ফুলতলার দামোদর হাই স্কুলের সভাপতি প্রফুল্ল চক্রবর্তীকে অভিনন্দন

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী দামোদর মুক্তময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনীত হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী, সাংবাদিক ও এলাকাবাসি অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতারা হলেন প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক অজয় চক্রবর্তী, এস এম এ হালিম, প্রেমচাঁদ দাস, শিক্ষক খুখু কুন্ডু, নিরঞ্জন প্রসাদ বিশ্বাস, অনুপম বিশ্বাস, ত্রিদীপ রায়, মহিতলাল মল্লিক, কনক বিশ্বাস, ওয়াহিদুর রহমান মিলু, শেখ মাহমুদুল হক, সেলিম হোসেন সরদার, আইকন একাডেমি পরিচালক এস এম সাইফুল ইসলাম, নূর হোসেন অঞ্জন প্রমুখ।

চট্টগ্রােম মাদকসহ আটক ১১ জনের সাজা প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাজাসহ মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীসহ মোট ১১ জনকে আটক করেছন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন। পরে ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করেন আটককৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্খদ- প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার এর নেতৃত্বে এবং চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর মেট্রো: উপ-অঞ্চলের উপ পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মেট্রো: উপ অঞ্চলের সার্কেল সমূহের সম্মিলিত অংশ গ্রহণে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১১ জন মাদকব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড প্রদানকরা হয়।

কেশবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরে মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ব্যবসায়ীকে ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শহরের নতুন উপজেলা সড়কেরে পাশে অবস্থিত ঢাকা বেকারীর কারখানায় মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঢাকা বেকারীর কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারীর খাদ্য সামগ্রী তৈরির অপরাধে মালিক সুবুজ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন এবং একই সড়কে অবস্থিত বিল্লাল হোটেলের কাগজপত্র ঠিক না থাকা এবং খাদ্য মূল্য তালিকা না পাওয়ায় মালিককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ডুমুরিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের তারবিয়্যাত ও দেয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ডুমুরিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে দায়িত্বশীল তারবিয়্যাত অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার শহীদ কৃষক নেতা আব্দুল মজিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত তারবিয়্যাতে সভাপতিত্ব করেন মুফতি আজিজুর রহমান। মাওলানা মাহবুবুল আলমের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আবদুল্লাহ ইমরান। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন। আরও বক্তৃতা করেন জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ আল গালিব, উপজেলা জিম্মাদার মুজিবুর রহমান, জিএম নওশের আলী, কবিরুল ইসলাম সানা, মুফতি সাইফুল ইসলাম, আল জামির হোসেন, হাবিবুর রহমান গোলদার, রাসেল বীন জামাল, মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা ইব্রাহীম, মাওলানা মোস্তফা, মাওলানা আব্দুল্লাহ, আবু ঈসা, মাওলানা কামরুজ্জামান, হাফেজ বেলাল, মুফতি মিজানুর রহমান, মুফতি আবু হানিফ। তারবিয়্যাত শেষে হেফাজত ইসলামীর আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাতামিম মরহুম আল্লামা আহমেদ শফি ও সাজিয়াড়া মাদ্রাসার মুহাতামিম মরহুম মাওলানা মাহাবুব রহমানের মৃত্যুতে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন মাওলানা মুস্তাক আহমেদ, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম জমার্দ্দার, জানা নেতা গাজী গওহর, মাওলানা রবিউল ইসলাম, মুফতি আবু হানিফ, হাফেজ তৌফিক হাসান ও মাওলানা আতাউল্লাহ প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ার পল্লীতে ১০ম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী অজ্ঞাত কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার শিবনগর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের সুখেন সানার মেয়ে পুজা সানা (১৪) সোমবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরেরদিন মঙ্গলবার সকালে তার উঠতে দেরি দেখে পরিবারের লোকজন তার দরজা খুলে দেখতে পায় সে আড়ার সাথে ঝুলে আছে। নিহত পুজা শিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীতে পড়ে। তবে সে কি কারণে আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, স্কুলছাত্রী পুজার লাশ উদ্ধার করে সুরোতহাল রির্পোট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে যার নং-৪৯।

দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগে ঝালকাঠির আ.লীগ নেত্রী সেই কেকা বহিষ্কার

মোঃ নজরুল ইসলাম,  ঝালকাঠি : জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমীন মৌসূমী কেকাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় শহরের টাউন হলের জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার মো. শাহআলম।

সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ২৪ সেপ্টেম্বর জন্মদিন পালন এবং আগামী ১ অক্টোবর শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের ঝালকাঠি সফর উপলক্ষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গৃহবধূকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে মাথার চুল কেটে দেয়ায় আদালতে মামলা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে শহীদ মিনার ভেঙে স্টল নির্মাণ করায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসূমী কেকাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম আলম খান কামাল জানান, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক শারমিন মৌসূমী কেকাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গত ৩০ আগস্ট রাত ৮টার দিকে এক গৃহবধূকে জিম্মি করে সারারাত নির্যাতন শেষে মুক্তিপণ আদায় ও মাথার চুল কেটে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুন মাখিয়ে দেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন মৌসূমী কেকা ও তার লোকজন।

এ সময় ওই নির্যাতিত নারীর বিনীত অনুরোধে তার প্রাণ ভিক্ষা দেয়ার কথা বলে এ কথা কাউকে জানালে আগুন ধরিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নির্যাতিত নারী বাদী হয়ে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শারমিন মৌসূমী কেকাসহ ৬ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করে বাদীকে নিরাপত্তা দিতে সদর থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দেন।

রাতেই সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড (নং-১০, তারিখ-১৭.৯.২০ইং) করেন ওসি মো. খলিলুর রহমান। এরপর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মোংলায় ৯ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় ৯ বছর বয়সের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে আত্মহত্যার নমুনা না মেলায় শিশুটি আত্মহত্যা করেছে নাকি এর পিছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে এনিয়েই নানা গুঞ্জন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যা দাবী করা হলেও মুলত চিকিৎসক ও পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে আত্মহত্যার কোন নমুনা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলার রুচোমারী গ্রামের তাসলিম শেখ স্ত্রীকে নিয়ে চট্রগ্রামে থাকার সুবাধে তাদের ছেলে আব্দুল্লাহ শেখ দাদা সালাম শেখের কাছেই থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় দাদা বাড়ীর ঘরের আড়ার সাথে আব্দুল্লাহকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে দাদা সালাম শেখ তাকে সেখান থেকে নিচে নামান। এরপর প্রতিবেশীরা সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার পর কর্তৃব্যরত চিকিৎসক মৌসুমী মৌ তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আব্দুল্লাহকে হাসপাতালে আনার সময় তার সাথে ছিলনা দাদা-দাদীর কেউই। আব্দুল্লাহকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী হেদায়েত হোসেন ও আলেয়া বেগম বলেন, আমরা শুনেছি গলায় ফাঁস লাগিয়ে ছিল। তাই হাসপাতালে নিয়ে আসি। তবে কেন কি কারণে ফাঁদ দিয়েছে, এবং এতটুকু ছোট বাচ্চা কিভাবে কি কারণে ফাঁদ দিতে পারে তা বুঝতে পারছিনা। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৌসুমী মৌ ও শোভন খান বলেন, আব্দুল্লাহকে মৃতই হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে তার শরীরে আত্মহত্যার কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি তাই পুলিশকে খবর দেয়া হয়েছে। থানার এসআই লিটন মন্ডল আব্দুল্লাহ শরীরের সুরতহাল সম্পন্ন করে বলেন, তার শরীরের কোথাও কোন দাগ কিংবা আত্মহত্যার নমুনা পাওয়া যায়নি। তাই এটি আত্মহত্যা নাকি, অন্য কোন কারণ থাকতে পারে বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য লাশের ময়না তদন্ত করতে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষই ধ্বংস করছে কর্ণফুলী নদী!

বিপ্লব দে,চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের প্রাণ কর্ণফুলী নদী ভরাট ও দখলের জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী শাহ আমানত ব্রিজে ৮৬৬ মিটার প্রস্থের কর্ণফুলী নদী এখন ৪১০ মিটার। বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদী খনন না করায় চাক্তাই, রাজাখালী খালের মোহনা ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে চাক্তাই থেকে বহদ্দার হাট মোড় পর্যন্ত জলাবন্ধতা যেনো লেগেই অাছে। চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন কমিটি আজ ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইসব কথা বলেন।

জানা যায়, প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী শাহ আমানত ব্রিজ এলাকায় কর্ণফুলীর প্রস্থ ৪১০ ফুট হওয়ায় ধ্বংসে পড়তে পারে সেতুর দক্ষিণ প্রান্ত। কর্ণফুলী রক্ষায় মহাপরিকল্পনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১,৭৩,২৬৩ বর্গফুট নদী মৎস্য সমিতিকে লিজ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। মাস্টার প্ল্যান বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে বন্দর ধ্বংস করছে কর্ণফুলী নদী।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্ণফুলী নদীর বন্দর শাসিত এলাকা হালদা মোহনা থেকে কর্ণফুলী মোহনা পর্যন্ত ১০ মাইল কর্ণফুলী রক্ষায় ২০১৪ সালে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষ “স্ট্রাটেজিক মাস্টার প্ল্যান ফর চিটাগাং পোর্ট” শীর্ষক একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। বিএস জরিপ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ঠিক রেখেই সেই পরিকল্পনা করা হয়।

বন্দরের স্বাভাবিক গতিশীলতা ও কর্ণফুলীর নাব্যতা রক্ষায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প নাই। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ এই প্রকল্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশী মতো নদী লিজ দিয়ে কর্ণফুলী সর্বনাশ করেছে। বন্দর কর্তৃক নিজেদের ব্যবহৃত অংশে কর্ণফুলী নদী খনন, শাসন ও উভয়তীরে সীমানা প্রাচীর না দেয়ায় কর্ণফুলী স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ধ্বংস হয়েছে।

বিগত ২১ দিন ব্যাপী চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন কর্ণফুলী নদীর শাহআমানত ব্রিজ থেকে ফিরিঙ্গিবাজার মনোহর খালী পর্যন্ত কর্ণফুলী প্রস্থ জরিপ করেছে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন। উক্ত জরিপে কর্ণফুলীর দখল ও ভরাট হওয়ায় ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

জরীপে দেখা যায়, কর্ণফুলী ব্রিজ নির্মানের সময় এডিবি মাস্টার প্ল্যান ও বিএস সিট অনুযায়ী কর্ণফুলী দৈর্ঘ্য ছিল ৮৮৬.১৬ মিটার।

কিন্তু! আমাদের জরিপে দেখা যায়, শাহা আমানত সেতুর নিচে বর্তমানে কর্ণফুলী নদী ভাটার সময় প্রস্থ মাত্র ৪১০ মিটার। জোয়ারের সময় চর অতিক্রম করে ৫১০ মিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি আসে। ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেই অংশে কোন প্রকার নৌযান চলাচল করেনা। নদী ভরাট হওয়ায় শাহ আমানত সেতুর মাঝ পিলারের পাশে অঘোষিত একটি যাত্রী পারাপার ঘাট তৈরি করেছে স্থানীয়রা। জোয়ার ভাটার সময় লিংক রোড থেকে অর্থ কিলোমিটার নদীর অংশ পায়ে হেটে যাত্রীরা ব্রিজের নিচে কর্ণফুলী নদীর মাঝখানে এসে সাম্পানে উঠে।

চাক্তাই খালের মুখে এসে বিএস সিট ও এডিপি মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নদীর প্রস্থ ৯৮২ মিটার। বাস্তবে ৫১০ মিটার নদী রয়েছে। এর পর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্মিত মেরিনার্স পার্ক এলাকায় কর্ণফুলীর প্রস্থ ৯৮১ মিটার। বন্দর কতৃপক্ষ বর্তমানে সেই অংশে খনন করেছে। খননের পর নদীর প্রস্থ দাড়িয়ে মাত্র ৮৫০ মিটার। এরপর ফিরিঙ্গি বাজার মোড়ে কর্ণফুলী নদীর প্রস্থ ৯০৪ মিটার। বর্তমানে বন্দর খনন করার পর সেখানে নদী আছে ৭৫০ মিটার। বাকি অংশ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তপক্ষ গাইড ওয়াল নির্মান করে চিরতরে বিলুপ্ত করে দিয়েছে।

পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, কর্ণফুলী ব্রিজের উত্তর অংশে ৪৭৬ মিটার কর্ণফুলী নদী ভরাট হওয়ায় জোয়ার ভাটার সময় সেখানে ব্যাপক নদীর স্রোত হয়। স্রোতের স্রোতের এই তীব্রতার চাপ কর্ণফুলীর দক্ষিণ প্রান্তে শাহ আমানত ব্রিজের সংযোগ সড়কের বর্ধিত অংশ ও দুই পিলারে পড়ছে। যা শাহা আমানত সেতুর জন্য বিপজ্জনক। বন্যা বা সাইক্লোন হলে শাহ আমানত ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজাখালী খাল ও চাক্তাই খালের মোহনা কর্ণফুলী সেতুর মাঝ বরাবর সংযুক্ত হয়েছে। বৃষ্টি বা নদীতে জোয়ারের উচ্চতা বাড়লে ছোট কর্ণফুলী অংশের প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়। যে কারণে চট্টগ্রাম নগরী থেকে চাক্তাই ও রাজাখালী খালে প্রবাহিত পানি নদীতে আসতে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে শুরু করে বহদ্দার মোড় পর্যন্ত জলাবন্ধতার সৃষ্টি হয়।

জরিপে প্রতিফলিত হয়, কর্ণফুলী ব্রিজের পশ্চিম পাশে রাজখালী খালের পাশে বেড়ামার্কেট বস্তি, রাজাখালী ও চাক্তাই খালের সংযোগস্থলে সোনালী মৎস আড়ৎ, চাক্তাই খালের পশ্চিম পাড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজার পর্যন্ত মেরিন ফিশারিজ পার্ক সম্পূর্ণ কর্ণফুলী দখল করে গড়ে উঠেছে। এডিবি মাস্টার প্ল্যানে এই সমস্থ মার্কেটের অস্থিত্ব নাই। সেখানে নদী দেখানো হয়েছে। বন্দরের স্বাভাবিক গতি প্রবাহ, কর্ণফুলী ব্রিজ রক্ষা ও চাক্তাই খাতুনগঞ্জসহ নগরীর বিস্তৃর্ণ এলাকা নিয়মিত প্লাবন থেকে রক্ষা করতে এবং কর্ণফুলীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ রক্ষা করতে এইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করে মেরিন সড়ককে কর্ণফুলীর তীর ধরে তা গাইড ওয়াল তৈরি করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন, নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি, সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রো-ভিসি অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হালদা গবেষক মঞ্জরুল কিবরিয়া, কর্ণফুলী গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলী, জাইকা ও ডিএফআইড এর সাবেক পরিবেশ কনসালটেন্ট অধ্যাপক নোমা আহমাদ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দাশ, সদস্য অধ্যাপক মনোজ কুমার দেব প্রমুখ।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্নফুলী নদীর ভূমি ভোগদখল করতে পারবে, কিন্তু তারা অন্য কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিতে পারে না। আমরা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কর্ণফুলী নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি দেখেছি।

চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের দোকান কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার- ২

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় চুরি সন্দেহে মো. রমজান আলী রাসেল (২২) নামে এক কর্মচারীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রিয়াজউদ্দিন বাজারের পানবাজারের ভেতরে আরাফাত স্টোর নামে একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল নগরীর আইস ফ্যাক্টরি রোডের বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়।

এ ঘটনায় দোকান মালিকের ভাইসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, দোকান মালিকের ছোট ভাই মো. আরমান (২৮) ও কর্মচারী মো. ইউনুস (৩৫)।

এ বিষয় সিএমপি’র সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) নোবেল চাকমা বলেন, দোকানে চুরি করেছে সন্দেহে সকাল থেকে রাসেলকে মারধর করেছে দোকান মালিক। পরে দুপুর আড়াই টার দিকে রাসেল মারা যায়। এ ঘটনায় দোকান মালিক আরমান ও আরেক কর্মচারী ইউনুসকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গুঁড়ো দুধসহ বিভিন্ন পণ্যের পাইকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আরাফাত স্টোরের খালাসি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন রাসেল। সোমবার দোকানে পণ্যের মজুদের হিসাব করলে গুঁড়ো দুধের কার্টন কম পাওয়া যায়।

দুপুরে রাসেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে গুদামে সালিশ ডাকা হয়। সেখানে রাসেলের বাবা-মাকেও ডেকে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে রাসেলকে লাঠি দিয়ে বেদমভাবে মারধর করা হলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাসেলের লাশ উদ্ধার করে।

বিএনপি-জামাত কর্মকর্তাদের হাতে পূর্বাঞ্চল রেলে শতকোটি টাকা লোপাট

ছবি:প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কবির আজাদ, সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো: বেলাল হোসেন সরকার ও সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক এমদাদুর রহমান।

রিটন দে লিটন, চট্টগ্রাম: পূর্ব রেলের একাধিক খাতে বিএনপি-জামাতপন্থী কর্মকর্তারা  সরকারের শতকোটি টাকা লোপাট করলেও দেখে না দেখার ভান করছেন রেল মন্ত্রনালয় ও রেল ভবনে কর্মকর্তারা।

জোটসরকারের আমল থেকে রেলের টাকা লুটপাটে নেমেছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এমনই এক জালিয়াতির তথ্য উঠে এসেছে পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে।

জানা যায়, পূর্ব রেলের সরঞ্জামের কর্তাবাবুরা বিভিন্ন খাতে সরকারের কত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তার হিসাব মিলাতে কষ্টসাধ্য হয়েছে নিরীক্ষা কর্মকর্তাদের। এর পরও কত কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে তার সঠিক অঙ্ক নিরীক্ষা কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে পারেনি। এ থেকেই অনুমান করা যায় দুর্নীতির সুনামি কতটা ভয়াবহ হয়েছে!

অডিট প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৮৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৭ ফুট প্রস্থের এক কক্ষের টিনশেড ভবন মেরামতে টাকা খরচ করা হয়েছে ২ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৭ টাকা! ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অফিসের আরঅ্যান্ডআই শাখার ওই টিনশেড ভবনের পূর্তকাজের জন্যই এত টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। ওই কাজের জন্য সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫৪টি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পূর্তকাজের মালপত্র সরবরাহের বিপরীতে দু্ই কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৭ টাকার বিল পরিশোধও করা হয়েছে।

নিরীক্ষা কর্মকর্তারা চুক্তিপত্র ও বিল ভাউচার বিশ্লেষণ করে দেখতে পান, ওই কক্ষ মেরামতকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অনেক দ্রব্য সরবরাহের জন্য চুক্তি করা হয়েছে। প্রতিটি দ্রব্য বাজারদরের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি ধরে প্রাক্কলন ও দাম পরিশোধ করা হয়েছে। ওই কক্ষের মেরামত কাজটি ওয়ার্কস-সংক্রান্ত হওয়ায় রেলওয়ের প্রটোকল অনুসারে ইঞ্জিনিয়ারিং কোডের ৯০১ এবং প্রকৌশল বিভাগ প্রণীত শিডিউল অব রেইট/২০১৩ অনুযায়ী দাপ্তরিক প্রাক্কলন তৈরি করে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু! তা না করে ওয়ার্কস-সংক্রান্ত কাজ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শেষ করা হয়েছে। পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে লাভবান হওয়ার জন্য এভাবে কাজটি করে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা তছরুপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আলাদা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব রেলের সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (চট্টগ্রাম) ছয় হাজার ৫০০ টাকা দামের এলইডি টানেল লাইট প্রতিটি ক্রয় করেছেন ২৭ হাজার ৭৪০ টাকা দরে। একটি ডুয়েল ক্লিপস এলইডি ফিটিং ল্যাম্পের প্রকৃত দাম ছয় হাজার ৫০ টাকা। তা কেনা হয়েছে প্রতিটি ১৪ হাজার ২৮৮ টাকায়। এলইডি টানেল লাইট ৯০টি এবং এলইডি ফিটিং ল্যাম্প কেনা হয়েছে ৫০টি। এই খাতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ২০ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩২ টাকা।

রেলওয়ে সুত্রে জানা যায় গত কয়েকমাস পূর্বে পাহাড়তলী ষ্টোর ইনচার্জ নজরুল ঠিকাদারের সহায়তায় ষ্টোরে রক্ষিত বৈদ্যুতিক মালামাল নন্দনকানন ইলেট্রিক মার্কেটে বিক্রি করতে আসলে চোরাই মালামাল বিক্রি করার অপরাধে ইলেট্রনিক ব্যবসায়ি সমিতির সদস্যরা তাকে আটক করে সমিতির অফিসে নিয়ে যায়। সমিতির নেতারা রেলের চোরাই মালামালসহ নজরুলকে প্রশাসনে হাতে তুলে দিতে চাইলে রেলের ঠিকাদার রাসেল সমিতির নেতাদের হাতেপায়ে ধরে তার জিম্মায় নজরুলকে মুক্ত করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কবির আজাদ, সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মো: বেলাল হোসেন সরকার ও সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক এমদাদুর রহমানসহ আরও কিছু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পূর্ব রেলের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন মেশিনারিজ মালপত্র, স্টোন ব্যালাস্ট, লিফটিং জ্যাক, রেল ড্রিলিং মেশিন ইত্যাদি বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনায় রেলের আর্থিক ক্ষতি করেছেন ২ কোটি ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৪ টাকা। বিভিন্ন মেশিনারিজ মালপত্র কিনে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৪ টাকার। স্টোন ব্যালাস্ট কিনে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬০ লাখ ১০০ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিটি লিফটিং জ্যাকের প্রকৃত বাজারদর ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা। এর প্রতিটি কেনা হয়েছে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৭০০ টাকা দরে। এভাবে পাঁচটি লিফটিং জ্যাক কেনা হয়েছে। পূর্ব রেলের সিলিং ও এগজস্ট ফ্যান কিনে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪৭০ টাকা লোপাট করা হয়েছে। প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনা হয়েছে এই দুই ধরনের ফ্যান। সিলিং ফ্যান কেনা হয়েছে ১৭০টি। এগজস্ট ফ্যান কেনা হয়েছে ৬০টি। একটি সিলিং ফ্যানের প্রকৃত বাজারদর ছয় হাজার টাকা, তা কেনা হয়েছে ১৪ হাজার ৪৭০ টাকা দরে। একইভাবে একটি এগজস্ট ফ্যানের দাম বাজারে এক হাজার ২৫০ টাকা, তা কেনা হয়েছে আট হাজার ৪০০ টাকা দরে।

আরও জানা যায়, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কবির আজাদ ঠিকাদারীও করেন নামে/বেনামে,  আরও কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন রেল ভবনে তিনি এমন কাণ্ড করে আসলেও নিরব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, গত অর্থবছরে পূর্ব রেলে অতিরিক্ত দামে ৮১৬ কেজি গ্যাস কিনে আর্থিক ক্ষতি করেছে ১২ লাখ ৪১ হাজার ৫৬ টাকা। প্রতি কেজি ৭৩০ টাকা দামের গ্যাস কেনা হয়েছে দুই হাজার ৪৪৮ টাকা কেজি দরে। এভাবে মোট ৮১৬ কেজি গ্যাস কেনা হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১২ লাখ ৪১ হাজার ৫৬ টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে পূর্ব রেলের কোচের এসি মেরামতের জন্য বিভিন্ন মালপত্র কেনা হয়। এ ক্ষেত্রেও প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে মাল কেনায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ টাকা। তিনটি ফটোকপি মেশিন কিনতে গিয়েও দামের গরমিল করা হয়েছে। প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি দরে কেনার কারণে ক্ষতি হয়েছে ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৪৭৫ টাকা। প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দামে কেনা হয় এই ফটোকপি মেশিনগুলো।

বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে এক কোটি আট লাখ ২২ হাজার ৮১০ টাকা। এ ছাড়া আরো বেশ কিছু সামগ্রী কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রকৃত বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে কেনা হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ ব্যাপারে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, আপনার যা ইচ্ছে লিখে দেন, পূর্ব রেলে আমি এসেছি পাঁচ-ছয় মাস হলো, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে রেলে কেউও ভালো মানুষ নেই।

এ বিষয়ে জানার জন্য পূর্ব রেলের প্রধান সরঞ্জাম ণিয়ন্ত্রক রুহুল কবির আজাদ ও সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন সরকারের মোঠোফোনে একাদিক বার কল দেয়া হলেও এই কর্তাবাবুরা কল রিসিভ করেনি।