বিএনপি সবসময় অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকে -জেলা বিএনপির সভাপতি

তাপস কুমার বিশ্বাসঃ খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বর্তমান ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে জনগন সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। গরীব ও খেেেট খাওয়া মানুষের কাজ নেই, শ্রমজীবিদের মিল কলকারখানা বন্ধ হওয়ায় খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বিএনপি সবসময় অসুস্থ, নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় ও গরিব মানুষের পাশে থেকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে । করোনাকালে এলাকার মানুষের জন্য ত্রান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এবং প্রকৌশলী আব্দুস সালামের সহযোগিতায় করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ফুলতলার জামিরা রোডস্থ ফৌজি এন্টারপ্রাইজে হেল্প সেন্টারের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি অধ্যাপক ডা: গাজী আব্দুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, জেলা সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু, এস,এ রহমান বাবুল, জেলা বিএনপি নেতা মোঃ খাইরুল ইসলাম, আবু হোসেন বাবু, মোঃ কামরান হাসান, হাফেজ আবুল বাশার। বিএনপি নেতা শেখ আঃ সালামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সেলিম সরদার, মনির হাসান টিটো, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, শেখ লুৎফর রহমান, এস এম হারুন অর রশিদ, অহিদুজ্জামান নান্না, নওশাদ হোসেন লালু, আনোয়ার হোসেন বাবু, গাজী ফজলুল হক, জিএম শফিকুল ইসলাম, মোঃ ফিরোজ জমাদ্দার, জামাল হোসেন ভ‚ঁইয়া, শেখ বকতিয়ার হোসেন, মশিয়ার রহমান বিপ্লব, মোঃ ইদ্রিস মোল্যা, মোঃ আকতার হোসেন, নজরুল ইসলাম মোল্যা, ফকির রবিউল ইসলাম, ডাঃ আঃ গনি, শেখ আঃ হালিম, মোঃ শহিদুল ইসলাম, আঃ হালিম সরদার, মিনা মুরাদ, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ মাসুদুর রহমান, আরজব ফকির, মোঃ ইয়ার আলী, আকতারুজ্জামান কচি, ইকবাল খান, মোঃ মাসুদ করিম প্রমুখ। প্রসংগতঃ উপজেলার সর্বশ্রেনীর মানুষ এ অক্সিজেন সিলিন্ডারের সুবিধা পাবে ।

চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯শ পিস ইয়াবাসহ রোহিঙ্গাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিন-রাত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন। আটককৃতরা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ (২৫), মো: হাসমি(৪০) এবং মো: হাসমি (৪০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণঅধিদপ্তর (ডি.এন.সি.) চট্টগ্রাম মেট্রো: উপঅঞ্চল, চট্টগ্রাম এর উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান এর সার্বিকত ত্ত্বাবধানে এবং সহকারী পরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন এর সক্রিয় সহযোগিতায় কোতোয়ালী সার্কেলের সহকারী উপ পরিদর্শক মো: লুৎফর রহমান এর নেতৃত্বে গঠিত রেইডিং টিম এর প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহররে বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদকে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত  আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইন ২০১৮ মোতাবেক কোতোয়ালী সার্কেল সহকারী উপ-পরিদর্শক মো: লুৎফররহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা  দায়ের করেন।  অপরদিকে বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মো: সিরাজুল ইসলাম এর  নেতৃত্বে প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় এক মাদক বিরোধী অভিযানে চট্টগ্রাম শহরের খুলশি থানাধীন জাকির হোসেন রোড এলাকা থকেে রোহঙ্গিা মাদক ব্যবসায়ী মো: হাসমিকে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পরিদর্শক মো: সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা  দায়ের করেন।  এছাড়া        বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মো: সিরাজুল ইসলাম এর  নেতৃত্বে গঠিত রেইডিং টিম এর প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একইদিনে সন্ধ্যায় অপর এক মাদক বিরোধী অভিযানে বাকলিয়া থানাধীন বশরুজ্জামান চত্বর এলাকা থকেে রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ী সানজিদা বেগমকে ৪শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত  আসামীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইন-২০১৮ মোতাবেক পরিদর্শক মো: সিরাজুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা  দায়ের করেন।

খুলনায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নবায়নের আবেদন জমা না দিলে বন্ধ ঘোষণা

খুলনা মহানগরীতে ক্লিনিকের লাইসেন্স নেই ৩৯ টির

কামরুল হোসেন মনি : মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণকালে রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা। অভিযানে দেখা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নেই নিবন্ধন। আবার কিছু আছে লাইসেন্স নিলেও তা নবায়ন করেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানতে লাইসেন্স নবায়ন ও নিবন্ধনে গত ৮ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত হাই পাওয়ার টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুলাই থেকে অনিবন্ধিত হাসপাতাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে খুলনা জেলা প্রশাসন। অভিযানে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নবায়ন নেই বা আবেদন করেননি তাদেরকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নবায়নের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। উক্ত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা না দিলে ওই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি প্রেরণ করে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত খুলনা জেলায় ১৯ বেসরকারি হাসপাতাল ও ৩৪ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ নবায়নের জন্য কোন আবেদন করেননি। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন খুলনা মহানগরীতে ২৩২টি ক্লিনিকের মধ্যে নবায়ন রয়েছে ৭০টি। লাইসেন্স নেই ৩৯টি ক্লিনিকের। লাইসেন্স আছে কিন্তু নবায়নের জন্য আবেদন করেনি অনলাইনে এমন সংখ্যা রয়েছে ১৪টি। এছাড়া ৪৫টি ক্লিনিক আবদনের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। খুলনা সিভিল সার্জন ও খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র মতে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত খুলনার ৯ উপজেলায় অবস্থিত ১৯টি ক্লিনিক নবায়নের জন্য পুনরায় কাগজ-পত্র জমা দেননি সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলোর মালিকরা। এর মধ্যে রয়েছে দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়ীগেট অবস্থিত মৈত্রি নার্সিং হোম, পেসেন্ট নার্সিং হোম, তেরখাদা উপজেলার মধ্যে ইন্দুরহাটী এলাকার পাতলা কমিউনিটি হাসপাতাল, সাচিয়াদাহে কমিউনিটি হাসপাতাল, কাটেঙ্গা বাজার এলাকায় স্বপ্ন সিঁড়ি প্রাইভেট হাসপাতাল লি: এন্ড ডায়াগণস্টিক সেন্টার, রূপসা উপজেলার তিলক এলাকায় রেভা: আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল (১০০ শয্যা), জাবুসা চৌরাস্তায় নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল, ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিল রোডে জনসেবা ক্লিনিক, চুকনগর বাজার এলাকায় চুকনগর সার্জিক্যাল ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক, বটিয়াঘাটা উপজেলার জিরো পয়েন্টে সুন্দরবন ক্লিনিক এ- নার্সিং হোম, এম আর সেন্ট্রাল হাসপাতাল, হাটবাঢী এলাকায় সোনালী ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইকগাছা উপজেলার সরল এলাকায় (নতুন) পলক ক্লিনিক এ- ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাকা বাজার এলাকায় আশালতা ক্লিনিক এ- তুলি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, এম মনোয়ারা হাসাপাতাল, মনোয়ারা ক্লিনিক, কয়রা উপজেলার আমাদী এলাকায় পাইলট সার্জিক্যাল হাসপাতাল, মদিনাবাদ ১নং কয়রা এলাকায় সাগর নার্সিং হোম ও রায় ক্লিনিক। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ওই সব ক্লিনিকগুলো অধিকাংশই নবায়ন শেষ হয়েছে ৩ বছর, কারো ২ বছর আবার কারোর নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা কেউ পুনরায় লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেননি।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা এ প্রতিবেদককে জানান, গত জুলাই মাসে খুলনা মহানগরীতে অবস্থিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরিদর্শনে যাই। পরিদর্শনে যে সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নবায়নন নেই বা কোন আবেদেন করেননি তাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নবায়নের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর কেউ যদি ব্যর্থ হন, তাহলে স্ব-স্ব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিঠির মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা: সুজাত আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনা জেলায় অবস্থিত যেসব ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর নবায়ন নেই বা পুনরায় নবায়নের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য তাদেরকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে যদি কেউ কাগজপত্র দিতে ব্যর্থ হন তাদের স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি চিঠির মাধ্যমে বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এর আগে এই বিষয় নিয়ে এক আলোচনা সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
জানা যায়, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বড় অংশেরই নেই নিবন্ধন। আবার কিছু আছে লাইসেন্স নিলেও তা নবায়ন করেনি। নজরদারি না থাকায় নানা অনিয়মে ভেঙে পড়েছে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা। এ অবস্থায় ১৬ জুলাই থেকে অনিবন্ধিত হাসপাতাল ক্লিনিকের বিরুদ্ধে পরিদর্শন শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে খুলনা জেলা প্রশাসন। পরিদর্শনে সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও কাগজপত্র না থাকায় নগরীর খানজাহান আলী রোডের মীম নার্সিং হোম বন্ধ করে দেন। ওই সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান খান ও সেটু কুমার বড়–য়া এ প্রতিবেদককে জানান, ক্লিনিকটিতে কোনো সার্বক্ষণিক চিকিৎসক বা নার্স নেই। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা (আয়া) নার্সের পোশাক পরে চিকিৎসা দেয়। চারপাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, অনেকটা গোডাউনের মতো। মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর বিধি অনুযায়ী ৫ দিনের মধ্যে এখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিক্রি করা সন্তানকে অবশেষে মা ফিরে পেলেন :দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা শহরের একটি ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার ঘটনা জানার পর জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হতভাগি মা ফিরিয়ে পেলেন তার সন্তানকে। অতঃপর সেই শিশুটি মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে লালন-পালনের জন্য নিজেই দায়িত্ব নিলেন জেলা প্রশাসক। মাতৃহারা শিশুটি মায়ের কাছে ফিরে দেয়ার পর গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যাগে, মা আংগুরী বেগম ও তার সন্তানের চিকিৎসাসহ ত্রান ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। গাইবান্ধা সদর উপজেলা ঘাগোয়া ইউনিয়নের শোলাগাড়ি গ্রামের শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন এসব সহায়তা প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসূন কুমার চক্রবর্তী, সহকারী কমিশনার (ভুমি) নাহিদুর রহমান, পিআইও আনিছুর রহমান , প্রেসক্লাব যুগ্ম সম্পাদক আবেদুর রহমান স্বপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের শোলাগাড়ি গ্রামের দিনমজুর শাহজাহান মিয়ার গর্ভবর্তী স্ত্রী আমেনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিজারিয়ানের জন্য জেলা শহরের যমুনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারের পর সন্তানসহ মা ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি থাকেন। পরে তাকে রিলিজ দেয়ার সময় ক্লিনিকের পাওনা হয় ১৬ হাজার টাকা। ওই টাকা পরিশোধ করার মত সামর্থ্য ছিল না শাহজাহান মিয়ার। এই অবস্থায় তিনি তার নবজাত শিশুটিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার মনোহোরপুর গ্রামের এক নি:সন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে দিয়ে ক্লিনিকের পাওনা পরিশোধ করেন। কিন্তু সন্তান বিক্রি করার ঘটনায় মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। মা অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে থেকে শুধু বিলাপ করে করেন। এরআগে গত শনিবার বিকেলে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রসূণ কুমার চক্রবর্ত্তী ও এনডিসি এসএম ফয়েজ উদ্দিনকে সন্তান হারা বাবা-মার কাছে পাঠান। পরে তাদের কাছ থেকে সন্তান গ্রহণকারীর পরিচয় জানতে পেরে সেখানে গিয়ে ওইদিন রাতে ওই সন্তানকে তাদের জিম্মায় নিয়ে নেন। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তান গ্রহণকারী ওই ব্যক্তিকে ১৬ হাজার টাকা পরিশোধ করে দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল ওই শিশুটির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মায়ের কোলে তুলে দেন শিশুটিকে। এসময় ওই পরিবারকে চাল, ডাল তেল, শাড়ী, লুঙ্গি ও নগদ টাকা তুলে দেয়া হয়।

গোবিন্দগঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১০

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক টিম গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতব্যাপি অভিযান চালিয়ে জিআর/এনজিআর/ও সিআর ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১০ আসামী যথাক্রমে ১। রাজা মিয়া পিতা-মৃত আহম্মদ আলী সাং-গুমানিগঞ্জ(ঘড়িয়া) ২। সহিদুর রহমান@সাবু পিতা-মৃত আবুল হোসেন সাং-বেড়া বিশুলিয়া ৩।মোঃ হালিম পিতা-মোঃ সরকার ৪। মোছাঃ মমিলা বেগম স্বামী-মোহাম্মদ সরকার ৫। মোঃ রোস্তম পিতা মতলেব সরকার ৬। মতলেব পিতা-মৃত দবির সরকার সর্ব সাং-রাজস ৭। মোঃ রুস্তম পিতা-মৃত সৈয়দ আলী সাং-পগইল ৮) মোঃ মাসুদ @ মমিরুল ইসলাম পিতা জাইদুল সাং-পগইল ৯। ওছমান গনি পিতা-মৃত সৈয়দ আলী ও ১০। সুজন পিতা মৃত মোফাজ্জল সর্ব সাং পগইল সর্ব থানা গোবিন্দগঞ্জ জেলা-গাইবান্ধাদের বিভিন্ন এলাকা হতে গ্রেফতার করে। উপরোক্ত ১০ আসামি কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান ।

কেশবপুরে কৃষকলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরে বাংলাদেশ কৃষকলীগ, কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক বর্ধিত সভা বৃহস্পতিবার কেশবপুরের আবু শরাফ সাদেক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। কেশবপুর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সৈয়দ নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমেশ চন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষকলীগ খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাজমুল ইসলাম পানু।বর্ধিত সভার প্রধান বক্তা ছিলেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন।বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন যশোর জেলা শাখা কৃষকলীগের সভাপতি এ্যাড. মোঃ শামছুর রহমান,সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোঃমোশাররফ হোসেন,কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা,যশোর জেলা শাখা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।এছাড়া আরও উপস্হিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ- সভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু,সহ-সভাপতি এইচ এম আমীর হোসেন,পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল,পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড. মিলন মিত্রসহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ঠান্ডা বা গরম যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছে নেই : শি জিনপিং

আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিন কখনও আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী নয়, নিজেদের এলাকা প্রসারিত করা বা প্রভাব বাড়ানোরও ইচ্ছে তাদের নেই। বললেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি বলেছেন, তাঁরা কোনও দেশের সঙ্গে ঠান্ডা বা গরম যুদ্ধে যেতে চান না।

৪ মাসের বেশি সময় ধরে পূর্ব লাদাখে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভারত ও চিনা সেনা। এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক বৈঠকের আগে রেকর্ড করা ভিডিও বার্তায়  জিনপিং বলেছেন, চিন আলোচনার মাধ্যমে অন্য দেশের সঙ্গে মতপার্থক্য ও বিতর্ক মেটানোর চেষ্টা করবে।

৪ জুলাই লাদাখে ভারতীয় ছাউনিতে আচমকা সফর করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিনের নাম না করে তিনি বলেন, অন্যের জায়গা দখল করে নেওয়ার যুগ চলে গিয়েছে, ইতিহাস সাক্ষী, যারা জায়গা দখলে বিশ্বাসী, তারা হয় হেরেছে নয়ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। জিনপিং চিনা কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি আবার চিনা সেনার কমান্ডার ইন চিফও। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর দেশ বন্ধ দরজার আড়ালে আলাপ আলোচনা চালাতে আগ্রহী নয়। বরং তাঁরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চেষ্টা করেন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলি আরও জোরদার করার। এর ফলে চিনার আর্থিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বৃদ্ধিও দ্রুত ফিরে আসবে মূল স্রোতে।

করোনা আন্তর্জাতিক অতিমারীর চেহারা নেওয়ার পর থেকেই চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইচ্ছে করে এ ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য চেপে রেখে গোটা বিশ্বে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ায় মদত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারই বলেছেন, চিন গোটা বিশ্বে এই অসুখ ছড়িয়ে দিয়েছে, বেজিং ও তাদের পেটোয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মিথ্যে দাবি করেছে, যে এই রোগের মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ার কোনও প্রমাণ নেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘের উচিত, বিশ্বজুড়ে দশলাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ এই ভাইরাস রুখতে না পারার জন্য চিনকে দোষী সাব্যস্ত করা। কিন্তু চিনা প্রেসিডেন্টের দাবি, এখন এ নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি না করে বিজ্ঞান মেনে সবার এক সঙ্গে করোনাকে হারানোর চেষ্টা করা উচিত। এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচিত অগ্রণী ভূমিকা নেওয়া। এ ব্যাপারে রাজনীতি করার চেষ্টা অবশ্যই রুখে দিতে হবে।