মোংলা পোর্ট পৌরসভায় নির্বাচনী আমেজ

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা : মোংলা পোর্ট পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১১ সালে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ২০১৬ সালে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ হলেও সে সময়ে সীমানা জটিলতা মামলায় স্থগিত হয়ে যায় সেবারের নির্বাচন। সেই সীমানা জটিলতা দূর হয়ে এখন চলছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। এরপর যে কোন সময় হতে পারে পৌর নির্বাচন। তাই আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর মেয়র প্রার্থী হতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় সকলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য এ সকল প্রার্থীরা যে যার মত লবিংগ্রুপিং চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে চলেছেন প্রার্থীরা। এলাকায় চালাচ্ছেন প্রচারণাও। তবে এ প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে আবার কেউ কেউ এলাকায় জনসমর্থন জোগাতে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে অনেকে সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে নিজেকে জানান দেয়ারও চেষ্টা করছেন।
এখন পর্যন্ত মাঠে আওয়ামী লীগেরই ৫ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী ইজারাদার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য ও মোংলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শেখ আব্দুর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও মিঠাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইস্রাফিল হাওলাদার এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন।
এদিকে বিএনপি থেকে মাত্র একজন প্রার্থীরই নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী। আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তার দল থেকে আর কোন সম্ভাব্য প্রার্থী না থাকায় তিনিই পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবে অন্য দলের দিক দিয়ে খুবই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। ২০১১ সালে জুলফিকার আলী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মাঝে সীমানা জটিলতার মামলার কারণে আর নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর মেয়রের চেয়ারে থাকার সুবাধে তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছের পৌরসভার সর্বত্র জুড়ে। তার এ উন্নয়নে অভিভূত পৌরবাসী। মেয়র মো: জুলফিকার আলী বলেন, আমি এর আগে বিএনপির একক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে মেয়র হই। এবারও দল থেকে আমাকেই মনোনয়ন দিবেন। তিনি আরো বলেন, আমি যখন মেয়রের দায়িত্ব নিই তখন পৌরসভা দেনায় জর্জরিত ছিল। রাস্তাঘাট খারাপ ছিল। সকল ধরণের নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল পৌরবাসী। আমি দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর পৌরসভার সর্বত্র যে আধুনিকতার ছোয়া লাগিয়ে দিয়েছে তাতে পৌরবাসী খুশী মনে আমাকে আবারো ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবেন বলে আমি আশাবাদী।
এর আগে ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী ইজারদার। তবে সে সময় সামীনা জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। মনোনয়ন প্রতাশী ইদ্রিস আলী ইজারদার বলেন, আসছে নির্বাচনেও আবারো তাকে দলের হাইকমান্ড মনোনয়ন দিবেন এমন প্রতাশ্যা তার। তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে পৌরসভার সীমানা জটিলতা সংক্রান্ত মামলাসহ অন্যান্য বিষয়েও মোংলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ করে নির্বাচনের পরিবেশের সৃষ্টি করেছেন। এজন্যও তার অবদানের দাবীদার তিনি।
পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আ: রহমান বলেন, তৃণমুলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। তারা তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডে পাঠাবেন এবং মনোনয়ন বোর্ড যাকে চুড়ান্ত প্রার্থীতা দিবেন আমি দলের স্বার্থে তার হয়েই কাজ করবো। আমি না পেলেও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো। তিনি আরো বলেন, মোংলা-রামপালের উন্নয়নের কারিগর আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও স্থানীয় সাংসদ উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহারের সিদ্ধান্তের উপর আমরা সকলেই আস্থাশীল। তারা যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমরা নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রাজপথে বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।
মনোনয়ন প্রত্যাশী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ কামরুজামান জসিম পৌরসভার বার বার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম শেখ আ: হাই ও উপজেলা পরিষদের বার বার নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহার হাইর বড় ছেলে। পিতা মাতার সফল নেতৃত্বের উত্তরসূরী হিসেবে শেখ কামরুজ্জামান জসিমেরও এলাকা জুড়ে রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। আলহাজ্ব শেখ কামরুজ্জামান জসিম বলেন, পৌর মেয়র হিসেবে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। আমার প্রিয় নেতা ও অভিভাবক খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং স্থানীয় সাংসদ উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটি মেনে নিয়েই আমি কাজ করবো।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইস্রাফিল হাওলাদার বলেন, আমি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী প্রত্যাশী। দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো, আমার রাজনৈকিত অভিভাবক মোংলা-রামপালের রুপকার, খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকাদার আব্দুল খালেক এবং মোংলা-রামপালের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটি মেনে নিবো।
উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন বলেন, দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দল মনোনয়ন দিলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন করবো।
সর্বশেষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে মোংলা বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক ও মোংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এম দুলালের। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে পৌর শহর জুড়ে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সুনাম রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে তার কর্মকান্ডে তিনি সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে দানবীর-হাতেমতাই বলেও আখ্যা পেয়েছেন।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচনকে ঘিরে শহরের অলিগলিতে বইছে নির্বাচনী আমেজ। কে, কে প্রার্থী হচ্ছেন, কে নির্বাচিত হলে কেমন হবে পৌরসভা। এতসব নিয়ে ভোটারদের মাঝে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বটিয়াঘাটায় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রসাশনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপন উপলক্ষে এক জরুরি প্রস্ততি মূলক সভা বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটায় স্থানীয় জ্যোতিষ্ক সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় । সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন ও চঞ্চলা মন্ডল, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অপর্ণা বিশ্বাস, বটিয়াঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল কবীর,হরিনটানা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সানোয়ার হোসেন,লবনচরা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সরোয়ার জাহান,
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রবিউল ইসলাম, প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী,সমাজ সেবা কর্মকর্তা অমিত সমাদ্দার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ এমদাদুল হক, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ও সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার,প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেনারী সার্জন ডাঃ প্রিতীলতা দাস, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ সাঈদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিধান চন্দ্র রায়, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মনোরঞ্জন মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ মল্লিক, চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল ও আলহাজ্ব আশিকুজ্জামান আশিক, আ’লীগ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঢালী,শিক্ষীকা মল্লিকা মল্লিক, ইউপি সদস্যা লতিকা মল্লিক সহ বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিনিধি বৃন্দ । সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে উদযাপন করার জন্য বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ।

ডুমুরিয়ায় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ৮দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ডুমুরিয়া স্পোটিং ক্লাব আয়োজিত শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ গ্রহন করে উলা মইখালি এইচ সংঘ বনাম ডুমুরিয়া ইলেভেন ষ্টার ক্লাব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, আওয়ামী লীগ নেতা আছফর হোসেন জোয়ার্দ্দার, মোল্যা আবুল কালাম, শেখ হাফিজুর রহমান, মোকছেদ আলী সানা, এরশাদ মোল্যা, মাস্টার কবিরুল ইসলাম প্রমুখ। খেলায় নির্ধারিত ৬০ মিনিট শেষে ইলেভেন ষ্টার ক্লাব ১-০ গোল ব্যবধানে উলা মইখালি এইচ সংঘকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়।

ডুমুরিয়ার দুই ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচেন জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণার

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দুই ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের মেয়াদ কাল স্বল্প সময়ের জন্য হলেও কমতি নেই প্রচার-প্রচারণা। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আর প্রার্থীরাও তাদের কর্মী-সমার্থকদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
জানা গেছে, উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর এবং ৩ নম্বর এই দুই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের মৃত্যু জনিত কারণে সরকারি বিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচন কমিশন। সকল আয়োজন শেষে আগামী ২০শে অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহন। আবার এর কিছুদিন পরে অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চে শেষ হতে যাচ্ছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পূর্ণ মেয়াদ কাল। ফলে দেখা যাচ্ছে, এই উপ-নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধির মেয়াদ কাল হবে স্বল্প সময়ের জন্য। তিনি হয়তঃ প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন তিন থেকে চার মাস। কিন্তু এই প্রতিনিধিত্ব অল্প সময়ের জন্য হলেও থেমে নেই প্রার্থীরা। কর্মী-সমার্থকদের নিয়ে চালিয়ে যাচ্চেন প্রচার-প্রচারণা। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
জানা গেছে, দুই ওয়ার্ডে প্রার্থী হলেন ৬ জন। এরমধ্যে দুই নম্বর ওয়ার্ডে মধুসুধন বিশ্বাস (মোরগ), সঞ্জয় মন্ডল (তালা) ও অনিতেষ বিশ্বাস মিলন (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা হল ২৩’শ। আর তিন নম্বর ওয়ার্ডে তুষার মল্লিক (ফুটবল), উত্তম হালদার (মোরগ) ও শরিফুল ইসলাম (তালা) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা হল ১৭’শ ৫৪জন।
শুরুতে এই নির্বাচনে তেমন সোরগোল দেখা না গেলেও বর্তমানে উঠেছে তুমুল ঝড়। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। চার মাস নয়, একদিনের জন্য হলেও এ নির্বাচনে বিজয়ী হতে মরিয়া সকলেই। তাই তো বসে নেই প্রার্থীসহ তাদের কর্মী-সমার্থকরা। ভোর সকাল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনায় ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
সরেজমিনে দুই ওয়ার্ডেই ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। চা’র দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা জুড়েই চলছে নির্বাচনী আলোচনা। দলে দলে লোকজন ছুটে চলেছেন এ’পাড়া থেকে ও’পাড়ায়। পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন তারা। তবে এখনো মুখ খুলছেন না ভোটাররা। ওয়ার্ডের যোগ্য প্রতিনিধি খুঁজতে করছেন চুলচেরা হিসাব নিকাশ। এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্পর্ক, খেলাধুলা-সংস্কৃতি, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তিত সবাই। এইদিক গুলো ঠিক রাখলে হয়তঃ তিনিই হবেন বিজয়ী এমনটিই মিলেছে আভাস।

মোংলায় মার্কেট দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ চরমে

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলার দিগরাজ এলাকায় কাঁকড়া মার্কেটের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষের দখলে থাকা বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে বুধবার সকালে নতুন করে আরো দুইটি সাইনবোর্ড দেয় আরেক পক্ষ। এ নিয়ে সংঘাতের আশংকায় ওই কাঁকড়া মার্কেটের দোকানীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোংলার দিগরাজ এলাকায় কাঁকড়া মার্কেট নামে পরিচিত জায়গাটিতে পূর্ব থেকে দখলে রয়েছেন খুলনার ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন। সেখানে আগে থেকেই তার নামে দুইটি সাইনবোর্ড রয়েছে। এদিকে মালিকানা দাবী করে বুধবার সকালে একই স্থানে আরো দুইটি সাইনবোর্ড দেয়া হয় জনৈক আকবর হোসেন ও তাপস গাইন নামক দুই ব্যক্তির নামে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে নতুন করে ঝুলানো সাইনবোর্ড দু’টি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ওই জায়গায় দখলে থাকা খুলনার ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনি ১৯৯৮ সালে ২ একর ৮৪ শতক নিচু জমি ক্রয় করেন। এরপর ২০০০ সালে সেখানে বালু ভরাট করে ৫৬টি দোকান ঘর নির্মাণ করেন। তখন থেকেই তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ওই জায়গায় রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন বলেন, স্থানীয় দুই ব্যক্তি জায়গা অর্থাৎ কাঁকড়া মার্কেটটি দখলের উদ্দ্যেশে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
তবে নতুন করে সাইনবোর্ড ঝুলানোর বিষয়ে আকবর হোসেন ও তাপস গাইন বলেন, ১৯৯৯ সালে মাহফুজুল হক লিমন ৬৫ শতক জমি জনৈক এম,এ করিম ভুইয়া ও তার স্ত্রীর কাছ থেকে ক্রয় করেন। এরপর গত বছর মাহফুজুল হক লিমনের কাছ থেকে তারা ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন বেলায়েত হোসেন তাদের ক্রয়কৃত সম্পতি বুঝিয়ে না দিয়ে নানা তাল বাহানা করছেন। এ কারণে তারা বুধবার ওই জায়গার উপর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।
পরে বিরোধপূর্ণ ওই জায়গার উপর সাইনবোর্ড দেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পুলিশ। পুলিশের নির্দেশে নতুন করে ঝুলানো সাইনবোর্ড দুইটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
মোংলা থানার উপ-পরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, ওসি স্যারের (অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী) নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইনবোর্ড সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হলে যারা সাইনবোর্ড দিয়েছিল তারা নিজেরাই তা সরিয়ে নিয়েছে।

আত্মহত্যার প্রচারণার অভিযোগে পরকীয়া জুটি আটক

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : স্বামীর আত্মহত্যায় প্রচারণার অভিযোগে আদালতের মামলায় এক গৃহবধু ও তার বর্তমান স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার শাহ্পুর এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনয়নের আন্দুলিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহমান গাজীর (৩৫) সাথে বটিয়াঘাটার গাওঘরা এলাকার মৃত হেকমত আলীর মেয়ে মুরশিদা সুলতানার (৩২) প্রায় ১০ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। সেই থেকে স্বামী আব্দুর রহমান সৌদিতে কর্ম স্থান হিসেবে আসা-যাওয়া করতো। সর্বশেষ প্রায় দেড় বছর আগে সৌদিতে গিয়ে স্ত্রীর সাথে মনো-মালিন্য ও টাকা পয়সা নিয়ে মত পার্থক্য শুরু হয় তার। এরই মধ্যে স্ত্রী মুরশিদা সুলতানা একই এলাকার ব্যবসায়ী শাহ বিএম কিবরিয়ার (৩৫) সাথে প্রেমজ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সৌদিতে বসেই জেনে যান আব্দুর রহমান। আর তখন থেকেই দু’জনের মধ্যে ফোনে ফোনে চলে তুমুল ঝগড়া-বিবাদ। যার পরিনামে গত ২৭ ফেব্রুয়ারিতে সেখানেই আত্মহত্যা করে আব্দুর রহমান। এর কিছুদিন পরেই মুরশিদা-কিবরিয়া বিবাহ করে ভাড়াবাড়িতে সংসার শুরু করে। কিন্তু পিতার নিহতের ঘটনা সহজে মানতে পারিনি তারই ছেলে আকাশ গাজী। তিনি বাদী হয়ে গত ৩রা মার্চ ওই দু’জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন যার নং-০৪। থাানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে শাহ্পুর বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি ভাড়াবাসা থেকে মুরশিদা ও কিবরিয়াকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করে। এ বিষয়ে থানায় বসে মুরশিদা বেগম বলেন, আমার পূর্বের স্বামী আব্দুর রহমান গাজীর আগেও একটি বিবাহ ছিল। তার সাথে বিচ্ছেদের পর আমাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর জানতে পারি সে ধার-দেনায় জর্জারিত। এক পর্যায়ে আমি নিজের নামে বিভিন্ন সমিতি ও লোকের নিকট থেকে টাকা এনে তাকে সৌদিতে পাঠাই। কিন্তু সেখানে বসে সে টাকা কি করতো, তার কোন হিসাব আমাকে দিতো না। বরং উল্টো আমাকে নানা ভাবে দোষ দিতো। এই নিয়ে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে সে সেখানে আত্মহত্যা করে। এরপর আমি শাহ্ বিএম কিবরিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। থানা হাজতে দাড়িয়ে শাহ্ বিএম কিবরিয়া বলেন, আমি জানি মুরশিদার স্বামী আব্দুর রহমান সৌদিতে মারা গেছে। তারপর সে একজন বিধবা মহিলা হিসেবে তার সাথে পরিচয় ও আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং আমরা বিবাহ করি। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, বাদী আকাশ গাজীর অভিযোগ ও আদালতে মামলায় তাদের আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ সাব্বির আহমেদ  (৩৪) ও মোহাম্মদ ইউনুস (২৮)। বুধবার (৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সূত্র মতে, ৭ অক্টোবর সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্তাবধানে সহকারী পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক এর সমন্বয়ে পাহাড়তলী সার্কেল পরিদর্শক এ এস এম মঈন উদ্দিন ও চাঁদগাও সার্কেল পরিদর্শক মোঃ আমিরুজ্জামান এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদে ভিত্তিতে বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু  এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোজাহার মিয়ার পুত্র   মোঃ সাব্বির আহমেদকে  তল্লাশি করে ২ হাজার ৫শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন। তার বিরুদ্ধে সহকারী উপ পরিদর্শক মোঃ    আবু সাইদ  বাদী হয়ে বাকলিয়া  থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। অপর আরো একটি অভিযানে একই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মৃত মোহাম্মদ এর পুত্র মোহাম্মদ ইউনুসকে তল্লাশি করে ২ হাজার ৫শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে । তার বিরুদ্ধে পাহাড়তলী সার্কেল উপ পরিদর্শক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন ।

কালুরঘাট সেতুর আশ্বাস এল এবার মন্ত্রীর মুখ থেকে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল ও সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে— এমন আশ্বাস দিলেন এবার রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।
কালুরঘাটের বর্তমান সেতুটির ৮০ মিটার উত্তরে নতুন সেতুটি নির্মিত হবে। সেতুর নিচ দিয়ে নৌযান চলাচলের জন্য থাকবে প্রয়োজনীয় উচ্চতা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সেতু নির্মাণের স্থান ঘুরে দেখে রেলপথ মন্ত্রী এ কথা জানালেন। সেতু নির্মাণের ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের প্রথম দিকে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সেতু নির্মিত হবে— যেখানে রেলপথ এবং সড়কপথ একসাথে থাকবে।’
১৯৩১ সালে কালুরঘাট সেতুটি মিটারগেজ লাইন বিশিষ্ট রেল সেতু হিসেবে নির্মিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে সড়ক সেতু যুক্ত করে রেল কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেতুটি রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়।
রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘সেতুটি আগেই নির্মাণ করা যেত। কিন্তু একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল— যেখানে আলাদা রেল সেতু হবে নাকি রেল ও সড়ক একসাথে হবে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি ঋণদানকারী সংস্থা কোরিয়ান ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) সাথে আলোচনা হচ্ছে। সবকিছু এখন ঠিক করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।’
মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামবাসীর জন্য যেমন এ সেতু খুবই দরকার তেমনি ভবিষ্যতে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেললাইন সংযোগ স্থাপনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা অতি জরুরি। ২০২২ সালের মধ্যে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন চালু হয়ে যাবে। একই সময়ের মধ্যে যাতে সেতুটির নির্মাণ শেষ করা যায় সে চেষ্টা সরকার করবে।
কালুরঘাট সেতু পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রণব কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামান, বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

পাঁজিয়ায় কৃষকলীগের ওয়ার্ড কমিটি গঠন

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরের ০৭ নং পাঁজিয়া ইউনিয়নে ৬ ই অক্টোবর মঙ্গলবার কৃষকলীগের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয় ওয়ার্ড কমিটি গঠন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাঁজিয়ার পাথরঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে।পাঁজিয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগের আহবায়ক দূর্গা শংকর সরকারের সভাপতিত্বে ও আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষকলীগ, যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান (আসাদ)।প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্হিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সৈয়দ নাহিদ হাসান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রমেশ চন্দ্র দত্ত,পাঁজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল বাহার।এছাড়া আরও উপস্হিত ছিলেন পাঁজিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শম্ভু নাথ বসু সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।পাঁজিয়া ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে কৃষকলীগের কমিটি গঠন শেষে সাধারণ কৃষকদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের আলোচিত সেই এসআই হেলাল চাকুরিচ্যুত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রামের স্কুলছাত্র সালমান ইসলাম মারুফের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং মা-বোনকে মারধরের পর ছেলেটির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত ডবলমুরিং থানার এসআই হেলাল উদ্দিনকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকুরিচ্যুত করার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) আমীর জাফর জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটি হেলালকে অভিযুক্ত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছিল। সে মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এখন চাকুরিচ্যুত করা হল।”

সালমান ইসলাম মারুফ স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পড়ার খরচ চালাতে স্থানীয় একটি মার্কেটে বিক্রয়কর্মী হিসেবেও কাজ করত সে।

১৬ জুলাই রাতে ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে তার বাসায় অভিযানে যান পুলিশ সদস্য এসআই হেলাল।

মারুফের স্বজনদের ভাষ্য, তার কিছুদিন আগে মারুফের বাসা থেকে সাইকেল ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যায় দুই লোক গিয়ে মারুফের বাসায় উঁকি দিচ্ছিলেন। এসময় মারুফ তাদের ‘চোর চোর’ বলে ধরে ফেলেন।

এরপর এসআই হেলাল পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে মারুফকে মারধর করেন এবং থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও টাকা দাবি করেন। মারুফের মা ও বোন তখন পুলিশকে বাধা দেন।

যে দু জন বাসায় উঁকি দিয়েছেন, তারা নিজেদের পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেন। আর তাদের সাথে থাকা এসআই হেলাল ছিলেন সাদা পোশাকে।

সেখানে মারধরের পর কিশোর মারুফের বোন আহত হলে মাসহ তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়, এরপর বাসা থেকে মারুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সেই রাতে এসআই হেলালকে প্রত্যাহার করা হয়। চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মনজুর মোরশেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ২০ জুলাই তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

সেখানে বলা হয়, এসআই হেলাল সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়ে মারুফের মা-বোনকে মারধর এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছিলের বলে প্রমাণ মিলেছে তদন্তে।

এসআই হেলাল থানায় অবহিত না করেই অভিযানে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার পাশাপাশি তাকে বরখাস্তের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি।

এদিকে ২৭ জুলাই মারুফের মা বাদী হয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে এসআই হেলালের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আদালতে।

আর পুলিশের বিভাগীয় মামলার প্রতিবেদনে এসআই হেলালকে বিধি অনুযায়ী ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।