করোনার বিস্তার রোধে সাধারণ ছুটি বাড়ছে ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত

ঢাকা অফিস : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় চলমান সাধারণ ছুটির মেয়ার আরও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৫ই এপ্রিল থেকে ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে, ১০ এবং ১১ই এপ্রিল শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে, দেশের ৬৪ জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর কথা জনান প্রধানমন্ত্রী। তবে, সাধারণ ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করার বিষয়টি দু’একদিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এড়াতে গেল ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যেই, আবার ১১ই মার্চ মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ছুটির ঘোষণা আসলো। করোনাভাইরাসের কারণে সারা দেশে টানা ১৭ দিন ছুটি থাকবে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান দেশে আরও দু’জনের শরীরে করোনার উপিস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দেশে বর্তমানে করোনা আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৫১ জন। আর এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন। সুস্থ হয়েছেন মোট ২৫ জন।

নতুন আরও ২জন করোনা রোগী শনাক্ত

ঢাকা অফিস :  গত ২৪ ঘন্টায় আরও ২জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১শে মার্চ) অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ তথ্য জানান রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি জানান, যে দু’জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন তারা পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন সৌদি ফেরত, তার বয়স ৫৭ বছর। তিনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন। অন্যজনের বয়স ৫৫, তিনি দেশেই ছিলেন। তারও ডায়াবেটিস আছে। তিনি কিভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সে বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

এর ফলে, দেশে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫১ জন।

আইইডিসিআর এর পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ১৪০ জনসহ এখন পর্যন্ত সর্বমোট ১৬০২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনকে আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া, সম্প্রতি করোনার উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তারা কেউ করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন না।

ঝালকাঠির নলছিটিতে ২২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠিঃ ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় সর্দিজ্বর ও কাশি নিয়ে ভারত থেকে আসা এক ব্যক্তির শ্বশুর বাড়িসহ আশপাশের তিনটি বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার রাতে সতর্কতায় এই লাল পতাকা টানানো হয়।

নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার জানান, সোমবার বিকেলে নলছিটি পৌরসভার অনুরাগ গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওই ব্যক্তি।

তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। তিনি ভারতে থাকতেন। তবে সম্প্রতি তিনি দেশে আসেন। সর্দিজ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সোমবার তিনি শ্বশুর বাড়িতে আসলে স্থানীয়রা করোনা আতংকে উপজেলা প্রশাসনকে জানায়।

রাতেই শতর্কতায় ওই ব্যক্তির শ্বশুর বাড়িসহ তিন বাড়িতে লাল নিশান টানিয়ে দেয়া হয়। তিন বাড়ির মোট ২২জন ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি।

ওই তিন বাড়িতেই পৌরসভার পক্ষ থেকে ১০ কেজি করে চাল ২ কেজি ডাল এবং ৫ কেজি আলু পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সেইসাথে সবাইকে ঘর থেকে বের না হতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার।

ঝালকাঠিতে জ্বরে আক্রান্তে মৃত্যু নিয়ে আতংক

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি :: ঝালকাঠির রাজাপুরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আব্দুল হাকিম নামে এক দিনমজুররের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাউথপুর গ্রামের নাপিতবাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুর পর আতঙ্কে ওই এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

স্বজনরা জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তি গত ১০ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটি ক্লিনিকে এবং বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করেছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাইরে ঘোরাফেরাও করতেন। তার মৃত্যুর পর নানা গুঞ্জনে বাড়ির আশপাশের এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা দরকার।

রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও আবুল খায়েল রাসেল জানান, তিনি জ্বরে মারা গেছেন। জীবিত লোকের করোনা পরীক্ষা করাই মুশকিল, তারপর তো মৃত ব্যক্তি! তিনি করোনায় মারা গেছেন কিনা তা বলতে পারবো না। তবে পরিবারের ভাষ্যমতে করোনার লক্ষণ বলে মনে হচ্ছে না।

কেশবপুরে ডাক্তার হাসনাত আনোয়ারের মানবিক সাহায্য প্রদান

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ডাক্তার হাসনাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কেশবপুরের কৃতি সন্তান ডাক্তার হাসনাত আনোয়ারের পক্ষ থেকে অতিদরিদ্রদের মাঝে মানবিক সাহায্য হিসাবে চাউল, ডাউল. আলু ও পেয়াজ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কেশবপুর শহরের ফাহিম প্লাজায় ডাক্তার হাসনাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কেশবপুরের কৃতি সন্তান ডাক্তার হাসনাত আনোয়ারের পক্ষ থেকে অতিদরিদ্রদের মাঝে মানবিক সাহায্য হিসাবে চাউল, ডাউল. আলু ও পেয়াজ বিতরণ করেন কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ।
উল্লেখ্য কেশবপুরের কৃতি সন্তান ডাক্তার হাসনাত আনোয়ার বর্তমানের সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ-এর মাধ্যমে কেশবপুর বাসির জন্য উক্ত মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছেন।
তাছাড়া ডাক্তার হাসনাত আনোয়ার করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সারাদেশে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশি আতঙ্কে ঘরছাড়া দেড় শতাধিক পরিবার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সারা বিশ্ব। এ রোগের প্রাদর্ভাব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি ছুটি আরও কয়েকদিন সীমিত আকারে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর ছুটিকালীন সময়ে সকলেই যাতে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান সেই লক্ষে কাজ করে চলেছে জেলা প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন ইউনিট। অথচ একটি হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশি আতঙ্কে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মধ্য পারপুগী শিববাড়ী গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের সদস্যরা এখন গৃহহারা। তারা আজ একখানে তো কাল আরেকখানে এভাবে পুলিশি আতঙ্ক ও গ্রেফতারের ভয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে দিন যাপন করছে।
কেননা গত ১০ মার্চ ওই এলাকার সামসুল ডাকাত নামে একজনের খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৭/৮ জন অজ্ঞাত দেখিয়ে একটি হত্যা মামলা করে নিহত ডাকাতের মা জুলেখা বেওয়া।
পুলিশি আতঙ্কে থাকা ঐ গ্রামের মাহমুদা, লতিফা, হোসনেয়ারাসহ আরো অনেকে জানান, সামসুল ডাকাত হত্যা মামলায় যে সাতজনের নাম উল্লেখ আছে তাদের আটক করে নিয়ে যাক পুলিশ, কিন্তু মামলায় অজ্ঞাত ৭/৮জন উল্লেখ করায় পুরো গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে। পুলিশ দিন নেই, রাত নেই এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে-এতে হয়রানি ও গ্রেফতার আতঙ্কে পুরো গ্রামের নারী-পুরুষেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি হাসেন আলী নামে এক ভ্যান চালককে ধরে নিয়ে যাওয়ায় এ আতঙ্ক আরও জোড়ালো হয়ে পড়ে।
তারা আরও জানায়, এ এলাকার বেশিরভাগ লোকই দিনমজুর, হোটেল শ্রমিক, চাতাল শ্রমিক।একদিকে সরকারের নির্দেশ সকলকে বাসায় থাকতে হবে, অন্যদিকে পরিবারের অর্জনক্ষম ব্যক্তিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে একদিকে অমান্য করা হচ্ছে সরকারি নির্দেশ অপরদিকে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এ এলাকার মানুষ। এছাড়াও মামলা হতে নাম বাদ দিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে এলাকাসির কাছে ফোনে ২৫-৩০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও জানান ভূক্তভোগিরা।
এ অবস্থায় দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসি।
এ বিষয়ে জানতে ঠাকুরগাঁও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভীরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পুলিশ কোন হয়রানি করছে না। ১৬৪ ধারার জবানবন্দি মোতাবেক যেসব আসামীদের নাম এসেছে শুধু তাদেরকেই গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে-এতে আতঙ্কিত বা হয়রানির কিছু নেই।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মধ্য পারপুগী শিববাড়ী গ্রামের একটি আম বাগান থেকে সামসুল ডাকাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর তিন দিন আগে সামসুল ডাকাত ওই তার দূসম্পর্কের চাচাতো ভাই জিলানীর কলেজ পড়ুয়া ছেলে রাজুকে ধাওয়া দিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদেমুল নামে এক ব্যক্তির বাসায় রামদা দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে মেধাবী ছাত্র রাজু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন রয়েছে।এছাড়াও সামসুল ডাকাতের নামে সদর থানায় বেশকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

তালায় ৩০০ পরিবারকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ

তালা প্রতিনিধি : তালায় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তালা উপজেলার আটারই, খানপুর ও খলিলনগর এলাকার দলিত ও নিম্ন আয়ের ৩০০ পরিবারকে সাবান, ব্লিচিং, মাস্ক, বেবী ফুডস বিতরণ করা হয়। তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয় ও জাতপুর সমকাল মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ চত্বরে উক্ত বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুল হক কিসলু, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল, তালা উপজেলার ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক সরদার রফিকুল ইসলাম, তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা মফিজুল হক জাহাঙ্গীর. মনোজিৎ ঘোষ প্রমুখ।

দাকোপে করেনা মোকাবেলায় খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যহত

আজগর হোসেন ছাব্বির : করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশব্যাপী সরকারের দরিদ্র পরিবারে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দাকোপে পেশাজীবি সেলুন সমিতির সদস্যদের মাঝে খাদ্য দ্রব্য বিতরন করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে প্রশাসনের তৎপরতার মাঝে মানুষের ঘর ছাড়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলায় বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ১৩১ জন।
মঙ্গলবার সকালে দাকোপ উপজেলা সদরে পেশাজীবি সেলুন সমিতির সদস্যদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু ও ১ পিচ সাবান বিতরন করা হয়। উপজেলা সদরে বসবাসকারী ৪২ টি পরিবারের মাঝে এসব খাদ্য দ্রব্য বিতরন করা হয়। এ সময় স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডঃ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, নির্বাহী অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন, চালনা পৌর মেয়র সনত কুমার বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার ভূমি তারিফ উল হাসান, দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ সফিকুল ইসলাম চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খাদিজা আকতার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের, পৌর প্যানেল মেয়র আব্দুল গফুর সানাসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রধান ও সেনা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় সোমবার হতদরিদ্র দিন মজুর শ্রমজীবি পরিবারের মাঝে ১২ টন চাল বিতরন করা হয়েছে। কিন্তু অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও শ্রমজীবি মানুষের বসবাস এ উপজেলায় সরকারের এ পর্যন্ত দেওয়া খাদ্য সহায়তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। যে কারনে সরকারের নির্দেশনা এবং প্রশাসনিক তৎপরতার মাঝে ও অনেকে জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হতে শুরু করেছেন। বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যান্ত ঝুকিপূর্ন। আবার এক শ্রেনীর মানুষ প্রশাসন সরে গেলেই রাস্তায় বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হক নিজামীর সাথে কথা বলে জানা যায় এ পর্যন্ত দাকোপে বিদেশ ফেরত কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা ১০৭ জন। যার মধ্যে মেয়াদ পূর্ন হয়েছে ৫৭ জনের। এখন কোয়ারেন্টাইনে আছে ৫০ জন। এ ছাড়া দেশের অভ্যান্তরীন হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা আছে ৮১ জন। সব মিলিয়ে দাকোপে মঙ্গলবার পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ১৩১ জন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কশিনার ভূমির নেতৃত্বে সেনা ও পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন ইউনিয়নে হাট বাজার মনিটরিং ও টহলে ছিল।

তালায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় পিতা-পুত্রের ওপর হামলা

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধসহ তার পুত্র। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের উত্তর নলতা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। আহত হয়েছে উত্তর নলতা গ্রামের বৃদ্ধ সিরাজ মোড়ল (৭৫) ও তার ছেলে সাত্তার মোড়ল (৩৮)। বর্তমানে বৃদ্ধ সিরাজ মোড়ল তালা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন আছে। এ ঘটনায় তালা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযোগে জানাযায়, উত্তর নলতা গ্রামে সামছুর রহমান মোড়লের ছেলে সুমন মোড়ল (২২) দীর্ঘদিন ধরে সাত্তার মোড়লের ৮ম শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়া মেয়ে (১৪) স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মেয়ে নিজে বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিল। পরে খলিলনগর ক্যাম্পে ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর দু’পক্ষকে ক্যাম্প ইনচার্জ ডেকে এক আপোষনামার মাধ্যমে নিস্পত্তি করে দেয়। আপোষনামায় সুমন মোড়ল আর এ ধরণের কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করে। সম্প্রতি আবরো সুমন মোড়ল বিভিন্নভাবে ঐ মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে মেয়ের বাড়ির সামনে মেয়ে উত্ত্যক্ত করার সময় মেয়ের দাদা সিরাজ মোড়ল এসে বাঁধা দেয়। পরে সুমন গংরা মেয়ের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এ সময় বৃদ্ধ সিরাজ মোড়ল ও তার ছেলেকে পিটিয়ে জখম করে তারা। পরে স্থানীয়রা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে বৃদ্ধ সিরাজ মোড়ল তালা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, ওখানে একটি মারামারির ঘটনা তিনি শুনেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

কয়রায় গাজা সেবনকারীর জরিমানা

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ কয়রা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও কয়রা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ৩০ গ্রাম গাজা সহ আঃ সামাদ (৪৭) কে আটক করেছে। আটককৃত ব্যাক্তিকে ভ্রাম্যামান আদালতের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জানা গেছে মঙ্গলবার সকাল ১০ দিকে কয়রা উপজেলার চাঁদআলী ব্রিজ এলাকা থেকে গাজাসহ তাকে আটক করা হয়। পরবর্তিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুর-ই আলম ছিদ্দিকী ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তার নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। অভিযানকালে কয়রা থানার এসআই জাহিদ,ভুমি অফিসের পেশকার আনিচুজ্জামান সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।