দাকোপে অসহায় মানুষের পাশে মানবিক সংগঠন “পাশে থাকতে চাই”

সুপ্রিয় সরকারঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো বিশ্ব এখন আতঙ্কিত। দেশের প্রতিটি অলিতে গলিতে পড়েছে এর মারাত্মক কূ-প্রভাব। এই দূর্যোগঘণ মুহুর্তে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো। খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলা চালনা পৌরসভার মোঃ রনি ইসলাম সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুককে ব্যবহার করে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে তৈরী করেছেন একটি বিশেষ সংগঠন “পাশে থাকেন চাই”।

এই সংগঠনের উদ্যোক্তা জানান প্রথমে সংগঠন ছাড়াই কয়েকজন যুবককে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অর্থ সংগ্রহ ও সচেতনতা মূলক কাজে অংশ নেন, আশানুরুপ ফলাফল না পাওয়ায় ফেসবুকের মাধ্যমে চালু করেন ” পাশে থাকতে চাই ” নামক একটি মানবিক সংগঠন। এরপরে পুরো দমে চলছে অর্থ সংগ্রহ ও সাহায্যের কাজ। অনেকেই উৎসাহিত হয়ে রাজনীতির বাইরে এমন মানবিক উদ্যগকে সাধুবাদ জানিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি জানান আমরা গ্রুপে বিভিন্ন ভাবে মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি এবং আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমরা তাদের অনুমতি ক্রমে নাম ও সাহায্যের বিবরণ গ্রুপে নিয়মিত শেয়ার করে যাচ্ছি, সংগ্রহ শেষ হলে তা একত্রিত করে অসহায়দের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও চিকিৎসা সামগ্রী কিনে তাদের দ্বারে দ্বারে পৌছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি, এসময় তিনি আরো বলেন ফটো সেশন নয় আমরা পাশে থাকতে চাই। মানবিক এই উদ্যগে যদি আপনারা পাশে থাকতে চান তবে নিম্নক্ত নাম্বার গুলোর মাধ্যমে সাহায্য পাঠাতে পারেন। সরাসরি সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম।

বিকাশ নম্বর : ০১৯২১৫০১১৮৮
রকেট : ০১৯২১৫০১১৮৮৭
DBBL : ১৪৭১০৩২৯৮৬৩৪

এক কয়েদি করোনায় আক্রান্ত : কারাগারে আতঙ্ক

পঞ্চগড় : এক কয়েদির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরে পুরো কারাগারে আতঙ্ক, কারাবন্দিদের নমুনা সংগ্রহ।

পঞ্চগড় কারাগারে বন্দি থাকা এক কয়েদির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত ৫ মে সেখানেই তার নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়। এরপরেই পঞ্চগড় কারাগারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৩রা মার্চ থেকে ১লা মে পর্যন্ত ওই কয়েদি পঞ্চগড় কারাগারে বন্দী ছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তি যে কারা ওয়ার্ডে ছিলেন তা লকডাউন করে দেয়া হয়। এমনকি কারাগারের বন্দীসহ ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা কারাগারের চারজন কারারক্ষী, জেলা পুলিশের দুইজন সদস্য, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের একজন নার্স, একজন ওয়ার্ডবয় এবং অ্যাম্বুলেন্স সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায়। ওই বন্দিকে গত ৩রা মার্চ ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার থেকে পঞ্চগড় কারাগারে আনা হয়। এরমধ্যে একবার তিনি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। আগে থেকেই তাঁর অ্যজমার সমস্যা ছিল। গত ১ মে রাতে তার অ্যাজমার সমস্যা বেড়ে গেলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে রাতেই তাঁকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে তিনটার দিকে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রংপুর কারাগারের আওতায় সেখানে ভর্তির পরে শ্বাসকষ্ট থাকায় ৩ মে তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হলে ৫ মে তার করোনা শনাক্ত হয়।

পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার মো. শফিকুল আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই আমরা কারাগারে সতর্কতা জারি করি। এমনকি কারাগারে প্রতিদিনই জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। এমনকি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেয়া হয়। এমনকি ওই কারা ওয়ার্ডটি লকডাউন করার পাশাপাশি সতকর্তামূলক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ডে থাকা ৫২ জন বন্দির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে এবং ওই বন্দির সংস্পর্শে আসা চারজন কারারক্ষীকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে ২২৯ জন বন্দী রয়েছেন বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান বলেন, ৫২ জন বন্দীসহ কারাগার থেকে মোট ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই বন্দির সংস্পর্শে আসায় কোয়ারেন্টিনে থাকা কারারক্ষী ও পুলিশ সদস্যসহ অন্যদেরও পর্যায়ক্রমে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড়ে ওই কয়েদি বাদেই ১ স্বাস্থকর্মীসহ জেলায় মোট ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ২ জন, তেঁতুলিয়ায় ৪ জন, বোদায় ২ জন ও দেবীগঞ্জে ৩ জন। এদের বেশির ভাগই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ করোনা সংক্রমিত হটস্পট থেকে পঞ্চগড়ে ফিরেছেন। তবে তারা সবাই সুস্থ রয়েছেন। এমনকি ১১ জনের মধ্যে ২ নারীর দ্বিতীয় দফায় নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছে। তারা তেঁতুলিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

মোংলায় তিনটি ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই একাধিক ফাঁটল !

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় তিনটি ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই একাধিক ফাঁটল দেখা দিয়েছে। আর এ ব্রীজ তিনটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফাঁটল লাগা স্থান সমুহে দ্রুত সিমেন্ট বালুর প্রলোপ দিয়ে সরকারি কোষাগারের প্রায় ৭০ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে । অভিযোগ উঠেছে-ওই ব্রীজ তিনটি নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ব্রীজের টেকসই ও গুনগত মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে-২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে মোংলায় গ্রামীন রাস্তায় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যেগ নেয়া হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে এ প্রকল্পের আওতাধীন মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নে দু’টি ও সুন্দরবন ইউসিয়নে একটি গ্রামীণ জনপদের মোট তিনটি ব্রীজের কাজ ভাগিয়ে নেয় মেসার্স মাহাতাব এন্টারপ্রাইজ নামের স্থানীয় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রথম পর্যায় কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিাকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৯ আগষ্ট উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপাই খানজাহান বিদ্যালয় সংলগ্ন খালের ওপর ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু করে। প্রায় ১৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় মূল্যের এ প্রকল্পের কাজ একই অর্থ বছরের ২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় সম্পন্ন করতে পারেনি। চলতি বছরের মার্চে প্রায় ৫ মাস পর দায়সারা এ সেতুর কাজ শেষ করে ঠিাকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই পিলারসহ একাধিক স্থানে ফাঁটল দেখা দেয়। জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত ফাঁটল লাগা স্থান সমুহে কোন মতে সিমেন্ট বালুর প্রলোপ দিয়ে লোক চক্ষুর আড়ালে সটকে পড়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। একই অর্থ বছরে ও প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে কার্যাদেশ পাওয়া ৩২ লাখ ৪১ হাজার টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের অপর একটি ব্রীজের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৯ আগষ্ট । মাকড়ঢোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশতলা খালের ওপর ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের এ ব্রীজটির নির্মাণ কাজেও নেয়া হয়েছে নানা অনিয়মের আশ্রয়। এ ব্রীজের কাজটিও ২০১৯ সালের ১৭ অক্টেবর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। নির্ধারিত সময়ের পর চলতি অর্থ বছরের এপ্রিল মাসে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। আর গত সপ্তাহে ব্রীজের দুই প্রান্তে মাটি ভরাট ও লেভেল কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগকৃত শ্রমিকরা। এরই মধ্যে গত ৪মে বিকালে হঠাৎ করেই ব্রীজের দু’ প্রান্তের পিলার, বেজ, ওয়াল ও স্লাবে ৬/৭টি ফাঁটলের সৃষ্টি হয়। আর ব্রীজটির এ ফাঁটলের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসলে আশপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র উত্তেজনা। আর সদ্য নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া এ ব্রীজের ফাঁটল দেয়া দেয়ার বিষয়টির খবর ওই দিনই সন্ধ্যায় পৌছায় উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরে। পরদিন ৫ মে দুপুরে ব্রীজটির বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনের সময়সীমা নির্ধারন করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আর তাদের পরিদর্শনে যাওয়ার খবর পেয়ে ঠিকাদারের শ্রমিক সকাল হতে না হতেই ফাঁটল ধরা স্থান সমূহে সিমেন্ট বালুর প্রলেব দিয়ে কর্তা ব্যক্তিদের নজর এড়ানোর চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে সফলতা অর্জন করেন বলে জানান এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ-এই ব্রীজটি নির্মাণেও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রীজের দু’প্রান্ত হতে অপরিকল্পিতভাবে মাটি খনন করা হয়েছে। এতে ব্রীজ সংলগ্ন বেশ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারের অপরিকল্পিত মাটি উত্তোলনে আশপাশের বসতঘর, দোকানপাট খালের মধ্যে ঝুঁকে পড়েছে। এমনকি একটি পরিবারের পারিবারিক কবরস্থানও এখন খালের পেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে সুন্দরবন আইনিয়নের কচুবুনিয়া খালের উপর প্রায় ১৮ লক্ষাধিক টাকার ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের ব্রিজটিতেও ব্যাপক অনিয়ম ও নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্ভরযোগ্য অপর একটি সূত্র জানায়, মেসার্স মাহাতাব এন্টারপ্রাউজ নামের এ ঠিাকাদরী প্রতিষ্ঠানটি ওই দুটি ব্রীজের প্রাক্কলিত ব্যায় ও বিলের অর্ধকোটি টাকা উত্তোলনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর তাকে সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ ও পরক্ষ্যভাবে সহায়তা করছেন।
এ বিষয় বছরের পর বছর মোংলা উপজেলা দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তার নাহিদুজ্জান দাবি করেন, ঠিাকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সিডিউল ও কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী কাজ করেছে। আর কাজের মান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদারকি করেছেন। তবে মাটি খনন কাজে অদক্ষতার অভাবেই প্রতিষ্ঠানটির নির্মানাধীন ব্রীজে ফাঁটল দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইতিমধ্যে ব্রীজ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান, বিষয়টি প্রকল্পের পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

আটোয়ারীতে অসহায় বৃদ্ধার জায়গা হলো মেয়ের বাড়িতে

মনোজ রায় হিরু, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর সহযোগিতায় এক অসহায় প্রবীণ বৃদ্ধার জায়গা হলো তার মেয়ের বাড়িতে। পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার মির্জাপুর এলাকার জনৈক মৃত; মজদ আলীর স্ত্রী ইশারন বেগম (৯০) গত ৭মে ত্রানের জন্য মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে যায়। সেখানে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে ত্রাণ না পেয়ে বৃদ্ধা পরিষদের বারান্দায় অসুস্থ্য অবস্থায় পড়ে থাকেন। এলাকাবাসী বৃদ্ধার অসহায়তার খবর পঞ্চগড় পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিক আটোয়ারী থানা পুলিশকে বৃদ্ধার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। অত:পর থানা পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই পরিষদ হতে বৃদ্ধাকে নিয়ে ওই ইউনিয়নের পাখরতলা এলাকায় অবস্থিত তার ছোট মেয়ে আজিমা বেগমের বাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন। এদিকে ঘটনার পরদিন দুপুরে আবারও জেলা পুলিশের পক্ষে খাদ্য সামগ্রী সহ বৃদ্ধার খোঁজ নিতে পাখরতলা গ্রামে হাজির হন আটোয়ারী থানা পুলিশ। এসময় আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইজার উদ্দীন, ওসি (তদন্ত) জয়ন্ত কুমার সাহা ও এস,আই শাহীনুর ইসলাম সিদ্দিকী, গণমাধ্যমকর্মী মনোজ রায় হিরু এবং মো: জাহেরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের বৃদ্ধা ইশারন বেগম জানান, তার ৫ মেয়ে এবং স্বামীর বাড়িতে সৎ ছেলেরা বসবাস করে। কিন্তু সৎ ছেলেরা বৃদ্ধার কোন খোঁজখবর রাখেনা। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের এমন কর্মকান্ড সর্বমহলে প্রশংসীত হয়েছে এবং এলাকাবাসী পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মহোদয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বটিয়াঘাটায় বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে বৃদ্ধার খাদ্য বিতরণ

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়ঘাটায় বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে কর্মহীন অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক বৃদ্ধা ৷ বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়ানের 8 নং ওয়ার্ডের চক্রাখালী মল্লিকের মড়ে হতদরিদ্র বৃদ্ধা নীলা মল্লিক(৮৫) তার বয়স্ক ভাতার টাকা দিয়ে করোনা ভাইরাস এ দরিদ্র কর্মহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল, আলু , লবন , সাবান উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিত ঠিকাদার, আওয়ামী লীগ নেতা সুবীর মল্লিক, বিধান হালদার, প্রদীপ টিকেদার, তুফান মল্লিক, সাগর মল্লিক, প্রসেন মল্লিক,ও হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষ ৷ এ ব্যাপারে বৃদ্ধা নীলা মল্লিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমি নিজে একজন অসহায় মানুষ । তারপরও এই বিপদের দিনে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি বোধ করছি।আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি খুব তাড়া তাড়ি যেন এই বিপদ থেকে মানুষ মুক্তি পায়।

৯ শত পরিবারের কাছে উপহার পৌঁছে দিলেন যুবলীগ নেতা হাফিজ

খুলনা অফিস : করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পরা ও অসহায় মানুষদের মাঝে খুলনা মহানগর যুবলীগের সিনিয়র সদস্য এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজের উদ্যোগে মুহাম্মাদনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ৫দিন ব্যাপী ৪ হাজার পরিবারকে উপহার প্রদানের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ তৃতীয় দিনে ৯০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল উপহার দেওয়া হয়। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ১নং জলমা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আয়াজনে এর আগে গত ৫ মে প্রথম দফায় ৬শত পরিবারকে এবং ৬,৭ মে দ্বিতীয় দফায় ১৫শত পরিবারের মাঝে উপহার বিতরণ করা হয়।
উপহার সামগ্রী বিতরণী অনুষ্ঠানে যুবলীগ নেতা এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, আপনারা ভয় পাবেন না, আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন, তিঁনি এবং তারঁ সরকার নিরলস কাজ করছেন, করোনা পরিস্থিতি থেকে এই দেশ রক্ষা হবে ইনশাঅল্লাহ।
৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল আজিজ সেখ এর সভাপতিত্বে উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মাদনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুজ্জামান ময়না, ১নং জলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্যা মিজানুর রহমান বাবু, বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ্ব আসলাম হোসেন তালুকদার। উপস্থিত ছিলেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের পেশ ইমাম গাজী নাসির উদ্দিন, বায়তুল মিরাজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুফতি নাজমুল হাসান, জেলা জাতীয় পার্টি নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ১নং জলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আলমগীর হোসেন, ২৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সম্পাদক মোঃ জাহিদ হাসান অপি, ১নং জলমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ দুলাল শেখ, খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি এস এম তানজির রহমান উষাণ, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিৎ রায় অভি, ১নং জলমা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক এস এম তানভির রহমান অপুসহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোঃ মাহাবুবুর রহমান মাসুম।
আগামীকাল ৯ মে ১০০০ পরিবারকে উপহার হিসেবে ১০ কেজি করে চাল দিয়ে ৫ মে থেকে শুরু হওয়া ৫দিন ব্যাপী ৪ হাজার পরিবারকে উপহার প্রদানের কর্মসূচি শেষ হবে। সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন না হলে আবারো এধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানান যুবলীগ নেতা এস এম হাফিজুর রহমান হাফিজ।

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই দুলাভাই এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা গেছেন শ্যালিকা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের ২৮ মাইল নামক এলাকায় মর্মান্তিক এ দুঘর্টনা ঘটে ।
পুলিশ ও দমকল বাহিনী জানায়, রংপুর থেকে মোটরসাইকেল যোগে শ্যালিকা সুর্বনা (২৪)কে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের নেকমরদে যাচ্ছিলেন নিহত শহীদুজ্জামান সুমন (৪০)। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবেশ করার আগে ২৮ মাইল নামক স্থানে পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক মটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দেয় । এতে ঘটনাস্থলেই সুমন মারা যায় এবং তার শ্যালিকাকে স্থানীয়রা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহত শহিদুজ্জামান সুমনের বাড়ি রংপুরের আলম নগরে। তার শ্বশুর বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদে।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, আজ নিহত সুবর্ণাকে তার গ্রামের বাসা ঠাকুরগাঁওয়ের নেকমরদে পাত্র পক্ষের দেখতে আসার কথা ছিলো। এদিকে সুবর্ণা ছিলো তার দুলাভাইয়ের রংপুরের বাসায়। পাত্রপক্ষ দেখতে আসার কথা ঠিক হলে আজ দুপুরে তার দুলাভাই নিজের অফিসিয়াল কাজ শেষ করে শ্যালিকা সুবর্ণাকে নিয়ে বাইকে রওনা হয় শ্বশুড়বাড়ীর উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে ঠাকুগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের ২৮ মাইল নামক স্থানে একটি ঘাতক ট্রাক তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দুলাভাই সুমন। আর ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সুবর্ণা। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

সড়ক দূর্ঘটনায় শ্যালিকা-দুলাভাই নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বীরগঞ্জ থানার সাব-ইন্সেপক্টর নিতাই চন্দ্র রায়।

মানবতার ধর্মে জ্ঞানের পরিধি কখনই স্রষ্টাকে অতিক্রম যোগ্য নয়

নজরুল ইসলাম তোফা : সৃষ্টিকর্তার সুপরিকল্পিত এমন সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের জীবন যাপনের দিক নির্দেশনা ও সাম্য-মৈত্রীর বানী নিয়েই যেন যুগেযুগে বিভিন্ন ধর্মের আগমন ঘটেছে। ইতিহাসের কথা মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতবর্ষ হচ্ছে ধর্মের আদি ভূমি। তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধর্মের নামে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অসচেতন মানুষরা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে। আবার, ধর্মই মানুষকে করেছে সুসংহত, মানবতাবাদী ও ভালোবাসার বন্ধনেই যেন সকল ধর্মীয়  মানুষরা সামাজিক পরিমণ্ডলে বসবাস করছে। আসলে সকল ধর্ম বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। যদি বলা হয় যে বিজ্ঞানটা যুক্তিবিজ্ঞানের উপরে নির্ভর করে, যে কারণে দুটি প্রায়ই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। তাই বিজ্ঞান ও ধর্ম নিয়ে প্রায়ই তর্কের জায়গাতেই পৌঁছে যায়। বিজ্ঞান এবং ধর্ম এদুটি একই সঙ্গে সাবলীল গতিতে চলে তা বলা যেতেই পারে। কিন্তু কিছু গোঁড়া বিজ্ঞানীরা কিংবা বিজ্ঞান মনস্ক মানুষ বিজ্ঞানের অপব্যবহার করছে। তারা বিজ্ঞান দ্বারা ভুল বা ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে ধর্মের মিথ্যা প্রমাণটাও যেন করতে চায়। এদের ভ্রান্ত যুক্তি না বুঝে অনেকেই খারাপ দিকেও চলে যাচ্ছে, অস্বীকার করছে সৃষ্টি কর্তাকে এবং ধর্মকে। মনে রাখতে হবে সৃষ্টিকর্তা সবার, ধর্ম যার যার। ‘সৃষ্টিকর্তা’ একজনই। কেউ তাকে আল্লাহ, কেও ভগবান কেউ ঈশ্বর বলে। যেকোন ধর্মে কট্টরভাবে ধর্ম পালনের কথা বলা হয় নি। বরং সুষ্ঠু ভাবেই যেন ধর্মকে পালনের পাশাপাশি অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার শিক্ষা দিয়ে থাকে। মানব জীবনে এ ধর্মটা হচ্ছে একটি জীবন ‘ব্যবস্থা বা শৃঙ্খলা’। অথচ এই সুন্দর ধর্মকে কিছু মানুষ- ভুল প্রমাণিত করতে চায়। আসলেই কোন কিছুই আপনা-আপনি উদ্দেশ্যহীনভাবেই সৃষ্টি হয় না। মানুষের জ্ঞানের পরিধি কখনই অতিক্রম যোগ্য নয় তা মানতেই হবে।
এই পৃথিবীতে ধর্ম এবং অধর্ম বলে দুটি কথা আছে। ধর্ম মানুষকে সঠিক পথে আর অধর্ম মানুষকে বিপথেই যেন পরিচালিত করে। মানুষ সৎ কাজ কিংবা পুণ্য কাজ যত গোপনে বা প্রকাশ্যে করুক না কেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তা জনসাধারণের কাছে গোচরীভূত হয়। তদ্রূপ- পাপকর্ম বা মিথ্যা তথ্য অতি গোপনীয়ভাবে করা হলেও তা আপনা আপনি লোকসমাজে জানা জানি হয়ে যায়। কথায় বলে, সত্য কোন দিন গোপন থাকে না। ধর্ম মেনে চললে কিংবা  স্বার্থত্যাগ করে পরার্থে নিজেকেই ব্যাপৃত রাখলে সুফল হয়। কিন্তু স্বার্থপরেরা ধর্মটাকে যেন চাপা দিয়ে বিজ্ঞানের যুক্তি-তর্ক দাঁড় করিয়েই যেন স্বার্থান্বেষী হয়ে বিপথে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই “বিজ্ঞান” চেতনার স্বার্থপর মানুষরা সত্যকে চাপা দিয়ে কোনো অসত্যকেই কখনো প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না, কপটচারীর মুখোশ একদিন খসে পড়বেই। সৃষ্টিকর্তার এ বিশ্বাস নিয়েই যেন সকল ধর্মাবলম্বীদের অবস্থান। কারণ যা খুব সত্য তাকে কোনো আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। যা ন্যায় এবং সত্য তা অন্যায় এবং অসত্যের মতো কোনো কিছু দিয়ে দুরে ঠেলে দিতে চাইলেও দিবালোকের মতোই উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। এক একটা সত্যকে চাপা দিতে হলে অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। তাই ‘সত্যের জয়’ অবশ্যম্ভাবী, তা মিথ্যার জাল ছিন্ন করেই প্রকাশ পায়।
জ্ঞানী মানুষ সহনশীলতা এবং ধৈর্য ধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারে, কি অশিক্ষিত বা অল্প শিক্ষিতরা তা পারে না। এখানে এমন কথা বলছি একারণেই যে, ধর্মের প্রতি কোনো আঘাত বা কটূক্তি সৃষ্টি হলেই তাদের ‘রক্ত গরম’ হয়ে উঠে। এটা একেবারেই ধর্মের আদর্শ নয়, সেটা যেই ধর্মাবলম্বীর মানুষ হোক না কেন। আসলে বলতে হয় যে অন্ধ বিশ্বাসেই যে কোনো ধর্মকে আঁচড়ে ধরা ঠিক নয়।ধর্মটা হচ্ছে জ্ঞান অন্বেষণের জন্যে বৃহৎ প্লাটফর্ম। মহান স্রষ্টা বিশ্ব জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশংসিত জ্ঞানী, তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাই তিনার জ্ঞানভাণ্ডার থেকে জ্ঞানঅর্জনের চেষ্টা করতে হবে। যা কিছু ঠিক নয় তা কখনো করাটাও উচিত নয়। সঠিক পথ ও দয়া সৎকর্মপরায়ণদের জন্যে সৃষ্টি কর্তা রেখেছেন। যারা মহান স্রষ্টাকে জ্ঞান ও সঠিক চেতনা দিয়ে স্মরণ করে বা পবিত্রতা বৃদ্ধি করেই দানের মাধ্যমে এগিয়ে আসে বা পুনরুত্থান সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তারাই তো আসল ‘ধর্মপরায়ন’। এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা কিনা মানুষকে মহান সৃষ্টিকর্তার সঠিক পথ থেকে ভূল পথে চলার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা গুলি সংগ্রহ করে অন্ধ ভাবে সৃষ্টি কর্তাকে নিয়েই ঠাট্টা বিদ্রূপ করে, এদের জন্যেই রয়েছে ‘অবমাননাকর শাস্তি’। তিনি তো তাদেরকে ‘বিচার’ করবেন। এমন কথা গুলো একটু সাজিয়েগুছিয়েই বলার চেষ্টা মাত্র। যখন তাদের সামনে মহান স্রষ্টার কথাগুলো অাবৃতি করা হয় ঠিক তখন ওরা দম্ভের সাথে এমন ভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়- যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির, শোনে না সৃষ্টিকর্তার সঠিক কথা। সুতরাং, ওদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তির সংবাদ দাও। শান্তি দেওয়ার কথাটা বলা হয় নি। আমরা রক্ত গরম মানুষ, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী ভুল পথের মানুষ। একটু অসংগতি খবর পেলে তেলেবেগুনেই যেন গর্জে উঠি। সৃষ্টিকর্তার খুব সঠিক দিক নির্দেশনা মানতে চাই না। আসলে বলতেই হয় যে অতৃপ্তি মানব চরিত্রেরই একটি স্বভাবধর্ম। অধিকাংশ মানুষই স্বীয় অবস্থায় সুখী ও সন্তুষ্ট নয়। অসংগতি দেখলেই অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত মানুষের রাগ। এমন রাগ দেখানো ঠিক নয়।
সৃষ্টিকর্তা বলেন, বরং জুলুমকারীগন সুস্পষ্ট ভূল পথেই পতিত হচ্ছে তারা জ্ঞান শূন্য হিসেবেই বিবেচ্য। সূ-মহান স্রষ্টা মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন, তার যথাযথ প্রয়োগ ও পরিচর্যা করেই ধর্মকে চিনতে হবে। এ মর্মে বলা যায়  যে, তারা মহান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং সহনশীল হতেই হবে। যে কৃতজ্ঞ হয়, সেতো কেবল নিজ কল্যানের জন্য কৃতজ্ঞ হয়- আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, সেই মানুষেরাই মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট হতভাগ্য, অধম। জ্ঞানী লোকই তাদের মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে ‘সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত’ বা এরাই সফলকাম। সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেই যেন প্রতিটি ধর্মে বা বিশেষ করে পবিত্র কোরআনে নিষেধ আছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকেই যেন সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে পরিশুদ্ধ ভাবেই তা আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং ‘’তোমাদের ধর্মটা তোমাদের জন্যে, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্যে।’ একে অন্যের ধর্ম পালন করতে গিয়ে কেউ কোনোরূপে সীমা লঙ্ঘন কিংবা বাড়াবাড়ি করবে না। অন্য কেউ যদি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেও ফেলে তবে ভুলেও যেন কোনো মানুষ এই ধরনের হীন ও জঘন্য কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে। এই বিষয়টিই নসিহত স্বরূপ মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব অন্য ধর্মাবলম্বীর মানুষ জন দেব-দেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের একটি গালিও দিও না। যাতে করে তারাই শিরক থেকে- আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত যেন আল্লাহ তায়ালাকে গালি দিয়ে না বসে।’ সুতরাং, যেখানে অন্য ধর্মের দেবতাকেই গালি দেওয়া নিষিদ্ধ, সেই খানে মন্দির ভাঙচুর ও মানুষ হত্যা কীভাবে বৈধ হতে পারে? একজন প্রকৃত মানুষকে জ্ঞান অন্বেষণের জন্য চেষ্টা করা দরকার। কখনোই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে সামান্য আঘাত আসে- এমন ধরনের একটি কাজও করা যাবে না। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘’কোনো মুসলমান যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে বা তাদের ওপরে জুলুম করে, তবে কেয়ামতের দিন আমি মুহাম্মদ ওই মুসলমানের বিরুদ্ধে আল্লাহর আদালতে লড়াই করব।” আল্লাহ্তায়ালার নবী আরো বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিম কিংবা বিধর্মীদের হত্যাকারীরা জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবেনা। ৪০  বছরের রাস্তার দূরত্ব থেকে ওই ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।’ যাক  অনেক কথাই বলা হচ্ছে আর একটা উদাহরণ দিই অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, ‘’যে ব্যক্তি কোনো অমুসলিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে আল্লাহতায়ালা সেই মানুষদের জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদিনের চিরাচরিত এক চমৎকার নিয়ম ছিল, যখন কোনো সেনা বাহিনী প্রেরণ করার প্রয়োজন হতো, তখন যুদ্ধ সম্পর্কিত বিভিন্ন নসিহতের পাশা পাশি দিকনির্দেশনার সাথে এই কথা অবশ্যই বলে দিতেন যে, ‘যুদ্ধকালীন সময়ে কিংবা যুদ্ধের পরেও কোনো মন্দির, গীর্জা, উপাসনালয় ভেঙে ফেলবে না।’
সুতরাং বলতে চাই, এ জগৎ সংসারে প্রজ্ঞাময় মানুষের অভাব রয়েছে। ধর্ম মিথ্যাচার নয়, ধর্ম গুজব সৃষ্টি কারী কোনো বিধান নয়, ধর্ম প্রতারিত করা বা গুম, খুন, ধর্ষণ করার মতোও সাংবিধানিক নিয়ম নয়। হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, সেই সময় যখন নাকি পিতা পুত্রের কোন কাজেই আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে মহান সৃষ্টিকর্তার  প্রতিজ্ঞা সত্য। সুতরাং ‘পার্থিব জীবন’ যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং মহান স্রষ্টা সম্পর্কে প্রতারক ও মন্দ মানুষেরাই যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে। নিশ্চয় মহান স্রষ্টার কাছেই পুনরুত্থান দিবসের জ্ঞান আছে তা অর্জন করো- তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ তা জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। মহান স্রষ্টা সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে তিনি সম্যক জ্ঞাত। তিনিই জ্ঞানী, তাঁর বিধানের জ্ঞান অর্জনে ব্রত হও। বিজ্ঞানটাও তাঁরই সৃষ্টি, বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে, এ দু’টিকে সাবলীল গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। মানুষের জ্ঞানের পরিধি কখনই সৃষ্টিকর্তা ব্যথিত অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তাই শুধুই বিভেদ সৃষ্টি  নয়, জ্ঞান অর্জন করেই আমাদের ধর্ম কিংবা বিজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রয়োজন।

ঝালকাঠিতে পুলিশ-ইউপি সদস্যসহ করোনা জয় করলো ৫ জন

corona

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে প্রথম করোনা সনাক্ত হওয়া এক পরিবারের তিনসহ একজন পুলিশ ও ইউপি সদস্য করোনা মুক্ত হয়েছেন। বরিশালের পর আইইডিসিআরে পরীক্ষায় তাদের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে জানান ঝালকাঠি সিভিল সর্জন ডাক্তার শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার।

ঝালকাঠি জেলা সিভিল সার্জন আরও জানান, এই ৫ জনের মধ্যে প্রথমবার সনাক্ত হওয়ার পর এক পুলিশ সদস্য বরিশাল করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।তিনি নারায়ণগঞ্জে পুলিশের এসআই পদে কর্মরত থেকে অসুস্থতায় ঝালকাঠির শহরতলীর গ্রামের বাড়িতে এসে নমুনা পরীক্ষায় করোনা সনাক্ত হন।

এদিকে সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা একই পরিবারের শিশুসহ তিন সদস্যেরে শরীরে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায়ও করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। তার বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

অপরদিকে ওই ইউনিয়নের করোনা সনাক্ত হওয়া ইউপি সদস্যও করোনা মুক্তবলে আইডিসিআরের পরীকায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এদের সবাইকে আপাতত বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার।

প্রসঙ্গত, ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদারের নির্দেশনায় তিন উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা শুরু হয়।অসুস্থ্য থাকাকালীন থেকে এরা সবাই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা পেয়েছে আসছে।

ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদার বলেন, করোনার হাত থেকে বাঁচতে হলে সবাইকে এই মুহুর্তে ঘরে থাকতে অভ্যস্থ হতে হবে। আর জরুরী প্রয়োজনে বের হলে মাক্স ও গ্লোভসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।

কালবৈশাখীর ছোবলে দাকোপে বহু ঘরবাড়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত

আজগর হোসেন ছাব্বিরঃ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর দাকোপ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ী বিধবস্তসহ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ঝুঁকির মুখে আছে মাঠের তরমুজ।
সরেজমিন খোজ নিয়ে জানা যায়, ঝড়ে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে সব থেকে বেশী ক্ষতে হয়েছে। সেখানকার বটবুনিয়া বাজারের প্রায় ৩০ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্নরুপে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের ৪, ৬ ও ৮ নং ওয়ার্ডে ১০ টি বসতঘর বিধ্বস্ত এবং বহু গাছপালা পড়ে গেছে এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত মন্ডল। কামারখোলা ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল দাবী করেছেন তার ইউনিয়ন পরিষদের আর, ডি সৌর প্যানেল, রূপান্তরের কিশোর-কিশোরী ক্লাবসহ ৯ টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া দাকোপ, বাজুয়া, লাউডোপ, কৈলাশগঞ্জ, বানীশান্তা ও পানখালী ইউনিয়নে ঝড়ের সাথে হওয়া শিলাবৃষ্টিতে কৃষকের লক্ষ লক্ষ টাকার তরমুজ বিনষ্ট হয়েছে। সেখানকার একাধীক চাষি জানিয়েছেন এভাবে ধারাবাহিক বৃষ্টি হলে পানি জমে মাঠে থাকা তরমুজসহ অন্যান্য সব্জি পঁচে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। এছাড়া চালনা পৌরসভা সহ অন্যান্য ইউনিয়নে বেশ কিছু বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছপালা বিনষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে শুক্রবার সকালে বটবুনিয়া বাজারের বিধ্বস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন দাকোপ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, নদীর তীরবর্তী বটবুনিয়া বাজারে দূর্বল অবকাঠামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছি। এখন ডি ফরম তৈরীর কাজ চলছে। ক্ষতির পরিমান নির্নয় করে তাদেরকে সরকারি সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।