রূপসায় ধানের পোকামাকড় শনাক্তকরণে আলোক ফাঁদ স্থাপন

খুলনা অফিস : রূপসা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ধানের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি শনাক্তকরনের লক্ষ্যে এ বছর রোপা আমন ধানে আলোক ফাঁদ স্থাপনের এক কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এ পদ্ধতিতে সন্ধ্যার সময় ধান ক্ষেত হতে অল্প দূরে তিনটি খুঁটি পুঁতে তাতে বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা হয়। ফসলের বিভিন্ন পোকামাকড়সমূহ আলোতে আকৃষ্ট হয়ে এ ফাঁদে চলে আসে। বাল্বের নিচে একটি পানির পাত্র রাখা হয়। পোকা পানিতে পড়ে যাতে মারা যায় সেজন্য পানিতে সাবানের গুঁড়ো বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত করা হয়। এভাবে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে ধান ফসলের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়।
আলোক ফাঁদ স্থাপনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আলাইপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আবুল হাসান শেখ এর রোপা আমন ধান ক্ষেতের পাশে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়। এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলাইপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহমান। তিনি জানান, আলোক ফাঁদে উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফ্লাই ও মাকড়সা এবং ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা ও সবুজ পাতা ফড়িং এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ধানের উপকারী পোকা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ ফরিদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিকর পোকামাকড় বিশেষ করে বিপিএইচ বা কারেন্ট পোকা যাতে আমন ধানের ক্ষতি সাধন করতে না পারে সেজন্যই এ উপজেলার ১৫টি ব্লকে আলোক ফাঁদ স্থাপনের এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এতে চাষিরা নিজেরাই ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন । আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি একটি পরিবেশ বান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী পদ্ধতি।
আলোক ফাঁদ স্থাপনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এসএমই আলাইপুর শেখপাড়া কৃষক মাঠ স্কুলের দলনেতা মোঃ আঃ কাদের শেখ, কৃষক মনির উদ্দিন শেখ, ইসলাম সরদার, আঃ রাজ্জাক শেখ, মোঃ বেলাল শেখ, মোস্তফা সরদার ও মোঃ অহেদ সরদারসহ প্রায় ১০/১৫ জন কৃষক।

তালায় সমিতির সুদের টাকা না দেয়ায় বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত!

তালা প্রতিনিধি : করোনাকালিন সময়ে সমিতির সুদের টাকা দিতে না পারার কারণে মনোরঞ্জন রায় (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তালা উপজেলার গোপালপুর স্লুইস গেটের পাশে এ ঘটনা ঘটে। তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গোপালপুর গ্রামের মনোরঞ্জন রায় জানান, দীর্ঘ আট বছর যাবৎ তিনিসহ কয়েকজন মিলে মাঝিয়াড়া গ্রামের কুমারেশ বিশ্বাসের বাড়িতে গ্রামীণ সমিতি পরিচালনা করে আসছেন। কুমারেশ বিশ্বাসের স্ত্রী পুষ্প রানী বিশ্বাস ও তার ছেলে মানিক বিশ্বাস সমিতির নির্ধারিত তিন টাকা হারে সুদ নিয়ে অন্যত্র সাত থেকে আট টাকা হারে সুদ খাটাতো। গত চৈত্র মাসে সমিতির কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলেও তিনিসহ কয়েকজন করোনার কারণে সামান্য কিছু সুদের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে কুমারেশ বিশ্বাসের স্ত্রী পুষ্প রানী বিশ্বাস ও ছেলে মানিক বিশ্বাস গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় মফিজুলের বাড়ি থেকে পড়িয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার উপর তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে জোরপূর্বক নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষর করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ছিঁড়ে ফেলা হয় তার পরিহিত জামাকাপড়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরদিন তার ছেলে সুমন রায় গণেশের কাছ থেকে বাই সাইকেল কেড়ে নেওয়ার জন্য রাস্তার উপর টানা হেচড়া করা হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি অভিযোগ করেন। তালা থানার এএসআই মোঃ নাসির উদ্দিন প্রতিপক্ষদের গত বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় আসতে বলেন। তবে পুত্রবধূকে তালা সার্জিকাল ক্লিনিকে ভর্তি করাতে যাওয়ায় তিনি তদন্তকারি কর্মকর্তার কাছে সময় চান। তদন্তকারি কর্মকর্তা পুত্রবধূর সিজার করার জন্য সময় দেন।
তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে তিনি মফিজুলের বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়িয়ে রাস্তার উপর উঠতেই কুমারেশ বিশ্বাসের স্ত্রী পুষ্প রানী বিশ্বাস ও ছেলে মানিক বিশ্বাস তাকে টানতে টানতে প্রধান সড়কে তোলে। প্রতিবাদ করায় পুষ্প রানী তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে বাম হাতের কব্জির উপর টান দেয়। এতে অনেকটা কেটে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় মিঠুনের দোকানের পাশে তাকে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি লাথি মারা হয়। এ সময় পথচারিরা তাকে উদ্ধার করে তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মাঝিয়াড়া গ্রামের অর্জুন সরকার বলেন, পুষ্প রানীর বাড়িতে তিনিও গ্রাম সমিতি করেন। মনোরঞ্জ রায়ের কাছে সামান্য সুদের টাকা বাকি থাকলেও তিনিসহ কয়েকজন পুষ্প বিশ্বাস ও তার ছেলে মানিকের কাছে দু’লক্ষাধিক টাকা পাবেন। করোনার কারণে সুদের টাকা চাওয়া যাচে না। তবে মনোরঞ্জন রায় এর কাছে সুদের টাকা আদায়ের নামে যে হামলা চালানো হয়েছে তা অমানবিক।
তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সোহান বলেন, মনোরঞ্জন রায়ের বাম হাতের কব্জির উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ফলে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। এ ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখমের চিহ্ন আছে।
পুষ্প রানী বিশ্বাস বলেন, করোনা বোঝেন না, সমিতির নিবন্ধন থাক বা না থাক, ১০ হাজার টাকা সুদের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হবে। মারপিটের বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ করলে মনো বুড়োকে এলাকা ছাড়া করা হবে।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারিদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঝালকাঠিতে লাশকাটা ঘরে চুরি!

মো:নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : লাশকাটা ঘর শুনলেই গা ছমছম করে প্রায় ওঠে সবারই। ভয়ে সাধারণ মানুষ আশপাশেও যেখানে যায় না। কিন্তু সেই লাশকাটা ঘরেই যদি ঘরেই চুরির ঘটনা ঘটে, তবে তা সবাইকে অবাক করবে নি:সন্দেহে। আর এমন অবাক করা ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠিতে।

ঝালকাঠি সদর হাসপালের লাশকাটা ঘরটি শহরতলীর ব্রাকমোড় এলাকায় অবস্থিত। কোন সাহসী চোর চুরি করে নিয়ে যায় মর্গের বিভিন্ন সরঞ্জাম। আজ শুক্রবার সকালে বিষয়টি ধরা পড়ে।

লাশকাটা ঘরের দায়িত্বরত পলক ডোম প্রতিবেদককে জানান, গত দেড়মাস পরে আজ লাশকাটা ঘরে যান তিনি। সকালে একাটি মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য লাশকাটা ঘরে আনা হয়। কিন্তু ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় দরজা ভাঙা। ময়না তদন্তের জন্য ব্যবহৃত ওয়েট মেশিন, ছুড়ি ও কুড়ালসহ সব সরঞ্জামই চোর চুরি করে নিয়ে গেছে।

এব্যাপারে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবুয়াল হাসান বলেন, লাশকাটা ঘরে চুরির ঘটনা বিস্ময়কর। এখানে ভয়েও সাধারণ মানুষ ঢোকেনা।সেই লাশকাটা ঘরে চুরি হওয়ায় আমি হতবাক। তিনি আরও বলেন, ময়না তদন্তের জন্য আজ শুক্রবার সকালে একটি মরদেহ আনা হয়েছে।সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় ময়নাতদন্তের কাজ করতেও এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ঝালকাঠি সদর হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আবুয়াল হাসান।

সাতবাড়িয়ায় যুব ব্লাড ব্যাংকের বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্ভোধন

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ মুজিববর্ষ উপলক্ষে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গনে সাতবাড়িয়া যুব ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচির শুভ উদ্ভোধন অনুষ্ঠিত হয় । ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের প্রাঙ্গনে বৃক্ষ রোপনের মধ্য দিয়ে।উক্ত উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন ১০ নং সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামসুদ্দীন দফাদার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক জি. এম.হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা আবুবক্কর সিদ্দিক,ভাটা সুপার ব্রিকস এর স্বত্বাধিকারী মোঃ ফারুকুল ইসলাম,সাতবাড়িয়া যুব ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি মোঃ আসাদুল ইসলাম (দুলু),সাধারন সম্পাদক শেখ শাহীনুর রহমান (শাহীন),যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলীম,ক্যাশিয়ার মাহাবুর রহমান বাবু,সহ ক্যাশিয়ার আমিনুর রহমান, উপ সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না আঢ্য,প্রচার সম্পাদক শেখ তুহিন সহ প্রমুখ।