পাঁজিয়ায় পূরবী খেলাঘরের নতুন কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

এস আর সাঈদ, কেশবপুর : যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে পূরবী খেলাঘর আসর পাঁজিয়া শাখার নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূরবী খেলাঘর আসরের সভাপতি বাবুর আলী গোলদারের সভাপতিত্ব ও সাহিত্য সম্পাদক মাসুদা বেগম বিউটি সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি আঃ মজিদ বড় ভাই, কবি নজরুল ইসলাম খান, প্রভাষক তাপস মজুমদার, শিক্ষক নাজমুল হাসান, সুব্রত কুমার চক্রবর্তী, প্রদীপ ব্যানার্জী, কবি মকবুল মাহ্ফুজ, কবি হাদিউজ্জামান জয়, লিটন হোসেন ও মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।

ডুমুরিয়ায় ভিলেজ মার্কেটে সবজি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

খুলনা অফিস :‘সবজি সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা  ও বাজারজাত বৃদ্ধিকরণ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ আজ (বুধবার) বিকেলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভিলেজ মার্কেটের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।  সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার, ফুড সিকিউরিটি এন্ড লিংকেজেস (সফল-২) প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সলিডারিডাড নেট ওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণ খুলনা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, খুলনা জেলা বাজার কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার ও খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা এবং সলিডারিডাড নেট ওয়ার্ক এশিয়া, খুলনার কমোডিটি ম্যানেজার নাজমুন নাহার।

 অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি নির্ভর অর্থনীতি হওয়ায় করোনাকালে মহামারির মধ্যেও দেশে কোন খাদ্য ঘাটতি বা অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেনি। সরকার কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কৃষক যাতে তাঁর উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পায় সেজন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদ ও বিপণণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। অতিথিরা ফসল উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত সকল স্তরের  কাজে মাস্ক পরিধান করা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া কৃষকরা তাঁদের সম্ভাবনা ও সমস্যার কথা তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন।  অনুষ্ঠানে কৃষক, আড়ৎ মালিক এবং বায়ার বা ক্রেতারা অংশগ্রহণ করেন।

কেশবপুরে গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের সভা অনুষ্ঠিত

এস আর সাঈদ, কেশবপুর : যশোরের কেশবপুর সরকারী ডিগ্রী কলেজের অডিটোরিয়ামে উপজেলা গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের সভা বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের যশোর জেলা শাখার সভাপতি ইব্রাহীম মোড়ল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সহ-সভাপতি জামিল খান, আলাউদ্দীন, দীলিপ দাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঝন্টু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ইদ্রিস আলী ও দপ্তর সম্পাদক লুৎফর রহমান। কেশবপুর উপজেলা গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ছলেমান, মুসা মোড়ল, আব্দুল কাদের প্রমুখ।

ফুলতলায় একই রাতে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি সংঘটিত

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ফুলতলা বাজারের ৩ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে চুরি সংঘঠিত হয়েছে। চোরেরা এ সময় নগদ ৪২ হাজার টাকাসহ প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

ব্যবসায়িক সূত্রে জানা যায়, ফুলতলা বাজারের জামিরা সড়কের সামির টেলিকমের সার্টার ভেঙে নগদ ৪ হাজার টাকা, ৪টি এনড্রয়েড সেট এবং ৫০ হাজার টাকার রিচার্জ কার্ড, বাচ্চু সাইকেল স্টোরে একই কায়দায় সার্টার ভেঙে ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ৮ হাজার টাকা এবং রফিক সড়কের হাজীগঞ্জ বেকারীর সার্টার ভেঙে নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বুধবার সকালে ফুলতলা থানা পুলিশ এবং বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।

বটিয়াঘাটায় ভূমি অফিস দালাল নির্মূলে ভ্রাম্যমান আদালত অব্যহত

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : উপজেলা ভূমি অফিস ও জলমা তহশীল অফিসে দালাল বাটপার নির্মূলে হোয়াইট ওয়াশ হিসাবে গত কয়েক দিন ধরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করলে ও মূল দালাল বাটপাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারন হিসেবে এলাকায় ভূক্তভোগী ও সচেতন মহল দাবী করছে যে, মূল দালাল বাটপারদের সাথে রয়েছে ওই সকল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সখ্যতা। যে কারণে সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা ভূমি অফিস সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও দালাল বাটপাররা অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চায়ের দোকানে অথবা সিসি ক্যামেরাকে ফাঁকি দিয়ে অফিসের ভিতরে প্রকশ্যে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নয় ছয় কাজ সহজে করে দিচ্ছে। অথচ একজন সাধারণ নাগরিক তার ন্যায্য কাজ মাসের পর মাস ঘুরে চপ্পলের তলা খুইয়ে শুধু তারিখের পর তারিখ নিয়ে বাড়ী ফিরছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষকে ভূমি কর্মকর্তার অজান্তেই নাম ভাঙিয়ে খতিয়ানে ভিপি আছে, আর এস জরিপের দাগ খতিয়ান নেই স্যার স্বাক্ষর করেছন না বলে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হচ্ছে। ঘুষের টাকা দিতে পারলে কাজ হচ্ছে। না দিতে পারলে অফিসকে ভুল বুঝায়ে নামপত্তন কেস খারিজ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোট কথা দালাল বাটপার ছাড়া কোন কাজ হচ্ছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ মল্লিক এ প্রতিবেদকে জানান, দালাল বাটপারদের কারণে জলমা তহশীল অফিসে আমারা যারা প্রকৃত জমির মালিক তারা কোন কাজ করতে পারছি না। এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাশেদুজ্জামান জানান, আপনারা স্থানীয় লোকজন জানেন কারা দালাল। আপনারা আমাদের সাথে সহযোগীতা করে তালিকা প্রস্তূত করে দিন। আমারা অবশ্যই ব্যবস্তা নেব। ইতিমধ্যে ভূমি অফিসের দালাল নির্মূল করতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যহত রয়েছে। আসা করি অচিরেই ভূমি অফিস দালাল মুক্ত হবে।

কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজের অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের ত্রিমোহনী বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের উপর একটি ব্রিজের অভাবে ২০ গ্রামের মানুষকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারও যাত্রী ও শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহায়ে আসছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবী গ্রামবাসীদের। দেশ স্বাধীনের পর থেকে এখানে একটি ব্রিজ নির্মানের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বহু আবেদন-নিবেদনও করা হয়েছে, কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেশবপুর উপজেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ত্রিমোহিনী বাজারের পাশে কপোতাক্ষ নদের ওপর মাত্র আধা কিলোমিটার একটি ব্রিজের অভাবে হাজার হাজার মানুষকে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ত্রিমোহিনী এলাকার মানুষকে বিভিন্ন প্রয়োজনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে এবং সাতক্ষীরার মানুষকে যশোর অঞ্চলে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু একটি মাত্র ব্রিজের অভাবে আধা কিলোমিটার পথ যেতে এসব মানুষকে ঘুরতে হয় প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ। যা ভুক্তভোগীদের জন্য বিড়াম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। নদ তীরবর্তী দেয়াড়া, কাশিয়াডাঙ্গা মানুষের বসবাস। সেখানে যোগাযোগের তেমন কোন উন্নয়ন ব্যবস্থা না হওয়ায় রাষ্ট্রের অনেক জরুরী সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে ওইসব গ্রামের মানুষ। যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকতার যুগে এসে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার হলেও ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের ওপর দিয়ে পারাপারের জন্য আজও কোন ব্রিজ নির্মান হয়নি। যার কারণে কপোতাক্ষ নদের ওপারের এলাকার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। ওই গ্রাম গুলোতে সবচেয়ে বেশি ইরি ধান উৎপাদন হয়। যানবাহন চলাচলের উপযোগী সরাসরি কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধানসহ কৃষি পণ্যসামগ্রী সহজভাবে বাজারজাত করতে না পারায় নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই মহাজনদের কাছে চলমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে কৃষি পণ্য বিক্রি করছে। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ এলাকাবাসীর দাবি থাকলেও কারো যেন মাথা ব্যথা নেই।
ত্রিমোহিনী পোস্ট-ই সেন্টারের উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম মুকুলসহ এলাকাবাসি জানান এলাকার দু‘পারের মানুষ নিজেরা চাঁদা দিয়ে বাঁশ ও কাঠ ক্রয় করে নির্মাণ করেছেন বাঁশ ও কাঠের দ্বারা তৈরি সাঁকো।
কিন্তু অর্থাভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ ও কাঠের দ্বারা তৈরি সাঁকোটি মেরামত না করায় তা ভেঙ্গেচুরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল কিন্তু কোনগতিকে সামান্যভাবে মেরামত করে সাধারণ মানুষ চলাচল করছে। তাই সাধারণ মানুষের সাঁকোটির উপর দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাত্র আধা কিলোমিটারের এই ব্রিজটি নির্মিত হলে অত্র এলাকার মানুষের অনেক উপকার হতো এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতো। কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজটি নির্মাণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।

গাইবান্ধায় চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধা জেলার সর্বত্র বিভিন্ন সময়ে রাতে আধারে গ্রাম গঞ্জে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় চুরি ঘটনা ঘটছে কোন টাতে ধরা পড়ছে আবার কোন চুরি ঘটনায় অধরায় রয়ে যাচ্ছে। তবে আইন শৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয় সচেতন মানুষের প্রতিরোধে মুখে ধরা পড়ছে এসব চুরির সাথে জড়িতরা । দোকান বাসা বাড়ী সহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও চুরি ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা চত্বরের মসজিদের দানবাক্স ভেঙ্গে টাকা চুরির সময় হাতে নাতে লিপন চন্দ্র (৩০) নামের এক পেশাদার চোর গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চোর লিপন পলাশবাড়ী পৌর এলাকার উদয়সাগর গ্রামের মৃত মোংলা চন্দ্রের ছেলে।
এ বিষয়ে পুলিশ ও প্রতক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর যোহরের নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন অন্য মুসল্লীদের নামাজে অসুবিধা না হয় সে কারনে মসজিদের দরজা বন্ধ না করে পাঁশে দাড়িয়ে ছিলেন। এসময় মসজিদের ভিতর অন্য কোন মুসল্লীদের না দেখে সুযোগ বুঝে মসজিদে ঢুকে পরে এ চোর। হঠাৎ একটা শব্দ শুনে মসজিদের মুয়াজ্জিন মসজিদের দিকে এগিয়ে গেলে চোর তাড়াহুরা করে মসজিদের ভেতর থেকে পালানোর চেষ্টা করে। সে সময় মসজিদের মোয়াজ্জিনের সন্দেহ হলে তাকে ধরতেই হাত থেকে টাকা ফেলে দেয় এবং হাত পা ধরতে থাকে। এসময় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাস ভবনে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ফজল মিয়া,মোহসিন উদ্দিন,পিসি সাইফুল ইসলাম,এ পিসি মোকলেসুর রহমানকে ডেকে নিলে তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে চোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। উল্লেখ্য যে, বেশকিছুদিন আগে ওই চোর লিপন পলাশবাড়ী পৌর এলাকার গিরিধারীপুর পূর্ব পাড়া(সরকার পাড়া) আবদুল করিম জামে মসজিদ এর মাইকের দামী ব্যাটারী চুরি করে লাপাত্তা হয়। গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,গ্রেফতারকৃত চোরের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অপরদিকে সুন্দরগঞ্জে এলাকাবাসীর হাতে চোর আটক, অবশেষে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে । গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ফলগাছা (কুড়িপাড়া) এলাকাবাসীর হাতে নাঈম বাবু (২৪) নামে ১ চোরকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ২ টার দিকে এলাকাবাসী চোরকে আটক করে বেধে রেখে পরের দিন সকালে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাকে এলাকাবাসীর হাত থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃত চোর কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চর রতিদেব গ্রামের আছিম উদ্দিনের পুত্র নাঈম বাবু (২৪)।

জানা যায়,গত রবিবার স্থানীয় প্রাক্তন ইউ পি সদস্য মনোরঞ্জন চন্দ্র’র বাড়িতে কে বা কাহারা যেন নলকূপের ভেতরে অচেতনতানাশক ঔষধ দিয়ে রাখে পরে গোটা পরিবারের সদস্যরা ঐ নলকুপের পানি পান করে অচেতন ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তার বাড়ির অন্য লোকজন গিয়ে দেখে সবাই যে যার মতো পড়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোরঞ্জন চন্দ্র তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করার জন্য বরের বাড়িতে যায় সেখানে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে সেখানকার লোকজন এসে তাকে বাসায় রেখে সবাইকে পড়ে থাকতে দেখে। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে তাদের পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পায় । উল্লেখ্য যে একই গ্রামসহ আশপাশের অনেক বাড়িতেও পূর্বে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় তারা। তারা আরও জানায়, আমরা চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে পাহারার জন্য গ্রামের যুবকদের নিয়ে সজাগ থাকায় এ চোরকে ধরতে পেরেছি। এ ব্যাপারে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজমুল হুদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন চোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা জুড়ে চুরি রোধে আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম পুলিশ ও সর্বসাধারণ সচেতন রয়েছেন ।

ডুমুরিয়ায় ওয়ার্ড সদস্য পদে উপ-নির্বাচন : ৬প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া : ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য পদে উপ-নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য শৈলেন্দ্রনাথ বালা ও ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য অসিম সাহা মৃত্যুবরণ করেন। ফলে ওই দুই ওয়ার্ড সদস্য পদ শুন্য বলে ঘোষিত হওয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপ-নির্বাচন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে ২নং ওয়ার্ডে ৩ জন এবং ৩নং ওয়ার্ডে ৩ জনসহ মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে ২নং ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বি ৩ প্রার্থী হলেন সঞ্জয় মন্ডল, মধুসুধন বিশ্বাস ও অমিতেষ বালা। আর ৩ নং ওয়ার্ডের ৩ প্রার্থী হলেন উত্তম হালদার, শরিফুল ইসলাম ও তুষার মল্লিক।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দুই ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আগামি ২৬/০৯/২০২০ তারিখে যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ০৩/১০/২০২০ তারিখ হল প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আর ২০/১০/২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহন। নির্বাচন সুষ্ঠ, সুন্দর ও নিরপেক্ষ ভাবে সম্পন্ন করতে আমরা স্ব স্ব ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করেছি। এরমধ্যে দুই নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র হল কৃষ্ণনগর সরকারি প্রাথমিক স্কুল, মোট ভোটার হল ২৩’শ। আর তিন নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্র হল দেড়ুলি সরকারি প্রাথমিক স্কুল, মোট ভোটার সংখ্যা ২১৫৭ জন।

গাইবান্ধায় বিল্ডিং ধসে নির্মাণ শ্রমিকসহ নিহত ২

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলা শহরে চলমান চারলেন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহনকৃত জায়গা থেকে দোকান ঘরের বিল্ডিং ভাঙ্গার সময় নির্মাণ শ্রমিক আজাদ (৫০) ও এক পথচারী ঠাকুরগাও জেলার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া নামে এক পথচারিসহ ২ জন নিহত হয়েছে। নিহত শ্রমিকের বাড়ী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাইবান্ধা রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে শাহজাহান নামের এক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাকা বিল্ডিং ভাঙ্গার ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সময় দুপুর ১টার দিকে দেয়াল ও ছাদ ধ্বসে পড়ে। এতে ধসে পড়া দেওয়ালে  চাপা পড়ে  নির্মাণ শ্রমিক আজাদ ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এ সময় অপর অজ্ঞাত পথচারী গুরুতর আহত হলে তাকে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে উদ্ধার কাজ চালায়।

সুন্দরবনের সম্পদ লুটেরা আর মাদককারবারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে : উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় আর মাদক নির্মুলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে আরো বেশি কঠোর হওয়ার আহবাণ জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার। বুধবার দুপুরে মোংলায় অফিসার্স ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ আহবাণ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সকল প্রকার মাদক নির্মুল করে দেশকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে অবশ্যই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধও জানান তিনি। একই সাথে সুন্দরবন কেন্দ্রিক কিছু সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে তাদের ওইসব অবৈধ কর্মকান্ডের কারণে এখনো সুন্দরবনের সম্পদ লুটপাট হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও বনবিভাগসহ সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহবাণ জানান উপমন্ত্রী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার শুরুতে উপজেলার সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের কর্মকান্ড ও করোনাকালীন সময়ে করণীয় নিয়ে কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। এছাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আঃ রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান ইস্রাফিল হাওলাদার, নারজিনা বেগম, নিখিল চন্দ্র রায়, মোল্লা তারিকুল ইসলাম, গাজী আকবর হোসেন ও মোঃ কবির হোসেন উপজেলা ও পৌর এলাকার সামগ্রিক কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় বক্তারা মাদক নির্মুলে পুলিশের অভিযান আরো জোরদারের দাবি জানান। মাদক নির্মুল ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কর্মকান্ডের প্রশংসা করে স্থানীয় সাংবাদিকদের পক্ষে বাংলাভিশন’র প্রতিনিধি জসিম উদ্দিন বলেন, শহরের মাদ্রাসা রোড়ে ডিগ্রি মানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর একটি মসজিদের পাশেই সরকার অনুমোদিত একটি দেশীয় মদের দোকান রয়েছে। ওই দেশীয় মদের দোকানটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ারও আহবাণ জানান তিনি।
এদিকে সভায় বিশেষ অথিতির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, করোনাকালীন সময়ে সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যারা স্বাস্থ্য বিধি মানবেন না তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে। এজন্য প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহবাণ জানান তিনি।
এ সভায় করোনাকালীন সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকান্ড উপস্থাপন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী।
আর আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সকলকে অবহিত করেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চেীধুরী। এ সময় তিনি বলেন, মাদকের ক্ষেত্রে তিনি কোন ব্যক্তিকেই ছাড় দিবেন না। মাদক নির্মুলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে মোংলা থানা পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে চলেছেন।
আইনশৃঙ্খলার এ সভায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শতাধিত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।