অভয়নগরে সড়ক দূর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা গুরুতর আহত

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোরের অভয়নগরে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অভয়নগর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সদস্য শেখ আসাদুল্লাহ আসাদ। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার আবস্থা আশংকাজনক।

বুধবার (১৪অক্টোবর) বিকালে উপজেলার নওয়াপাড়া শহরের বাইপাস সড়কে তার বাড়ির সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক কাউন্সিলর শেখ আসাদুল্লাহ আসাদ মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে প্রবেশকালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রæত গতি সম্পন্ন একটি মোটর সাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তার ওপর ছিকটে পড়েন। এসময় তার মাথায় প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্তের পর রক্তক্ষরণ শুরু হলে এলাকাবাসী তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় খুলনা সিটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তার সুস্থতা কামনা করেছেন, নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসলাম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফার আহমেদসহ সকল সাংবাদিক।

কেশবপুরে পথ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ কেশবপুরে “দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থা” এর উদ্যোগে ও উক্ত সংস্থার উপদেষ্টা মন্ডলির সম্মানিত সদস্য মানবতাবাদী সমাজসেবী বদরুন্নাহার রেশমার আর্থিক সহযোগিতায় ২৫ জন পথ শিশুর মাঝে খাবার বিতরণ করা হয় বুধবার কেশবপুরস্ত সংস্থার প্রধান কার্য্যালয়ে। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন “দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থা”র পরিচালক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মোড়ল, সোহাগ হোসেন, মোঃ আকবার হোসেন, সংগঠক রাকিবুল হাসান বাবু, রফিকুল ইসলাম সহ প্রমুখ। সংস্থার পরিচালক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন সংস্থাটি গরীব মেধাবী পথ শিশুদের এক ধরনের আশ্রয় কেন্দ্র। সমাজের পিছিয়ে পড়া মেধাবী পথ শিশুদের পাশে থেকে তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে সংস্থাটি। শিশু শ্রম বন্ধ্যে, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পাড়া মহল্লায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।সংস্থার উপদেষ্টা মন্ডলির সম্মানিত সদস্য বদরুন্নাহার রেশমা, ছোট্ট শিশু বন্ধু তানভীরের মত সমাজের মানবতাবাদী মানুষ গুলো যদি এগিয়ে আসেন তাহলে সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবেন বলে মনে করেন সংস্থার পরিচালক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল। ২০০৮ সাল থেকে সংস্থাটি বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী মানবতাবাদী মানুষদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে।

কৈয়া বাজারে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ব বৃদ্ধি : নীরব প্রশাসন

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া : ডুমুরিয়া উপজেলা সংলগ্ন কৈয়া বাজারে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ব আশংকাজনক ভাবে বেড়ে গেছে। চিহিৃত প্রভাবশালী বাহিনীর মদদে গত সপ্তাহে একটি জমি দখল করা হয়েছে। সেখানে রাতারাতি নির্মান করা হচ্ছে স্থাপনা। প্রশাসনের নিকট লিখিত আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না ভূক্তভোগিরা।
সরেজমিন গিয়ে এবং হরিনটানা থানায় করা এক অভিযোগে জানা যায়, কৈয়া বাজারে খুলনা-সাতক্ষিরা সড়ক সংলগ্ন বিআর এস ৩৩৬ নম্বর খতিয়ানের ৩০৬৩ নম্বর দাগে ক্রয় সুত্রে জমির মালিক গুটুদিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমান, মহাসিন বিশ্বাস ও মঞ্জু কাজী। প্রভাবশালী দুলাল উদ্দিন চৌধুরী অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে ওই জমিতে গত ৩ অক্টোবর হঠাৎ দলবল নিয়ে সাইনবোর্ড গেড়ে দেয়। পরের দিন থেকে পাকা ইটের নির্মান কাজ শুরু করে। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা হরিনটানা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ পর্যন্ত থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসন দেখেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না বলে ভূক্তভোগিতারা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ ওই জায়গা নিয়ে বটিয়াঘাটা সহকারি জজআদালতে মামলা চলছে। মামলা নম্বর ৮৮/২০। অভিযোগে এ কথাটি উল্লেখ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে কৈয়া বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে যারা জমির মালিক দাবি করছে, তারা কেউ ঠিক মত কিছু জানে না। কারণ এই জমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে কেনাবেচা হয়েছে। মুলতঃ কে কোথায় কিনেছে এবং প্রকৃত মালিকের নিকট থেকে কিনেছে কিনা এটাই হল মুল বিষয়। জমির দলিল দেখলে সব বেরিয়ে আসবে। তবে আমি যেটুকু জানি, জমির মালিক নালা সাহেবের নিকট থেকে হাফিজুর, মহাসিন ও মঞ্জুরা আগে কিনেছে। বাজারের প্রবীন ব্যক্তিত্ব প্রনব কান্তি মন্ডল বলেন, বাজারের কিছু জমি নিয়ে আমরা আতংকে আছি। দখল পাল্টা দখলের ঘটনা লেগেই আছে। ঘর নির্মাণকারী চৌধুরী আবাসিক প্রকল্পের মালিক দুলাল উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে ঘটনাস্থলে থাকা তার ভাই মোঃ ওয়াছিম বলেন, আমরা ক্রয়সুত্রে এই জমির মালিক। তাই আমরা এখানে ঘর করছি। হরিনটানা থানার দায়িত্বরত ওসি (ইনেস্পক্টর তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, থানায় ওসি সাহেব নেই। আমি দায়িত্বে আছি, তবে এ ধরনের কোন অভিযোগের কথা আমার জানা নেই।

মোরেলগঞ্জে ৭২টি মন্ডপে চলছে শেষ মুর্হুতে রং তুলির কাজ

সৈয়দ শওকত হোসেন, মোরেলগঞ্জ : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সনাতন ধম্বাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এবারে এ উপজেলায় ৭২টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দূর্গাউৎসব।
১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে মর্তলোকে মায়ের বাড়িতে দোলায় চড়ে দূর্গা দেবীর পৃথীবিতে আগমন ঘটেছে। তাই শেষ মুর্হুতে কারিগরবা রং তুলির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৭২টি মন্দিরে মন্দিরে সাজ সজ্জার কাজ চলছে ভাস্কররা রং তুলিতে ব্যস্ত। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, সরকারিভাবে বরাদ্ধ প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৫শ’ কেজি করে চাল পাচ্ছেন পূজার আয়োজকরা।
বুধবার উপজেলা সভাকক্ষে এ উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ।
এদিকে সরেজমিনে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বহরবৌলা, ঝান্টিপুর, পুটিয়া, বলভদ্রপুর, শ্রীপুর, জয়পুরসহ বিভিন্ন গ্রামের পূজা মন্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
এ সর্ম্পকে চেয়ারম্যান রিপন দাস বলেন, শারদীয় দূর্গাউৎসবকে সামনে রেখে প্রতিবারের ন্যায় এবারেও এ ইউনিয়নটিতে সবচেয়ে বেশী পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি প্রতিটি মন্ডপে আয়োজক ও কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে সার্বক্ষনিক খোজ খবর নিচ্ছেন।
মহামারী করোনায় ভাইরাসের প্রতিক’লতার মধ্যেও পূজারিদের এ উৎসব কোথাও কমতি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, শারদীয় দূর্গাউৎসবে এ উপজেলায় ৭২টি মন্ডপের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্ধ এসেছে ৩৯.৫ মেট্রিকটন চাল। প্রতিটি মন্ডবের জন্য ৫শ’ কেজি করে চাল ইতোমধ্যে বিতরণ করা শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.দেলোয়ার হোসেন বলেন, দূর্গাউৎসবকে সামনে রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, আনসার-বিডিপি, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক টিম মাঠে থাকছেন। সরকারি বরাদ্ধ ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে।

ডুমুরিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : আসন্ন দূর্গা পূজাকে ঘিরে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সাবেক মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ। সভায় আরও বক্তৃতা করেন ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, ডুমুরিয়া থানার ওসি অপারেশন আকরাম হোসেন, শিল্পপতি নির্ম্মল চন্দ্র বৈরাগী, মাগুরাঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু, ভান্ডারপাড়ার চেয়ারম্যান ডাঃ হিমাংশু বিশ্বাস, খর্ণিয়ার চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার, আটলিয়ার চেয়ারম্যান এ্যাড. প্রতাপ চন্দ্র রায়, শোভনা ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য, ধামালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজোয়ান হোসেন মোল্যা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, রির্সোস সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মনির হোসেন, সমবায় কর্মকর্তা সেলিম আখতার, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস, পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র দাস, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মিশু দে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দার, উপজেলা পুজা পরিষদ নেতা অশোক কুমার আচার্য্য, প্রভাষক গৌর চন্দ্র ঢালী, গোবিন্দ ঘোষ, জেলা পরিষদ সদস্য শোভা রানী হালদার, অনুদ্যুতি মন্ডল ও কবি তুয়ার দত্ত প্রমুখ।

খুলনা মেডিকেল কলেজের আবাসিক ভবন বহিরাগতদের দখলে

ঝূঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস : বিক্রি হয় মাদক

একজনের নামে বরাদ্দ, থাকছে অন্যজন

খেলার মাঠ দখল করে সবজি বাগান

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজের আবাসিক ভবনের বাসা বরাদ্দ যে নিচ্ছেন তার বদলে থাকছেন অন্যজন। বরাদ্দ না নিয়ে বছরের পর বছর অবৈধভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস করছেন। দিতে হয় না পানি ও বিদ্যুৎ বিল পর্যন্ত। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও বহিরাগতরা সপরিবারে বসবাস করছেন। খেলার মাঠ দখল করে করা হয়েছে সবজি বাগান। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসাবস করেন তারা, সেখানে বিক্রি হচ্ছে মাদক। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও অদৃশ্য কারণে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই। একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ভবনগুলো মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কলেজের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এভাবে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে এরা।
খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল আহাদ গতকাল সোমবার রাতে এ প্রতিবেদককে সার্বিক বিষয়ে বলেন, খুমেক হাসপাতালের সাবেক হিসবারক্ষক আলমীগরকে বাড়ি ছাড়ার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বকেয়া বিদুৎ বিলসহ অন্যান্য সবকিছু পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, কোয়াটারের মধ্যে বহিরাগতদের যাতায়াতের বিষয়ে তথ্য আমার কাছে এসেছে। এছাড়া যার নামে ফ্লাট বরাদ্দ নেওয়া সে না থেকে অন্যজন বসাবস করছেন এরকম কিছু তথ্য পেয়েছি। যার অবৈধ বলে তিনি উল্লেখ করেন। যারা এরকম কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলিতে কেউ যাতে বসাবস করতে না পারে সে জন্য বিদ্যুৎ বিল, পানির লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা আবার গোপনে সংযোগ নিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ দখল করে কেউ যদি সবজি বাগান করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজে কোয়াটার সন্ধ্যার পরে মাদকের আখড়ায় পরিনত হয়। বহিরাগতরা প্রবেশ করে মাদক ক্রয় করছেন ও  সেবন করছেন।  গত সপ্তাহে খুলনা মেডিকেল কলেজের কোয়াটার থেকে গাজাসহ আব্দুল্লাহ নামে এক যুবককে আটক করেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃত ওই ছেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ ক্লিনার সোবহানের ছেলে। সোবহানের স্ত্রী আকলিমাও করোনা হাসাপাতালে (আউটসোর্সিং) ক্লিনার পদে কর্মরত আছেন। কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসাবস করছে বহিরাগতরাও। কলেজের কর্তৃপক্ষ বিদুৎ, পানির লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলেও পরবর্তীতে তা পুনরায় সংযোগ করে নেয়। কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর স্টাফ জামাল-কামাল দুই ব্যক্তি কোয়ার্টারে মধ্যে ছেলে-মেয়েদের খেলার মাঠ দখল করে সেই জায়গাটা ঘেরাও করে সবজির বাগান গড়ে তুলেছেন। এতে কোমলমোতী ছেলে-মেয়েরা খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিভাবকরা এ বিষয়ে তাদেরকে কিছু বলতে গেলে স্থানীয় প্রভাব দেখান তারা। উল্টো শাঁসিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া আছে। গত কয়েক বছর আগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আলমগীর অবসরে চলে গেলেও এখনো কলেজের কোয়াটারের ফ্লাটে তিনি অবৈধভাবে বসাসস করে আসছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজের এমএলএস এরাশদ নিজের নামে কোয়ার্টার বরাদ্দ নেয়া থাকলেও সে সেখানে না থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা আফরোজ থাকছেন। যা পুরোটাই অবৈধ। এতে সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছেন। খুমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ আজাদের নামে কোয়ার্টার বরাদ্দ না থাকলে সেও ওখানে বসাবস করছে কিন্তু ব্লাড ব্যাংকের টেকনোলজিস্ট রোকানের নামে ফ্লাটটি বরাদ্দ নেওয়া।  এরকম অনেকের নামে  কোয়াটারের ফ্লাট বরাদ্দ নেওয়া থাকলেও থাকছেন অন্যজন।
গায়েন্দা সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলোতে অধিকাংশ বসবাসকারীই বাসা বরাদ্দ না নিয়েই বহাল তবিয়তে বছরের পর বছর বসবাস করছেন। কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাদেও বহিরাগত ক্ষমতাসীন ব্যক্তিও বসবাস করছেন। ফলে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েক বছর আগে কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দুলাল মাদক ও নারী কেলেঙ্কারী ঘটনায় মামলার আসামি হওয়ায় বরখাস্ত করা হয়েছিল তাকে।  সে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়ে বাসা বরাদ্দ ছাড়াই চিকিৎসকদের নির্ধারিত বাসায় বসবাস করছিলেন। এছাড়া কলেজের চতুর্থ  শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে এলএএমএস, সুইপার কাওছার, টেবিল বয়, নিরাপত্তা কর্মী, সিকিউরিটি,ওয়ার্ড বয় প্রবীর, জিন্নাত, বাবুর্চি রিনা বেগম, গাড়ি চালক কামরুল, আঃ হাই, রিপন, দেলোয়ার, প্যাথলজি বিভাগসহ অনেকেই কলেজের আবাসিক ভবনের বাসা বরাদ্দ ছাড়াই বছরের পর বছর সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বসবাস করে আসছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী সরকারি বাসা বরাদ্দ নিলে তাকে মূল বেতনের  ৪৫-৫০ শতাংশ সরকারকে বাড়ি ভাড়া বাবদ পরিশোধ করতে হয়।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জানান, তার বর্তমানে মূল বেতন ১৪ হাজার ৭শ’ টাকা। তিনি সরকারি বাসা বরাদ্দ নেওয়ায় প্রতিমাসে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ টাকা অ্যাকাউন্ট শাখা থেকে কেটে রাখে। অর্থাৎ তার প্রতিমাসে ৭ হাজার ৩৫০ টাকা বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে হয়।
সূত্র মতে, কলেজের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর কলেজের আবাসিক ভবনের বাসা বরাদ্দ না নিয়েই এভাবে সরকারি কোষাগারে বাড়ি ভাড়া না দিয়ে বহাল তবিয়তে বসবাস করে আসছেন। কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের একাধিক নেতা ও সদস্য কোন রকম বাসা বরাদ্দ ছাড়াই মেডিকেল কলেজের  কোয়াটারে বসবাস করছেন। পানির বিলও পরিশোধ করা লাগে না তাদের। কলেজের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ লাগিয়ে সেখানে বসবাস করা হচ্ছে।

ফুলতলায় ভ্রাম্যমান আদালত ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফুলতলা (খুলনা)প্রতিনিধিঃ ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাদিয়া আফরিন মঙ্গলবার দুপুরে ফুলতলা বাজারে এক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় লাইসেন্স বিহীন মৎস্য ও পশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগে ৫ ব্যবসায়ীকে ৪৯ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সাফ্ফু মীরকে ১৫ হাজার, নজরুল ইসলাম গাজীকে ১০ হাজার, গিরি কুন্ডুকে ৮ হাজার, মঙ্গল কুন্ডুকে ৮ হাজার এবং বিশ্ব কুন্ডুকে ৮ হাজার এছাড়া ৪ ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৪শ’ টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার, এএসআই আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন।