বটিয়াঘাটায় কলেজ ছাত্রকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি :বটিয়াঘাটার কাজীবাছা নদীতে বন্ধুরা মিলে বড়শি বাওয়ায় নোভা মেডিভেট কোম্পানির মালিক শহীদুল ইসলাম সোহেল ওরফে মোঃ সোহেল ও তার বেতনভুক্ত কর্মচারীর বেদম মারপিটে মৃত্যুন্জ্ঞয় লষ্কর মিঠুন নামের একাদশ শ্রেনীর ১ম বর্ষের এক ছাত্র গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহষ্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার কিসমত ফুলতলা বালিরমাঠ নামক স্হানে কাজীবাছা নদীর তীরে। জানা গেছে, ওই একই এলাকার হতদরিদ্র ভ্যানচালক খোকন লস্করের পুত্র সরকারী বটিয়াঘাটা ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের ছাত্র মৃত্যুন্জ্ঞয় লস্কর ও ওই একই এলাকার সহপাঠী বন্ধু রাজশাহী বিশ্বদ্যালয় থেকে বিবিএ অনার্স মাষ্টার্স কমপ্লিট বিধান মন্ডলের পুত্র বিশ্বজিৎ মন্ডল এবং পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তুষার ইজাদ্দারের পুত্র স্বাধীন ইজারদার মিলে কাজীবাছা নদীতে বড়শি ধরছিলো। এ সময় নোভা মেডিভেট কোম্পানীর মালিক মোঃ সোহেল ও উপজেলার বলাবুনিয়া গ্রামের বিমল বৈরাগীর পুত্র নিখিল বৈরাগী সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৭ জন ব্যক্তি শর্টগান, লোহার হাতুড়ি ও রড সহ সজ্জিত হয়ে তাদেরকে বড়শি বেতে নিষেধ করে। তারা কারন জিজ্ঞেস করলে সোহেলের সাঙ্গপাঙ্গরা তাদেরকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে এবং মালায়ন বলে গালি দিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়।একপর্যায়ে মৃত্যুন্জয়কে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারপিঠ করে নোভা কোম্পানীর মধ্য নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে মধ্যযুগীয় কাঁয়দায় নির্যাতন চালায়। অন্য দুই বন্ধু ভয়ে পালিয়ে গিয়ে স্হানীয় গ্রামবাসীকে খবর দিলে গ্রামের নারী পুরুষ ও গন্যমান্যব্যক্তিরা ঘটনাস্হলে গিয়ে থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্হায় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ রিপোর্ট পর্যন্ত তার অবস্হা আশংঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।এ ব্যাপারে গুরুতর জখম মৃত্যুন্জ্ঞয়ের মা বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেছে।

বটিয়াঘাটায় পলাতক আসামী গ্রেফতার

বিজ্ঞপ্তি : খুলনার বটিয়াঘাটা হতে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। র‌্যাব-৬ (স্পেশাল কোম্পানী) খুলনার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, বটিয়াঘাটা থানার সিআর নং-১২০/২০২০ (রুপসা), তারিখ ২৬/০৮/২০২০, এবং যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী আবুল কালাম খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থান করছে। এরুপ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত ২৩.১০ ঘটিকায় খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানাধীন বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামী মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৩২), পিতা-মোঃ সউদ মোল্লা, সাং-বালিয়াডাঙ্গা, থানা-বটিয়াঘাটা, জেলা-খুলনা’কে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীকে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

চট্টগ্রামে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তররের পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী মো: কবির হোসেন প্রধান (৪০) এবং আব্দুল করিম(২৪)। ৩ ও ১ সেপ্টেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডি.এন.সি.) চট্টগ্রাম মেট্রো: উপঅঞ্চল দিনব্যাপী পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তররের সূত্র মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডি.এন.সি.) চট্টগ্রাম মেট্রো: উপঅঞ্চল, চট্টগ্রাম এর উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সহকারী পরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন এর সক্রিয় সহযোগিতায় কোতোয়ালী সার্কেল পরিদর্শক মো: মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে  ৩ সেপ্টেম্বর এক মাদক বিরোধী অভিযানে কোতোয়ালী থানাধীন এলাকা থেকে আবুল হোসেন প্রধান  এর পুত্র মাদক ব্যবসায়ী মো: কবির হোসেন প্রধানকে ১ হাজার  পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পরিদর্শক মো: মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা  দায়ের করেন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রীজ এলাকায় অভিযান করে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ আবু বকরের পুত্র  আব্দুল করিমকে  গ্রেফতার করে বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী  বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ প্রতিনিধিদের সপ্তাহে ৬ দিনই ভিজিট!

ছবি তোলায় সাংবাদিককে দেখা নেয়ার হুমকি
দালালদের সাথে হাসপাতালের স্টাফদের সখ্যতা, রোগী পাঠালেই কমিশন
চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা জেনারেল হাসপাতালে দিনকে দিন ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচন্ড ভীড়ে যেখানে রোগীদের দাঁড়ানোর কষ্টকর, সেখানে ওষুধ প্রতিনিধিদের দীর্ঘ লাইন। আগে ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিট শেষ হওয়ার পর লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীকে ডাক্তারদের চেম্বারে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে ৬দিনই ওষুধ প্রতিনিধিরা ভিজিটে আসেন। খুলনা জেনারেল হাসপাতালে বহি:র্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের এই চিত্র। বুধবার ওষুধ প্রতিনিধিদের এসব অনিয়মের ছবি  তোলার সময় এ প্রতিবেদককে দেখা নেওয়া হুমকি দেন দু’জন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি । ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিটের নির্ধারিত দিন ও সময় কাগজ কলমে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। চিকিৎসকদের সাথে ওষুধ প্রতিনিধিদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গোপন সখ্যতা থাকায় কেউ এই নিয়মের ধার ধারেন না, উল্টো রোগীদের লাঞ্ছিত হওয়ার মত ঘটনা ঘটছে। জরুরি বিভাগে কর্মরত স্টাফ ও আউটসোর্সিং এবং ফ্রি  সার্ভিসদের সাথে ওষুধ প্রতিনিধি ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার দালালদের সাথে সখ্য থাকারও প্রমান পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০১৭ সালে ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের বাসিন্দা রোগী এসএম বুলবুল আহমেদ শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসলে হাসপাতালে থাকা ওষুধ প্রতিনিধিদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এ সময় ওই রোগীকে কয়েকজন ওষুধ প্রতিনিধি লাঞ্ছিতসহ জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এস এম বুলবুল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
সার্বিক বিষয়ে খুলনা সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহম্মেদ বলেন, ওষুধ প্রতিনিধিদের সপ্তাহে দুই বার ডাক্তারদের ভিজিট করা নির্ধারন করা দেওয়া হয়েছে। তাও দুপুর ১২টার পর থেকে হাসপাতালে ঢুকতে পারেন। ওই সময় যদি কোন রোগীও থাকে তাহলে সে রোগী চলে যাওয়ার পর প্রবেশ করবেন। তিনি বলেন, যারা হুমকি দিয়েছেন তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনা জেনারেল হাসপাতালে গত কয়েকদিন সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র পাওয়া যায়। বুধবার সকাল ১১টা জরুরি বিভাগে ইএমও ডা: জান্নাতুল নাঈম দায়িত্বরত ছিলেন। বাইরে রোগী ডাক্তার দেখানোর জন্য জরুরি বিভাগে টিকিট কাটতে আসেন। এ সময় দুই ওষুধ প্রতিনিধি ওই ডাক্তারের রুমে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের এই অবৈধ কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও করা হয়। বিষয়টি জরুরি বিভাগের কতিপয় স্টাফ তাদেরকে ইশারায় সাংবাদিক ছবি তোলার বিষয়টি ঈঙ্গিত করেন। বিষয়টি শুনে ওই দুই ওষুধ প্রতিনিধি এই প্রতিবেদকের কাছে এসে হুমকি স্বরুপ বলে ওঠেন, লুকায় ছবি তোলেন কোনো পারলে বাইরে আসেন। দেখে নেবো আপনাকে। এই বলে তারা ডাক্তারের রুম ত্যাগ করে। পরে কয়েকজন ওষুধ প্রতিনিধি সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা দুইজন ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধ কোম্পানী রিপ্রেজেটেন্টিভ। গত সোমবারও এই প্রতিবেদক জরুরি বিভাগে অবস্থান নিলে কয়েকজন ওষুধ প্রতিনিধি এসে জটলা বাঁধে। এসময় ছবি তোলার সময় জরুরি বিভাগে কর্মরত স্টাফ জাফর ওই ওষুধ প্রতিনিধিকে সাংবাদিক ছবি তুলছে বলে তাকে অবহিত করেন। পরে তারা সটকে পড়েন।
এ ব্যাপারে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল খুলনা ডিপোর ডেপুটি ইনচার্জ কাজী নুরুল ইমাম আল মামুন বলেন, সপ্তাহে শনি ও বুধবার খুলনা জেনারেল হাসপাতালে তার কোম্পানীর ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিটের দিন নির্ধারিত রয়েছে। প্রতিদিন ভিজিটে যাবার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এই প্রতিবেদককে হুমকির বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলেন, ওখানে দায়িত্বরত ম্যানেজার ফজর উদ্দিনের সাথে কথা বলতে বলেন। এ ব্যাপারে এরিয়া ম্যানেজার ফজর উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। ওই ওষুধ প্রতিনিধির নাম জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মহিদুল হক শান্ত এ প্রতিবেদককে বলেন, গত সোমবার কিডনিজনিত সমস্যা কারণে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। সেদিন এক ওষুধ প্রতিনিধি তাকে ধাক্কা মেরে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকে পড়েন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সাথে ওষুধ প্রতিনিধিদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গোপন সখ্যতা থাকায় কেউ এই নিয়মের ধার ধারেন না, উল্টো রোগীদের লাঞ্ছিত হতে হচ্ছে।
হাসপাতালে গেটের সামনে ডক্টরস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কথিত মহিলা দালাল রেনু। সবাই তার কাছে রেনু নামে পরিচিত। তার সাথে হাসপাতালের ফ্রি সার্ভিস সোবহান, ইসমাইল ও জরুরি বিভাগের কতিপয় স্টাফদের সখ্যতা রয়েছে। সাধারণ রোগীরা টেস্ট করতে আসলে তারাই ওই কথিত মহিলা দালাল রেনুকে ফোন করে রোগীদের পাঠিয়ে দেন। বিনিময়ে তারা টেস্টের ওপর কমিশন পান। কেউ জন প্রতি ১০০ টাকা কেউ বা ২০০ টাকা প্রতি রোগীর জন্য কমিশন পেয়ে থাকেন। গতকাল কথিত মহিলা দালাল রেনুর ছবি তুলতে গেলে সে সটকে পড়েন। এর আগে ওই দালাল রেনু পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে তাকে সাজাও দেওয়া হয়।
খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন পল্টু বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে এই হাসপাতাল এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই সুবাদে প্রতিদিন সকালে হাসপাতালে একবার যাওয়া আসা হয়। প্রতিদিনই দেখি বহি:র্বিভাগের ও জরুরি বিভাগের সামনে বিভিন্ন কোম্পানীর ওষুধ প্রতিনিধিরা দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কোন রোগী ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হলেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েন। সপ্তাহে দুই দিন ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিট করা কাগজ কলমে বাস্তবে কোন মিল নেই। অনেক অসুস্থ রোগীদের দাঁড় করিয়ে ডাক্তারদের দেওয়া প্রেসক্রিপশন টানা হেঁচড়া করতেও দেখেছি। এছাড়া বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম তো রয়েছে। সাধারণ রোগীদের ভোগান্তী যাতে লাগব হয় সে জন্য তিনি পুলিশের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভ্রাম্যমানা আদালত অভিযানের দাবি জানান।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে অনেক ভোগান্তির খবর পত্র-পত্রিকায় চোখে পড়ে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ যদি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে এই ভোগান্তি কোন দিনও বন্ধ সম্ভব না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের বাসিন্দা রোগী এসএম বুলবুল আহমেদ শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসলে হাসপাতালে থাকা ওষুধ প্রতিনিধিদের হাতে লাঞ্ছিত হন। এ সময় ওই রোগীকে কয়েকজন ওষুধ প্রতিনিধি লাঞ্ছিতসহ জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এস এম বুলবুল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠণ করেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিট সাময়িকভাবে বন্ধ  ঘোষণা করেন। এছাড়া দোষীদের বিরুদ্ধে আজীবন হাসপাতালে প্রবেশের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

বটিয়াঘাটায় বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্ভোধন

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : বটিয়াঘাটা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের দক্ষতা উন্নয়ন এর লক্ষ্যে ৭দিন ব্যাপি এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর শুভ উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান গত বুধবার স্থানীয় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বঙ্কিম চন্দ্র হালদারের ট্রেইনারে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেনারী সার্জন ডাঃ প্রীতিলতা দাস, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পারভীন আক্তার বানু। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ মোনায়েম খান।

তালায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য সেমিনার ও প্রেস ব্রিফিং

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় অভিবাসন প্রক্রিয়া প্রসারিত, সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করণার্থে “বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা ও সচেতনতা” শীর্ষক প্রচার, সেমিনার ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় তালা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন। সাতক্ষীরা জনশক্তি জরীপ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুরশিদা পারভীন পাঁপড়ী, পাটকেলঘাটা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ জেল্লাল হোসেন ও তালা থানার এসআই দেব প্রসাদ দাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নলছিটিতে ইউপি মেম্বর অপহরন, না কি নাটক ?

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির নলছিটির নাচোলমহল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেমায়েত হাওলাদার নিজেকে অপহরনের নাটক সাজিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হেমায়েত হোসেন দাবি করেন, “বুধবার ঝালকাঠি আদালতে মামলর হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে তার প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা বারইকরন খেয়াঘাট থেকে তাকে অপহরন করে একটি ট্রলারে উঠিয়ে ইটখোলায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুৃলিশ তাকে উদ্ধার করে”। এদিকে হেমায়েত হাওলাদারের এ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর প্রশ্ন তাকে যদি অপহরনই করবে, তাহলে পুলিশ সেখানে গিয়ে অপহরনকারীদের কাউকে পেলনা কেন?

অন্যদিকে হেমায়েত হাওলাদার যাদেরকে এই এই ঘটনায় দায়ি করেছেন তার একজন মামহমুদুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন. এই হেমায়েত মেম্বরের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিলো

গত বছর ১৮ নভেম্বর আমার বাবাকে তারা মারধোর করেছিলো। এ ঘটনায় আমি বাদি হয়ে হেমায়েত মেম্বরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি। সেও কাউন্টার মামলা করে। বুধবার দুটি মামলারই নির্ধারিত তারিখ ছিলো। ১১টায় আমরা ঝালকাঠি আদালতে হাজিরা দিয়ে দুপুর ১টার দিকে বাড়ী এসে পৌছাই। তারপর শুনি যে আমার প্রতিপক্ষ হেমায়েতকে কে কারা কিডনাপ করেছে। এটা আমাদের নামে আরেকটা মামলা করার জন্য হেমায়েত মেম্বর নাটক সাজিয়েছেন। শুধু আমরা নই, গোটা এলাকাবাসীই এই ঘটনাকে নাটক মনে করছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নলছিটি থানার ওসি তদন্ত আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনাটি ঝালকাঠি ও নলছিটি বর্ডারে হওয়ায় কোন থানা বিষয়টি তদন্ত করবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আর এই ঘটনা নাটক কিনা তা তদন্তের পরে জানা যাবে।

তালায় ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সমাবেশ

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা তালা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরদার মশিয়ার রহমানের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তালাবাসীর আয়োজনে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তালা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শাহবুদ্দিন বিশ্বাস। উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান ডানলাপের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, তালা উপজেলা নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগনেতা সৈয়দ ইদ্রিস, মোড়ল সিরাজুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল বারী, মোঃ আফজাল হোসেন, ইউপি সদস্য মীর শামছুজ্জোহা আকবর কল্লোল, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক ইউপি সদস্য শেখ আক্কাজ আলী, যুবলীগ নেতা আতাউর রহমান, মোঃ আবু সাঈদ মিঠু, মিজানুর রহমান মোড়ল, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শিমুল মোড়ল, শাওন মোল্যা, ফারদীন রহমান দীপ, সাইদুর রহমান, সুকেশ দাশ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা সরদার মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার ও অনতিবিলম্বে তাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান। একই সাথে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান। উক্ত সমাবেশে সর্বস্তরের সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।

ডুমুরিয়ায় স্কুল শিক্ষক চাঁদাবাজির শিকার

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া : খুলনার ডুমুরিয়ায় মিথ্যা কেলেংকারিতে জড়িয়ে এক স্কুল শিক্ষকের নিকট থেকে নগদ টাকা ও ব্যাংক চেক হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৬জনসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামী করে ডুমুরিয়া থানা একটি চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের হাজিডাঙ্গা গ্রামের মৃত চন্দ্রকান্ত মন্ডলের ছেলে শেখর চন্দ্র মন্ডল। তিনি হাজিডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। কয়েক দিন ধরে কতিপয় যুবকরা মুঠোফোনের মাধ্যমে তারই এক ছাত্রীকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর অভিযোগ তুলে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। কিন্তু শিক্ষক শেখর মন্ডল তাদের কথায় কান না দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে থাকেন। হঠাৎ করে গত ৩১ আগস্ট সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ওই ছাত্রী কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তার বাসায় আসেন। কিছুক্ষণ পরে ৮/৯ জনের সেই যুবক দল ওই বাসায় ঢুকে পড়ে। আর ঢুকেই শুরু করে তোলপাড়। অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজসহ মুহুর্তের মধ্যে কোমর থেকে হাতুড়ি, লোহার রড বেরিয়ে চালায় বেধড়ক মারপিট। চিৎকারে পাশের বাসার লোকজন ঠেকাতে গেলে তাদেরকে হুমকি দিয়ে দুরে যেতে বলেন ওই যুবকরা। এরপর দরজা-জানালা বন্ধ করে শুরু করেন দেন-দরবার। এ সময় শিক্ষক শেখর মন্ডল ও তার স্ত্রী তৃপ্তি রানী ভয়ে তাদের চাপানো সকল অভিযোগ মেনে নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে তাদের হাতে তুলে দেন নগদ ৬০ হাজার ও দুই লাখ টাকার পুবালি ব্যাংকের চেক।
এ বিষয়ে শিক্ষক শেখর চন্দ্র মন্ডল বলেন, আমি ইংরেজির শিক্ষক হওয়ায় ওই ছাত্রী প্রায় আমার বাসায় আসতো। এই নিয়ে কতিপয় যুবক আমার মোবাইলে কল করে মিথ্যা অভিযোগ তুলে হুমকি-ধামকি অব্যাহত রাখে। হঠাৎ করে ওই ছাত্রী আমার বাসায় এলে তার পিছে পিছে এনামুল, পলাশ, লিটন গাজী, আছাদ জোয়ার্দার, নাইম হোসেন ও সোহানসহ ৮/৯ জন ঢুকে আমার স্ত্রীর সামনে আমাকে অপমান মুলক কথা বলে কোমর থেকে হাতুড়ি ও লোহার রড বেরিয়ে মারপিট শুরু করে। এরপর তাদের ধার্য্যকৃত চাঁদা থেকে রেহাই পেতে অনেক দেন-দরবার ও অনুরোধ করে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুই লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে রক্ষা পাই।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, বে-আইনী ভাবে একজন শিক্ষকের ঘরে ঢুকে তাকে মারপিট, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাঁদা গ্রহন ও জোর করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে যার নং-০২। অভিযুক্ত আসামীরা সবাই পলাতক এবং আটক অভিযান অব্যাহত আছে।