সাঁথিয়ায় চেয়ারম্যান গ্রুপের তান্ডবে লুটপাট ও বাড়িঘর ভাংচুর

ফারুক হোসেন,পাবনা : পাবনার সাঁথিয়ায় উপজেলার নাগডেমড়া ইউপি চেয়ারম্যান হারুন গ্রুপের তান্ডবে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদঅর্থ লুটপাট ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। ভাংচুর করা হ্েরয়ছে দুটি মোটর সাইকেল। পরে সাঁথিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রতন বাদী হয়ে হারুন চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ১২জনের নামে সাঁথিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
থানায় অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বুধবার সন্ধ্যা রাতে নাগডেমড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে ২৫-৩০জনের একটি সন্ত্রাসী দল সোনাতলা গ্রামের রতন,মান্নান ও খোকনের বাড়িতে ঢুকে হাসুয়া,চাপাতি,লোহার রড, ফলা ,কাঠের বাটাম নিয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর,স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থলুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা ১টা টিভিএস এ্যাপাচি ও পালসার মরটসাইকেল ভাংচুর করে। এ ঘটনার সময় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা বোমা ফাটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। ্এ ঘটনায় রতন বাদী হয়ে ১২জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরও ১৫/২০জনকে আসামী করে সাঁথিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।
এ ব্যাপারে নাগডেমড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তারা নিজের ঘর নিজে ভাংচুর করে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
সাঁথিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোংলা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বলবৎ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় বৃহস্পতিবারও মোংলা সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রয়েছে। এর প্রভাবে মোংলা বন্দরসহ সংলগ্ন সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যাচ্ছে। আর এ ঝড়-বৃষ্টি আরো ২/১ দিন ধরে অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, আপাতত তিন নম্বর থেকে সতর্ক বার্তা না বাড়লেও একই সংকেত এই মূহূর্তে নামছেও না।
গত ২/৩ দিন ধরে এ এলাকা জুড়ে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফলে বিঘিœত হচ্ছে বন্দরে অবস্থানরত ৮টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ। এদিকে বুধবার রাতে আকস্মিক ঝড়ে পৌর শহরের কুমারখালীসহ আশপাশ এলাকায় কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ী ও গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী, রাজনীতিক ও সাংবাদিক আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম বলেন, মঙ্গলবার রাতের ঝড়ে তার নিজের অটো রাইস মিলের চাল, দেয়াল, গোডাউনের দেয়াল ও দুইটি কাঠ-টিনের ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

বটিয়াঘাটার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধীর রায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে

খুলনা অফিস : না ফেরার দেশে চলে গেলেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধীর কুমার রায় (৬৮)। তিনি উপজেলার দেবীতলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৫টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছুদিন যাবৎ তিনি লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান, এক কন্যা সন্তান, পুত্রবধু, জামাতাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

ঐ দিন দুপুর নিজ বাড়ীতে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল, গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাদি উজ্জামান হাদি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দেলোয়ার হোসেন, বিদ্যুৎ রায়, অমরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, মনোরঞ্জন মন্ডল, জতিন মন্ডল, সুবোধ মন্ডল, স্বপন বিশ্বাস, পঞ্চানন মন্ডল, সুপ্রকাশ মন্ডল ও নির্মল মন্ডলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে বিকালে দেবীতলা শ্মশান ঘাটে তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

মুক্তিযোদ্ধা অধীর কুমার রায় ১৯৭১ সালে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশের ১০ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেন। পেশা হিসেবে তিনি এক জন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। স্বাধীন দেশে তিনি ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। এরপর তিনি ঢাকা, মাগুরা, বরগুনা, রাঙ্গামাটি ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলাতে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি খুলনার মেট্রোপলিটন পুলিশের সাব-ইনেসপেক্টর (এসআই) হিসেবে ২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।