চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনপার্কিং সংলগ্ন গুদাম ভাড়া নিয়ে অবৈধ মার্কেট নির্মাণ

রিটন দে লিটন, চট্টগ্রাম:  চট্টগ্রাম রেলস্টেশন পার্কিং এর পূর্ব পাশের গুদাম ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে মার্কেট তৈরির অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার এর বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে দেখা যায় স্টেশন পার্কিং এর নিরাপত্তা বেষ্টনী অর্থাৎ বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙ্গে টিনের বেড়া দিয়ে ৩২ টি দোকান তৈরি করেছেন ইজারাদার।
রাতের আধারে টিনের ঘেরা দিয়ে ভাড়া নেওয়া রেলের গুদাম সম্প্রসারণ করে সেমি পাকা দোকান ঘরগুলোতে শাটার লাগানোর কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করে জানা যায় রেলের গুদাম ভাড়া নিয়ে উক্ত গুদামটি রাতের আধারে ভেঙে বড় আকারে একটি মার্কেট তৈরি করছেন ইজারাদার। উক্ত মার্কেটে ৩২ টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। তারা আরো জানান সামনের অংশের কয়েকটি দোকান ৫০ লক্ষ টাকা হারে বিক্রি করা হয়েছে।

রেল সূত্রে জানা যায় চারদলীয় জোট সরকার আমলে থেকে একটি সিন্ডিকেট বর্তমান আওয়ামীলীগের সুবিধাবাদী কথিত নেতাকে ব্যবসায়ীক পার্টনার বানিয়ে রেলের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটপাটে নেমেছেন। ইতিমধ্যে উক্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলমন্ত্রী নির্দেশ প্রদান করলেও  রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জামাত বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা- কর্মচারীরা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না।

রেলের গুদাম ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করার বিষয়ে জানার জন্য সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ( বাণিজ্যিক )(পূর্ব )বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামকে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

রেলের গুদাম ভেঙ্গে মার্কেট তৈরি  বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়তলী ভূমি অফিস সদর ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব করিম প্রতিবেদককে জানান আমার জানামতে  চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার একটি গুদামঘর ভাড়া দিয়েছেন তবে মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব) এর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পূর্ব )মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান গুদাম ঘর ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের বিষয়টি আমি শুনেছি, যদি ইজারাদার চুক্তি শর্ত ভঙ্গ করেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাকোপে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : খুলনার দাকোপের শিবনগর এলাকায় ধান ক্ষেত থেকে রবেন মন্ডল (৪৮) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সে ওই এলাকার মৃত প্রানকৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে।
দাকোপ থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়নের শিবনগর এলাকায় ধান ক্ষেতে এলাকাবাসী একটি অর্ধগলিত লাশ দেখতে পায়। সোমবার দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দাকোপ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। কবে কখন কি কারনে এই হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন ধারনা পাওয়া যায়নি। তবে নারী গঠিত কারনে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে এলাকায় এমন গুঞ্জন চলছে। থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ সেকেন্দার আলী জানায়, লাশের শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন আছে। কিন্তু পচে গলে শরীরের অংশ খসে পড়ায় সনাক্ত করা যাচ্ছে না। তিনি ধারনা করছেন ৬/৭ দিন আগে রবেনকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে লাশ ফেলে যাওয়া হতে পারে। জানা গেছে পুলিশ হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রাপ্ত কিছু মোটিভ নিয়ে কাজ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তারা এই মুহুর্তে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

ডুমুরিয়ায় রীচ’র সাবান বিতরণ

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : বুয়েট এবং অক্সর্ফোড ইউনিভাসিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত রীচ’র সেফপানি প্রকল্পের আয়োজনে ডুমুরিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সাবান বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় ডুমুরিয়া এনজিসি এ্যান্ড এনসিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকল্পের ফিল্ড ম্যানেজার মোঃ আবু বকর সিদ্দিক। এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, বুয়েট এবং অক্সর্ফোড ইউনিভার্সিটির যৌথ ভাবে পরিচালিত রীচ’র সেফপানি প্রকল্পটি দির্ঘ দিন ধরে খুলনার বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ২৯ নম্বর পোল্ডার এলাকা জুড়ে সুপেয় পানি সংক্রান্ত গবেষণার কাজ করে আসছে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত ও জন সচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করছি। আর এ কাজের প্রধান স্তর হল আমাদের সকলকে পরিস্কার পরিচ্চন্ন থাকা। নিয়মিত মাক্স ব্যবহার করা, ঘন ঘন হাতে সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করা। তাই আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে সাবান বিতরণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফিল্ড অফিসার চন্দন দাশ।

ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ২

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল চালক নিহত ও তার সঙ্গী গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার দুপুরে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের বালিয়াখালি ব্রীজের পূর্বপাশে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন কর্মকর্তা যুগল বিশ্বাস জানান, সোমবার দুপুর পৌনে একটার দিকে একটি নম্বর বিহীন পালসার মোটর সাইকেলসহ দুইজন লোক বালিয়াখালি ব্রীজের পূর্বপাশের রাস্তায় পাশে পড়েছিল। তাদের মধ্যে দেবব্রত সরকারের (৩৫) মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল আর অন্যজন সেলিম খানের (৫০) অবস্থা কিছুটা ভালো ছিল। আমরা দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত ডাক্তার দেবব্রতকে মৃত বলে ঘোষণা করে এবং আহত সেলিমকে খুলনায় প্রেরণ করে। তবে কি কারণে তাদের দুর্ঘটনাটি হয়েছে এটা বলতে পারছি না। প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি নিহত দেবব্রত সরকারের বাড়ি রুপসার আইচগাতি এলাকায় এবং আহত সেলিমের বাড়ি মোরেলগঞ্জে। মরদেহ হাইওয়ে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পাইকগাছায় ছাত্রলীগের গাছের চারা রোপন

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের আয়োজনে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ,বনজ,ও ঔষধি ৭৪ টি গাছের চারা রোপন করেছে।

আজ সোমবার বিকাল ৩ টায় শহীদ এম এ গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথী ছিলেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক সেলিনা পারভীন,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা আফি আজাদ বান্টি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া, পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী, মাসুদুর রহমান মানিক, মিঠুন দেবনাথ, সাহেব আলী, মুক্ত অধিকারী, নাঈম ইসলাম, প্রসেনজিৎ ঢালী, রামকৃষ্ণ বাছাড়, শাহবাজ আলী, শাহিন আলোম, দ্বিজেন্দ্রনাথ মন্ডল, ফয়সাল আহমেদ জনি, জয় মন্ডল মার্টিন, আকাশ দাস।

পাইকগাছায় প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে আ’লীগের দোয়া মাহফিল

আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা: পাইকগাছায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১১ টায় পাইকগাছা উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু’র সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন আ’লীনেতা অধ্যপক ডাঃ শেখ শহীদুল্লাহ, রশীদুজ্জামান মোড়ল, সমিরণ সাধু, আনন্দ মোহন বিশ্বাস, আঃ রাজ্জাক মলঙ্গী, জি এম ইকরামুল ইসলাম, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম, শিহাব উদ্দিন ফিরোজ বুলু, ইকবাল হোসেন খোকন, বিভুতি সানা, শংকর দেবনাথ, বেনজীর আহম্মেদ বাচ্চু, কৃষ্ণ পদ মন্ডল, চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস, কাওসার আলী জোয়াদ্দার, কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, কাজল কান্তি বিশ্বাস, এস এম রেজাউল হক, শেখ শহিদ হোসেন বাবুল, তৃপ্তি রঞ্জন সেন, অহেদুজ্জামান মোড়ল, শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া, গৌরঙ্গ মন্ডল, এ্যাড শেখ আবুল কালাম আজাদ, বাবুলাল বিশ্বাস, জহুরুল হক, মানব কুমার, আঃ সালাম কেরু, আকরামুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগ নেতা মৃনাল কান্তি বাছাড়, ফাইমিন সরদার, মুসুদুর রহমান মানিক, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মশিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক তানজিম মোস্তাফিজ বাচ্চু, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান পারভেজ রনি, রাসেল, সৌরভ রহিম প্রমুখ।

কেশবপুরে পৌর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সেলিম খানের গনসংযোগ

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোর জেলার কেশবপুর পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন কেশবপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম খান। তিনি পৌর ০৮ নং ওয়ার্ডের গরীব,অসহায় মানুষের পাশে থাকা পরিচিত একটি মুখ।সেলিম খান কেশবপুর পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্হানে উঠান বৈঠক,প্রচার প্রচারণা এবং গণসংযোগ করেছেন । গণসংযোগ করে তিনি সকলের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন এবং বলেছেন কেশবপুর পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের ভিতর বসবাসকারী জনগণের সুখে-দুঃখে পূর্বেও পাশে ছিলেন এবং আগামীতেও পাশে থাকবেন।তিনি কেশবপুর পৌর ০৮ নং ওয়ার্ড এলাকার স্কুল,কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সহ ওয়ার্ডবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করবেন।সেলিম খান কেশবপুর পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে ০৮ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন ও গণসংযোগ করে নিজেকে ০৮নং ওয়ার্ডের অন্যতম প্রভাবশালী একজন প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করেছেন।

চট্টগ্রামের বায়েজিদ লিংক রোডে পাহাড় ধ্বস

 চট্টগ্রাম ব্যুরো: ৬ কিলো সড়ক নির্মাণ করতেই ছোট-বড় ১৮টি পাহাড় কেটে সাবাড় করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে পাহাড় কাটার কথা ছিল ২৬ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে। কেটেছে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে।

নগরের অন্যান্য সড়কের চাপ কমানোর কথা বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিলেও মানা হয়নি পুরোপুরিভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা।

বিশ্বের অনেক দেশই পাহাড়কে অক্ষত রেখেই সড়ক নির্মাণ করলেও ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৯০ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম।  সড়কটি নির্মাণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া না হলেও যান চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। এরইমধ্যে বৃষ্টির সাথে সাথে কয়েকদফা বেশ কয়েক জায়গায় খাড়া পাহাড় ধ্বসে পড়েছে সড়কের ওপর। ফলে সাময়িক সমাধান হিসেবে সিডিএ ওই সব স্থানে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। তবে ব্যস্ত এ সড়কে যে কোন সময়ে ঘটতে পারে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা।

বায়েজিদ-ফৌজদারহাট বাইপাস সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিলিত হয়েছে।  শহরের অন্যান্য সড়কের চাপ কমানোর কথা বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেয় সিডিএ।

 সিডিএ ছয় কিলোমিটার বা ৪ মাইল সড়ক নির্মাণ করতেই ছোট-বড় ১৮ টি পাহাড় কেটেছে। ২৬ ডিগ্রি করে পাহাড় কাটার অনুমতি থাকলেও কাটা হয়েছে ৯০ ডিগ্রি পাহাড়। যেটা পুরোপুরিভাবে কাটিং ম্যানেজমেন্ট প্লানেরই লঙ্ঘন। যার জন্য ১০ কোটি টাকার জরিমানাও ঘানি টানতে হয়েছে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছয় কিলোমিটার রাস্তার দুপাশেই পাহাড় কাটার চিহ্ন। কোনো রকম পরিকল্পনা ছাড়াই পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে এমন দুর্ঘটনা অনেক ঘটেছে এ ছয় কিলোমিটার রাস্তার দুপাশের এলাকাতে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড় কাটার ফলেই সম্প্রতি পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় ধ্বসে ছিন্নমূল মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশরও।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ছয় কিলোমিটার এ বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের এক পাশে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এবং বহিঃসীমা দিয়ে লুপরোড নির্মাণসহ ট্রাংক রোড হতে বায়েজিদ বোস্তামী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (সিডিএ) গত জানুয়ারিতে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রকল্পটি শুরুর আগে সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে এ সড়ক নির্মাণে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড়, টিলা ও মাটি কাটার প্রয়োজন হতে পারে বলে নির্ধারণ করা হয়। আর এ নির্দেশনা মানার শর্তে সিডিএকে জাতীয় স্বার্থে সড়কটি নির্মাণের জন্য ছাড়পত্র দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে জরিমানার আগে সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ ঘনফুট মাটিসহ ১৮টি পাহাড় কাটা হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। অর্থাৎ অনুমোদন-বহির্ভূতভাবে প্রায় আট লাখ ঘনফুট অতিরিক্ত পাহাড় কাটা হয়েছে। সেজন্য সিডিএকে ১০ কোটি ৩৮ লাখ  ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এসব বিষয়ে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েই এ বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সব রকম নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছে। এর সাথে পাহাড় ধ্বসের কোনো সম্পর্ক নেই। পাহাড় দীর্ঘদিন স্থির থাকে না। এটি প্রাকৃতিক ভাবে সময় সময় ধ্বসে পড়ে। তাহলে পরিবেশ অধিদপ্তর গত জানুয়ারিতে সিডিএকে জরিমানা কেন করলো এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ৩৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই সময় গৃহীত প্রকল্পটি ১৯৯৯ সালে একনেকে পাশ হয়। এরপর ২০০৪ সালে ৫৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ফৌজদার হাট থেকে কাজ শুরু হয়। নির্মিত হয় ব্রিজসহ নানা স্থাপনা। পরবর্তীতে রাস্তাটির কাজ নিয়ে এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটির সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই রাস্তার জন্য যখন ভূমি হুকুম দখল করা হয় তখন এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটিকেও ১০৪ একর ভূমি দেয়া  হয়েছিল। রাস্তা নির্মাণের সময় দেখা যায় যে প্রায় ৪ হাজার ফুট বা ১.২২ কিলোমিটার রাস্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪ একর এলাকার মধ্যে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাদের ভেতর দিয়ে রাস্তা যাওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি তোলে।

এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি সিডিএ কর্তৃক নির্মিত রাস্তার ওই অংশটি তাদের নিকট হস্তান্তর করে ক্যাম্পাসের বাইরের অংশ দিয়ে নতুন রাস্তা তৈরির দাবি জানায়। ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তা তারা অভ্যন্তরীণ রোড হিসেবে ব্যবহার করবে এমন শর্তও জুড়ে দেয়। সিডিএ আপত্তি করলে বেঁকে বসে এশিয়ান উইম্যান ইউনিভার্সিটি। এক পর্যায়ে নারী শিক্ষার অনন্য এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়। এতে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ নির্মিত হলেও কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যক্ত হয়ে যায় পুরো প্রকল্প। পরবর্তীতে নানা দেন-দরবারের পর রাস্তাটি নির্মাণের গুরুত্ব সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরা হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এশিয়ান উইম্যান ইউনির্ভাসিটির ভেতর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি তাদের ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর পাশ ঘেঁষে নতুন রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। নতুন করে গ্রহণ করা হয় প্রকল্প। ব্যয় নির্ধারণ হয় প্রায় ২১০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরো কিছু খরচ কমিয়ে প্রকল্প ব্যয় ১৭২ কোটি ৪৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। আগের কাজগুলো পরিত্যক্ত হয়। প্রকল্প ব্যয় উন্নীত হয় ৩২০ কোটি টাকায়। বর্তমানে সড়কটি জনসাধারণের জন্য খুলে দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ।