তালায় যুবকের বখাটেপনায় ছাত্রীর আত্মহনন

সেলিম হায়দার, তালা : ফেইসবুকে ভুয়া আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি ও যুবকের বখাটেপনায় সাতক্ষীরার তালায় কিশোরী ছাত্রীর আত্মহননের ঘটনা ঘটেছে। আত্মহননকারী মেয়েটির নাম বিউটি মন্ডল। সে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে। অভিযুক্ত যুবক পলাতক রয়েছে।
তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেল বলেন, উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের নিতাই মন্ডলের মেয়ে বিউটি মন্ডল বুধবার দুপুরে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না জড়িয়ে আত্মহননে প্রাণ দেয়।
ওসি মেহেদী জানান, সম্প্রতি নিতাই মন্ডল থানায় একটি অভিযোগ দিয়ে জানান, ‘নীল নদী বিউটি’ নামের একটি ফেক আইডি থেকে বিউটির আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে তার মেয়ের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা হয়েছে। যার সাথে মৃতুঞ্জয় রায় নামের স্থানীয় শহীদ জিয়া কলেজের এক শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার অভিযোগ দেয়া হয়।
তালা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির বলেন, মৃত্যুঞ্জয় নামের ছেলেটির কললিষ্ট চেক করা হবে এবং এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিউটি মন্ডলের বাবা বলেন, দুইদিন আগেও তিনি থানায় গিয়েছিলেন, বখাটে মৃত্যুঞ্জয় তার মেয়ের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছিল। আগে থেকে যদি এই বখাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে তার মেয়ের প্রাণ দিতে হতো না।

মোংলায় নৌযান মাষ্টার ও কনজারভেন্সী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : যথাযথ নিয়ম না মেনে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মচারী পদ মর্যাদার এক নৌযান মাষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন কনজারভেন্সী পদের দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবেও। একই সাথে তিনি নৌযান চালকের (মাষ্টার) দায়িত্বে থেকে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ডিউটি করার অজুহাত দেখিয়ে বন্দরের কোষাগার থেকে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন। সেই সাথে কনজারভেন্সী কর্মকর্তার পদ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে নানান সুযোগ-সুবিধা নেয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে বন্দরের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি হলেন আঃ মান্নান মল্লিক। মোংলা বন্দর কর্তৃপেক্ষর এম,ভি মালঞ্চ জাহাজের মাষ্টার (চালক) হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে বন্দরের হারবার বিভাগের সুপারিশে দায়িত্ব পালন করছেন কনজারভেন্সী কর্মকর্তা হিসেবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌযান এম,ভি মেঘদূত’র সুকানী মো: জামাল উদ্দিন জানান, কনজারভেন্সী কর্মকর্তার সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে আঃ মান্নান মল্লিক প্রতিনিয়ত সরকারী টাকা আত্বসাৎ করছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি কয়েক ঘন্টা জাহাজ চালিয়ে দুই দফায় ১০৪ ব্যারেল ডিজেল আত্মসাৎ করেছেন। আঃ মান্নান প্রতি মাসে ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ডিউটি দেখিয়ে উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক আদেশ ছাড়াই শুধুমাত্র দপ্তর প্রধানের সুপারিশে কনজারভেন্সী কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়ে নদীতে স্যালভেজ কার্যক্রমের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন আঃ মান্নান।
অন্যদিকে বন্দরের নৌযান এম,এল পান্না জাহাজের আরেক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আঃ মান্নানের অত্যাচারে তারা এখন অতিষ্ঠ। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে মান্নান কনজারভেন্সী কর্মকর্তার পদ ভাগিয়ে নিয়েছেন। আর তাদের (কর্মকর্তাদের) সাথে মান্নানের সুসম্পর্কের কারণে আমাদের উপর অত্যাচারের বিষয়ে চাকুরী হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে পারছিনা।
তবে এতোসব অভিযোগের বিষয়ের আঃ মান্নান বলেন, তিনি যথাযথ নিয়ম মেনে সকল দায়িত্ব পালন করছেন। কোন অনিয়মের সাথে তিনি জড়িত নন।
মোংলা বন্দর কর্র্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দীন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন প্রথম শ্রেণীর মাষ্টার আঃ মান্নান। কিন্তু তিনি পদোন্নতি নিতে রাজি হননি। তাই দপ্তর প্রধান হিসেবে আমি (হারবার মাষ্টার) আদেশ দিয়েছি অতিরিক্ত হিসেবে কনজারভেন্সীর দায়িত্ব পালন করার জন্য। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের প্রসাশনিক কোন আদেশ রয়েছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি (হারবার মাষ্টার) বলেন, কনজারভেন্সী দায়িত্ব পালনের কোন সুবিধা আঃ মান্নান পাবেন না, তাই কোন প্রশাসনিক আদেশ দেয়া হয়নি।

ডুমুরিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বামী-স্ত্রী আহত

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক আনসার সদস্য ও তার স্ত্রী মারপিটের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সাহস ইউনিয়নের বাদগাড়ি গ্রামে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগদাড়ি গ্রামের কারিমুল শেখের স্ত্রী আলেয়া বেগমের সাথে প্রতিপক্ষ তারই সৎ ভাই বুলবুল মোড়ল, রেজয়ান মোড়ল, ছাইরুন বেগমের ওয়ারেশ সুত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। যা প্রতিপক্ষরা জোর করে ভোগ দখল করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে শালিস বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষরা তা অমান্য করে নানা তালবাহানা অব্যাহত করতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে প্রতিপক্ষরা জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে আলেয়া বেগম ও তার স্বামী কারিমুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারপিট শুরু করে। আঘাতে দু’জনই আহত হয় এবং লাঠির আঘাতে কারিমুলের দুইটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। এ ঘটনায় আলেয়া বেগম বাদি হয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, এ ঘটনায় তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।