রেলে নিয়োগ দুর্নীতি: ১৩ কর্মকতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রাম রেলওয়েতে অডিটর পদে দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রেলওয়ের সাবেক ও বর্তমান ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. ইসমাইল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- মো. নজরুল ইসলাম, এবিএম মফিজুল ইসলাম, জিএম মামুনুর রশিদ, এএফএম শহীদুল্লাহ, মো. আনিসুল হক, হোসনা আক্তার, ফারজানা সুলতানা, মো. নুরুল আমিন, সঞ্চিতা সাদেক, অপূর্ব বিশ্বাস, জিএম আবুল কালাম, মো. মনিরুজ্জামান ও প্রদীপ কুমার সরকার।

২০১৮ সালে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী মো. নজরুল ইসলাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত এফএ অ্যান্ড সিএ/সার্বিক/পূর্ব ও পরবর্তীতে সিভিল অডিট অধিদফতরের মহাপরিচালক, এবিএম মফিজুল ইসলাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের হিসাব কর্মকর্তা ও পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত, জিএম মামুনুর রশিদ রেল ভবনের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ও পরবর্তীতে বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতরের উপ-পরিচালক, এএফএম শহীদুল্লাহ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ ও পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত, মো. আনিসুল হক রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ডিএফএ ও পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত, হোসনা আক্তার অডিটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা। এ ছয়জন এজাহারে অভিযুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে তদন্তের পর চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়- অনিয়মের মাধ্যমে অডিটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা ফারজানা সুলতানা, মো. নুরুল আমিন, সঞ্চিতা সাদেক, অপূর্ব বিশ্বাস, জিএম আবুল কালাম, মো. মনিরুজ্জামান ও প্রদীপ কুমার সরকারকে। ২০১৮ সালে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্র অনুযায়ী তারা রেলওয়েতে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাবলু গণমাধ্যমেক বলেন, রেলওয়েতে অডিটর পদে দুর্নীতির মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় রেলওয়ের সাবেক ও বর্তমান ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পরে নির্ধারণ করবেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৭ মার্চ রেলওয়েতে অডিটর পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করা হয়। এতে মোট ৭ হাজার ১৩টি আবেদন জমা পড়ে। ৫ হাজার ১০৮ জন বৈধ আবেদনকারীর মধ্যে ১ হাজার ৯৪৩ জন ওই বছরের ২৮ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় ১ হাজার ৮৫ জন উত্তীর্ণ হন। এদের মধ্যে কোটাভিত্তিক ২১৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯৬ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৫ জানুয়ারি টেবুলেশন শিট তৈরি করে ওইদিনই ৬৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে নিয়োগ কমিটি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তা গৌর চন্দ্র রায় ওই দিনই সুপারিশ অনুমোদন করেন। একই দিন এডিজি (অর্থ) দেলোয়ার হোসেনও তা অনুমোদন করেন এবং ৬৩ জন প্রার্থী বরাবর নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হয়। ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগকার্য সম্পন্ন হয়।

২০১২ সালে রেলওয়ের নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পোষ্য কোটায় পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা পরস্পর লাভবান হয়ে সপ্তম হওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দানের সুপারিশ করেছেন এবং তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রে নিয়োগ পাওয়া ওই প্রার্থী হোসনা আক্তারকেও আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের ১০ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বাদি হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি মোট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আইসিটি হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ-সুজন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ইয়ার্ড মালিকদের সাথে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, আইসিটি হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির অপরিহার্য অংশ। অর্থনীতির ব্যারোমিটার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শীর দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় এ শহরের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এ শহরের রাস্তার অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি আপনাদের সহযোগিতা একান্ত ভাবে কামনা করছি।

আপনার সেবা গ্রহীতা, আমরা সেবা দাতা। আমরা চাই এ শহরের রাস্তাগুলো আপানাদের লড়ি ও ভারী যানবাহন চলাচলে উপযোগী করে দিতে। তিনি আজ সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে ইয়ার্ড মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশে আইসিটি’র জন্য আলাদা সড়ক রয়েছে। তাই এই শহরের আইসিটি গুলোকে সেবা দিতে আলাদা রাস্তা প্রয়োজন। চসিকের রাজস্ব আয়ের খাত খুব কম। এই রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। আপনারা ইয়ার্ড মালিকরা বসে নগরীর উন্নয়নে চসিককে কি পরিমাণ উন্নয়ন সার্ভিস চার্জ প্রদান করবেন  তা আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দিন শেষে এ শহর আমাদের সকলের। আগামী প্রজন্মের জন্য আমাদের এই শহরকে সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যভাবে এগিয়ে আসার আহবান  জানান প্রশাসক।
মালিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে যে সেবা দেয়া উচিত, তা অনেক উন্নত হয়েছে। তারা বলেন, চট্টগ্রাম শহর হচ্ছে বন্দর কেন্দ্রিক। তাই বন্দরকে কেন্দ্র করে সিটি  উন্নয়ন সম্ভব।
তারা চট্টগ্রাম শহরের উন্নয়নে প্রশাসককে উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহিদ ফাতেমা, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেমসহ কন্টেইনার ইয়ার্ড মালিকদের মধ্যে ইনকন ট্রেড লি. মি.’ নির্বাহী পরিচালক এস এম মফিদুল আলম, ইসহাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি. মি. পরিচালক ফাইনান্স আলহাজ্ব আবুল মনসুর, ম্যানেজার এডমিন এন্ড এইচআর মো. মুছা, শফি মোটর্স লি. মি. হেড অফ অপারেশন মো. মঈন উদ্দিন, ইষ্টার্ন লজিষ্টিক লি. মি. পরিচালক ফাইনান্স এ কে এম সাইদুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান, এস.এ.পি.এল ডাইরেক্টর ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম মজুমদার, গোল্ডেন কন্টেইনার লি. মি. ডাইরেক্টর বেনজির চৌধুরী প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় পুলিশি অভিযানে আটক ৮

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী ডাকাত হবিসহ অন্যান্য ঘটনার সাথে জড়িত ৮জনকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করেছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, থানা পুলিশ গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৮জনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এরমধ্যে ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ডাকাতিসহ ৮টি মামলার আসামী হাবিবুর রহমান হবিকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। সে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চাকুন্দিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে। হবি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং অনেক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বুধবার সকালে ওই এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আটককৃত অন্যান্যরা হল উখড়া গ্রামের মাহাতাপ শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান, মিকশিমিল গ্রামের সালাম মোল্যার ছেলে আবু তাহের মোল্যা ও রহিম গাজীর ছেলে বাবুল গাজী, টিপনা গ্রামের বাল্লাক গাজীর ছেলে রুহুল আমিন গাজী, নতুনরাস্তা মোড়ের ইব্রাহীম সরদারের ছেলে সাইদুর রহমান, গুটুদিয়া গ্রামের ইসহাক শেখের ছেলে জামাল শেখ ও মালতিয়া গ্রামের সোনাই সরদারের ছেলে সালাম সরদার। এদের বিরুদ্ধে যৌতুক, পারিবারিক কলহ, মাদক ও মারপিটের ঘটনায় মামলা রয়েছে।

হরিণের মাংস ও নৌকাসহ চোরা শিকারী আটক!

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : পূর্ব সুন্দরবনের জোংড়া এলাকায় খাল থেকে হরিণের মাংসসহ নৌকা জব্দ করেছে বনবিভাগ। ওই সময় একজনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে প্রায় ১০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুইটি নৌকা জব্দ করে জোংড়া ফরেস্ট ক্যাম্পের টহলটিম। এ সময় হরিণ শিকার ও মাংস পাচারের সাথে সম্পৃক্ততার দায়ে আটক করার খবর পাওয়া যায় মোংলার চিলা ইউনিয়নের সুন্দরতলা এলাকার বাসিন্দা সামাদ মোসাল্লীকে। তবে সাড়ে ৪ ঘন্টা পর রাত সাড়ে ৯ টায় জোংড়া ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন দাবী করে বলেন, সামাদ মোসাল্লী তাদের সোর্স, আসামী নয়।
তবে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন জোংড়া ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হরিণের মাংস, নৌকা জব্দের বিষয়টি ওই রেঞ্জ কর্মকর্তা বা উর্ধতন কেউকেই না জানিয়ে আটক সামাদ মোসাল্লীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য গোপনে দেন দরবারে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
তবে মাংস ও নৌকা জব্দ বা আসামী আটকের বিষয়ে কিছুই জানেন না রেঞ্জ কর্মকর্তা বা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। প্রতিবেদকের ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন।
এ বিষয়ে জোংড়ার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, সামাদ মোসাল্লী তাদেরকে পাচারের সময় ওই হরিণের মাংস ধরিয়ে দেন। বর্তমান সরকার নিষিদ্ধ সময়ে চিলা ইউনিয়নের বাসিন্দা সামাদ মোসালালী সুন্দরবনের জোংড়া খালে কি করেই পৌঁছালেন এবং সেখানে কি করতে ছিলেন তিনি? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবারে বন কর্মকর্তা আবুল হোসেন কোন সদউত্তর দিতে পারেননি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি বলে জানা গেছে।
এদিকে এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন।

ঝালকাঠিতে মাদ্রাসাছাত্র বলৎকারের শিকার

মো: নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুরে শিক্ষকের বলৎকারের শিকার হয়ে মাদ্রাসাছাত্র গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত উপজেলার নাড়িকেল বাড়ি কওমী হাফেজী মাদ্রাসার শিক্ষক রহমত উল্লাহ বিষয়টিতে ধামাচাপা দিতে এলাকার মেম্বর ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে উল্টো নির্যাতনের শিকার ছাত্রের পরিবারেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ওই ছাত্র হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় নির্যাতনের পর সকালে ওই ছাত্র মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে মাদ্রাসা থেকে কিছু দূরে একটি চায়ের দোকানীর কাছে আশ্রয় চাইলে দোকানীর কাছে সব খুলে বলে। খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রহমত উল্লাহ ৮নং ওয়ার্ড মেম্বর নূরে আলমসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে নির্যাতিত ও তার পরিবারকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা হুমকি দেয়।
এছাড়া আরো জানা গেছে, শিক্ষক রহমত উল্লাহ নিজেকে বাঁচাতে মেম্বর নূরে আলমসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে নিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক রহমত উল্লাহ বিভিন্ন সময় ওই মাদ্রাসার ছাত্রদের বলৎকারের চেস্টা চালিয়ে আসছিল। তবে লোকলজ্জায় কেউ এতদিন মুখ খুলেনি। এ ব্যাপারে মেম্বর নূরে আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে।

এছাড়া এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানান। শুকতাঘর নারিকেল বাড়ি এলাকার ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি কাজল মোল্লা বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এমন ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়। অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি হওয়া উচিত।

ঝালকাঠি সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোঃ শাখাওয়াত হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে কেউ এখনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ দিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি নির্যাতিত পরিবারকে অভিযোগ দেয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

ভাষা সৈনিক এম নূরুল ইসলাম দাদুভাই আর নেই

খুলনা অফিস : বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য বর্ষিয়ান রাজনীতিক ভাষাসৈনিক এম নূরুল ইসলাম দাদুভাই (৮৬) আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লা‌হি ওয়া ইন্না ইলা‌ইহি রা‌জিউন, আমরা‌ তো আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দি‌কে প্রত‌্যাবর্তনকারী)। নগরীর সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।

তিনি ১৯৩৪ সালের ২ মে খুলনা মহানগরীর ২০, বাবুখান রোডস্থ সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহন করেন। মরহুম পিতা ডাঃ খাদেম আহমেদ (পেশায় চিকিৎসক) ও মাতা মরহুমা আছিয়া খাতুনের (গৃহিনী) ৬ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জেষ্ঠ্য সন্তান-ই খুলনার এই গর্বিত রাজনীতিক।

নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন, মরহুমের নামাজে জানাজা আজ বাদ আসর সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে । খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি তিনদিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে । আজ বেলা ১২টায় খুলনা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাঁর মরদেহ রাখা হবে, দলের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

দাকোপের খোনা গ্রামে বাঁধ ভেঙে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : দাকোপের খোনা গ্রামের ঝুকিপূর্ন বাঁধ ভেঙে ঢাকী নদীর জোয়ারের পানিতে দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। দূর্ভোগের শিকার অন্তত ত্রিশ হাজার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ নং পোল্ডারের আওতায় উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোনা গ্রামের ওয়াপদা বেড়ীবাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি ঢুকছে। পানখালী এবং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের খোনা বারইখালী তিলডাঙ্গা খাটাইলসহ আশ পাশের গ্রাম গুলোতে জোয়ার ভাটায় পানি ওঠা নামা করছে। ফলে ভরা মৌসুমে আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। ধসে পড়েছে অনেক কাচা ঘরবাড়ী। ক্ষতি হয়েছে সব্জি ফসলের। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান জানিয়েছেন অতিদ্রুত বাঁধ নির্মান করা না গেলে কয়েক শ’ হেক্টর আমন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল ওয়াদুদ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ ছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন, পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পাউবোর খুলনা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে জরুরী ভাবে বাঁধ নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অতিদ্রুত ভেঙে যাওয়া বাঁধ নির্মান করা না গেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা এলাকাবাসীর।