বহুল আলোচিত শাহেদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে দেশ বিদেশে বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ৯১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ঢাকার রাস্তায় তিন চাকার যাত্রী বহনকারী যানবাহনের (থ্রি-হুইলার) চলাচলের জন্য বিআরটিএ’র ভুয়া অনুমতিপত্র সরবরাহ করে এই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে নগরীর ডবলমুরিং থানার ধনিয়ালাপাড়া এলাকার মেসার্স মেগা মোটরস নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ। মামলায় সাহেদ করিম ছাড়াও মেসার্স মেগা মোটরসের সাবেক কর্মকর্তা শহীদুল্লাহকেও (৬০) আসামি করা হয়েছে।

মেগা মোটরসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বে থাকা সাইফুদ্দিন বলেন, ‘শহীদুল্লাহ ঢাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তার মাধ্যমে সাহেদ করিমের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। সাহেদ নিজেকে কখনও প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, কখনও মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠ আবার কখনও লে. কর্ণেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের কাছে পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের আমদানি করা মেগা ব্র্যান্ডের সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার গাড়ি ঢাকার রাস্তায় চলাচলের জন্য রুট পারমিট এনে দিতে পারবেন বলে জানালে, আমরা তার কথায় বিশ্বাস করি।’

তিনি জানান, রুট পারমিটের জন্য সাহেদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট কেটিএস লিমিটেডের প্রিমিয়ার ব্যাংকের হিসাব নম্বরে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৭ মার্চের মধ্যে মোট ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া একই সময়ের মধ্যে নগদে আরও ৩২ লাখ টাকাসহ মোট ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেয় সাহেদ করিম।

২০১৭ সালের ৫ মার্চ তারিখে থ্রি-হুইলার যান ঢাকার রাস্তায় চলাচলের জন্য বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সই করা একটি পরিপত্র মেগা মোটরসকে হস্তান্তর করা হয়। বিআরটিএ অফিসে যোগাযোগ করে তারা জানতে পারেন সেটি ভুয়া। এরপর সাহেদ করিমকে বিষয়টি জানালে তিনি আবারও অনুমতিপত্র এনে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। বারবার অনুরোধ করলে সাহেদ করিম নিজে জিয়া উদ্দিনকে হুমকি-ধামকি দেন এবং এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ সাইফুদ্দিনের।

সাইফুদ্দিন আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে বুঝতে পারলাম, আমরা প্রতারণার শিকার। তখন আমরা শহীদুল্লাহকে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিই। কিন্তু সাহেদ করিমের সামাজিক অবস্থানের কথা ভেবে আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে ভয় পাচ্ছিলাম। তাকে নিয়মিত টক’শোতে দেখা যেত। প্রভাবশালী সাহেদ আমাদের আরও কোনো ক্ষতি করতে পারে ভেবে আমরা চুপ ছিলাম।’

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ বলেন, ’৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৮, ৪৭১, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, নিয়ম বহির্ভূতভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়ার পর র‌্যাব গত ৬ থেকে ৮ জুলাই অভিযান চালিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখা বন্ধ করে দেয়। র‌্যাবের ওই অভিযানের পর রিজেন্টের মালিক মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে আসতে শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে সাহেদ আত্মগোপনে রয়েছে। তবে তাকে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বটিয়াঘাটায় পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর অবস্থান কর্মসূচী

খুলনা অফিস : বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন কৈয়াবাজার এলাকার শৈলমারী নদী তীরবর্তী ভেঁড়িবাধ এলাকায় রবিবার বিকাল ৩টায় ডাম ট্রাক চলাচলের ফলে পরিবেশ দূষণের প্রতিবাদে এলাকাবাসি অবস্থান কর্মসূচী করে। বটিয়াঘাটা উপজেলার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত স্থানে দ্রুত বালির বেড ব্যবসায় বন্ধ করা না হলে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে এলাকাবাসিরা জানান।

অবস্থান কর্মসূচীতে এলাকবাসিরা বলেন, বালির বেড থাকার কারণে নদী থেকে উত্তোলন করা বালি অপসারণের জন্য ডাম ট্রাক ব্যবহার করা হয়। যার ফলে অতিরিক্ত ধুলাবালি বাতাসের সাথে উড়ে এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে। নদী তীরবর্তী বেঁড়িবাধের রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় বালি ভর্তি ট্রাকের ওজনে রাস্তাটি ভেঙ্গে যেতো। গত আম্পান ঘূর্ণিঝড়ের পর পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি কেটে রাস্তাটি উচু করে। ঐ রাস্তার দু’পাশে প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের বসবাস। ১টি মসজিদ, ৩টি মন্দির, ১টি প্রাইমারি স্কুল ও ১টি বাজার আছে রাস্তাটির ২ কিলোমিটারের মধ্যে। কিন্তু এতো বেশি ট্রাক চলাচলের কারণে মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়া, মন্দিরে প্রার্থনা, কোমলমতি বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া ও বৃদ্ধদের বাজার করা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একে তো করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের সকল কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে, তার উপরে এই পরিবেশ দূষণের ফলে এলাকাবাসি অতিষ্ঠ প্রায়।

এসময় শৈলমারী খেয়াঘাট বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল মহালদার বলেন, প্রায় ১ বছর পূর্বে উক্ত স্থানে ১২টি বালির বেড ছিলো। পরিবেশ দূষণের ফলে এলাকাবাসির প্রতিবাদে তখনকার বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান উক্ত স্থানে বালির বেড বন্ধ ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন বালির বেড বন্ধ থাকার পর গত ১ জুলাই ২০২০ ইং তারিখে পুনরায় অন্নদা প্রসাদ গোলদারের পুত্র অনুপ গোলদার নামে এক বালি ব্যবসায়ী উক্ত স্থানে বালির বেড করে ব্যবসায় শুরু করেন। যার ফলে এলাকায় আবারও পরিবেশ দূষণ, রাস্তা ভাঙ্গা শুরু। তিনি আরও বলেন, অনুপ গোলদার বটিয়াঘাটা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি। এলাকাবাসি তার এই পরিবেশ বিমুখ স্বার্থান্বেষী কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচী করে।

শৈলমারী ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে খুলনার জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উক্ত স্থানে ধুলাবালির ব্যবসা বন্ধ করে দেন। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই হিরামন মহালদার, অনুপ গোলদার ও অরুপ গোলদার প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও এলাকার মানুষকে ভয় ভীতি দেখিয়ে এমনকি ট্রাক দিয়ে চাপা দেওয়ার মাধ্যমে হত্যা করার হুমকি দিয়ে এলাকায় পুনরায় এই ব্যবসায় শুরু করে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর আগে বালির ট্রাকে চাপা পড়ে উক্ত স্থানে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মারা যায়। তাছাড়া প্রায়ই ছোট ছোট দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। রাস্তায় প্রচুর ট্রাক চলার কারণে ধুলা উড়তে থাকায় কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়া এখন সময়ের ব্যপার মাত্র। এমনিতেই অনেকে ধুলার কারণে এখন ফুসফুসের নানা রোগে আক্রান্ত থাকায় ট্রাক চলতে পারেনা। তাই প্রয়োজনে আরও কঠোর প্রতিবাদ কর্মসূচী করা হবে। উল্লেখ্য, অনুপ গোলদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ আছে বলে এলাকাবাসী জানান।

এ ব্যপারে অনুপ গোলদারের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের কর্ণেল ফয়সালের ফ্যাক্টরী তৈরীর জন্য বালির প্রয়োজন। তাই এই বালির বেড করা হয়েছে। বালির কারণে পরিবেশ দূষিত হোক সেটা আমিও চাইনা। বালির ট্রাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে, বেঁড়িবাধ রাস্তায় ইট দিয়ে আমি আমার ব্যবসা পরিচালনা করছি। যেন রাস্তার ক্ষতি না হয়।

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সবগুলো নদীর পানি এখন বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের পানি গত ২৪ ঘন্টায় সোমবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৬১ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ সে.মি. এবং তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর পানি নতুন করে আবার বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী নিচু অঞ্চল এবং বিভিন্ন চর এলাকায় নতুন করে পানি উঠতে শুরু করেছে। ফলে ওইসব এলাকার মানুষ আবারও বন্যা আতংকে নানা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় পলাশবাড়ী গোবিন্দগঞ্জ অংশে করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধসহ গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট হুমকির মুখে পড়েছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ভাঙনের হুমকির কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কয়েকটি পয়েন্টে জরুরী প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, যমুনা, ঘাঘট, করতোয়া সহ পাঁচটি নদীর ২৬৫টি চরে বসবাসকারী মানুষ এবং নদীতীরবর্তী এলাকার প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উচু রাস্তার ধারে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে অনেক বানভাসী মানুষ। টানা বৃষ্টিতে সেখানে তাঁরা পরিবার পরিজন ও গবাদী পশু নিয়ে একসাথে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব বন্যা কবলিত এলাকায় রয়েছে ব্যাপক খাদ্য, বিশুদ্ধপানি ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট।

রিজেন্টের চুক্তি নিয়ে মুখোমুখি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর

ঢাকা অফিস : লাইসেন্সবিহীন রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি’র সঙ্গে চুক্তির ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের মধ্যে চলছে রশি টানাটানি।
রিজেন্ট হাসপাতাল ও জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার-জেকেজি’র সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একে অপরকে দোষারোপ করছে। চুক্তির দায় নিচ্ছে না কেউই।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২১ মার্চ রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ আরো দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব। ১২ই মে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পাওয়ার পর ওই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়।

করোনার নমুনা সংগ্রহ করলেও পরীক্ষা হয়নি রিজেন্টের ল্যাবে। মনগড়া প্রায় ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে ৩ কোটির বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে ৬ জুলাই অভিযান চালায় র‌্যাব। অনিয়মের ও প্রতারণার প্রমাণ পেয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে চলতে থাকা রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দেয় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুধু তাই নয়, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে অতিরিক্ত বিল আদায়ের পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকেও খরচ নেয়ার ঘটনা বের হয়ে আসে।

সবমিলিয়ে রিজেন্টের সাথে চুক্তি করায় সমালোচনার মুখে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ওই চুক্তি করা হয়।

একই বিজ্ঞপ্তিতে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ার-জেকেজি নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার বিষয়েও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রতিষ্ঠানটি।

পরে গতকাল রবিবার, ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার বিষয়টি নিয়ে ডিবিসি নিউজ কথা বলতে চাইলে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি কোনো কথা বলবেন না। পরে তার দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে সাংবাদিকরা আবারো জানতে চাইলে বলেন, ব্যাখ্যা প্রস্তুত রয়েছে যথা সময়ে পাঠানো হবে।

একই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক এবং বাস্তবায়ন বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান খুবই দুঃখজনক বলে মনে করেন করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ডা. নজরুল ইসলাম। তার মতে, দুই তৃতীয়াংশ বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্স নবায়ন না করেই কাজ চালিয়ে গেলে তার দায়ও এড়াতে পারে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর।

গোবিন্দগঞ্জে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলার কৃষিভিত্তিক একমাত্র ভারিশিল্প কারখানা মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের চার মাসের বকেয়া বেতন ও আখচাষীদের সরবরাহ করা আখের মূল্য পরিশোধের দাবীতে ১৩ জুলাই সোমবার সকালে থালা হাতে চিনিকল এলাকায় এক মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ও আখচাষী সমিতি এই কর্মসূচীর আয়োজন করে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য রাখেন, রংপুর চিনিকল শ্রমিক- কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, সহ-সম্পাদক ফারুক হোসেন ফটু, কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এসএম জালাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, সাহেবগঞ্জ খামারের শ্রমিক নেতা আলী আজগর, আখচাষী নেতা জিন্নাত আলী প্রধান, আব্দুর রশিদ ধলু প্রমূখ। মানববন্ধন শেষে চিনিকলের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে শ্রমিক-কর্মচারিরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

সমাবেশ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও আখচাষীদের আখের মূল্য পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৪ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত লাগাতার বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। এসময় বক্তারা বেতনভাতা ও আখের মূল্য পরিশোধের পাশাপাশি চিনিকলের মালিকানাধীন সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার ভূমিদস্যুমুক্ত করণে প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার সমালোচনা করেন। সমাবেশ থেকে ১৪ জুলাই সকাল আটটা থেকে দুই ঘন্টা কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট, ১৬ জুলাই সকাল নয়টায় শ্রমিক ও আখচাষীদের মহিমাগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৮ ও ১৯ জুলাই পূর্নদিবস কর্মবিরতি, ২০ জুলাই রেলপথ অবরোধ, ২২ জুলাই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ , মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট এবং ২৫ জুলাই গোবিন্দগঞ্জে রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

২৪ ঘন্টায় করোনায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু : নতুন শনাক্ত ৩০৯৯

ঢাকা অফিস : করোনাভাইরাসে গেল ২৪ ঘন্টায় নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৩৯ জনের। আর নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯ জন।

দেশে করোনায় আরো ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণ গেলো ২ হাজার ৩৯১ জনের। এছাড়া নতুন শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯ জন। নতুন রোগীসহ দেহে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার দুপুরে (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গেল ২৪ ঘন্টায় ১২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ৩ হাজার ৯৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এতে শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান নাসিমা সুলতানা। গতকাল (১২ জুলাই) এ হার ছিল ২৪ দশমিক এক শতাংশ। এছাড়া নতুন ৪ হাজার ৭শ’ ৩ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৯৮ হাজার ৩শ’ ১৭ জন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেল ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের ৩০ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন, ১০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ৩০ বছরের বেশি বয়স্ক তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব ৬ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৩ জন, ষাটোর্ধ্ব ১১ জন, সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন ছিলেন।

গোবিন্দগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ ২ জন গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও থানা পুলিশের পৃথক স্থান হতে ১৬৮ পিস ভারতীয় ফেন্সিডিল ও একটি টিভিএস এ্যাপাচি মোটরসাইকেলসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হাইওয়ে থানা সুত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই/২০ রাত অনুমান পৌনে ৪ টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা মুরাদপুর গোল্ডেন চাইল্ড এডুকেশন স্কুলের সামনে মাইক্রোবাস ও ট্রাক দূর্ঘটনা কবলিত হয়। ওই সময় হাইওয়ে পুলিশ দূর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসের পেছনের সিটের নিচ হইতে ৯৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। উক্ত দূর্ঘটনা ও মাদক উদ্ধারের জন্য শিবগঞ্জ থানায় এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১০, তাং-০৭ জুলাই/২০। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, উক্ত মামলা তদন্ত কালে দূর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসের মালিক এর তথ্য মতে মাইক্রোবাস চালক কফিল শেখ কে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে আটক করা হয়। চালক কফিল শেখের তথ্য অনুযায়ী গত ১২ জুলাই সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা থেকে আসামী রানা আকন্দ (৩২) ও পাবনার সাথিয়া থানা থেকে শফিকুল ইসলাম গ্রেফতার করে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

অপরদিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার মোবাইল টিম ওয়ানের অফিসার এসআই শফিকুল ইসলাম, এসআই তয়ন ও সার্জেন্ট শুভ গোবিন্দগঞ্জ মায়ামনি মোড়ে যানবাহন চেকিং এর সময়ে পলাশবাড়ী থেকে বগুড়াগামী একটি টিভিএস এ্যাপাচি-১৫০ সিসি, কালো রং,যার রেজিঃ নম্বর জয়পুরহাট-ল-১১-১৩০৮ মোটরসাইকেলের চালককে দাঁড়ানোর সংকেত দিলে চালক মোটরসাইকেলটি রাস্তার মাঝে ফেলে রেখে দ্রুত দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এবিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি করলে উপস্থিত লোকজনের সামনে মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে অভিনব কায়দায় সীটের নিচে ও তেলের ট্যাংকির নিচ হতে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৭৩ পিস ফেনসিডিল উদ্ধার করে।আসামি পালিয়ে যাবার কারনে অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। সাংবাদিকদের গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই দুর্যোগে যার যার সুরক্ষা তারই হাতে : খুলনা সিটি মেয়র

খুলনা অফিস : কেসিসি’র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, ডিএফআইডি ও ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে আজ (সোমবার) সকালে নগর ভবন সম্মেলনকক্ষে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষার সরঞ্জাম খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বাস্থ্যসুরক্ষার সরঞ্জামের মধ্যে ছিল: ৩৮টি ডিজিটাল থার্মোমিটার, ৩৮টি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, ৩৫ কেজি জীবাণুনাশক, ৭০টি হ্যান্ডড্রাই রোল, পাঁচশত ৭৬ সার্জিক্যাাল মাস্ক, তিনশত ৮২টি এন-৯৫ মাস্ক, ৬৪ টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার (১০০ এমএল) এবং ৬৪টি হ্যান্ড স্যানিটাইজার (২০০ এমএল)।

স্বাস্থ্যসুরক্ষার সরঞ্জাম গ্রহণকালে সিটি মেয়র বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। খুলনায় চিকিৎসা নিয়ে কেউ যাতে প্রতারণা এবং ছিনিমিনি করতে না পারে সে দিকে সকলের খেয়াল রাখতে হবে। কাভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি যার যার আবস্থান কাজ করতে হবে। এই দুর্যোগে যার যার সুরক্ষা তারই হাতে। সরকার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

এসময় কেসিসি’র চীফ প্লানিং অফিসার ও প্রকল্পের সদস্য সচিব আবির-উল-জব্বার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার মোঃ মোস্তফা মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয় চত্বরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে অসহায় একশত কর্মীদের মাঝে চাল, ডাল, লবণ, আলু, সাবানসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মঈনুল ইসলাম নাসির, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান সিকদারসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে সিটি মেয়র ২৬ এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘরে থাকা দুইশত নিম্নআয়ের শ্রমজীবী, অসহায়, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে চাল, ডাল, লবণ, আলু, সাবানসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

গাইবান্ধায় ধর্ষণকারিকে গ্রেফতারের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গৃহ পরিচারিকাকে ধর্ষণকারি সুনির্দিষ্ট মামলার আসামি গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুস আলীসহ গাইবান্ধা জেলার সংঘটিত নারী শিশু নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবিতে ১৩ জুলাই সোমবার বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের উদ্যোগে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার, পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সুভাসিনী দেবী, সাধারণ স¤পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের আহবায়ক ইসরাত জাহান লিপি, সদস্য আফরোজা বেগম প্রমুখ।

স্মারকলিপি প্রদান পূর্বে এক সংক্ষিপ্ত সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশের ন্যায় এই সময় গাইবান্ধা জেলাতেও কয়েকটি নারী শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষক বিত্তশালী ও ক্ষমতাবান হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অন্যতম ঘটনা হলো গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুস আলী তার গৃহপরিচারিকা কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। ফলে নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের এ ভুমিকার কারণে অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের সমাজে বিচার হীনতার কারণে খুন, ধর্ষন হচ্ছে। তাই অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ধর্ষনকারী শিক্ষক ইউনুস আলীসহ গাইবান্ধা জেলায় সংগঠিত নারী শিশু নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান।

ডুমুরিয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১

খুলনা অফিস : জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) গোপাল চন্দ্র রায়, সংগীয় এএসআই (নিঃ) সুলতান শেখ ও সংগীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে ১০০ পিচ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়া থানাধীন থুকড়া বাজার চৌরাস্তার মোড় সংলগ্ন আবু সুফিয়ানের চাউলের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার উপর থেকে ১২ জুলাই রাত সাড়ে ৭টার সময় জেলার- আড়ংঘাটা থানার শলুয়া গ্রামের লুৎফর শেখের ছেলে মোঃ শামীম শেখ (২২) গ্রেফতার করে।
এসময় তার হেফাজত হতে ১০০ (একশত) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্বার করা হয়। এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ)/ গোপাল চন্দ্র রায় বাদী হয়ে শামীমের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন।