ভ্যানের উপর সন্তান প্রসবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে ভ্যানের ওপর বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে ভ্যানের ওপর বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুটো তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটিগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

এদিকে সকালে শিশুটি ও তার মাকে দেখতে মাছখোলা গ্রামে যেয়ে খাদ্য, শিশু খাদ্য ও নগদ টাকা দিয়ে এসেছেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে খবর আসার পর তিনি কয়েক দফায় ফোন দিয়ে খবর নিয়েছেন। একই সাথে আর্থিক ভাবে সহয়তা করার নির্দেশও দিয়েছেন। ফলে সকালেই জেলা প্রশাসক শিশু রুদ্র দাসের বাড়িতে পৌছান এবং সার্বিক বিষয়ে খোজ খবরও নেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, ভ্যানের ওপর বাচ্চা প্রসবের ঘটনায় গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. এহেছান আরাকে প্রধান করে আজ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরু্েদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: বদিউজ্জামানকে প্রধান করে দুপুরে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক।

শুক্রবার সদর উপজেলার ছনকা গ্রামের গৃহবধু শিমুলি দাস সন্তান প্রসবের জন্য কোন ক্লিনিকে ভর্তি না হতে পেরে সদর হাসপাতালে যান। সেখানেও তাকে ভর্তি না নিলে বেদনায় ছটফট করতে করতে ভ্যানের ওপরই ছেলে সন্তান প্রসব করেন তিনি। যার নাম রাখা হয়েছে রুদ্র দাস।

তালায় বিএনপি’র নিহত পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার প্রদান

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা তালায় নিহত একটি পরিবারে কাছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পৌঁছে দেন তালা উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (০৫ মে) দুপুরে উপজেলার দোহার গ্রামে জালালপুর ইউনিয়নের সাবেক সাধারন সম্পাদক নিহত এস.এম বিপ্লব কবীর’র মা হাতে ঈদ উপহার নগদ অর্থ তুলে দেন উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মৃনাল কান্তি রায়,সাধারন সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সোহরাব ইসলাম,আরশাফুল ইসলাম প্রমূখ । এসময় মোবাইল ফোনে শোকাহত পরিবারকে সমাবেদনা জানান সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়লো

ঢাকা অফিস : করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার (৫ই মে) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এর ফলে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৭ই মে থেকে বাড়িয়ে ১৬ই মে পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

এ নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউএই, ইউকে এর সাথে বিদ্যমান বিমান চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও আগামী ১৬ই মে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

তবে কার্গো, ত্রাণ সহায়তা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি অবতরণ ও স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনার কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে।

তালায় সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে কৃহকর্তাকে কৃপিয়ে জখম

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা তালার জালালপুরের কানাইদিয়ায় স্বসশ্ত্র সন্ত্রাসীরা সিঁদ কেটে বসত ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ি মালিক কার্ত্তিক দেবনাথ (৬৫) কে উপর্যুপরী কুপিয়ে মারাত্নক আহত করেছে। কার্ত্তিক কানাইদিয়ার মৃত কুঞ্জ বিহারী দেবনাথের ছেলে। আহতকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কার্ত্তিক প্রতি রাতের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে নিজ ঘরে স্বস্ত্রীক ঘুমিয়ে ছিলেনর। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা বসত ঘরের পিছন থেকে সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ঘুমন্ত অবস্থায় কার্ত্তিককে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিপেটা করতে থাকে। এসময় তার গোঙানিতে পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রীর ঘুম থেকে জেগে ঐ অবস্থা দেখে চিৎকার শুরু করেন। তাদের আত্নচিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা একই পথে পালিয়ে যায়।

এরপর গুরুতর অবস্থায় কার্ত্তিক দেবনাথকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানয়ি পল্লী চিকিৎসক আজিজুরের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে হাসপাতালে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে তাকে কুপিয়েছে।

এব্যাপারে জালালপুর ইউপির স্থানীয় ২ নং ওয়ার্ড সদস্য কালিদাশ অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। তার ধারণা, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জঘন্য এ ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

তালা থানা ডিউটি অফিসার এস আই জামিরুল জানান, এব্যাপারে এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ হলে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনার নতুন চাষ – হতে ও পারে বাম্পার ফলন

।। ওসমান গনি।।

মহামারি করোনাভাইরাসের আক্রমণে আজ সারাবিশ্ব অস্থির। এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাদ যায়নি এশিয়া মহাদেশের ছোট্ট আয়তনের একটি বাংলাদেশ। যে দেশের লোক সংখ্যা প্রায় ১৮/২০ কোটি।
গত মার্চ মাস থেকে করোনাভাইরাস বাংলাদেশে আক্রমণ করে। ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম যখন বাংলাদেশে আক্রমণ করে তখন সরকার দেশের মানুষকে করোনাভাইরাসের আক্রমণ ও সংক্রমণ হতে রক্ষার জন্য সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। সরকারের সেই বিধিনিষেধ কে মান্য করে দেশের মানুষ অনেকটা নিরবতায় ছিল। সারাদেশে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ত ও পারস্পারিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার কারনে দেশ একটা ভাল অবস্থানের মধ্যে ছিল। মিল কারখানা, গার্মেন্টস, বড় বড় শপিং মল বন্ধ, গণপরিবহন বন্ধ এসব ই ছিল বাংলাদেশের জন্য আর্শিবাদ।
পরবর্তীতে যখন দেশের অর্থনীতির কথা, বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে, দেশের মানুষের জীবনযাত্রার কথা চিন্তা করে মিল কারখানা, গার্মেন্টস, শহরের বড় বড় শপিংমল গুলো খুলে দেয়া হলো, মানুষের জনসমাগম একত্র হতে শুরু করল, সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন ভেঙ্গে কর্মের তাগিদে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেড়িয়ে গেল, গার্মেন্টস ও কলকারখানায় শ্রমিকরা কাজ আরম্ভ করল তখন থেকেই হুহু করে দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে লাগল। এ যেন দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসের চাষ শুরু করল সরকার। যে হারে ফসল ফলতে শুরু করছে তার ধারা যদি চলমান থাকে সামনের দিনগুলোতে সরকার করোনা আক্রান্ত রোগীর বাম্পার সংখ্যা বা ফলন পেতে পারে।
করোনা মহামারির মধ্যে গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি তা সমগ্র দেশের জন্য অকল্যাণ বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন দেশের সচেনতন মহল।
 করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের আগের যাবতীয় উদ্যোগ বিফলে যেতে পারে বলেও মনে করেন সচেতন মহল।পোশাক কারখানা ও শ্রমিকদের অনেক গুলো বিষয় জড়িত। গার্মেন্টস কারখানা  হচ্ছে শ্রমঘন একটি শিল্প। অধিকাংশ গার্মেন্টস শ্রমিক কম ভাড়ার ছোট বাসায় থাকেন, যেখানে একই রুমে কয়েকজনকে থাকতে হয়। এছাড়া একাধিক পরিবারকে একই রান্নাঘর এবং বাথরুম ব্যবহার করতে হয়। করোনা রোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাটা যেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সেই দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না।
সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের দেশের গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকবান্ধব না। মালিকের মুনাফার দিকেই বেশি নজর। বর্তমান পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস খোলা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বেশ খারাপ। প্রধানমন্ত্রী যখন মালিকদের প্রণোদনা দিয়েছেন শ্রমিকদের বেতন ভাতার নিশ্চয়তার জন্য, সেখানে এমন তড়িঘড়ি করা উচিৎ হয়নি, আরও কিছুদিন দেখা উচিৎ ছিল।
এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি শোচনীয়। দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মাত্রা যখন বাড়ছে, বিশেষজ্ঞরা যখন মে মাসকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন, ঠিক সেই সময়ে পোশাক কারখানা খুলে দিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া হলো।
এই দুর্যোগের সময় পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা নষ্ট পুঁজিবাদী ব্যবস্থার চরম দৃষ্টান্ত, যেখানে জীবনের কোনো মূল্য নেই, শুধু মুনাফাটাই বড় বিষয়। যদি সেখানে বড় ধরনের কোনো সংক্রমণ হয়, তাহলে শুধু শ্রমিকরা নয়, সমাজের অন্যান্যরাও আক্রান্ত হবে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন বিরোধী। স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কারখানা খোলার ফলে বিশ্বের কাছে আমাদের পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদি শ্রমিকরা আক্রান্ত না হয় তবুও দেশের সুনাম নষ্ট হয়েছে। এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মনে করল বাংলাদেশের কাছে মানুষের জীবনের চেযে টাকার মূল্য বেশী। তানাহলে এই দুর্যোগ মুহুর্তে গরীব ও অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা সম্ভব হতো না।

কেশবপুর হাসপাতালের সিনিয়র নার্সের দেহে করোনা সনাক্ত

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সিনিয়র নার্সের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসায় সন্দেহজনকভাবে সোমবার তার নমুনা পরীক্ষা জন্য পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালে তার করোনা ভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট আসে পজেটিভ। কেশবপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে কেশবপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জনে।
কেশবপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ আলমগীর হোসেন জানান, আক্রান্ত ওই সিনিয়র নার্সকে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। কেশবপুরে করোনাভাইরাস শনাক্ত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারী। একজন প্রাইভেট ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী। শনাক্ত রোগীদের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের বাসা ও বাড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হয়েছে।
এদিকে কেশবপুর হাসাপাতালের সিনিয়র নার্সের দেহে করোনা সনাক্ত হওয়ার সংবাদ এলাকায় প্রচার হওয়ায় কেশবপুর হাসপাতাল প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাসপাতালে প্রবেশ করছেন না।

সাঘাটায় ব্রিধান ৮৪ জাতের ধানের বাম্পার ফলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : চলমান মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বোরো ধানের নতুন জাত ব্রি-ধান ৮৪ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকদের ব্রি-ধান ৮৪ চাষে আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে । গাইবান্ধা জেলায় এখন সাঘাটা উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে ব্রি-ধান ৮৪ জাতের পাকা ধান। যা ইতোমধ্যে অনেক এলাকাতেই কৃষকরা এই ধান কাটতে শুরু করেছেন। এসব ধান চাষীরা জানায়, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বোরো ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু যে পরিমাণ খরচ হয়েছে সে হিসেবে বাজারে দাম ভালো পেলে খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখা যাবে। কিন্তু বাজারে এখন পর্যন্ত ধানের যে দাম রয়েছে তাতে ধান বিক্রি করে কৃষকরা উৎপাদন খরচই ঘরে তুলতে পারবে না। তাই তারা আশা করছে পুরোপুরি ধানকাটা শেষ হয়ে গেলে পাইকাররা আসতে শুরু করলে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং তখন তারা ধান বিক্রি করবে। এই আশাতেই যে সমস্ত কৃষক আগে ধান কেটেছে তারা উৎপাদিত ধান শুকিয়ে গোলায় মজুদ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এ জাতের ধান রোপন করে ভালো ফলন পেয়েছে এবার সাঘাটা উপজেলার কৃষকরা। উপজেলায় ১৩ হাজার ৯শ’ ৮৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে জিংক সমৃদ্ধ নতুন জাত ব্রি-ধান ৮৪ রোপন করে অনেকেই ফলন ভালো পেয়েছে। এছাড়াও উফশী জাতের ব্রি-২৮, ২৯, ৫৮, ৮৪ ও ৮১ জাতের ধান চাষেও ভালো ফলন হয়েছে। সব মিলিয়ে উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

শপিংমল খুলে দেয়ায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস : শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেয়ায় সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক। মঙ্গলবার (৫ই মে) দুপুরে সচিবালয়ে করোনা টেকনিক্যাল কমিটির সভা ও সমসাময়িক স্বাস্থ্য বিষয়ক বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান। মন্ত্রী জানান, শপিংমল, দোকানপাট খুলে দেয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবনা এবং পরামর্শ সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে।

এ সময় তিনি আরও জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা পরীক্ষার আওতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়াও করোনাভাইরাসের টেস্টের সংখ্যা এবং পরীক্ষার স্থান আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গাইবান্ধায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ৭৮০ জন  

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘন্টায় মঙ্গলবার করোনা ভাইরাসে নতুন করে আরও একজন আক্রান্ত হয়েছে। নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায়। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৪ জন। এরমধ্যে একজন মারা গেছে। বাকিরা একজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ১২ জন গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আইসোলেসনসহ বিভিন্ন আইসোলেসনে রয়েছে। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে তারা ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাওয়া তথ্য মতে ,জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৭৮০ জন চিকিৎসাধীন রোগী হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ২৬, গোব্দিন্দগঞ্জে ১৪২, সদরে ১২৪, ফুলছড়িতে ১৯০, সাঘাটায় ১৯৫, পলাশবাড়ীতে ২৮, সাদুল্যাপুর উপজেলায় ৯৪ জন। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১ জন রয়েছে।

ঝালকাঠি শহরে আরও একজনের করোনা সনাক্ত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠিতে নতুন করে আরো এক জনের শরীরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত এই ব্যাক্তি সাম্প্রতি ভারত থেকে ঝালকাঠিতে এসেছেন । তিনি পৌর এলাকার কালিবাড়ী সড়কের বাসিন্দা। এ নিয়ে জেলায় মোট ১২ জন আক্রান্ত হলেন। আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা: শ্যামল কৃষ্ণ হালদার। তিনি জানান, আইইডিসিআর থেকে রিপোর্টে এই ব্যাক্তির করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। আপাতত সুস্থ্য থাকায় তিনি নিজ বাড়িতে আইসোলিয়শনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই ব্যাত্তির আসে পাসের বাড়ি গুলো লকডাউন করা হয়েছে।

উল্লেখ্যঃ এবার ঝালকাঠি শহরের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও একজন ব্যক্তির দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে।এনিয়ে জেলা শহর ও শহরতলীতে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৪ জন এবং জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ জন।