বিশ্ব শিক্ষক দিবসে খুলনায় আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার: ৫অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশ আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি শেখ মো. ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতি স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সবাইকে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। সভায় শিক্ষক দিবসের ওপর বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরে আরও বক্তব্য রাখেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার সরকার, সহ-সভাপতি মো. মাহমুদ আলম, কোষাধ্যক্ষ মো. মাছুম বিল্লাহ, সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কবিরুল ইসলাম, সহসভাপতি লস্কর সোহেল রানা, ক্রীড়া সম্পাদক মুন্সি এনামুল কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চন্দন দত্ত, শিক্ষক মো. আনিসুজ্জামান প্রমুখ। শেষে আত্তীকৃত সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ খুলনার জেলা প্রশাসক মো. হেলাল হোসেন ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিভা রাণী পাঠকের সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

চট্টগ্রামের মাদারবাড়ির যুবদল ক্যাডার শাহ আলমের ৮ সহযোগীকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের পুরাতন রেল স্টেশনে এলাকা থেকে একটি পিস্তল, ৬ টি ছোরা ও একটি চাপাতিসহ যুবদল ক্যাডার শাহ আলমের ৮ জন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. বদিউল আলম প্রকাশ বদি (২৬), মো. তারেক (২৭), মো. মামুন (২২), জুয়েল দাশ (২৬), মো.  আসিফ হোসেন প্রকাশ সাকিব (২০), মেহেদী হাসান (২৩), রিপন দত্ত (২০) ও মো. সোহেল (২৫)।

ওসি মোহাম্মদ মহসিন গণমাধ্যমকে জানান, আসামিরা প্রত্যেকে পেশাদার ছিনতাইকারী। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তারা ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়ায়। গ্রেফতারের আগেও তারা পুরাতন রেল স্টেশন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে একত্র হয়।

রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায় গ্রেফতারকৃতরা চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি যুবদল ক্যাডার রেলওয়ে প্রভাবশালী ঠিকাদার শাহ আলমের অনুসারী। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ছিনতাই ও টেন্ডারবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

উপকারী বৃক্ষ তালগাছ

তালগাছ, খেজুর এবং নারকেলের মতোই একবীজপত্রী একটি উদ্ভিদ। ফল ও রস খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তাল গাছের অন্যান্য অংশও গ্রাম বাংলায় ব্যাপক সমাদৃত। তাল গাছের কাঠ, ঘর, নৌকা তৈরি ও জ্বালানি কাজে ব্যবহৃত হয়। পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি, বেড়া, পাখা, ঝাঁটা, ঝুড়ি ও মাদুর তৈরি করা যায়। এক কথায় তাল গাছের প্রতিটি অংশই কাজে লাগে। তাল গাছ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। সাময়িক বন্যা ও লবণাক্ততা সহিষ্ণু এ গাছটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে পাহাড়ী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মাটিতে জন্মাতে সক্ষম। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বজ্রপাত ও ভূমিক্ষয় রোধে তালগাছ সাহায্য করে। পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে তালগাছ অনন্য। কাজেই দেশে বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধি, ফলের চাহিদা পূরণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ, নির্মল পরিবেশ তথা দেশেকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তুলতে অন্যান্য বৃক্ষরাজির সাথে সুপরিকল্পিতভাবে তালগাছ রোপণ এবং এর চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

ডুমুরিয়ায় ট্রাকের চাপায় বৃদ্ধ নিহত

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া ব্রীজের ওপর সোমবার বিকেলে ট্রাক চাপায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধ মারা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন সুত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে উপজেলার খর্ণিয়া ব্রীজের ওপরে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক বৃদ্ধ মারা গেছে। তার পাশে থাকা কীটনাশক জাতীয় কিছু মালামাল উদ্ধার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন কর্মকর্তা যুগল বিশ্বাস জানান, শোয়া ৫টার দিকে জানতে পারি খর্ণিয়া ব্রীজের ওপর খন্ড-বিখন্ড অবস্থায় এক পথচারীর মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ যা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে আছে। জানতে পারি দ্রুত গতির একটি ট্রাকে তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ রেজাউল করিম জানান, লাশ দেখে চেনার কোন উপায় নেই। ফলে তার সঠিক পরিচয় পাচ্ছি না। তবে সুরোতহাল রির্পোটে দেখা গেছে, তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও গায়ে ছিল পাঞ্জবি। আমার তার পরিচয় জানার চেষ্টা করছি এবং একই সাথে লাশ মর্গে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফুলতলা বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ফুলতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে উপজেলা চত্বরে এক র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান  করেন প্রধান শিক্ষক মনিরা পারভীন, তাপস কুমার বিশ্বাস, অজয় কুমার চক্রবর্তী, আঃ হাই গাজী, গোলাম মোস্তফা, ইকবাল কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, রমা বিশ্বাস, জুলফিকার আলী, গোলাম কিবরিয়া, নিরঞ্জন প্রসাদ বিশ্বাস, নাসির উদ্দিন, টুকুরুল ইসলাম, মোঃ মনিরুজ্জামান, খাদিজা খাতুন, নিরোদ মন্ডল, নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল, সেলিম সরদার, মহিতলাল মল্লিক, শেখ মাহমুদুল হক, জয়ন্ত কুমার মন্ডল, সুজিত রায়, দীনেশ মন্ডল, চাঁদপদ দাস, পরিতোষ মন্ডল, হেলাল উদ্দিন, তৌহিদ রেজা, প্রভাত কুমার বিশ্বাস, পলাশ চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। পরে ইউএনও সাদিয়া আফরিনের মাধ্যমে শিক্ষকনেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

দাকোপের বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপের কাটাবুনিয়া এলাকায় খাল থেকে নওশের শেখ (৬৬) নামে এক বৃদ্ধের লাশ পাওয়া গেছে। সে ওই গ্রামের মৃঃ হারেজ আলী শেখের পুত্র। মৃত দেহের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত চিহ্ন দেখা যায়। দাকোপ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে। পুলিশ এবং মৃতের পরিবার প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে লাশ উদ্ধারস্থলে বিদ্যুতের একটি পোল এবং পোলের সাথে আর্থিংয়ের তার ব্যতিত ভিন্ন কোন সংযোগ না থাকায় ওই স্থানে মৃতঃ হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে পরিবারের কিছুটা সন্দেহ আছে। মৃতের বড় ভাই নাসির শেখ বলেন, তার ভাইয়ের মৃত্যু রহস্যজনক, সন্দেহের যথেষ্ট কারন আছে। মৃত নওশের আলীর বড় ছেলে হেমায়েত শেখ জানায়, রবিবার বিকালে ঘেরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার বাবা বাড়ী থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে আমি জানতে পারি বাবাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। এরপর সাম্ভব্য সকল স্থানে খোজাখুজির এক পর্যায়ে সোমবার সকাল ৮ টার দিকে তৈবুর শেখের বাড়ী সংলগ্ন কাটাখালী খালে লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যু মামলা দায়েরসহ ময়না তদন্তের জন্য লাশ খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

কালিগঞ্জে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় নবজাতক শিশু উদ্ধার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সড়কধারে গাছের ডালে একটি বাজারের ব্যাগের মধ্যে ঝুলানো ছিল নবজাতক শিশুটি। মাত্র ১ দিন বয়সের শিশুটি এখন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফুটফুটে শিশুটির স্থানীয় ভাবে নাম রাখা হয়েছে মহারাজ। এদিকে রাজপুত্রের মতো চেহারার ওই শিশুটিকে দত্তক হিসাবে পাওয়ার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কাকশিয়ালী রাস্তার পাশে একটি শ্মশানের কাছে গাছে ঝুলন্ত ছিল শিশুটি। পথচারীরা দেখতে পেয়ে ব্যাগটি নামিয়ে দ্রুত শিশুটিকে নিয়ে যান স্থানীয় সার্জিক্যাল ক্লিনিকে। পরে তাকে নেওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে শুরু হয় তার চিকিৎসা।
সামাজিকভাবে অপমানের ভয়ে নিজের সন্তানকে ফেলে দিয়ে গেলেন তার মা। অবৈধ মেলামেশার ফসল নিষ্পাপ শিশুটি কেন জন্মলগ্ন থেকেই নির্যাতনের শিকার হবে, এটাই এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা । যদিও পুলিশ বলছে অপরাধী মহিলাসহ জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, কুড়িয়ে পাওয়ার মাত্র ২-৩ ঘন্টা আগে শিশুটির জন্ম হয়েছে। কে বা কারা তাকে ঝুলিয়ে রেখে যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি শিশুটি সম্পর্কে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নিজ হেফাজতে রাখেন। এরই মধ্যে ফুটফুটে ছেলে শিশুটির ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ছবি দেখে এই নবজাতককে দত্তক নিতে শুরু হয় হুড়োহুড়ি।
কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল জানান, এতক্ষন পর্যন্ত তার কাছে ৮টি আবেদন এসেছে। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকে সুপারিশ আসছে। তিনি জানান, শিশুটিকে আরও একটু সুস্থ করে তুলবার পর ২-১ দিনের মধ্যে বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে দত্তক দেওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। তবে, শিশুটি এখন সুস্থ রযেছে।

কেশবপুর নিউজ ক্লাবের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুর নিউজ ক্লাবের আয়োজনে মাসিক মতবিনিময় সভা সোমবার অনুষ্ঠিত হয়।  মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক আশরাফুজ্জামান। এছাড়া মাসিক মতবিনিময় সভায় উপস্হিত ছিলেন, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সহ-সভাপতি অসিম কুমার ঘোষ,সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সরদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম,হারুন অর রশিদ বুলবুল, সহ – সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ আক্তার হোসেন, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান সহ প্রমুখ সাংবাদিক বৃন্দ।উক্ত মাসিক মতবিনিময় সভায় কেশবপুর নিউজ ক্লাবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

চট্টগ্রামে বিষাক্ত কেমিক্যালে জুস বানায় সন্দ্বীপের কারখানা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে জুস তৈরির দায়ে একটি অবৈধ কারাখানাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (৪ অক্টোবর) পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগেরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন।

অভিযানে কারখানার কম্পিউটার, অটোমেটিক প্যাকিং মেশিন, হাইস্পিড, রোবো ও কোকাকোলার মোড়ক দিয়ে প্যাকেট করা জুস জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন বলেন, এ কারখানায় তৈরি হওয়া সকল পণ্য অবৈধ। এছাড়া কারখানায় পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়া বিষাক্ত কেমিক্যালগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর

চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর অপরাধী ও তাদের মদদদাতা করা তালিকা হচ্ছে; মাটে নেমেছে পুলিশ

 রিটন দে লিটন,চট্টগ্রাম: এলাকাভিত্তিক কিশোর অপরাধী ও তাদের মদদদাতা ‘বড় ভাইদের’ নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নেমেছে সিএমপি। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গতকাল শনিবার বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নগরীর ১৬টি থানার একশ’ ৪৫ জন বিট কর্মকর্তা তাদের বিটের নির্ধারিত এলাকায় অবস্থান ও সভা করে কিশোর গ্যাং ও তাদের মদদদাতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তারপর তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অ্যাকশনে যাবে পুলিশ।
এর আগে গত পয়লা অক্টোবর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সঠিক তথ্য দিয়ে কোমলমতি কিশোরদেরকে সঠিক ও আলোর পথে ফিরিয়ে আনার কাজে সহায়তার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহব্বান জানান।
সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েকবছরে নগরীতে এলাকাভিত্তিক ভয়ঙ্কর সব অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়া কিশোর গ্যাং- এর লাগাম টানতে এবার হার্ডলাইনে যাচ্ছে পুলিশ। নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ১৬ থানা এলাকায় সক্রিয় কিশোর অপরাধী চক্রের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। তালিকা ধরেই অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ কিশোর অপরাধীদের আড়ালের প্রশ্রয়দাতা ‘বড় ভাইদের’ বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
নগর পুলিশের শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেয়ার পর গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রথমবারের মতবিনিময়েই সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর হাল সময়ে পাড়া-মহল্লায় দৃশ্যমান হওয়া পশ্চিমা ধাচের ‘কিশোর গ্যাং কালচার’ ভবিষ্যত প্রজন্ম ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একইসাথে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে শহরের কোথাও কিশোর গ্যাং- নামে কোনও উৎপাত মোটেও সহ্য করা হবে না জানিয়ে এ ধরনের কালচারের নামে যারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হবে তাদের পাশাপাশি আড়ালে থেকে ছত্রছায়া প্রদানকারী বড় ভাইদেরও কোনও ছাড় না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরপর সিএমপির অপরাধ বিভাগের সবকটি শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরকে ১৬ থানা এলাকার কিশোর গ্যাং- এর তালিকা হালানাগাদ করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। কিশোর অপরাধীচক্রের কারা কোন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে, কোন চক্রের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, কাদের বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে বা নেই- বিস্তারিত সব তথ্য হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোনের ডিসিরা তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম তদারক করবেন। ওই তালিকা ধরেই প্রতিটি চক্র ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
কিশোর অপরাধ নির্মূলে পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন দরকার উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন তো সামাজিক অনুশাসন বলতে কিছুই নেই। এ অবস্থায় পারিবারিক অনুশাসন নিবিড় ও জোরদার করতে হবে। সামাজিক অনুশাসন যেটা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, সেটাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কিশোর অপরাধীদের পেছনে কোনও রাজনৈতিক প্রভাবশালীর সহযোগিতা থাকলে তা অবশ্যই বন্ধ অথবা প্রত্যাহার করতে হবে। যেসব ‘বড় ভাই’ কিশোরদের ইন্ধন দিয়ে বিপথগামী করে তাদেরকেই গ্রেপ্তার করতে হবে।’
সিএমপি সূত্র জানায়, পাড়ার বখাটে, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইংরেজি মাধ্যমে পডুয়া ছাত্ররাও কিশোর গ্যাং কালচারে শামিল হয়েছে। রাজনৈতিক বড়ভাইদের মদদ এবং তাদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠা কিশোর গ্যাংয়ের লাগাম টানতে কয়েক বছর আগেই নানা উদ্যোগ নেয় পুলিশ। নগরীর তিন শতাধিক স্পটে সাড়ে পাঁচশ’ কিশোর গ্যাং বা গ্রূপের তালিকা করা হয়। পুলিশের অভিযানের মুখে সর্বশেষ গত বছরের বছরে শেষের দিকে এসে কিশোর অপরাধেিদর দাপট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও চলতি সময়ে তাদের অপতৎপরতা ফের বেড়েছে। নিত্যনতুন কৌশলে চুরি-ছিনতাই ও খুনের ঘটনায় যারা ধরা পড়ছে তাদের মধ্যে কিশোর অপরাধীর সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।গতবছরের ২৬ আগস্ট কিশোর গ্যাং-এর বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে স্কুলছাত্র জাকির হোসেন জনি হত্যার ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত। নগরীর এমইএস কলেজ এলাকায় প্রতিপক্ষের একদল কিশোর ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে। ওই বছরে কিশোর অপরাধীদের হাতে অন্তত দশজন খুনের শিকার হয়েছিলেন।
সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজের বিত্তশালী ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা নিজেদের গ্রূপ গঠন করছে। এরপর তুচ্ছ বিষয়েও এক গ্রুপ অন্য গ্রূপের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে হত্যাসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। পশ্চিমা বিশ্বে ‘গ্যাং কালচার’ নামে পরিচিত এই বিজাতীয় সংস্কৃতির ভয়ঙ্কর আগ্রাসনে নিজেদেরকে ক্রমেই অভ্যস্ত করে তুলছে চট্টগ্রামসহ দেশের উঠতি বয়সীরা। পরিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে এই বিষয়ে সচেতন না হলে গ্যাং কালচারের এই প্রবণতা জঙ্গি বা উগ্রবাদী কর্মকান্ডে জড়ানোর মত ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করতে পারে। প্রযুক্তির প্রসারতার যুগে এসে কিশোর-তরুণদের অনেকেই ফেসবুকসহ নানা যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের গ্রূপ গঠন করে অস্তিত্ব ও কর্মকান্ডের জানান দিচ্ছে। কেউ তাদেরকে প্রশ্রয় বা মদদ দিয়ে বিপথগামী করে তুলছে, আবার স্বার্থগত দ্বন্দের জেরে তাদের কোনও কোনও গ্রূপ সহিংস-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কারও দিকে না তাকিয়ে আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার তিক্ত ও ভয়ঙ্কর ফলই এখন সমাজ ও রাষ্ট্র পেতে শুরু করেছে।
নগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্বের গ্যাং কালচারের আদলে উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণদের মধ্যে একই স্টাইলে চুলের ছাট দেয়া কিংবা দাড়ি রাখা, শরীরে উল্কি আঁকাসহ নানা ধরণের প্রবণতা এখন চারপাশে তাকালেই নজরে পড়ে। এরা আবার নিজ নিজ এলাকায় মাদক সেবন ও বেচাকেনা, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করছে। নগরীর পাঁচলাইশ, খুলশী, চান্দগাঁও, দেওয়ানবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কিশোর-তরুণদের গ্রæপ রয়েছে। এরা সবাই একই বয়সের। এরা প্রাইভেট কার কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে রাত-বিরাতে সড়কে মহড়া দেয়। একে অপরের সাথে রেইস খেলে। টিন-এজারদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটু হিরোইজম দেখানোর প্রবণতা থাকে। কিন্তু, সেটা বাড়াবাড়ির রূপ নিয়ে ‘এন্টি হিরোইজম’ তৈরি হলেই বিপত্তি। আজকাল সেটাই দৃশ্যমান হচ্ছে সমাজের কিছু কিশোরের মধ্যে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞানী ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সময়ের ব্যবধান ও নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশে গ্যাং কালচার তৈরি হতে আমরা দেখেছি। অনেক সময় বঞ্চনা থেকেও কিশোরদের মধ্যে এমন দল গড়ে ওঠে। আবার কোথাও কোথাও বীরত্ব বা হিরোইজমের বশবর্তী হয়ে ছেলেরা মাস্তানিতে যুক্ত হয়। এটা সমাজে সবসময়ই অল্প-বিস্তর ছিল। তবে বর্তমানে সেটার ভয়ঙ্কর সহিংস রূপ দেখতে পাচ্ছি। খেলার মাঠে কিংবা তুচ্ছ ঘটনায় কিশোরদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিন্তু সেটা যাতে সহিংসতার দিকে না যায়, সে ব্যাপারে এলাকার মুরব্বি ও অভিভাবকদের দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোর-তরুণদের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।’