীকার করে জানায়,তারা  দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে।    আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট থানায় তিনটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

বটিয়াঘাটায় বোরো ধানের আবাদ শুরু

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা থেকেঃ বটিয়াঘাটায় আমন ধানের লোকসানের বোঝা মাথায় চাপিয়ে কৃষক কৃষানীরা শুরু করেছে বোরো ধানের চাষাবাদ। কৃষকদের আমন ধান জলাবদ্ধতা, কারেন্ট পোকা, ঘূর্ণীঝড় বুলবুল সহ বিভিন্ন কারণে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের শত শত একর জমির। এই অভাবনীয় ক্ষতির কারণে কৃষক কৃষানীদের ব্যাপক লোকসান হওয়ায় তাদের মেরুদন্ড ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে কৃষক কৃষানীরা তাদের ভেঙ্গে যাওয়া মেরুদন্ড সোজা করার পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে নতুন উদ্যোমে ধার দেনা করে পূণরায় বোর ধানের ব্যপক চাষাবাদের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে চাষাবাদ ও রোপন কার্য অনেকেই সম্পন্ন করেছেন। বটিয়াঘাটা উপজেলাটি শিল্প ও মহানগরী খুলনার পাদদেশ ঘেষে এবং কাজিবাছা, রূপসা, ভদ্রা, শৈলমারী, সালতা, পশুর, ঝপঝপিয়া, নালুয়া, মাঙ্গা, ময়ুর নদী সহ অসংখ্য প্রমত্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা, বটিয়াঘাটা, গঙ্গারামপুর, সুরখালী, ভান্ডারকোট, বালিয়াডাঙ্গা ও আমিরপুর ইউনিয়নের মোট ১ শত ২৭ টি গ্রাম এর মধ্যে মিষ্টি ও সুপেও পানির এলাকা বা অধিকাংশ গ্রামের চলতি বরো মৌসূমে আমনের লোকসান পুষিয়ে নিতে কৃষক কৃষানীরা বোরো ধান চাষাবাদ ও রোপনে কর্মব্যাস্ত সময় অতিবাহিত করছে। প্রচন্ড শীত বা ঠান্ডা এবং গরম, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাত দিন ধান উৎপাদনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমন ধান চাষাবাদ ও উৎপাদন ব্যায়ের চেয়ে বোর ধানের ক্ষেত্রে অনেক বেশি শ্রম ও ব্যয় অনেক বেশি হয়ে থাকে। উপজেলার বোরো চাষী কৃষকরা জানায় লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদ শুরু করেছি। যদিও এর জমি চাষ, রোপন , পানি সেচ, ঔষধ ব্যবহার, ধান কাটা, মাড়াই, আগাছা পরিস্কার সহ বিভন্ন চাষাবাদ কার্যক্রমে কৃষকদের অনেক খরচ হয়ে থাকে। তবে উপযুক্ত মূল্য পেলে বর্গাচাষীদেরও কিছু লাভ হয়ে থাকে। অন্যথায় লোকসান গুনতে হয়। বার বার লোকসান গুনতে হলে এক পর্যায়ে উৎপাদনের স্পৃহা কৃষকদের হারিয়ে যায়। জমির মালিকদের চেয়ে বর্গা চাষীদের লভ্যাংশ কম হয়ে থাকে। হেক্টর প্রতি ১ শত ১৩ মন এর মতো বোরো ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, আমনের ক্ষতি পূরণ করার জন্য আমরা কৃষি অধিদপ্তর বোরো ধান চাষাবাদের জন্য ৪ হাজার ৫ শত হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় নিয়েছি। লক্ষমাত্রা সফল হলে এ উপজেলা থেকে ২০ হাজার ২ শত ৫০ মেট্রিকটন বোরো ধান উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা বয়েছে। এছাড়া কৃষকদের ঘূর্ণীঝড় বুলবুল ও আমন ফসলের ক্ষতি কৃষকদের পুষিয়ে নিতে আমরা বিনা মূল্যে সার, বীজ, নগদ অর্থ ও গ্রুপ ভিত্তিক নিয়মিত কৃষক-কৃষানী প্রশিক্ষণ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সহ নানা প্রনোদনা কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি। আশা করি কাংখিত সু-ফল উপজেলার কৃষক-কৃষানীরা পাবে।

বটিয়াঘাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা আদায়

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম শনিবার বাজার সদরে ৫ টি দোকানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় নিপা ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী প্রাণ কৃষ্ণ সরকারকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ রাখার অপরাধে ভোক্তাধিকার আইনে ৫ হাজার টাকা, অশ্বিণী সাহা ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী বিপ্লব সাহাকে ১০ হাজার টাকা, হারান চন্দ্র দাসের মিষ্টির দোকানে বাংলাদেশ হোটেল ও রেষ্ট্রুরেন্ট অধ্যাদেশে ২ হাজার টাকা, চপলা ষ্টোরের সত্ত্বাধিকারী নিহার মন্ডলকে ভোক্তাধিকার আইনের ৩৮ ধারায় ৫ হাজার টাকা ও লিটন ঘোষের মিষ্টির দোকানে ভোক্তাধিকার আইনের ৩৮ ও ৫২ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। আদালত পরিচালনা কালে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বটিয়াঘাটায় স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : দেশের অন্যান্য উপজেলার ন্যায় আজ রবিবার বটিয়াঘাটা উপজেলার ১১৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন-২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে প্রথমিক ভাবে দেশের ১৯ জেলার ১০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থানীয় জনসাধারণ, ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি করে। উক্ত নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে উপজেলার ১১৫টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতস্ফুর্ত ভাবে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন শান্তিপূর্ন ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, বটিয়াঘাটা থানা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনে ভোটারা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে আছে ভোট প্রদানের জন্য। ৭,৮ ও ১০ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ভোট প্রদানের ব্যপক আগ্রহ দেখা যায়। এই নির্বাচন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব প্রদানের বহিঃপ্রকাশ। থানা মডেল সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের নির্বাচিতরা হলো ৫ম শ্রেনীতে উচ্ছাস গোলদার ও রুবাইয়া খাতুন, ৪র্থ শ্রেনীতে লিথি মন্ডল, রাই জোদ্দার ও প্রত্যুষা হালদার, ৩য় শ্রেনীতে সুনন্দা অধিকারী ও পড়সী মন্ডল। অনুরূপ ভাবে উপজেলার হেতালবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৫ম শ্রেনীতে তীর্থ রায়, সৌম্য বাছাড় ও শমিষ্ঠা ঢালী, ৪র্থ শ্রেনীতে উৎস জোদ্দার ও হোসাইন বিশ্বাস, ৩য় শ্রেনীতে পরাগ জোদ্দার ও সমৃদ্ধ মন্ডল। স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ ও আনসার সদস্য সবই ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য থেকে নির্ধারন করা হয়।

দাকোপে প্রতিবন্ধি স্কুল পরিচালনার অন্তরালে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপের বাজুয়ায় অনুমোদনহীন প্রতিবন্ধি স্কুল পরিচালনার অন্তরালে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। “শেখ হাসিনা নাকি বাজুয়া” প্রতিবন্ধি স্কুল, আলোচীত ওই স্কুলের নাম নিয়ে দাকোপবাসী আছে ধোয়াশার মাঝে। অভিযুক্ত সজল গাইন অপকর্মের দ্বায় এড়াতে ঢাল হিসাবে মহিলা এমপিকে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। তবে তিনি সে দ্বায় নিতে অস্বীকার করেছেন।
নিজেই সভাপতি নিজেই পরিচালক আবার নিজে স্ব ঘোষিত প্রধান শিক্ষক ঘোষনা দিয়ে গড়ে তুলেছেন দূর্ণীতি অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক অভিনব কারবার। নেই কোন পরিচালনা কমিটি। প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে ভুয়া নিবন্ধনে দাকোপের বাজুয়ার চড়ারধারে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিবন্ধি স্কুল। স্কুল ঘরের বেড়ার সাথে শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ব্যানার টানানো। অথচ স্কুলের প্রবেশদ্বার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে টানানো প্যানায় লেখা আছে বাজুয়া প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় । খোজ নিয়ে দেখা যায় শিক্ষার নামে সেখানে চলছে বিতর্কিত সজল কান্তি গাইনের বেআইনী স্বেচ্ছাচারী অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব কারবার। অতীতের নানা কুকীর্তির কারনে এলাকায় এই সজল বহুলালোচীত। নিজে ভুমি দাতা, সভাপতি, পরিচালক এবং প্রধান শিক্ষক সেজে ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে এই প্রতিবন্ধি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন এমন দাবী তার। যেখানে ১ম থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নেই কোন অনুমোদন, মানা হয়নি কোন নিয়মনীতি। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১২ জুন খুলনার একটি স্থানীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শিক্ষক কর্মচারীর বিভিন্ন পদে দরখস্ত আহবান করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ঢাকা লালমাটিয়া প্রতিবন্ধি সোসাইটি বিদ্যালয় নামের একটি স্কুলের নিবন্ধন নাম্বার ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয় অপর একটি স্কুলের জনৈক প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রতিটি দরখস্তের বিপরীতে ৫ শ’ থেকে ৭ শ’ টাকা করে পে অর্ডার/ব্যাংক ড্রাপট চাওয়া হয়। এভাবে কয়েক শ’ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় লক্ষাধীক টাকা। স্থানীয় কলেজের শিক্ষকদের মাধ্যমে নেওয়া হয় বিতর্কিত নিয়োগ পরিক্ষা। যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিক্ষক এবং পরিক্ষা পদ্ধতি কোনটাই আইনসিদ্ধ ছিলোনা। বাজুয়া সরকারী এল বিকে মহিলা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক নিলাদ্রী শীল এবং বিবিধ ভূষন সেই নিয়োগ পরিক্ষায় পরিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পেয়ে কথা হয় কলেজ অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল্লাহ হাবীবের সাথে। তিনি বলেন আমার অনুমতি নিয়ে কেউ এমন নিয়োগ পরিক্ষায় দায়িত্ব পালন করেনি। তবে আমার অজান্তে নিয়েছে কিনা সেটে জেনে জানাতে পারবো। আবার সেই পরিক্ষার কোন ফলাফল ঘোষনা না দিয়ে জনপ্রতি পদ অনুসারে ৩ থেকে ৬ লক্ষ করে টাকা নিয়ে ১১ জন শিক্ষকসহ কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শতাধীক শিক্ষার্থী আছে দাবী করে সজল গাইন বলেন, ১২ জন শিক্ষক ও ৪ জন ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীর সমন্বয়ে স্কুলটি পরিচালনা করছি। জানা গেছে প্রধান শিক্ষক সজলের স্ত্রী, শ্যালক আছে এই শিক্ষক তালিকার মধ্যে। অপরদিকে অভিযুক্ত সজল গাইন ইতিপূর্বে জাল সনদে বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী শিক্ষক হিসাবে চাকুরী করতে গিয়ে ধরা পড়ে চাকুরীচ্যুত হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার মন্ডল বলেন, আপনিতো সবই জেনেছেন, আমি আর কোন মন্তব্য করতে চাইনা। উল্লেখিত দূর্ণীতি অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সজল গাইন উত্তেজিত হয়ে বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মহিলা এমপি এ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। সকল বিষয়ে তিনি জানেন, পারলে তার কাছ থেকে জেনে নিবেন। তাছাড়া নিজেকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং ইউপি চেয়ারম্যান মিহির মন্ডলের ভাগিনা পরিচয় দিয়ে বলেন “আমি আপনাকে কোন তথ্য দিবোনা, এখানে হাবলা পাড়ায় নোট ভাঙানো যাবেনা”।
উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা এমপি এ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, আমি জানি অনেকেই আমার নাম ভাঙানোর চেষ্টা করছে। কেউ যদি অপকর্ম করে তার সাথে আমি নেই এটা স্পষ্ট কথা। আমাকে ওই স্কুলের সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দিলে আমি বলেছি স্কুলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে হলে রাজি আছি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি। তারা আমাকে ওই স্কুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমি বলেছি সকল কাজ স্বচ্ছতার সাথে করে এলাকার সুধী সমাজকে সাথে নিয়ে আমি স্কুলে যাবো। এর বাইরে আমি কিছু জানিনা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিধান অনুযায়ী এমন কোন বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের জানার কথা। কিন্তু বাজুয়ার প্রতিবন্ধি স্কুলের বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। আইনতভাবে আমি বা আমার দপ্তর এ বিষয়ে কিছু জানেনা। অর্থাৎ সরকারী হিসেবে দাকোপে কোন প্রতিবন্ধি স্কুলের অস্তিত্ব নেই। তবে উপজেলা প্রাথমিক দপ্তরের একটি সুত্র জানায়, ওই স্কুলের কয়েকজন শিক্ষক যারা নাকি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরে নিজেদের বেতন ভাতার বিষয়ে জানতে এসে বাস্তব তথ্য জেনে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। শিক্ষাকে পণ্য হিসাবে পুঁজি করে দূর্ণীতি অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে এর সাথে কোন কোন রাঘব বোয়াল জড়িত আছে। বর্তমান সরকার যেখানে নিজ দলের প্রভাবশালীদের দূণীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছেন, সেখানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে প্রতিবন্ধি স্কুল পরিচালনার নামে অর্থ বাণিজ্যের এই অভিযোগের সঠিক তদন্ত এবং আইনত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে দাকোপবাসী।