আশা আর শঙ্কার দোলাচালে

ইমতিয়াজ উদ্দিন : আজকাল কি বার? কত তারিখ? এসবের কোনো হিসাব থাকছে না। অনেকদিন লিখিনা। লেখাগুলোও এলোমেলো  হয়ে যাচ্ছে। কয়রার মানুষ এখনই ধৈর্যহারা। না থাকতে পারছে ঘরে, না পারছে বের হতে। মানুষ বড় অসহায়। কেউ জানি না শেষ কোথায়? নিজের ভিতরের চাপাকান্না জমিয়ে রাখতে হচ্ছে। এই নীরব কান্নায় কোনো শব্দ নেই। অশ্রু নেই। আছে বুকভাঙা এক নীরব কষ্ট। এমন বিপর্যয়ে কেউ পড়েনি কোনো দিন। এত অসহায় কখনো মনে হয়নি।
এ ভয়াবহতার মাঝেও অন্যায় বন্ধ হয়নি। অনেক মানুষ অপরাধ করে চলেছে। হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানো থেকে এখনো নিজেদের মুক্ত করেনি। লুটেরারা এখনো তৎপর। আমরা ভালো হব কবে!  মুখ দেখে নিজের মানুষ হিসেবে সহযোগিতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছেন কেউ কেউ। তালিকা থেকে সেইসব নাম আবার প্রশাসনের তদন্তে বাদও যাচ্ছে। এ লজ্জা রাখবো কোথায়।
কয়রা উপজেলা প্রশাষনের হিসেবে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ৪২ হাজারে দাড়িয়েছে। সরকারের ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের এতো এতো উদ্যোগ অথচ এখনও কয়রায় ৪৯৫ জন ভিক্ষুক। কয়রা সদরেই ভিক্ষুকের সংথ্যা ৯৩ জন, ভাবা যায়! উপজেলায় মোট ভবঘুরে রয়েছে ৪৮০, দিনমজুর ৩৭ হাজার ৬শত ৩৯ জন, রিক্সা-ভ্যান চালকের সংখ্যা ২ হাজার ১ শত ৭৪ জন, পরিবহন শ্রমিক ২৫৭ জন, রেষ্টুরেন্ট শ্রমিক ৫১৫ জন, ফেরীওয়ালা ১২০ জন। এছাড়া চায়ের দোকানদার ৮১১ জন। একার্থে বর্তমানে অসহায় হয়েপড়া এই ৪২ হাজার ৪শত ৯৫ জন গরীব মানুষ। সামনের দিনগুলিতে এই সংখ্যা কতোতে দাঁড়ায় কেউ জানে না। তারপরও গ্রাম্য ছ্যাঁচড়ারা রিলিফ চুরিতে তৎপর। কিছুদিন আগে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরকারি চালের বস্তাও উদ্ধার করেছেন। এই কঠিনতম সময়ে কোনো সুস্থ মানুষ গরিবের ত্রাণ চুরি করতে পারে না। মাঝে মাঝে মনেহয়, সরকারী সকল ত্রাণ তৎপরতা সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কারণ তৃনমূল পর্যায়ে মর্যাদাবান জনপ্রতিনিধি খুবই কম।
দায়িত্বশীলরা দয়াকরে  চারদিকের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। কয়রার মানুষ ভালো নেই। বাস্তবতা অনুধাবন করুন। নিজের ভোটার বা সমর্থকদের শুধু  নয়, যারা দিনে আনে দিনে খায় তাদের অধিকার নিশ্চিতে ভূমিকা রাখুন। কিছু মানুষের ভাবখানা এমন- রিলিফের মাল তো আমারই! এতো প্রতিভা নিয়ে কিভাবে ঘুমান আপনারা, বালিশের কষ্ট হয় না ?
এই কঠিনতম সময়ে কয়রার মানুষ এমনিতেই কষ্টে আছে। নতুন করে আর কষ্ট বাড়াবেন না। করোনায় মৃত্যু মানুষ মেনে নেবে, কিন্তু পেটের ক্ষুধায় মৃত্যু মানুষ সহ্য করবে না। মানুষকে ভালো রাখতে হবে। মানুষ না থাকলে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার কাউকে দরকার নেই।
প্রতিবছর এই সময় কয়রার বিপুল সংখ্যক মানুষ গোপালগঞ্জ-ফরিদপুরে ধান কাটতে যায়। সেখান থেকে ভাগে পাওয়া ধানে বছরের প্রায় অর্ধেক সময়ের খোরাক মেটে তাঁদের। সেই খোরাকে এবার ভাগ বসিয়েছে করোনা। এবার ধান কাটতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও পাঁচ হাজার পেরোয়নি। বটবৃক্ষের মতো পরিবার-পরিজনকে ছায়া দেওয়া মানুষগুলো স্বজনদের নিয়ে আজ ভীষণ উদ্বিগ্ন।
ওদিকে করোনার মধ্যে আবার বেড়ীবাঁধ নিয়েও মানুষ চিন্তিত। হরীণখোলা বাঁধটি নির্মানের ৬ মাসও হয়নি, আবার ভাঙছে। নদীর জোয়ার স্বাভাবিকের চাইতে দেড়ফুটর উচু হলেই উপচে নোনা পানি ঢুকবে লোকালয়ে। ২ নং কয়রা বেড়ীবাঁধটি নির্মানে বাঁধের গোড়ার দিকে ৫০ ফুট চওড়া হবার কথা, কিন্তু ২৫ ফুটও হয়নি। বাঁধের উচ্চতা হবে ১১ ফুট, হয়েছে ৮ ফুট। বস্তাগুলি চেহারা দেখাতে রাস্তার উপরে না রেখে দয়াকরে ভাঙনে ফেলুন। কোথায় বলবো? কার কাছে বলবো?
দায়িত্বশিল ব্যক্তিরা দয়াকরে মানুষের দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনুন। কাঁদতে ভুলে গেছে কয়রার খেটে খাওয়া মানুষেরা। চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে না। চারদিকের অবস্থায় বোবা আর্তনাদের মতো বাজছে।
তবে এটা বলা যায় যে, সরকারের সদিচ্ছার  অভাব নেই। এই প্রত্যন্ত কয়রায় করোনাকালিন সময়ে বাজেট এসেছে দেশের তৃতীয় সর্বচ্চ এবং খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বচ্চ বাজেট কয়রার জন্য। তার পরও হাহাকার কেনো? এপর্যন্ত কয়রায় করোনা মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদগুলির মাধ্যমে ১৫৯ মেট্রিকটন চাল দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়রার ৭ টি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ৭ লক্ষ ৬০ হাজার নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হয়েছে। শুধু তাইনয় কয়রার ১০ টাকা কেজির চাল পায় ১৩ হাজার ৩শত ৬৯টি পরিবার। তারপরও যদি কোনো অসহায় মনুষের কান্না শুনতে হয়, যদি কিছুই পাইনি বলে আক্ষেপ করেন কেউ, তাহলে এই দায় কার? এই জবাব কার কাছ থেকে নেব? নানাভাবে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার মানুষগুলি অনেক কিছু মেনে নিলেও, মনে নেয় না।
জানি না আগামী দিনের দুনিয়ায় কে বাঁচব কে মরব। তবে দিনশেষে একটাই চাওয়া মহান সৃষ্টিকর্তা সবকিছুই দ্রুত স্বাভাবিক করে তুলুক। ততদিন সবাই সবার প্রতি মানবিক হয়ে উঠি।
সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক।

লেখক,

সাধারণ সম্পাদক- কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।

বিশ্বে মৃত্যু ৩ লাখ পার : করোনা নির্মূলের ঘোষণা স্লোভেনিয়ার

corona

আন্তর্জাতিক : প্রায় চার মাসে বিশ্বের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে প্রাণহানির সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। এমন সময় ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে করোনা পুরোপুরি নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছে স্লোভেনিয়া।
আজ শুক্রবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩ লাখ ৩ হাজার ৩৫১ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ডওমিটার। চীনের উহানে নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করা হয় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাস সংক্রমণকে গত ১১ মার্চ মহামারি ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে দেয়। চীনের পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও আমেরিকাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করা করোনার তাণ্ডব এখনও চলছেই।

এরইমধ্যে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে করোনা পুরোপুরি নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছে স্লোভেনিয়া। তবে সতর্কতা হিসেবে নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তবে ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে কেউ আসলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

এদিকে যুক্তরাজ্যে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন এ মহামারীতে। এছাড়া ইতালিতে ৩১ হাজারেরও বেশি মানুষ, ফ্রান্স ও স্পেনে ২৭ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের আক্রমণে মারা গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে করোনায় মারা গেছেন আরও ১৪ জন। এতে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা ২৮৩ জন।এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনায় মৃতের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮৫ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এর মধ্যেই শীর্ষস্থানীয় মার্কিন বিজ্ঞানী রিক ব্রাইট অভিযোগ করলেন, করোনা নিয়ে পূর্ব সতর্কতা দেয়ায় তাকে পদচ্যুত করে ট্রাম্প প্রশাসন। কংগ্রেসের শুনানিতে আইনপ্রণেতাদের সামনে রিক আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে করোনা মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

অন্যদিকে রাশিয়ায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মত দৈনিক সংক্রমণ ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। আর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে একদিনে ৮৩৫ জনসহ মোট মৃত ১৪ হাজার । আক্রান্ত ২ লাখেরও বেশি।

এদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৭ তারিখের পর শপিং মল ও গণপরিবহন চালু করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

কেশবপুরে ১৮৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে মধ্য ও দক্ষিন বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প বালিয়াডাঙ্গা বিডি- ৩৪৩ এর নিবন্ধিত ১৮৫ খাদ্যসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রদীপ সিংহের পরিচালনায় শুক্রবার সকালে ১৮৫ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ১৫ কেজি করে চাউল, ২ কেজি করে ডাউল, ৫ কেজি করে আলু, ১ লিটার করে তৈল, ১ কেজি করে পেয়াজ, ১ কেজি করে লবণ, ৩টি করে সাবান ও ৫টি করে মাস্ক বিতরণ করেন কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সাউথ ক্লাস্টারের চেয়ারম্যান স্টিফেন বিশ্বাস। বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, পৌর কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান, পৌর কাউন্সিলর মফিজুর রহমান খান, ইউপি সদস্য মৃণাল কান্তিদাস প্রমুখ।

পলাশবাড়ীতে ধান কাটা কর্মসূচীর উদ্বোধন 

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : করোনার এই সময়কালে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে কৃষকলীগের আয়োজনে উপজেলার মহদীপুর ও বরিশাল ইউনিয়নের পৃথক দুটি স্থানে আজ শুক্রবার সকালে জমি হতে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা ৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাধারণ এ্যাড.উম্মে  কৃলসুম স্মৃতি এমপি  । এর আগে তিনি ২ শতাধিক অসহায় মানুষের হাতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া খাদ্য সহায়তা তুলে দেন । এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগে নেতা আব্দুস সামাদ মাষ্টার,বরিশাল ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান,আওয়ামীলীগ নেতা সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম,উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক মহব্বজান চৌধুরী, যুগ্ন আহবায়ক আমিনুল ইসলাম পাপুল, ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাহিবুল হাসান মুকিতসহ অন্যান্যরা ।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাড . উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ আয়ূ কামনা করে দোয়া কামনা করেন।

তালায় বিএনপির ত্রান বিতরণ কার্যক্রম শুরু

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : দেশের চলমান প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে প্রার্দুভাবে কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলা বিএনপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কর্মহীন অসহায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ শুরু করেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকালে তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ঘোষনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ত্রান বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক সাতক্ষীরা-১ (তালা – কলারোয়া) সংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব। প্রথম দিনে ৪০০ পরিবারের মাঝে চাল ও আলু বিতরণ করা হয়।
উপজেলা খলিলনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র আয়োজনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাষ্টার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুল ইসলাম ফারুখ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃনাল কান্তি রায়,সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম,যুগ্ম সম্পাদক মির্জা আতিয়ার রহমান,গাজী আছির উদ্দীন,শিক্ষক মোসলেম উদ্দীন প্রমূখ।

এসময় প্রধান অতিথি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন,বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে এ ত্রান বিতরণ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কেশবপুরে কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ জাহানপুরে ১৪৭ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় কম্প্যাশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে মধ্য ও দক্ষিন বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প জাহানপুর বিডি- ৩২৯ এর নিবন্ধিত ১৪৭ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজার উজ্জ্বল দাসের পরিচালনায় শুক্রবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসাবে ১৪৭ পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ১৫ কেজি করে চাউল, ২ কেজি করে ডাউল, ৫ কেজি করে আলু, ১ লিটার করে তৈল, ১ কেজি করে পেয়াজ, ১ কেজি করে লবণ, ৩টি করে সাবান ও ৫টি করে মাস্ক বিতরণ করেন সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন দফাদার। বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন কালভেরী ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ সাউথ ক্লাস্টারের চেয়ারম্যান স্টিফেন বিশ্বাস, কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ, প্রকল্পের পালক অনুপ বিশ্বাস প্রমুখ।

দেশে করোনাভাইরাসে আরও ১৫ জনের মৃত্যু : রেকর্ড শনাক্ত ১,২০২

ঢাকা অফিস : দেশে গত ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর, নতুন আক্রান্ত হিসেবে আরও ১,২০২ জন শনাক্ত হয়েছেন।
এর ফলে, দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯৮ জন। আর করোনায় আক্রান্তে সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ পর্যন্ত এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট ২০ হাজার ৬৫ জন শনাক্ত হলেন। এছাড়া, গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৭৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ৩,৮৮২ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

দেশে করোনা শনাক্তের ৬৯তম দিনে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ই মে) দুপুরে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এসময় তিনি জানান, যারা মারা গেছেন তাদের ৭ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। বয়সের দিক থেকে একজন অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের, একজন ত্রিশোর্ধ্ব, আটজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, তিনজন ষাটোর্ধ্ব এবং দুজন ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী। আর, গত ২৪ ঘন্টায় সর্বাধিক ৮,৫৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৫১২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ২৫৯ জনকে এবং বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ২ হাজার ৭৪৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৮১ জন।

সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে নাসিমা সুলতানা আরও জানান, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ৬১৭টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রয়েছে। আইসিইউ শয্যা ও ডায়ালাইসিস ইউনিট বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২,৭৯৭ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২,০০৬ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৪৬ হাজার ৮০৫ জন।

প্রসঙ্গত গত বছরের ৩১শে ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ই মার্চ এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় গত ১৮ই মার্চ। দেশে গত ২৬শে মার্চ থেকে সাত ধাপে ৩০শে মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সারা দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আটোয়ারীতে স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগ

মনোজ রায় হিরু, আটোয়ারী (পঞ্চগড়) : প্রায় চার লক্ষ মানুষের বসবাসরত আটোয়ারী উপজেলার মানুষকে চলমান করোনা দুর্যোগে নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় না নিয়ে অবিরাম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।এরই মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কর্মহীনদের খাদ্য নিরাপত্তায় সামনে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যস্থাপনা অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা অধিদপ্তর হতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত জিআর চাল, নগদ অর্থ ও শিশু খাদ্য উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ বরাবর উপবরাদ্দ প্রান করা হয়। অতপর অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। করোনা দুর্যোগে উপজেলায় এপর্যন্ত ২২১.৫০০ মে:টন চাল, নগদ ১২০৫০০০ টাকা এবং শিশুখাদ্য বাবাদ ৭০০০০ টাকা বরাদ্দ আসে। বরাদ্দকৃত ত্রান সামগ্রী এপর্যন্ত বিতরণ করে ২১৬২৮ টি পরিবার উপকৃত হয়েছে এবং আরও অবশিষ্ট বরাদ্দ থেকে ৬০০০ পরিবার খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: ওয়ালিফ মন্ডল জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে অদ্যাবধী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেতে আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা অপ্রতুল, তারপরেও কাজ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে এবিভাগের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।

আটোয়ারীতে ইএসডিও কর্তৃক গ্রাম পুলিশদের উৎসাহ ভাতা প্রদান

মনোজ রায় হিরু, আটোয়ারী(পঞ্চগড়) : বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় করোনা দুর্যোগ মহুর্তে ৫৯জন গ্রাম পুলিশকে উৎসাহ ভাতা প্রদান করা হয়। ইউএনডিপি ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের আর্থিক কারিগরি সহযোগিতায় এবং বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ৫৯ জন গ্রাম পুলিশকে প্রত্যেককে ৬০০/- টাকা হারে করোনা দুর্যোগে উৎসাহ ভাতা প্রদান করেন। গ্রাম আদালতের পঞ্চগড় জেলা সমন্বয়কারী মোঃ রাজিউর রহমান রাজু উপস্থিত থেকে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ধামোর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম দুলাল উৎসব ভাতা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জেলা সমন্বয়কারী বলেন,গ্রাম আদালত অল্প খরচে স্বল্প সময়ে এবং অতি সহজে বিরোধ ও বিবাদ গ্রামেই নিষ্পত্তি করে থাকে। এতে জনপ্রতিনিধি সহ গ্রাম পুলিশদের ভুমিকা প্রশংসনীয়। তাই করোনা দুর্যোগে গ্রাম আদালত প্রকল্পের মাধ্যমে সামান্য আর্থিক সহযোগিতা গ্রাম পুলিশদের কাজে উৎসাহ যোগাবে আশা করি।

করোনাকালে সুন্দরবনে চোরা শিকারীরা মেতেছে হরিণ শিকারে

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ‘সুন্দরবন’র প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ ও সুন্দরী গাছ। আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারীতে সম্প্রতি সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রাসও পেয়েছিল সুন্দরী গাছ পাচার। কিন্তু চলমান করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে নদ-নদী ও রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু লোকজন ও চোরা শিকারীরা সুন্দরবনে মেতে উঠেছে হরিণ শিকার এবং গাছ পাচারে। সংঘবদ্ধ চোরা শিকারী চক্র হরিণ শিকার করে তার মাংস ও চামড়া বিক্রিসহ জ্যান্ত হরিণ এবং হরিণের চামড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে চলেছে। আবার ক্ষেত্র বিশেষ কার্যসিদ্ধির জন্য ভিআইপিদের টিপস হিসেবেও হরিণের মাংস, শিং ও চামড়ার রয়েছে বহুল ব্যবহার। চোরা শিকারীদের দমন করা না গেলে বিরল প্রজাতির এই হরিণ অস্তিত্ব¡ সংকটে পড়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুধু বন্যপ্রাণীই নয় বনের সুন্দরী, পশুর গাছ নিধনসহ বিষ দিয়ে মাছ শিকারের মহা উৎসব চলছে বনের অভ্যন্তরের নদী-খালে। সংঘবদ্ধ গাছ চোর, বিষ প্রয়োগকারী দুর্বৃত্ত ও চোরা শিকারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনে রেড এলার্ট জারি করে টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
সুন্দরবনকে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলার শরণখোলা রেঞ্জ ও চাঁদপাই রেঞ্জ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ। আর পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে রয়েছে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা। এরমধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে মাত্র ৩৬ দিনের ব্যবধানে পুলিশ ও বনরক্ষীরা অভিযানে চালিয়ে চোরা শিকারীদের কবল থেকে ২৪টি জীবিত হরিণ, ৭৯ কেজি হরিণের মাংস, নাইলনের দঁড়ির ৬ হাজার ৬’শ ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ উদ্ধার করেছে। এ সময়ে ৭ জন চোরা শিকারীকে আটকসহ তাদের শিকার কাজে ব্যবহৃত ৪ টি ট্রলার ও দুইটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে।
সুন্দরবন বিভাগ জানায়, গত ৫ মে সুন্দরবনে পাথরঘাটার চরদোয়ানী এলাকার শীর্ষ তালিকাভূক্ত চোরা শিকারি মালেক গোমস্তা তার দল নিয়ে অবৈধ পথে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর-কোকিলমনি এলাকায় ঢুকেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে টিয়ারচর থেকে ভোর রাতে হরিণ শিকারকালে তিন চোরা শিকারিকে আটক করে। এ সময় শিকারীদের বনের ভেতর পেতে রাখা হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে থাকা জীবিত ২২টি চিত্রল হরিণ উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় ৩০ কেজি হরিণের মাংস, ৭০০ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ, ৩টি ট্রলার ও ১টি নৌকা। পওে উদ্ধারকৃত ২২টি হরিণ সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। এই মালেক গোমস্তা বন বিভাগের হাতে আটক হয়ে মাত্র একমাস আগে কারাগার থেকে ছাড়া পায়। গত ২ মে শরণখোলা রেঞ্জের ডিমের চর থেকে দুপুরে হরিণ শিকারের প্রস্তুতিকালে দুই চোরা শিকারিকে আটক করে বন বিভাগ। এ সময় হরিণ শিকারের জন্য বনের ভেতর পেতে রাখা ১৫শ ফুট নাইলনের দড়ির ফাঁদ উদ্ধার ও একটি ট্রলার আটক করা হয়।
গত ২৭ এপ্রিল চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারি ষ্টেশনের বনরক্ষিরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাংমারি থেকে ৩ কেজি হরিণের মাংসসহ এক চোরা শিকারীকে আটক করে। গত ২৫ এপ্রিল চাঁদপাই রেঞ্জের বাদামতলা খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৭০০ ফুট নাইলনের দড়ির হরিণ ধরা ফাঁদ উদ্ধার করে বন বিভাগ। এ সময়ে কোন চোরা শিকারিকে আটক করতে পারেনি বন বিভাগ। গত ২৪ এপ্রিল ভোরে সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাখালী গ্রামের বাদল মোল্লার পুকুর পাড় থেকে এলাকাবাসী একটি হরিণ ধরে মঠবাড়িয়া থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ বনবিভাগকে খবর দিলে তারা মাদী হরিণটি উদ্ধার করে ওই দিন বিকালে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন বনে অবমুক্ত করে।
এ দিকে গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরণখোলা ষ্টেশন অফিসের বনরক্ষীরা শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি সংলগ্ন মাঠে কর্কশীটে রাখা পাচারের অপেক্ষায় থাকা ১০ কেজি হরিণের মাংশ উদ্ধার করে। তবে কোন পাচারকারীকে আটক করতে পারেনি। গত ২২ এপ্রিল একই উপজেলার শাপল বাজার ইউনিয়নের বলেশ^র নদীর পার হয়ে লোকালয়ে আসার সময় সুন্দরবনের প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির বারকিং ডিয়ার (মায়া হরিণ) দুলাল নামের এক জেলে উদ্ধার করে। বনবিভাগ ওই হরিণটি উদ্ধার করে বিকালে শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন বনে অবমুক্ত করে। অপরদিকে গত ১৭ এপ্রিল শরণখোলা রেঞ্জের চান্দেশ^র এলাকায় বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে ৭’শ ফুট, ১০ এপ্রিল কচিখালী এলাকায় ৫’শ ফুট এবং গত ২৮ মার্চ একই রেঞ্জের চরখালী এলাকা থেকে ৫’শ ফুট হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ করে। তবে কোন চোরা শিকারীকে আটক করতে পারেনি।
৩০ মার্চ সুন্দরবন বিভাগ এবং পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন থেকে শিকার করে নৌকা যোগে লোকালয়ে ফেরার সময় চাঁদপাই রেঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন চটেরহাট এলাকার নিত্তিখালী খাল থেকে ৩৬ কেজি হরিণের মাংসসহ এক শিকারিকে আটক করে। এ সময় একটি নৌকা জব্দ করা হয়।
সুন্দরন সংলগ্ন এলাকার মৎসজীবি ও বনজীবীরা জানায়, চোরা শিকারীর সংঘবদ্ধ চক্র সুন্দরবনের গভীর অরণ্যের হরিণের আবাসস্থল এলাকায় অবস্থান নেয়। কখনো ট্রলারে, কখনও নৌকায় আবার কখনো বনের গাছে মাচা বেঁধে হরিণের গতিবিধি লক্ষ্য করে চোরা শিকারীরা। শিকারীরা রাতে বিশেষ করে কৃষ্ণ পক্ষের রাতে জঙ্গলে বেশী হানা দেয়। সুন্দরবনে যে অঞ্চলে কেওড়া গাছ বেশী জন্মে, হরিণের আনাগোনা সেখানে সবচেয়ে বেশী থাকে। ভোরে অথবা পড়ন্ত বিকেলে কিংবা চাঁদনী রাতে হরিণ চরাঞ্চলে ঘাস খায়। শিকারিরা ও হরিণের এই স্বভাব বুঝে সুন্দরবনে অবস্থান পরিকল্পনা আটে এবং জীবন বাজী রেখে চোরা শিকারিরা রাতের আঁধারে গহীন অরণ্যে নামে। সুযোগ বুঝে তারা গুলি করে কিংবা ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। হরিণ শিকারের পর গোপন আস্তানায় বসে মাংস তৈরী করা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এক কেজি হরিণের মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলা, দাকোপ, রায়েন্দা, তাফালবাড়ীয়া, পাথরঘাটা, মঠবাড়ীয়াসহ বনের আশপাশ এলাকায় হরিণের মাংস বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশী। এছাড়া শিকারিরা জাল দেয়া বা বরফ দেয়া মাংস, জ্যান্ত হরিণ ও হরিণের চামড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করে থাকে। আবার কার্যসিদ্দির জন্য টিপস হিসাবেও হরিণের মাংস বা চামড়ার রয়েছে বহুল ব্যবহার। অনেকে আবার ড্রইংরুমের শোভাবর্ধন করেন হরিণের চামড়া দিয়ে। চোরা পথে হরিণ শিকার এবং মাংস, চামড়া ও জীবস্ত হরিণ পাচারের নেপথ্যে যে সব রাঘোব বোয়াল জড়িত তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে না পারলে বিরল প্রজাতির এই হরিণ অস্তিত্ব¡ সংকটে পড়বে বলে আশংঙ্কা করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবন বিভাগসহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর কারণে ইতিমধ্যে সুন্দরবন থেকে বেশ কিছু হরিণ ও হরিণ ধরা ফাঁদ, হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের ঘটনায় বন আইনে মামলাও করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শিকারিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনে রেড এলার্ট জারি করে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও বনরক্ষীরা বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবী করেন তিনি।