ডুমুরিয়ার কাকমারি-কাজিরহুলা নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ভাই’রে, ভালোই ছিলাল আমরা। রাত হোক বা দিনে হোক চলাচলে কোন সমস্যাই ছিল না। ভ্যানে-নছিমনে করে তরকারি মাছ নিয়ে ডুমুরিয়ায় যেতাম বিক্রি করতে। খুব সুন্দর ভাবে ছিলাম এই জনপদের মানুষ। কিন্তু এখন আর আমাদের মনে সেই সুখ নেই। নদীর ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পারাপার নিয়ে রয়েছি মহাবিপদে। কবে যে ফিরবে ভাগ্য তাও রয়েছে অজানা। কথাগুলো এমনি ভাবে বলছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলার কাকমারি-কাজিরুহুলা খেয়াঘাট পার হওয়া যাত্রীরা।
জানা গেছে, উপজেলার সাহস ও শোভনা এই দুই ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রানদী। প্রবাহমান কাল থেকেই খেয়া নৌকায় ছিল পারাপারের ব্যবস্থা। নব্বই দশকের দিকে ওই নদীতে জমতে থাকে পলি। অল্প সময়ের মধ্যেই পাল্টে যায় নদীর দৃশ্যপট। পলি জমতে জমতে বিশাল আকৃতির সেই ভদ্রানদী রুপ নেয় ছোট্ট খালে। যা পার হতে মানুষ পড়েন বিপাকে। তখন সংকট নিরাসনে নদীতে নির্মিত হয় সেমিব্রীজ। আর ওই ব্রীজেই ফিরে যায় ভাগ্য। যাওয়া-আসায় ছিল না কোন ভোগান্তি। এরই মধ্যে শুরু হয় নদী খনন প্রকল্পের কাজ। ড্রেজার মেশিনে কাটা হয় ব্রীজের তলদেশের মাটি। খননের শেষে নদী মুখ উন্মুক্তের পরেই ব্রীজটি দুর্বল হয়ে ভেঙ্গে যেতে শুরু করে। অবশেষে আম্পানের রাতে নদীর স্রোতে হারিয়ে যায় ব্রীজের অস্তিত্ব। সেই থেকে ওই জনপদের মানুষের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। চলাচলের জন্য এখন একমাত্র সম্বল হল ছোট্ট নৌকা।
এ বিষয়ে সাহস ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য নুর মোহাম্মদ মোড়ল বলেন, নদীর এই ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের সীমাহীন ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের এ পারের লোকজনের জমি-ক্ষেত হল ওইপারে। লোকজন তাদের জমিতে ঘের করে ও ক্ষেতে ফসল লাগিয়ে বেশ ভালো অবস্থায় ছিল। বর্তমানে মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
শোভনা ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য বলেন, শোভনার কাকমারি, বলাবুনিয়া, কদমতলা, পাতিবুনিয়ার মানুষের যাতায়াতের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ রুট ছিল এটা। ওখানকার মানুষ খুব সহজে ও আল্প সময়ের মধ্যে তাদের গন্তব্যে যেতে পারতো। কিন্তু ব্রীজটি না থানায় অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, আমরা এই মুহুর্তে কিছুই করতে পারছি না। তবে ওখানে আবার ব্রীজের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবার লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়া সাময়িক ভাবে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন, ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় জনগণের পারাপারে ভোগান্তি, এমন ধরনের কোন কথা আমাকে কেউ বলেনি। বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

নিরাপদ সড়ক চাই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি পুনর্গঠিত তৈয়ব সভাপতি-সাজীব সম্পাদক-এনাম সাংগঠনিক

রিটন দে লিটন, চট্টগ্রাম:চট্টগ্রামে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে সংগঠনের ভাবমূর্তি আরো সমুজ্জল করার মানসে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস.এম আবু তৈয়বকে সভাপতি, তরুণ সংগঠক শফিক আহমেদ সাজীবকে সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম জেলা রোভারের নির্বাহী কমিটির জেলা রোভার স্কাউটস লিডার মোহাম্মদ এনামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিকে কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন প্রদান করেছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন সম্প্রতি ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্গঠিত চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি অনুমোদন করেন। নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব চেয়ারম্যানের হাত থেকে অনুমোদনপত্র গ্রহন করেন।

এ সময় চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন নবগঠিত কমিটির সফলতা কামনা করে বলেন, সড়ককে নিরাপদ করার যে সামাজিক আন্দোলনে আমরা সচেষ্ট রয়েছি, আশা করি আপনাদের যোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে আন্দোলন আরো জোরদার হয়ে উঠবে এবং সারা বাংলাদেশে সকল শাখার সাফল্যের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির আন্দোলন পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে। সড়ককে নিরাপদ এবং দূর্ঘটনামুক্ত করে তোলার জন্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী সড়ক দূর্ঘটনারোধে কার্যকরী পদক্ষেপে সামাজিক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দরা হলেন – সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব, সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ, লায়ন মোহাম্মদ হাকিম আলী, হাজী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব, সহ-সাধারণ সম্পাদক আরশাদ উর রহমান, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল লিটন, অর্থ সম্পাদক টিংকু বড়ুয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ এনাম, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার দেলোয়ার মজুমদার, দপ্তর সম্পাদক মোরশেদুর রহমান নয়ন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেজা মুজাম্মেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. টিপু শীল জয়দেব, সমাজ কল্যাণ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ এহসান হাবিবুল আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আন্জুমান আরা বেগম, যুব বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে প্রফেসর মোহাম্মদ মনজুরুল কিবরিয়া, শাহ নেওয়াজ রিটন, আরিচ আহমেদ শাহ, রশিদ মামুন, রেখা আলম চৌধুরী, মোর্শেদ তালুকদার, আব্দুল মান্নান, সিরাজুল মনির মানিক, ডাঃ অঞ্জন কুমার দাশ, আশিষ ভট্টাচার্য, খন্দকার নুরুল ইসলাম, মীর সাখাওয়াত হোসেন, সনত তালুকদার, রেজাউল করিম রিটন, রেবা বড়ুয়া, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, লায়ন আব্দুল মান্নান।

কলারোয়ায় নদী থেকে লাশ উদ্ধার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়ার বেতনা নদী থেকে ষাট বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শাকদাহ স্লুইজ গেট সংলগ্ন বেতনা নদীর পানি থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নাম পরশ কুমার বিট (৬০)। তিনি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত রশিক কুমার বিটের ছেলে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) হারান চন্দ্র পাল জানান, স্থানীয়দের দেয়া খবরের ভিত্তিতে সকালে শাকদাহ বাজারের স্লুইজ গেট সংলগ্ন বেতনা নদীর পানি থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পরশ একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। রাতের কোন এক সময় তিনি পানিতে নেমে আর ডাঙায় উঠতে পারেননি বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর তার মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান।

সমুদ্রে বিলীন হওয়ার হুমকিতে চট্টগ্রাম

সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার হুমকিতে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো: দৈনন্দিন জীবনে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় বসবাসকারীদের জন্য জোয়ারের সময় জানাটা একেবারেই জরুরি। সঙ্গে থাকা চাই পঞ্জিকা অনুসারে জোয়ারের পূর্বাভাস তালিকা। ডাঙ্গায় বসবাস করে স্কুল বা অফিসগামী মানুষের জন্য এমন তালিকার প্রয়োজনীয়তা শুনতে আশ্চর্য ঠেকলেও, আগ্রাবাদের বাসিন্দাদের জানতেই হয় কখন জোয়ার আসবে। আর সেই পানিতে ডুবে যাবে এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়ির নিচতলা।  এক সময় চট্টগ্রামের ধনী এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের আবাসিক এলাকা বলে পরিচিত এলাকাটিতে এটাই এখন বাস্তবতা।

জোয়ারের স্রোতে যখন মহল্লা ডুবে যায়, তখন নিজ বাড়িতেই গাদাগাদি অবস্থান করতে বাধ্য হন এলাকাবাসী। জোয়ার সরে না যাওয়া পর্যন্ত সাধারণমানুষ চলাচল করেন না। এছাড়া, একটু বেশি নিচু জায়গাগুলো দিনে কমপক্ষে ছয়ঘণ্টা জোয়ারের পানিবন্দী থাকে।  ”জোয়ারের পানি কমপক্ষে তিনঘণ্টা থাকে। এজন্য আমরা জোয়ারের পূর্বাভাস-সহ ক্যালেন্ডার ঘরে রাখি। আমাদের প্রতিটি দিনের শুরু সেই মাফিকই হয়,” বলছিলেন চট্টগ্রাম মহানগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অভিজাত এলাকাটির এক বাসিন্দা জসীম উদ্দিন।

এভাবেই প্রতিদিন দুইবার বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জোয়ারের স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপনের চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা। তবে আগ্রাবাদ একা নয়, জোয়ারের কারণে মহানগরীর প্রায় ৬৯ শতাংশ মহল্লা নানা সময়ে কম-বেশি প্রভাবিত হচ্ছে। এ তথ্য জানাচ্ছে খোদ গণপূর্ত অধিদপ্তরের জরিপ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়ার কারণে প্রায় ৬০ লাখ মানুষের ঠিকানা চট্টগ্রাম উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অস্তিত্ব রক্ষায় নগরীর নিজস্ব কিছু সংগ্রাম রয়েছে, বলেই জানান তারা।  যেমন ধরা যাক, আগ্রাবাদের কথাই। এই এলাকার উচ্চতা সাগরপৃষ্ঠ থেকে দশমিক ৪২ মিটার উচ্চতায়। কিন্তু, প্রতিদিন যে জোয়ারের যে ঢেউ আসে তার উচ্চতা কমপক্ষে ২.৫১ মিটার। বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।

বসন্তকালীন সময় জোয়ারের পানির ২.৭৬ মিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন চাঁদের সময়, পুর্ণ চাদনী রাতে বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলাকালে; যখন স্রোতের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় আরও এক বা দুই মিটার ছাড়িয়ে যায় তখন অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে পড়ে।

বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কর্ণফুলী নদীতে আসা ২.৫১ মিটার উচ্চ জোয়ারের কারণে ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলের অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

উচ্চবিত্ত এবং স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন তাদের ঠিকানা বদলেছেন চাঁদগাঁও এবং খুলশীর আবাসিক এলাকাগুলোয়। ফলে আগ্রাবাদের কর্ণফুলী নদী তীরে ৮২.১৮ একর জমির উপর নির্মিত আধুনিক আবাসিক এলাকা এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পাশাপাশি সমুদ্রের পানির বয়ে আনা লবণাক্ততা শহরের নানা অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করে।

সাম্প্রতিক সময়ে, আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুদ্দিন মালেকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে সেখানে ধরে রাখা জমা করে রাখা বৃষ্টির পানি ছাড়া হচ্ছে। ২২ নং রোডে প্রায় ৫,৪০৮ বর্গমিটার জমিতে নির্মাণ করা বাড়িটির কাঠামো এভাবেই রক্ষার চেষ্টা করছেন তিনি।

মালেক জানান, ”জোয়ারের স্রোত রুখতে আমরা ৩০ লাখ টাকা খরচ করে একটি সীমানা দেওয়াল তৈরি করেছিলাম। কিন্তু, তারপরও আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।” আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৈরি (সিডিএ) আবাসিক এলাকাটিতে ১৯৬০ দশক থেকেই ধনীদের বসবাস। উচ্চ-পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুপরিচিত ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদেরা এ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

কোটি টাকার বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা : 
সিডিএ আবাসিক অঞ্চলে ২১ নম্বর রোডের দুটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে এক সময় প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম এল কে সিদ্দিকী এবং তাঁর স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকীর আবাস ছিল।  ১৯৭৭ সালে প্রায় ৩,৩৮০ বর্গমিটার জমিতে বাড়ি দুটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এখানেই বসবাস করেছেন সিদ্দিকী দম্পত্তি। কিন্তু, সম্প্রতি ২০১৮ সালে বাড়ি দুইটি সম্পূর্ণরূপে ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তাদের উত্তরাধিকারীরা।

এল কে সিদ্দিকীর বড় ছেলে আসসান সিদ্দিকী বলেন, ”১৯৯২ সালে যখন বাড়িগুলোর নিচতলায় পানি ঢোকা শুরু করেছিল, তখন আমরা ঢাকা গিয়ে বসবাস শুরু করি। মাঝেমাঝে চট্টগ্রামে আসলে তখন বাড়িদুটি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু, গত ১০ বছরে জলাবদ্ধতার কারণে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

২১ নম্বর সড়কের আরেক বাসিন্দা সাবেক নাবিক এবং জাহাজীকরণ ব্যবসায়ী মীর রেজওয়ান হোসেইন টিপু – ১৯৭৬ সালে ১,৫২১ বর্গ মিটার জমিতে তার বাড়ি তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯০ এর দশকের আগে আমরা কখনও বাড়িতে পানি ঢোকার এই সমস্যার মুখে পড়িনি। ওই সময় থেকেই প্রতিবছর এলাকার পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকার পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন আমরা নিচতলাগুলোকে উঁচু করে সেই সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করি। ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সাল নাগাদ আমি বাড়ির নিচতলা কমপক্ষে পাঁচফুট উঁচু করিয়েছি, কিন্তু তারপরও প্রতিবছর পানির উচ্চতা যেভাবে বাড়ছে- তাতে এ চেষ্টা বৃথা বলেই মনে হচ্ছে।”

”চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাবা-মা এবং আমার শৈশবের অসংখ্য স্মৃতি-বিজড়িত সেই বাড়িটি চিরতরে ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এখন পরিবারসহ ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি।”  বাড়ির মালিকরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির শিকারও হচ্ছেন। ওই এলাকার সব বাড়ির মালিকের সংখ্যা ১৫শ’ জন। নিজেরা অন্যত্র চলে গেলেও বাজারমূল্যের চাইতে অনেক কমদামে বাড়ি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

সিডিএ মূখ্য প্রকৌশলী কাজি হাসান বিন শামস বলেন, ”গত বছরই আমরা ওই এলাকার সড়ক তিন ফুট উঁচু করেছি। তারপরও, এবছর তা পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই আবাসিক এলাকায় জোয়ারের পানিই বড় সমস্যা। এজন্য আমরা মহেশখালে একটি জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করছি। আশা করছি, এর মাধ্যমে এলাকাটিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

রক্ষা পায়নি আগ্রাবাদের বাণিজ্যিক এলাকাও :
আগ্রাবাদের বাণিজ্যিক এলাকায় নগরীর বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দপ্তর। যার মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। বন্দর নগরীর এসব প্রতিষ্ঠান জোয়ারের পানিতে প্রভাবিত হচ্ছে।  ২০১৬ সালে চালু হওয়া বাণিজ্য ট্রেড সেন্টারে গত দুই-তিন বছর ধরেই পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। আর গত বছর জোয়ারের পানিতে পুরো এলাকায় প্লাবিত হয়।

”আগ্রাবাদের বাণিজ্যিক এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়া আমি দুই বছর আগেও দেখিনি। আর ট্রেড সেন্টারের সামনে পানি জমার বিষয়টি তো কল্পনাই করতে পারি না। গত দুই বছরে আমরা অভিজাত এ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সামনের রাস্তা পানিতে ডুবে যেতে দেখছি,” বলছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সে কারণে আসা উঁচু জোয়ার শুধু নাগরিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে না, বরং ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসাগুলোতে।

একারণে, দেশের বৃহত্তম পাইকারি পণ্য বাজার খাতুনগঞ্জ এবং আসাদগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পণ্য নষ্টের কারণে কমপক্ষে ১,০০০ কোটি টাকা বাৎসরিক ক্ষতি হচ্ছে, বলে দাবি করেছে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ড্রাস্টিজ অ্যাসোসিয়েশন।

নোনা জলের প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত নগরীর অন্যান্য এলাকা : 
সমুদ্রের পানির উচ্চতা চট্টগ্রাম নগরীর ১৮ শতাংশ এলাকায় ০.৫ – ২.৫ পর্যন্ত বেড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে; আগ্রাবাদে সিডিএ’র তৈরি আবাসিক এলাকা, পূর্ব বাকালিয়া, দক্ষিণ বাকালিয়া, হালিশহর, শোলকবাহার, মুরাদপুর, মোহরা এবং বাহাদুরাঘাট অঞ্চল। দৈনিক এসব এলাকা প্লাবিত করা জোয়ারের পানির গড় উচ্চতা ২.৫ থেকে ২.৭৬ মিটার।  তাছাড়া, মৌসুমি বৃষ্টি, নতুন চাঁদ উঠার কালে, পূর্ণ চাঁদনী রাতে এবং সাইক্লোনের সময়ে ৫১ শতাংশ এলাকায় পানির স্তর ২.৫ – ৪.৫ মিটার পর্যন্তও বাড়ে।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্লাবন প্রতিরোধ প্রকল্পের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ শাহ আলী জানান, চান্দাগাঁও, মোহরা, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, চকবাজার, পতেঙ্গা অঞ্চল জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যায়।

হালিশহর সংলগ্ন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আরেকটি আবাসিক এলাকাও :
প্লাবিত হচ্ছে চট্টগ্রামের অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতাল, সবুজবাগ আবাসিক এলাকা এবং সিডিএ আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন হালিশহরের কিছু অঞ্চল। বিশেষজ্ঞরা এ প্লাবনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন এবং তার ফলে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে শোলকবার এলাকা, কারণ সাগরপৃষ্ঠ থেকে সেখানকার উচ্চতা মাত্র দশমিক ১৯ মিটার, সেখানে আসা জোয়ারের গড় উচ্চতা ২.৫০ মিটার। আর ২০০৫ সালের পর থেকেই হালিশহরের আবাসিক এলাকা জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে।

হালিশহর কে এবং এল ব্লকের সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট গোলাম মোস্তফা বলেন, ২০০৫ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে পানি আসা শুরু হয়। এখন এলাকাটি কমপক্ষে এক থেকে দেড় মিটার জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে। একারণে এলাকায় বাড়িভাড়া কমপক্ষে ৪০ – ৫০% কমে গেছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামের মাত্র ২২ শতাংশ মহল্লার উচ্চতা পাঁচ থেকে ৩০ মিটার। এসব এলাকা এখন পর্যন্ত জোয়ারে প্লাবিত হওয়া থেকে সুরক্ষিত। তাছাড়া, পাহারি জমির ৯ শতাংশ এলাকার উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা জানায়, আগামী এক শতাব্দী জুড়ে হিমবাহ গলে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৪.০১ মিটার বাড়ার কারণে সম্পূর্ণ ডুবে যাবে চট্টগ্রাম।

প্রতিবছর বন্দর নগরীর নতুন নতুন এলাকা জোয়ারের পানির কবলে পড়ছে। আর জোয়ারের উচ্চতাও নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের গত ২১-২২ আগস্ট প্রথমবারের মতো জোয়ারের পানি চট্টগ্রাম বন্দ্রের বিভিন্ন জেটি প্লাবিত করে। যাতে করে পণ্যে ক্ষতি হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আমদানি-রপ্তানি কারক ব্যবসায়ীরা। গত ২১ আগস্ট কর্ণফুলী নদীতে আসা জোয়ারের উচ্চতা ৪.৮১ মিটার উচ্চতা লাভ করে। পরের দিন আসা জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৪.৬৬ মিটার।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন :
চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মো. রিয়াজ আক্তার মল্লিক জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি চট্টগ্রাম নগরীকে মারাত্মক রকম প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, ”প্রতিবছর যেমন (সাগরের) পানির উচ্চতা বাড়ছে, একইসঙ্গে পানি নেমে যাওয়ার মতো নিম্নাঞ্চল (জলাভূমির) সংখ্যা কমছে। গত কয়েক দশকে এমন এলাকার সংখ্যা ৫০% হ্রাস পেয়েছে।”

”জোয়ারের পানি যেন শহরে প্রবেশ না করতে পারে এজন্য জোয়ার নিয়ন্ত্রণে টাইডাল রেগুলেটর নির্মাণে গতি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জোয়ারের পানি ধারনে শহরে জলাধার নির্মাণ করাটাও জরুরি,” জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ একেএম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ”কর্ণফুলী নদীতে যেন জোয়ারের পানি বেশি পরিমাণে নিষ্কাশন করা যায় এজন্য নগরীর জলাশয় এবং খালগুলোর পাশে জেনারেটর-সহ পাম্প বসানো উচিৎ।” এছাড়া আরও বেশি সবুজ এলাকা এবং খালের পরিমাণ বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি।

জোয়ারের পানি নিস্কাশনে সরকারি পদক্ষেপ : 
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্ণফুলী নদী হয়ে চট্টগ্রাম শহরে জোয়ারের পানি অনুপ্রবেশ বন্ধে ৪০টি স্রোত নিয়ন্ত্রক (টাইডাল রেগুলেটর) বসানোর কাজ করছে। শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনে এর মধ্যে পাঁচটি রেগুলেটর স্থাপন আগামী বছরের মধ্যেই ‘খাল পুনঃখনন, সংস্কার এবং উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় শেষ হবে- জানান প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মোহামদ্দ শাহ আলী।

এছাড়া, পানি উন্নয়ন বোর্ড ১,৬২০ কোটি টাকায় ”চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন” শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় চট্টগ্রাম বিমান বন্দর, মহেশখাল, শাহ আমানত সেতু, কালুরঘাট এবং হালদা নদীর মুখে আরও ২৩টি টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন করা হবে।

এছাড়া, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও চাক্তাই খাল এবং রাজাখালে আরও ১২টি রেগুলেটর বসানোর কাজ করছে।  অধ্যাপক মল্লিক জানান, নিস্কাশন নালায় যেন বর্জ্য না ফেলা হয়- সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করতেও একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এমনটা না করা হলে, ‘ শুধু স্রোত নিয়ন্ত্রক বসানো কোনো কাজে আসবে না’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কেশবপুরে ৮দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুর উপজেলার শ্রীফলা এসকেএস স্পোটিং ক্লাবের আয়োজনে স্থানীয় ফুটবল মাঠে ৮দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ১ম সেমিফাইনালে কালিয়ারই যুবসংঘ ফুটবল একাদশ শ্রীফলা খানপাড়া ফুটবল একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উন্নীত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে খেলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম টুটুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মশিয়ার রহমান পিরো। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস আর সাঈদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তার, মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক জিয়াউর রহমান, ডাঃ মোঃ একরাম খান (ক্বারী), মজিদপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও শিক্ষক জুলফিকার আলী। খেলা ধারাবর্ননায় ছিলেন কামরুজ্জামান বুলু ও শেখ রেজাইল করিম। খেলার সার্বিক সহযোগিতায় করেন শ্রীফলা এসকেএস স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি অশিত কুমার দে এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

বঙ্গবন্ধুর মোরালে কেশবপুর পৌর আ’লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের পুষ্পমাল্য অর্পণ

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) : যশোরের কেশবপুর পৌর আওয়ামী লীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র সাহা শুক্রবার দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংলগ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মোরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেছেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের সদস্য সোহরাব হোসেন, পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান, ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিয়ার রহমান, ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক, ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার হোসেন মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান, ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রমজান আলী মোড়ল, সাধারণ সম্পাদক হাফজুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগনেতা সৈয়দ আকমল আলী, মদন সাহা অপু, শফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, সালাহ উদ্দীন, শ্রমিকলীগনেতা শহিদুজ্জামান, যুব মহিলালীগের আসমা খলিল প্রমুখ।

ভারতে করোনায় মৃত্যু এক লাখ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক : ভারতে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭১ জন দেশটিতে মারা গেছে। মোট শনাক্ত ছাড়িয়েছে ৬৪ লাখ ৭১ হাজার।  করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াবহতা থামছে না। ভাইরাসে দিশেহারা ভারত। করোনায় আক্রান্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এরই মধ্যে ৬৪ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৮৭৫ জনের।

এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে আট শতাধিক মানুষ মারা গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ছাড়ালো দুই লাখ ১৩ হাজার। মোট শনাক্ত প্রায় ৭৫ লাখ।

ব্রাজিলেও নতুন করে ৩৩ হাজার করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে শনাক্ত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ। ফ্রান্সে নতুন করে ১২ হাজারের বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। পোল্যান্ডে প্রথমবারের মতো একদিনে দুই হাজারের বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আংশিক লকডাউন দেয়া হয়েছে।

করোনায় বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত তিন কোটি ৪৮ লাখের বেশি।  মারা গেছে ১০ লাখ ৩৩ হাজার।  আর সুস্থ হয়েছে আড়াই কোটির বেশি মানুষ।

ট্রাম্পের করোনা পজেটিভ

আন্তর্জাতিক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে দেশটির প্রেসিডেন্টের করোনা শনাক্ত হওয়ায়, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয় এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ব রাজনীতিতে। ট্রাম্পের বয়স ৭৪, এটাই ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এখন বেশ কিছুদিন থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে। নিতে হবে চিকিৎসা। ফলে নির্বাচনি সমাবেশে আপাতত সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না তিনি। বাতিল হয়েছে ট্রাম্পের আসন্ন সপ্তাহের সব নির্বাচনি সমাবেশ। অনিশ্চয়তা রয়েছে ১৫ই অক্টোবরের মিয়ামির প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক নিয়েও।

প্রেসিডেন্টের করোনা শনাক্তের পর হোয়াইট হাইসে পরীক্ষার হিড়িক পড়ে গেছে। এরই মধ্যে একই দিন শনাক্ত হয়েছেন হোয়াই হাউজের সাবেক কাউন্সিলর কেলিয়ান কনওয়েসহ বেশ কয়েকজন।

করোনা নেগেটিভ এসেছে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের। নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুক্রবার সমাবেশে ট্রাম্পের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। তবে মাস্ক নিয়ে ট্রাম্পের ব্যঙ্গ করার বিষয়ে জবাব দেয়ার সুযোগ হাত ছাড়া করেননি বাইডেন।

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলেন, এটা রাজনৈতিক বিষয় নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের করোনায় সংক্রমণ থেকেই আমাদের বুঝত হবে, এটা হেলাফেলা করার বিষয় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অসুস্থতা থেকে কোনও রাজনৈতিক ফায়দা তোলার ক্ষেত্রে তার বিরোধী শিবিরের লোকজনকেও বেশ সতর্ক থাকতে হবে। অপরদিকে করোনাভাইরাস নিয়ে বরাবরই বিতর্কে থাকা ট্রাম্পের করোনা পজেটিভকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পারেন রিপাবলিকনরা।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী ট্রাম্প গুরুতর অসুস্থ হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারবেন। আর দুইজনই অসুস্থ হলে সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা যাবে হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির কাছে।

কেবল রাজনীতি নয়, ট্রাম্পের করোনা আক্রান্তের খবর প্রভাব ফেলেছে বিশ্বের শেয়ার বাজারেও। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রসহ জাপান, লন্ডন, প্যারিসের শেয়ারবাজারের সূচক ছিল নিম্নমুখী।

তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা: গ্রেপ্তার ৪

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী উলফাত আরা তিন্নিকে ধর্ষণের পর হত্যাসহ পরিবারের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪ আসামি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে, শৈলকুপা থানায় ১২ জনকে আসামি করে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন নিহত তিন্নির মা হালিমা বেগম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই মামলার মূল হোতা তিন্নির বোন মিন্নি ওরফে মুন্নির সাবেক স্বামী জামিরুল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

এদিকে তিন্নির ময়না তদন্ত রিপোর্ট এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে তারা বলছে ময়না তদন্তে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযান চলছে।

অন্যদিকে, শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করবে। তিন্নিকে হত্যার এ বর্বোরচিত ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবিতে এ মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা শিক্ষার্থী তিন্নির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর হত্যা করেছে তারই বোনের সাবেক স্বামী জামিরুল। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জামিরুল ও তার তিন সহযোগী বাড়িতে একবার হামলা চালায়। এরপর রাত ১১টার দিকে তাদের বাড়িতে আবারো সহযোগীসহ প্রবেশ করে জামিরুল। ছিনিয়ে নেয়া হয় তাদের মোবাইল ফোন। এরপর সহযোগীদের বাইরে রেখে তিন্নির রুমে প্রবেশ করে জামিরুল। রাত ১২টার দিকে জামিরুলের চলে যাবার পর সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থার তিন্নির মরদেহ উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা।